ইসলামে কি কোন সংস্কার আনা সম্ভব ?

রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দুদের ধর্মের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। যার কারণে অনেকেই স্বপ্ন দেখেন ইসলামেও কেউ না কেউ এমন কোন পরিবর্তন আনবে । যারা এমন ভাবে তারাই কিন্তু আন্ধা ধার্মিক, তারাই ঐশ্বরিক শক্তির উপরে ভরসা করেন । অথচ ঐশ্বরিক শক্তিতে বাস্তবে কিছু হওয়ার কোন প্রমান নাই যা আছে তা গালগল্প । তবুও আসলেই কি ইসলামে সংস্কার সম্ভব ? আসুন একটু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি।

হিন্দু ধর্মে শিক্ষার হার ছিল অনেক বেশী যাদের শিক্ষার ইতিহাসও অনেক পুরাতন । এমন কি হিন্দু ধর্মের ধর্ম গ্রন্থে ধর্ম অবমাননাকারীকে সমাজচ্যুতসহ অন্য অনেক প্রকারের শাস্তি দিলেও হত্যার নির্দেশ নাই । এই ধর্মে ধর্ম পুস্তক পড়া এবং সেটা অনুযায়ী আইন তৈরি ও অন্যকে মানানোর দায়িত্ব ছিল শুধু মাত্র ব্রাহ্মণদের হাতে । ফলে ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকী ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্ররা ব্রাহ্মণদের উপরে ছিল ক্ষিপ্ত । ফলে ব্রাহ্মণ সমাজ হতে ঈশ্বরচন্দ্র সহ যারা ধর্মের অনৈতিকতাকে বাদ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন তাদের পিছনে সহায়ক শক্তি হিসাবে ছিল এই নিষ্পেষিত ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র শ্রেণীর অকুণ্ঠ সমর্থন । এদিকে ইসলামের ভারত দখলের পরে ইসলামের কর্তৃকও প্রমানিত হয়েছিল দেবতা-ভগবানের অক্ষমতা ও অসাড়তা । ব্রাহ্মণরা হয়ে গিয়েছিলো সংখ্যালঘু ও বৃটিশ শাসক শ্রেণীর ইছার বিরুদ্ধকারী । সংখ্যালঘুর ইচ্ছার মূল্য গনতন্ত্রের জন্ম দাতা বৃটিশ সরকার দেয় নাই । ফলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে হিন্দু ধর্মের সংস্কার ।

অন্যদিকে ইসলামে কোরান হাদিস ছাড়া ভিন্ন মতের বই পড়াই হারাম । তারা জন্মের পর থেকেই শিক্ষা পায় – ইসলামের স্বার্থে সকল ন্যায় অন্যায় করাই জায়েজ । ফলে ঐতিহাসিক ভাবেই মুসলিমদের শিক্ষার হারও অনেক কম । ফলে তাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার উপরেই পারিবারিক ভাবে চাপ থাকে বেশী । যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে যান তারাও শুধু অর্থ কামানোর জন্যই শিক্ষিত হতে বাধ্য হন জীবন জীবিকার স্বার্থে; জ্ঞানার্জন বা মানুষের মত মানুষ হওয়ার জন্য নয় । কারণ একেবারে ছোটবেলা থেকেই তাদের মজ্জায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় সকল জ্ঞানই কোরানে আছে , আর বিধর্মীদের কোরান-সুন্নাহ বিরোধী বই পড়ে মানুষ হওয়ার চিন্তা করা মানেই ইসলাম তথা আল্লাহ নবীকে অসন্মান করা । আল্লাহ ও নবী সকল সমালোচনার উর্ধে । ফলে নাসার বিজ্ঞানী হয়েও মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে এবং কোরানের কথা স্বয়ং আল্লাহরই যা ১০০ ভাগই সত্য ।

এদিকে ইসলামে ধর্ম অবমাননাকারীকে হত্যা করা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সকল মুসলিমকেই । পাশাপাশি সেই কাজ সফল ভাবে পালন করলেও তার জন্য রাখা হয়েছে জান্নাতের মতো লোভনীয় পুরস্কার । সাথে সেই ধর্ম অবমাননা কারী কাফেরের সমস্ত মালামাল গনিমতের মাল হিসাবে এই দুনিয়াতেই ভোগ করার অবাধ স্বাধীনতা । ফলে কাফেরদেরকে হত্যা করে জান্নাতে যেতে চাইবে এবং দুনিয়াতেই সেই কাফেরের সমস্ত সম্পদ গনিমতের মাল হিসাবে ভোগ করার জন্য সবাই লাইন দিবে- এটাই স্বাভাবিক নয় কি ? অপরদিকে আল্লাহর আইনে বিন্দুমাত্র ফাঁক আছে এমনটা ভাবাই জাহান্নামে যাওয়ার জন্য কারন হিসাবে যথেষ্ট। এসব কারণে ইসলাম ধর্মে যতই অমানবিক আইন থাকুক না কেনো সেটা অমান্য করে সুনিশ্চিত জাহান্নামে পতিত হবার দুঃসাহস দেখানোর সামর্থ বেশীর ভাগেরই হবে না, এটা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায় । যার কারনে সেই ১৪০০ বছর থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের কোনো অমানবিকতাই কোনো শিক্ষিতদের চোখে পড়ে নাই । পড়লেও বাস্তবে সরাসরি বিরোধিতা করার সাহসও পায় নাই । তারা শুধু “ইহা সহি ইসলাম নহে” – বলেই দায়িত্ব শেষ করেছেন, করছেন ও ভবিষ্যতেও করবেন । ফলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, অধিকাংশরাইই এই ধর্মের বিরোধীতা তো করবেই না । বিরোধিতাই যেখানে নাই সেখানে সংস্কার তো বহুত দূর কি বাত !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *