ফারুকী হত্যাকাণ্ডেও সেই তারেক মনোয়ারের সংশ্লিষ্টতা

কসাই কাদের আর নবীজীর মোলাকাত!

ফেসবুক আর ইউটিউবে একটি ভিডিও গত কয়েকদিন ধরে খুব আলোচিত হচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে দেশের বাইরে কোথাও একটি সভার মঞ্চ থেকে জামায়াতের রুকন তারেক মনোয়ার (মাওলানা ফারুকীর খুনের উস্কানীদাতা) গল্প বলছে। (ভিডিও লিংক-এখানে)

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলছে, আজকাল আর কেউ নবীজীর দেখানো পথে চলেনা ইত্যাদি…


কসাই কাদের আর নবীজীর মোলাকাত!

ফেসবুক আর ইউটিউবে একটি ভিডিও গত কয়েকদিন ধরে খুব আলোচিত হচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে দেশের বাইরে কোথাও একটি সভার মঞ্চ থেকে জামায়াতের রুকন তারেক মনোয়ার (মাওলানা ফারুকীর খুনের উস্কানীদাতা) গল্প বলছে। (ভিডিও লিংক-এখানে)

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলছে, আজকাল আর কেউ নবীজীর দেখানো পথে চলেনা ইত্যাদি…

কিন্তু তার পরেই সেই বোমা! উগ্রপন্থী হেফাজতে ইসলামের প্রধান আহমেদ শফি নাকি স্বপ্ন দেখেছে যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কাদের মোল্লা নবীজীর সাথে মোলাকাত করছে!

এই গল্পটি শফি কোথাও বলেছে বলে আমার জানা নেই।

তারেক মনোয়ারকে সরকার গ্রেপ্তার করার আদেশ দিবে বলে মনে হয়না। কারণ এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা, যারা অলৌকিক বিষয় অন্ধের মতো বিশ্বাস করে, তারা ক্ষেপে যেতে পারে।

বাংলাদেশে ইসলাম নিয়ে ব্যবসার ইজারাদার জামায়াত ধর্মকে এভাবেই অপব্যবহার করে, বিশেষ করে নিজেদের দোষ ঢাকতে তারা অলৌকিক সব গল্প তৈরি করে ছাগল-ভরা মজলিসে বয়ান দেয় আর প্রতিপক্ষের নামে হাজারটা খারাপ কথা বলে। তাছাড়া পীর-দরবেশ নামধারী কতগুলো ধর্ম ব্যবসায়ী নিজেদের আল্লাহ-নবীর সাথে তুলনা করে টাকা কামাচ্ছে, আয়েশী জীবনযাপন করছে যুগ যুগ ধরে।

আল-বদর নেতা মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের পর জামায়াত-শিবিরের নেতারা বলছে সে নাকি সোজা বেহেস্তে চলে গিয়েছে! এটা কে দেখেছে তা অবশ্য তারা জানাতে পারেনি। নিশ্চয়ই শফি টাইপের বিশিষ্ট কেউ!

এর আগে ২০১৩ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের রায় ঘোষণার পর জামায়াতীরা দেশের কয়েকটি এলাকার মসজিদ ব্যবহার করে ছাগলা জনগণকে বলেছিল সাঈদীকে নাকি চান্দে দেখা গিয়েছে। এই শুনে উত্তাল ছাগলের দল ঘর ছেড়ে বাইরে এসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দাকে শাস্তি দেবার প্রতিশোধ নেয়।

এর আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম খান ২০১০ সালের ১৭ই মার্চ দলের দলীয় এক সভায় নিজামীকে হযরত মোহাম্মদের সাথে তুলনা করেছিল।

এমন আরো অনেক কথাই হয়তো তারা বলে। সেসব তথাকথিত ইসলামী অনুষ্ঠানে আমরা যাই না বলে হয়তো জানতেই পারিনা জামায়াতের নেতারা কত্তবড় …

ফারুকী হত্যাকাণ্ডে তারেক মনোয়ারের সংশ্লিষ্টতা

জামায়াত-বিরোধী প্রগতিশীল ইসলামী চিন্তাবিদ, চ্যানেল আই-এর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা শেখ নুরুল ইসলাম ফারুকী ২০১৪ সালের ২২শে আগস্ট নিজ বাসায় খুন হন। ঠিক তার দুই দিন আগে এটিএন বাংলা স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনটিভি’র উপস্থাপক তারেক মনোয়ার বলেছিল ফারুকীর মতো শিরকী ও বিদাতীকে পুড়িয়ে মারা উচিত।

তার বক্তব্যে সায় দিয়েছিল আর টিভি ও রেডিও টুডে’র উপস্থাপক খালিদ সাইফুল্লাহ বক্সী ও বাংলা ভিশনের মোক্তার আহমেদ।

এর আগে ২০১২ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক সভায় দিগন্ত ও পিস টিভি’র উপস্থাপক কাজী ইব্রাহীম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল ফারুকীকে মেরে ফেলার।

এছাড়াও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের শীর্ষ নেতা ফারুকীকে শরীয়াহ বিরোধী আখ্যায়িত করে তাকে খুন করার উস্কানি দিয়েছিল মোহাম্মদপুরের আল-আমিন মসজিদ ও আল মদিনা মাদ্রাসার মোজাফফর বিন মোহসিন।

উপরে বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে দুইদিনের রিমান্ডে নেয়া হলেও বাকীদের বিষয়ে অভিযোগে মামলা থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ফারুকী হত্যার পেছনে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা শুরু থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবিকে দায়ী করলেও তারা কোন প্রমাণ হাতে পায়নি। পরে তারা আরেক নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহকে দোষারোপ করে। কিন্তু সেখানেও সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটির তদন্ত এখন হিমঘরে আছে।

পুলিশ হুমকিতে থাকা ফারুকীর জীবন রক্ষা করতে পারেনি। কয়েকজন খুনি তার বাসায় গিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করে। আর খুনের পর দেড় বছর পার হলেও এখনো কোন কূলকিনারা করতে পারেনি!অথচ হত্যাকাণ্ডের পর ফারুকীর সমর্থকরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্যে সরাসরি জামাতকে দায়ী করে মিডিয়াতে বক্তব্য দেয়।

প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগে জামায়াতী-জঙ্গিদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সামনে আরো অনেক জামায়াত-বিরোধী মানুষদের খুন হতে দেখবে বাংলাদেশ।

৪ thoughts on “ফারুকী হত্যাকাণ্ডেও সেই তারেক মনোয়ারের সংশ্লিষ্টতা

  1. কী অদ্ভুত জিনিস! টিভি
    কী অদ্ভুত জিনিস! টিভি চ্যানেলেও এমন ঘোষণা দেওয়া হয় আর সরকার কিছুই বলে না। এটা কী ভয় নাকি হত্যার সুযোগ করে দিয়ে স্বার্থ হাসিলের ধান্ধা?

  2. মাওলানা ফারুকীকে হত্যার পেছনে
    মাওলানা ফারুকীকে হত্যার পেছনে জামায়াত সরাসরি জড়িত। জামায়াতের মাওলানা গোষ্টির প্রত্যক্ষ মদদে ফারুকীকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ কোন এক অজানা কারণে সরকার মাওলানা ফারুকী হত্যাকান্ডের তদন্তকার্যক্রমকে মন্থরগতি করে বিচার কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে আসছে। টিভি চ্যানেলগুলো এইসব ধর্ম ব্যবসায়ীর সকল প্রকার আ-কাম, কু-কামের অংশীদার।

  3. ” এর আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয়

    ” এর আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম খান ২০১০ সালের ১৭ই মার্চ দলের দলীয় এক সভায় নিজামীকে হযরত মোহাম্মদের সাথে তুলনা করেছিল। :তালিয়া:
    লীলাখেলা বনাম পিরিতি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *