যন্ত্রের যোনী জুড়ে আঁকা জীবনের জলছবি ও একটি অনন্য উল্কি’র কল্পকথা

জীবনের যন্ত্রনির্ভর যাপনপ্রনালী আমাদের যেন
ঘর্মাক্ত ঘুনপোকার মতোন একাগ্র আকাঙ্ক্ষায়, ক্রমিক গ্রাসে
খেয়ে চলছে নিবিড় নিষ্ঠায়। প্রগ্রসরমান প্রযুক্তির
প্রবল প্রেষণে বা প্রাত্যহিক পেশাদারী প্রপঞ্চের পথ ধরে অতঃপর
এসেছিলো পরিবর্ধন, পরিমার্জনও সর্বোপরি পরিবর্তন।

আদতে তার’ই ধারাবাহিকতায়
হরফেরা যাচ্ছে চলে বরফের দেশে;
আর ইউনিকোডের ইউনিকনেস, প্রযুক্তিগত প্রবঞ্চনায়
পুতুল নাচের আসর বসায়
অপ্রচল অক্ষরে অঙ্কিত বিদেহী এক বর্নমালার বাসগৃহে।

জীবনের যত নষ্ট-নগ্ন-নির্মম
এবং নশ্বর নৃতত্ত্বসমূহ আছে, তাই নিয়ে
এক অযাচিত নপুংসক নিয়তি
অশ্লীল আসক্তিতে আর আব্রুহীন আলিঙ্গনে

জীবনের যন্ত্রনির্ভর যাপনপ্রনালী আমাদের যেন
ঘর্মাক্ত ঘুনপোকার মতোন একাগ্র আকাঙ্ক্ষায়, ক্রমিক গ্রাসে
খেয়ে চলছে নিবিড় নিষ্ঠায়। প্রগ্রসরমান প্রযুক্তির
প্রবল প্রেষণে বা প্রাত্যহিক পেশাদারী প্রপঞ্চের পথ ধরে অতঃপর
এসেছিলো পরিবর্ধন, পরিমার্জনও সর্বোপরি পরিবর্তন।

আদতে তার’ই ধারাবাহিকতায়
হরফেরা যাচ্ছে চলে বরফের দেশে;
আর ইউনিকোডের ইউনিকনেস, প্রযুক্তিগত প্রবঞ্চনায়
পুতুল নাচের আসর বসায়
অপ্রচল অক্ষরে অঙ্কিত বিদেহী এক বর্নমালার বাসগৃহে।

জীবনের যত নষ্ট-নগ্ন-নির্মম
এবং নশ্বর নৃতত্ত্বসমূহ আছে, তাই নিয়ে
এক অযাচিত নপুংসক নিয়তি
অশ্লীল আসক্তিতে আর আব্রুহীন আলিঙ্গনে
আমাদের জাতিগত অহমকে নিয়ে উপহাসমূখর উল্লাসে মাতে।

নিয়মতান্ত্রিক নির্ভরতায় এভাবে অক্ষম হতে হতে
প্রদর্শিত পথ ও প্রথায় আস্থা হারাই আমরা
স্বভাবজাত স্বাচ্ছ্যন্দে; আর সৃষ্টিশীলতাকে শৃঙ্খলে বেঁধে,
নিয়মের নিগ্রহে নতজানু অপেক্ষায় থাকি অনভিপ্রেত আশঙ্কায়।

আইজাক আসিমভের কল্পকথায় শুনি
বর্ধিত বুদ্ধিমত্তার মানবের নাকি
যান্ত্রিক সহচর হবে;
হয়ত তখন
আর চরাচর জুড়ে অভুক্ত-অচ্ছ্যুত বেশ্যারা গাইবে না
বশ্যতার গান। চরাচর-প্রান্তর আর নগরে-বন্দরে
আসন্ন এক আগামীতে শিল্পসম্মত সকল কলা’কে
কলঙ্কিত করতে চাইবে মেয়াদোত্তীর্ন মৌলবাদী মর্ষকামীতায়
আর দিকভ্রান্ত কতক দুর্লভ দর্শনে।
স্যাটেলাইট, সিসিটিভি আর জিও’ট্যাগ সাঁটা জঙ্গল ফেলে,
ন্যাভিগেশন-নির্ভর নাজুক নাবালকের মতোন কোথায় খুঁজবে নির্জনতা ?
অথবা নবাগতা নর্তকীর নাভীমূল?

পুরাতনের প্রস্থান দ্যাখো বরং
পরিবর্তনের প্রাচীন পদাঙ্ক ছুঁয়ে। জনপথ থেকে জননাঙ্গের ভাঁজে;
প্রতিটি প্রেক্ষাপটজুড়ে, প্রাইভেসির পর্দা সরে যায়
পেশাদার প্রনালীমাফিক,
পার্টিশনের অন্তরালে চলে প্রহসন।
পরাস্ত পুস্তকেরা ক্রমান্বয়ে ইলেক্ট্রনিক আকৃতি পায়
বিবর্তিত ব্যবহারবিধির বহুমাত্রিক ব্যাকরণে।

উৎপাদন, উপার্জন আর উন্নতির অবিরত আকাঙ্ক্ষায়
অবিশ্রান্ত আর অক্ষম সকল শ্রমএখন আর ঘাম চেনেনা।
বরং ন্যানো-নিও, মিনি- মাইক্রো
অভেন আর এয়ারকনের মতোন প্রযুক্তিগত পরাবাস্তবতা’ই
অনেক অনেক বেশী আরামপ্রদ এক অর্থহীনতার উৎস।

অনতি অনাগত কাল কেটে গেলে তবে,
ফের একদিন হয়তো হারিয়ে যাবে কাগজনির্ভর কর্মযজ্ঞ,
আর মগ্ন-মহাকালজুড়ে কাগজের বুক থেকে
ললনার লোমের মতোন ঝরে যাবে বর্নহীন বর্নমালারা,
সাইবার-স্ব-মেহনে এক স্খলিত মননের জন্ম দেবে
জনন-ক্ষম প্রতিটি প্রত্যন্ত জঠর ।গ্যাজেটের গর্ভে
জন্ম হবে ব্যাধিগ্রস্ত এক বস্তুবাদের, যখন ব্যাভিচারী বলাৎকারে
আর অগনিত বুদ্ধিবেশ্যার বর্নিল বীর্যধারায় বিলীন হবে
কালের কঙ্কাল হয়ে বেঁচে থাকা প্রাচীন ও দুর্লভ কিছু দলিল।

ভুর্জপত্রের ভগাঙ্কুর থেকে যার উত্তরন, বা শিক্ষণজাত সমগ্র প্রগমনের
যা ছিল নৈর্ব্যাক্তিক এক নিত্যপ্রয়োজন,
কালের কূটনৈতিক কামলীলায় তবে তার’ও ঘটবে অকাল গর্ভপাত।

তদুপরি তখনও
কতিপয় ক্লান্ত কবি, আমরন লিখে যাবে
কালি ও কাগজের কান্নাভেজা কোনও এক ক্লীব-কামাতুর সঙ্গমের
বিবিধ বেওয়ারিশ বর্ননা;
আর
যন্ত্রের যোনীজুড়ে আঁকা
জীবনের জলছবিতে একটি অনন্য উল্কির কল্পকথা।

সর্বস্বত্ব সংরক্ষনঃ সেরিব্রাল ক্যাকটাস ।।

৪ thoughts on “যন্ত্রের যোনী জুড়ে আঁকা জীবনের জলছবি ও একটি অনন্য উল্কি’র কল্পকথা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *