চেঙ্গিস খানঃঅন্য আলোয় দেখা




চেঙ্গিস খান। নামটি শুনলেই ভয়ে শিউড়ে উঠেন অনেকে। পরাজিত জাতিদের কাছে তিনি ছিলেন এক মুর্তিমান আতংকের নাম।মঙ্গোল সম্রাট ছিলেন তিনি।কিন্তু বিশ্বের ইতিহাসে তাকে চিত্রিত করা হয়েছে শুধুই এক রক্তপিপাসু বীভৎস খুনী হিসেবেই। বলা হতো যে তার হুকুমে বাতাসও নাকি দিক বদলাতে বাধ্য হতো।দুস্টু ছেলেদের ভয় পাওয়াতে মায়েরা নিতেন এই চেঙ্গিসের নাম।সভ্যতাকে দিয়ে গেছেন কেবলই মৃত্যু আর ধ্বংসের বিভীষিকা। আসলেই কি তাই? সভ্যতার যাত্রাপথে কি কোন অবদানই নেই এই মঙ্গোল সম্রাটের? সেটি অনুসন্ধানের ক্ষুদ্র প্রচেস্টা এই লেখাটিতে।

জন্ম ও বাল্যকালঃ মংগোলিয়ার ধুধু গোবী মরুভূমি।প্রকৃতি এখানে অনুদার।প্রচণ্ড গরম আর নির্মম লু হাওয়া।বাতাসে আগুনের হলকা।যখন তখন উঠে বালিঝড়।ঢেকে দেয় চারপাশ। আকাশে মেগের দেখা পাওয়া মানে বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার।জীবন এখন কঠিন, নিরানন্দ। এই রুক্ষ মরুর বুকেই চেংগিস ১১৬২ সালের ৩১ শে মে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা ইয়েসুগেই এবং মা ইয়েলুন উজিনের প্রথম সন্তান তিনি।বাবা ছিলেন গোত্রপ্রধান।সেসময় মঙ্গোলেরা অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে বিভক্ত ছিলো।আর গোত্রগুলোর মধ্যে লড়াই আর শত্রুতা ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।জন্মের দিনই বাবা ইয়েসুগেই পুরোনো শত্রু তাতারদের সাথে যুদ্ধে জয়ী হয়ে দুজন তাতার নেতাকে বন্দী করে নিয়ে আসেন। তাদের একজনের নাম ছিলো তেমুজিন।শত্রু হলেও যার বীরত্বে মুগ্ধ ছিলেন তিনি। যুদ্ধ জয়ের আনন্দে এই পরাজিত তথাপি প্রিয় শত্রু নেতার নামে বাবা ইয়েসুগেই ছেলের নাম রাখেন তেমুজিন। যার অর্থ ‘’লোহার কারিগর”।

চেংগিসের নামকরণ সমপর্কে বলতে গিয়ে তার জীবনীকার philip gigantes বলেছেন, “The man who would become the “Great Khan” of the Mongols was born along the banks of the Onon River sometime around 1162 and originally named Temujin, which means “of iron” or “blacksmith.” He didn’t get the honorific name “Genghis Kahn” until 1206, when he was proclaimed leader of the Mongols at a tribal meeting known as a “kurultai.” While “Khan” is a traditional title meaning “leader” or “ruler,” historians are still unsure of the origins of “Genghis.” It may have may have meant “ocean” or “just,” but in context it is usually translated as “supreme ruler” or “universal ruler. According to the “Secret History of the Mongols” (a contemporary account of Mongol history), Temujin was born with a blood clot in his hand, a sign in Mongol folklore that he was destined to become a leader.”

মাত্র ৯ বছর বয়সেই পিতাকে হারান তেমুজিন। শত্রুপক্ষ তাতাররা কৌশলে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে তাকে।তার মৃত্যুতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তাদের গোত্র।অধিকাংশ যৌদ্ধারাই পাড়ি জমান অন্য গোত্রে।ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আর হাতে গোণা অল্প কয়েকজন যোদ্ধাকে সাথে নিয়ে মা ইয়েলুন অনেক কস্টে গোত্রটিকে টিকিয়ে রাখেন।পিতার মৃত্যুর পর স্বভাবতই তেমুজিনের গোত্রপ্রধান হওয়ার কথা।কিন্তু বাধ সাধলেন তার সৎ ভাই বেখতার। তিনি তাকে গোত্রপ্রধান হিসেবে মানতে নারাজ।ফলে নিয়ম অনুযায়ী আয়োজন করা হয় দ্বন্ধযুদ্ধের।যুদ্ধে তেমুজিনের হাতে বেখতার নিহত হন।আর তেমুজিনকে ঘোষণা করা হয় গোত্রপ্রধান হিসেবে।

বিয়ে ও উত্তরাধিকারীগণঃ ১৬ বছর বয়সে তেমুজিনের বিয়ে হয় কনকিরাত গোত্রের প্রধানের কন্যা বোরতের সাথে। এই বিয়ের মাধ্যমে এই দুই গোত্রের মধ্যে মিত্রতা স্থাপিত হয়।বোরতেকে তিনি প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। বিয়ের কিছুদিন পরে প্রতিপক্ষ মারকিতেরা বোরতেকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে তেমুজিন জীবনের ঝুকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।এর কিছুদিন পর তার প্রথম পুত্র জুচির জন্ম হয়। মারকিতদের হাতে কিছুদিন বন্দীনী থাকায় জুচির জন্ম নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুললেও তেমুজিন তাতে কর্ণপাত করেননি।তেমুজিনের আরো অনেক স্ত্রী ও সন্তান থাকলেও বোরতের গর্ভজাত চারটি সন্তানই তেমুজিনের বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।এই চারজন হলেন জুচি, ওগোডাই,তুলি এবং চাগাতাই।মারকিতদের অত্যাচারে বোরতের গর্ভে জুচির জন্ম হলেও চেঙ্গিস তাকে নিজের সন্তান বলেই বিবেচনা করতেন।পারস্য আক্রমনের পূর্বে জেনেরেলদের সভায় সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে চেঙ্গিস জুচির নামই বলেন।কিন্তু তার আরেক ছেলে চাগাতাই এতে আপত্তি করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে সভাওকক্ষেই দ্বন্ধযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।পরে জেনারেলদের পরামর্শে দুই ভাইকে বাদ দিয়ে অপর ছেলে ওগোডাইকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হয়।চেঙ্গীস খান এবং তার মা জীবনে মোট চার জন ছেলেকে পালক হিসাবে গ্রহন করেন।এরা সবাই ছিলো শত্রু গোত্রের ছেলে যারা যুদ্ধে এতিম হয়ে গিয়েছিল।মারকিতদের সাথে যুদ্ধের পর তেমুজিন ৫ বছর বয়সী কুচুকে নিয়ে এসে তার মা ইয়েলুনকে দেন যিনি তাকে তার পালক ছেলে হিসাবে গ্রহণ করেন। পরবর্তী কালে কুচু তেমুজিনের বাহিনীতে একজন প্রসিদ্ধ জেনারেল হয়েছিলেন। ১১৯৬ সালে তেমুজিন তার পিতার হত্যাকারী তাতার বাহিনীকে জিন রাজ্যের ওয়াং ইয়ানজিনের সহায়তায় যুদ্ধে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধের পর এক তাতার বালককে নিয়ে এসে মাকে দেন যিনি এই ছেলেকেও পালক ছেলে হিসাবে গ্রহণ করেন। এই বালক শিজি হুতুহু পরবর্তিকালে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিচারক হয়েছিলেন।এই সর্বোচ্চ বিচারকের পদটিও চেঙ্গিস খান সৃষ্টি করেছিলেন দেশের আইন কানুন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালানোর জন্য। ঝুদের সাথে যুদ্ধে চেঙ্গিস বোয়েরহু নামে আরেকটি ছেলেকে এনে তার মাকে দেন। যার নাম ছিল বোয়েহু। বড় হয়ে যিনি নামকরা যোদ্ধা হয়েছিলেন। আর তেমুজিনের জীবন বাচাতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন।চেংগিস প্রচণ্ড ভালোবাসতেন নাতি কুবলাই খানকে।পরিবারের সকলকে বলতেন ,”তোমরা সবাই একটু নজর রেখো কুবলাইয়ের প্রতি।কারণ ও হচ্ছে প্রচণ্ড মেধাবী’’ চেংগিসের ভবিষ্যতবাণী মিথ্যা হয়নি।পরবর্তীকালে কুবলাই খান এক সফল সম্রাটে পরিণত হন।যার শাসনামলে মঙ্গোল রাজ্যের সীমা সর্বোচ্চ বিস্তার লাভ করেছিল।তার সময়েই বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কোপোলো চীন ভ্রমণে আসেন।তার ভ্রমণকাহিনীতে কুবলাই খানের স্বরণযুগের কথা সবিস্তারে বর্ণিত আছে।কাজেই এই নৃশংস চেংগিস পারিবারিক জীবনে ছিলেন অত্যন্ত কোমল বাতসল্যপূর্ণ হৃদয়ের অধিকারী।

সফল সমরনায়কঃ চেঙ্গিস ছিলেন একজন অত্যন্ত সফল সমরনায়ক।যুদ্ধবিদ্যা সম্বন্ধে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিস্ময়কর প্রতিভা ছিল তার।যার বলে তিনি এক ক্ষুদ্র গোত্র সর্দার থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যের অধিপতি হন,তার সাম্রাজ্য আকারে বৃটিশ সাম্রাজ্যের চেয়েও অনেক বড় ছিলো। ১২০৬ সালের মধ্যেই মঙ্গোলিয়ার সবগুলো ছোট-বড় গোত্রকে একত্রীভূত করে বৃহত্তর মঙ্গোলিয়ার পত্তন ঘটান তিনি।মাত্র ২১ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১২২৭ সালে তার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত পীত সাগর থেকে শুরু করে ইরান, ইরাক, এবং দক্ষিণ রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার সাম্রাজ্য।তার সাম্রাজ্যের [একটানা] মত এত বড় [৩ কোটি ৩০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার] সাম্রাজ্য পুরো পৃথিবীতে কেউ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।অবশ্য ব্রিটিশদের ছিল ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার, কিন্তু সেটা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একসাথে নয়! নিজের জীবদ্দশায় তিনি পদাবনত করেন তিন তিনটি সাম্রাজ্য যেগুলো শিক্ষা দীক্ষায় জ্ঞানে বিজ্ঞানে ছিলো অনেক বেশী উন্নত। যা একমাত্র তার দূরদর্শী সমরনীতিরই ফল।

এই প্রসঙ্গে তিনজন সেনাপতির নাম না নিলেই নয়। চিপিনয়োন,সুবোতাই,মুহুলী।এদের মধ্যে চিপিনয়োন ও সুবোতাই ছিলেন তার শত্রুপক্ষের। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অপরিসীম বীরত্ব চেংগিসকে মুগ্ধ করে। তিনি তাদের বেচে যাওয়ার একটা শেষ সূযোগ দিতে মনস্থির করে। এতে অন্যান্য সেনাপতিদের আপত্তি ছিলো।বিশেষ করে সুবোতাই এর ব্যাপারে।কারণ তিনি ছিলেন তাদের চিরশত্রু তাতারদের গোত্রের।কিন্তু চেংগিস ছিলেন পাকা মুহুরী।তাই খাটি রত্ন চিনতে তার ভুল হয়নি।এই দুই সেনাপতির সুদক্ষ নেতৃত্বে মঙ্গোল বাহিনী প্রায় অর্ধ পৃথিবী অধিকার করে।মঙ্গোল ইতিহাসে এখনো স্বরণাক্ষরে লেখা রয়েছে এই দুই মহাবীরের নাম।এছাড়া জিবি নামের এক শত্রু সৈন্যের বীরত্ব মুগ্ধ হয়ে চেংগিস তার প্রাণ ভিক্ষা দেন।এই জিবে পরে মংগোল বাহিনীতে বিখ্যাত যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রমাণিত করেন।

৬০ বছর বয়সেও চেঙ্গিস নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে রণনৈপূণ্যের পরিচিয় দেন। একটি ঘটনার কথা বলি, যুদ্ধ চলছে পারস্য সাম্রাজ্যের সাথে।শাহ এর ছেলে জালালুদ্দীন নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত।অনেক বড় আর আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত তারা। একটি উচু টিলার উপর তেমুজিন আর তার ব্যক্তিগত আরক্ষবাহিনীর সৈন্যরা অবস্থান নেন। দুইভাগে বিভক্ত হয়ে মঙ্গোলরা চিপিনয়োন আর সুবোতাই এর নেতৃ্ত্বে।কিন্তু জালালউদ্দিন ছিলেন অনেক বড় মাপের যোদ্ধা। আর সেই সাথে অসমসাহসী।প্রচণ্ড বিক্রমে তিনি ঝাপিয়ে পড়লেন মঙ্গোল্পদের উপর।মংগোলদের উপর তীব্র ক্ষোভ ছিলো তার।একে তারা আক্রমণকারী, তার উপর গায়ে কিম্ভুতকিমাকার চামড়ার পোশাক পড়া!এদের তিনি আল্লাহর গজব হিসেবেই বিবেচনা করতেন।তার সাহসী আক্রমণের মুখে মঙ্গোল বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। পরাজয় যখন প্রায় দ্বারপ্রান্তে ,তখন আচমকা নিজের দেহরক্ষী বাহিনী নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়েন চেংগিস খান স্বয়ং। এটা ছিলো কারো ধারণারো বাইরে।জালাউদ্দিন নিজেই হচকচিয়ে গেলেন। থমকে পিছিয়ে এলেন কিছুটা।আর তার সূযোগ নিল মংগোলরা পুরোদমেই।করলো পালটা আক্রমণ। এই আক্রমণে পরাস্ত হয় শাহর বাহিনী।নিশ্চিত পরাজয় থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনেন চেঙ্গিস। এমনই রণনিপুণ যোদ্ধা ছিলেন তিনি।

সুশাসক চেংগিসঃ চেংগিস ছিলেন একজন প্রকৃত সুশাসক।তার শাসনামলে মঙ্গোলরা সামান্য যাযাবর যোদ্ধা থেকে এক বিশাল প্রতাপশালী সাম্রাজ্যের বাসিন্দাতে পরিণত হয়।নিজে নিরক্ষর হলেও তার ছিলো তীক্ষন দূরদর্শীতা।যখনই তিনি নতুন কোন রাজ্য জয় করতেন,সে রাজ্যে থেকে শিল্পী, কারিগর,বুদ্ধিজীবীদের তিনি হত্যা না করে নিজ রাজধানী কারাকোরামে নিয়ে আসতেন।প্রাণে হত্যার বদলে তাদের দিতেন জ্ঞানচর্চার সূযোগ।তিনি বুঝেছিলেন,যোদ্ধা দিয়ে রাজ্য জয় করা সম্ভব হলেও সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য এই মাথাওয়ালা মানুষগুলোর প্রয়োজনীয়তাই অধিক।যেমন উইঘুরের তাতাঙ্গেরের কথাই ধরা যাক। উইঘুরদের সাথে যুদ্ধে চেঙ্গিস তাতাঙ্গেরকে বন্দী করেন। তাতাঙ্গের ছিলেন একজন উইঘুর ভাষাবিদ। চেঙ্গিসের আদেশে তিনি উইঘুর ভাষার সাহায্যে লিখিত মঙ্গোল শব্দ এবং লিখিত মঙ্গোলিয়ান ভাষার সৃষ্টি করেন। এর আগে মংগোলদের কোন লিখিত ভাষাই ছিলোনা।চেঙ্গিস তার রাজ্যের জন্য প্রথম লিখিত আইন বা কোড-অব-ল তৈরী করেছিলেন যা ইয়াসা নামে পরিচিত।

তার আইন প্রণয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার জিবনীকার বলেছেন,” Genghis Khan created a body of law that he was to work on throughout his life. This included outlawing the tradition of kidnapping women. The kidnapping of women had caused feuds among the Mongols, and, as a teenager he had suffered from the kidnapping of his young wife, Borte, and he had devoted himself to rescuing her.
In addition, Genghis Khan declared all children legitimate, whomever the mother. He made it law that no woman would be sold into marriage. The stealing of animals had caused dissension among the Mongols, and Temujin made it a capital offense. A lost animal was to be returned to its owner, and taking lost property as one’s own was to be considered thievery and a capital offense. Temujin regulated hunting – a winter activity – improving the availability of meat for everyone. He introduced record keeping, taking advantage of his move years before to have his native language put into writing. He created official seals. He created a supreme officer of the law who was to collect and preserve all judicial decisions, to oversee the trials of all those charged with wrongdoing and to have the power to issue death sentences. He created order that strengthened his realm and improved his ability to expand its territory.” (the greatest ruler:Robert.m woebb)

দ্রুত সংবাদ আদানপ্রদানের জন্য ডাকপ্রথার প্রচলন করেন। এর জন্য নির্দিস্ট দূরত্ব পান্থশালার ও ব্যবস্থা ছিলো।এখানে সবসময় তাজা ঘোড়া মজুদ থাকতো যাতে সংবাদবাহকরা ঘোড়া পালটে ছটতে পারেন। এমনো হয়েছে কোন কোন সময় সংবাদবাহকেরা জরুরী সংবাদ নিয়ে ২০০ মাইল পর্যন্ত একটানা ছুটে গেছেন। সেই আমলে এটি ছিল একটি অভুতপূর্ব ব্যবস্থা।

মংগোল রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত সুশৃংখল।চুরি, ডাকাতি , ঠকবাজির নামগন্ধ ও ছিলোনা।ডাকাতের দল একলা রাস্তায় কোন মংগোলকে একা পেলেও আক্রমণ করার সাহস করতোনা।কারণ সবাই জানতো গ্রেট খানের প্রজার গায়ে হাত দেয়ার পরিণতি কি ভয়াবহ হতে পারে।

অসম্প্রদায়িক চেংগিসঃ চেংগিস খানের রাজ্যে ধর্ম নিয়ে কোনপ্রকার বাড়াবাড়ি ছিলোনা।সব ধর্মের অনুসারীরাই তার রাজত্বে শান্তিপুর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারতো।খানের কড়া নির্দেষ ছিলো কেউ যেন কারো ধর্ম প্রচারে কোনরূপ বাধা প্রধান করতে পারবেনা।তবে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা নিষিদ্ধ ছিলো।মঙ্গোলরা বেশীরভাগই পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

১২২৭ সালে চেংগিস খান পশ্চিমা দেশে অভিযানের পথে মৃত্যুবরণ করেন। লোকজন তাঁর ব্যবহৃত কাপড় চোপড় ও তরবারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সাতটি বাক্সের মধ্যে রেখে দেয় এবং তাঁর জন্মস্থানে পাঠিয়ে দেয়। যাওয়ার পথে গরুর গাড়ি একটি তৃণভূমিতে আকস্মিকভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং কোনো ভাবেই গরুগুলো গাড়ি টানতে পারে না। সেই সময় এ সাতটি বাক্সের কাছে হঠাত্ সুন্দর বর্ণের আলো দেখা যায় এবং তরবারিও অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন লোকজন চেংগিস খানের কথা স্মরণ করে এবং সেই তৃণভূমি ‘বুদ্ধিমান ও পবিত্র রাজার সমাধিতে’ পরিণত হয়।

মঙ্গোলরা শিক্ষিত ছিলোনা।বিজয়ের ইতিহাস তারা খুব একটা লিখে যেতে পারেনি।পরাজিতেরা লিখেছে তাদের মতো করে।যাতে চেঙ্গিস খানকে এক রক্তপায়ী দস্যু সর্দার ছাড়া আর কিছু হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়নি।তার রেখে যাওয়া পথ ধরেই পরবর্তীকালে ইউওরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সংযোগ গড়ে ওঠে। বিচ্ছিন্ন গোত্রতান্ত্রীকতার অবসানে রাস্ট্র ধারণা প্রসার লাভ করে।আধার হারিয়ে যায়।ধংসের মাঝে হয় নতুন সৃষ্টির শুভসূচনা।

তথ্যসূত্রঃ
১।উইকিপিডিয়া
২।দুর্ধর্ষ চেঙ্গিস খানঃ আমীরুল ইসলাম
৩। Genghis Khan By Robert N. Webb.

৪ thoughts on “চেঙ্গিস খানঃঅন্য আলোয় দেখা

  1. চেঙ্গিস তার নিজের জাতির কাছে
    চেঙ্গিস তার নিজের জাতির কাছে বীর হতে পারেন, যদি তার জাতির ন্যায়বোধ লুপ্ত হয়, কেবলই জাতীয়তাবাদ থাকে তাদের মাথায়। তা না হলে নিজ জাতির কাছেও তিনি রক্তপিপাসুই সাব্যস্ত হবেন। কারণ শুধু দখল, ভোগ আর লুটের জন্য, সাম্রাজ্য কায়েমের জন্য আরও অনেক পশ্চিমী, এশীয় শাসকের মতো তিনিও ছিলেন এক লোভী সামন্তরাজ! পররাজ্যগ্রাসকে ইতিহাসে খুব নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। কারণ ইতিহাস সাধারণত দখলদারদের হাতেই লেখা। নইলে শান্ত পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার দায়ে আলেক্সান্ডার হতেন অসুস্থ আক্রমণকারী নরপশু। বিপরীতে তাকে মহান বীর ডাকা হয়েছে। তাই চেঙ্গিসও হয়তো ওদের কাছে কম-বেশি মহান। কিন্তু গণস্বার্থ, নিরীহ মানুষ, যাদের শ্রমে বিশ্বটা চলে তাদের স্বার্থের দিক থেকে দেখলে এরা সব রক্তপিপাসু অত্যাচারী বৈ কিছুই নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *