বোবায় ধরা ও ভুত !!!!!!!!!!! স্লিপ প্যারালাইসিস।

প্রায় এক বছর আগের ঘটনা এটি। আমার নানার বাড়িতে ঘটে যায় এই ঘটনা। এই ঘটনার সাথে আমি আগে কোনদিন প্রত্যক্ষ ভাবে পরিচিত ছিলাম না। আমার মায়ের সাথে ও দাদির সাথে ঘটে গিয়েছিল অনেক বার। সেদিন আমার নানার ঘরে ঘুমানোর জায়গা না থাকাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম একই বাড়ির অন্য ঘরে। আমি অভ্যস্ত ছিলাম সব সময় একা থাকতে। কিন্তু সে দিন যা ঘটল আমি কোনদিন ভুলবোনা। যথা সময়ে আমার ঘুম চলে আসলো। কিন্তু হঠাৎ করে রাত ৩ টার দিকে আমার মনে হলো কোন ভয়ংকর বস্তু আমার বুকের উপর ভর দিয়ে বসে আসে। আর আমার গলা টিপে ধরেছে। আমি চিৎকার দিচ্ছি। কিন্তু আমার পাশের রুমে থাকা মানুষগুলোও শুনতে পারছেনা আমার আত্মচিৎকার। কোন ভাবে যাচ্ছেনা জালিম ভয়ংকর জিনিসটা। আমি হাত পা নাড়াতে চাচ্ছি। কিন্তু আমি পারচিনা। কিন্তু দুই দিন আগে আমি আরেকটি ঘটনার সাথে পরিচিত হলাম। আমি রাস্তা দিয়ে বাজার থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে আনতেছি। এমন সময় হঠাৎ করে পাশের জঙ্গল থেকে দইটা আজোব মানুষ বের হয়ে আমার কাছে মিষ্টি চাইছে। কিন্তু আমি দিনে রাজি হচ্ছিলাম না। এবার তারা এগিয়ে আসছে আমার দিকে । আমি ভয়ে দৌড়দিলাম। কিন্তু আমি কোন ভাবে দৌড়াতে পারছিনা। কেমন জানি আমার পা গুলো কাজ করতে ছিলনা। কিছু ক্ষন পর তারা আমার মিষ্টি গুলো নিয়ে নিলো এবং আমাকে মেরে ফেলছে। আমি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার দিচ্ছি। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনতে পাচ্ছে না।

হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেলো। চারদিকে তাকিয়ে দেখি পুরো অন্ধকার। মনে মনে ভাবতে লাগলাম কোথায় আছি। মাথার মাথার পাশ থেকে মোবাইল রেখে লাইট জালিয়ে দেখি আমি তো ঘরে। কিন্তু এটা কী দেখলাম। মনে হলো সত্যি সত্যি। আর সে রাতে ঘুম হলোনা। সকালে এ ব্যাপার টা মায়ের সাথে শেয়ার করলাম। মা তো আরো বেশি ভয় লাগিয়ে দিলো। এসব ব্যাপার নাকি কারো সাথে শেয়ার করতে নেই। কারণ শেয়ার করলে নাকি ঘটনা সত্যি সত্যি হয়। মা আরো বলল, বাবা রাতের অন্ধকারে এসব স্থানে যাসনা। কেন মা? কবরস্থানে নাকি এসব থাকে। আমি মাকে বললাম, কবরস্থানে ভুত থাকে। কিন্তু মা আমি শুনেছি এবং হাদিসে দেখিছি কবরস্থানে ভুত তো থাকে না জারা থাকে সেগুলো ভালো ভুত থাকে । (মানে, জীন থাকে)। পরে এ ব্যাপারে একদিন এ ব্যাপার নিয়ে আমার পরিচিত ভাল একজন ডাক্তারের সাথে শেয়ার করলাম। তিনি আমাকে এ ব্যাপার নিয়ে তো বলল আরো একটা ব্যাপার নিয়ে বলেছে । যেটা বিশেষ করে মহিলাদের ও পরুষদের সাথে প্রায় সময় হয়ে থাকে। আর তা হলো ভুত জাতীয় এক ধরণের শয়তান। অনেকে বোবা বলে থাকে। এখন আমার প্রশ্ন হলো বোবা বা ভুত কি?

আসলে ভুত বলতে কিছু নেই পৃথিবীতে। আর ভুত হলো একটা কাল্পনিক বস্তু। যা এখন পযর্ন্ত কেউ দেখেনি। আমরা অনেক সময় শুনে থাকি গ্রামের বা শহরের কিছু পুরোনো মানুষের কাছে। আসলে মানুষ হচ্ছে পৃথিবীর সব ছেয়ে ভয়ংকর জাতি। আর যারা রাতের অন্ধকারে ভুত বলে চিৎকার দিয়ে থাকে। তারা মানুষ দেখে ভয় পায়। রাতের আধারে ভয় কেউ খুব কম পায়। পায় শুধু চাঁদের আলোতে। তখন নিজের ছায়া দেখেও অনেকে ভুত বলে চিৎকার দিয়ে থাকে। আর তা আমাদের বিশ্বাস করতে হয়।

বোবা কী? আসলে কী বোবায় ধরে?
মধ্য রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। অনুভব করলেন আপনার বুকের উপর কোন ভারি বস্তু বসে আছে। এতো ভারী যে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সব ছেয়ে ভয়ংকর যে আপনার শরীরের কোন অংশ নাড়াতে পারছেন না। এমন কি গলা দিয়ে কোন আওয়াজ ও করতে পারছেন না। কী ভীতি কর পরিস্থিতি! এ রকম পরিস্থিতিতে কী কোন দিন পরতে হয়েছে? আমি কিন্তু একদিন পরেছিলাম। সে দিন আমি রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার নানার বাড়িতে । জঙ্গলের পাশে একটা রুমে।
আমার মতো কম বেশি অনেকেরই হয়তো হয়েছে। আর একে মুরুব্বি, মোলবী, বাড়ির অশিক্ষিতি মা-বাবা,দাদা দাদীরা বলে থাকে, বোবায় ধরা, জ্বীনে ধরা, অশুভ কিছু বা ভৌতিক। কিন্তু এ সমস্যারও আছে বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা।

বোবায় ধরা কী?
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যালালাইসিস একধরনের ইন্দ্রিয় ঘটিত ব্যাপার। যখন আমাদের মস্তিস্ক গভীর ঘুমের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্র্র্র্যায় যায়, তখন এই ঘটনা ঘটতে পারে। বোবায় ধরলে একেক জনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হয়। কেউ ঘরের ভিতরে অশীরীরী কিছু টের পায়, কেউ কোন দুর্গন্ধ পান, আবার কেউ কোন ভীতিকর প্রানীর কথা ভাবেন। অর্থ্যাৎ নানা ধরনের হ্যালুসিনেশন(কাল্পনিক দৃশ্য) সৃষ্টি হয়। এসময় মস্তিস্ক সতর্ক হয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেও ইন্দ্রিয় তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে বলে সব কিছু অবাস্তব মনে হয়। এবং আধঘুমে ঘটেছে বলে মনে হয়। এ অবস্থায় শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এটা অতিলৈকিক কোন ব্যাপার নয় বরং শরীরবৃত্তীয় বিষয়।

কেন বোবায় ধরে?
বোবায় ধরা আসলে একটি ঘুম জনিত স্লিপ ডিস অর্ডার । যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তাদের এটি বেশি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ। যথেষ্ঠ বিশ্রামের অভাব, অনিমিয়ত ঘুম এর জন্য দায়ী। ঘুমের বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের সময় শরীরসাবলীল ভাবে নাড়াচড়া করতে পারেনা বলেই বোবায় ধরেছে বলে মনে হয়।
সাধারণত এটি সাময়িক সমস্যা। কিন্তু বার বার এবং ঘন ঘন ঘটতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিদ্রঃ আমি ডাক্তার বা বিষেশজ্ঞ নয়। শুধু ইন্টারনেটে চড়িয়ে চিটিয়ে থাকা এবং পের্টিকেলি আমার সাথে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা নিয়ে তথ্য গুলো এক জায়গায় করেছি মাত্র।

১ thought on “বোবায় ধরা ও ভুত !!!!!!!!!!! স্লিপ প্যারালাইসিস।

  1. পড়লাম। কিন্তু ডাক্তাররা
    পড়লাম। কিন্তু ডাক্তাররা এব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারছে বলে মনে হয় না। তাদের ধারণাটাও অনুমান নির্ভর। ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *