পতিতালয় থেকে বলছি

আমার কল্পনার রঙ্গমঞ্চে আমি বারবার একজন নায়ককে তুলে এনেছি। বুদ্ধু নায়কটা প্রেমে পড়েছিল চিত্রলেখা নামের একটা মেয়ের উপর। মেয়েটা ছিল স্বাধীনচেতা, পাগলাটে এবং হাস্যময়ী। বেচারা নায়কটাকে দোষ দিয়ে লাভই বা কী ? হ্যা, এমন মেয়ের প্রেমে পড়বে নাতো কার প্রেমে পড়বে। হুমায়ুন আহমেদ আর সুনীলদার নিয়নিত পাঠক হিসেবে আমার কল্পনাটা মিলনাত্মকই হবে বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু হায়, পোড়া কপালই বলতে হবে আমার নায়কের। চিত্রলেখা ছিল ছিল একটি সংখ্যালঘু উপজাতী সম্প্রদায়ের মেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই মাঝখানে এসে পড়ে সাম্প্রদায়িকতা। সমাজের সংকীর্নতা আর সাম্প্রদায়িক যাঁতাকল এগিয়ে যেতে দেয় নি তাদের সরল মিলনটিকে। চিত্রলেখাকে আর পাওয়া হল না নায়কের।

এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কাল্পনিক প্রেমের বিয়োগাত্মক সমাপ্তি হয়েছে, তো আমার কি ? আবার কোন নতুন কাহিনী শুরু হবে। এটাই ধরে নিয়েছিলাম আমি। কিন্তু গত রাতের স্বপ্নটা আমার ধারনাকে আমূল বদলে দিল। ক্লান্ত শরীরটা যখনি বিসিএসের পড়া শেষ করে বিছানায় শুয়েছিল তখনি স্বপ্নে সেই নায়কের অনাকাঙ্খিত আগমন। হিমালয় সমান অনুযোগ নিয়ে সে এসেছে আমার কাছে। চুপিচুপি
বলা শুরু করল- “দেখুন, আপনার কল্পনাতেই আমার সৃষ্টি হয়েছিল।যখন আমাকে সৃষ্টি করেছিলেন তখন তো বলেন নি যে আমি কোন সম্প্রদায়ের। শরীরের কোথাও লিখে দেননি কোন সম্প্রদায়ের ছাপ। আমার কিংবা চিত্রলেখা কারোরই রক্তকে বিন্যাস করে দেননি কোন সাম্প্রদায়িক ধারা কিংবা উপধারায়। আমরা দুজনেরই রক্তে বহমান ছিল সমান লাল রঙ্গের রক্তকনিকা। তাহলে কিভাবে আমাকে ফেলে দিলেন ডাস্টবিনের ঝুড়িতে একটি ভিত্তিহীন গানিতিক হিসাবের মাধ্যমে। আজ আপনি এবং আপনার সমাজ আমার কাছে একটি নিকৃষ্ট পতিতালয়ের মত। যেখানে সাম্প্রদায়িকতা হল আপনাদের খদ্দের। ডিগনিটি আর সুখের বিনিময়ে সাম্প্রদায়িকতা আপনাদের চুষে চুষে খায়। আর আমি! আমি নাহয় প্রতিদিন ক্ষুধার্ত শকুণ হয়ে উপভোগ করব আপনাদের মন নামক দেহব্যবসা। আর অপেক্ষা করব আপনাদের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, ব্যবহৃত শ্রী-হীন মনের”।

চলে গেল সে। যাবার আগে শুধু রেখে গেল কিছু অপ্রিয় বাক্য। হঠাৎ নিজের শরীরকে প্রচন্ড ঘেন্না লাগা শুরু করল।মনে হল যেন শরীরটা অনন্তকাল থেকে কোন পতিতালয়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *