-ম্যাচুরিটি-

ইদানিং নিজেকে খুব বেশি পরিপক্ক মনে হয় । অলস সময়গুলোকে কর্ম দিয়ে পরিপূর্ন করার চিন্তায় সদা নিমগ্ন থাকি । অবসর সময় বলতে কি বোঝায় সেটা ঠিক ভুলেই যাচ্ছি প্রায় অবসর বলতে আমার কাছে অবশিষ্ট কিছুই নেই ।

এখনই ইচ্ছে করে সংসারের হালে নিজের হাত চালাতে । প্রবাসী বাবার ঘাম ঝরা টাকাগুলো খরচ করতে গেলে মনের মধ্যে এখন অন্যরকম নিচ অনুভূতি হয় । আমার বাবা হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট,ডায়াবেটিকস সহ নানাবিধ রোগ শরীরে সঙ্গে নিয়ে চলেও আজ দীর্ঘ দেড় যুগ অক্লান্তভাবে খেটে আমাদের খাওয়াচ্ছন আমরা নির্লজ্জের মত খাচ্ছি ।


ইদানিং নিজেকে খুব বেশি পরিপক্ক মনে হয় । অলস সময়গুলোকে কর্ম দিয়ে পরিপূর্ন করার চিন্তায় সদা নিমগ্ন থাকি । অবসর সময় বলতে কি বোঝায় সেটা ঠিক ভুলেই যাচ্ছি প্রায় অবসর বলতে আমার কাছে অবশিষ্ট কিছুই নেই ।

এখনই ইচ্ছে করে সংসারের হালে নিজের হাত চালাতে । প্রবাসী বাবার ঘাম ঝরা টাকাগুলো খরচ করতে গেলে মনের মধ্যে এখন অন্যরকম নিচ অনুভূতি হয় । আমার বাবা হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট,ডায়াবেটিকস সহ নানাবিধ রোগ শরীরে সঙ্গে নিয়ে চলেও আজ দীর্ঘ দেড় যুগ অক্লান্তভাবে খেটে আমাদের খাওয়াচ্ছন আমরা নির্লজ্জের মত খাচ্ছি ।

আমি জানি বাবা ভাল নেই থাকার কথাও নয় কারন যে মানুষটার শরীরে এত রোগের বসবাস সে আর যাই থাকুক সে ভাল থাকতে পারেনা । তবে এই দেড় যুগে তিনি কখনই ফোন করে বা যোগাযোগ করার সময় কোনদিন অবধি জানায়নি সে কেমন আছে । নিজের ভাল থাকা না থাকা তার নিজের কাছে কোন ম্যাটার করে না । জানতে যান আমরা কেমন আছি । আমি জানি বাবা হাস্যরসিক মুখে কথা বলেন তবে ভাল থাকার অভিনয় আমার সামনে এতদিন ধরে করছেন তবুও তিনি ক্লান্ত হননি বিন্দুমাত্র হননি ।

আর বাদ বাকি মায়ের কথা সেটা না বললে তো আমার জীবনের ষোল আনাই বৃথা । আমার বাঁচতে শেখার প্রথম হাতেখড়ি যে মহিলার কাছে সে আমার মা । ছোট বেলা থেকে তাকে দেওযা যন্ত্রনার কোন ইয়ত্তা নেই । আর মানুষটির ধৈর্য্যসীমা সেটা অপরিসীম । রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটির বাস্তবতা দেখেছি আমি আমার মায়ের মাঝে “তোমা মাঝে খুঁজে অসীমের চিরবিস্ময় ” ।

আর আমি এই মানুষগুলোকে সারাজীবন বিনিময়ে দিয়েছি একরাশ হতাশা । না কোনদিন মেনেছি বাবার ভালবাসায় ঢাকা শাসন আর মায়ের মমতা মিশ্রিত উপদেশ। বরাবরই উপেক্ষা করেছি । ছোটবেলা থেকে এনাদের মুখে হাসি ফোঁটে এমন কোন কাজই আমার দ্বারা হয়নি । আজ বেলাশেষে এসে নিজেকে মা-বাবার কুলাঙ্কার সন্তান ব্যতীত আর কিছুই মনে হচ্ছে না ।

অনুশোচনা জাগছে, জোর হুংকার দিয়ে যন্ত্রনাগুলো বুকে এসে সোজা বিঁধছে।
১৮ টি পঞ্জিকা পুরনো হয়ে গেছে আমার জন্ম হবার পরে । শুনেছি ১৮ বছর বয়স নাকি বড় ভয়ংকর এক সময মানবজীবনে । এসময় মানুষ সব করতে পারে । হুট করে মানসিক দৈহিক সব দিকই পরিবর্তন হয় । কিশোরকবি সুকান্ত তো তেমনটাই লিখেছেন আঠারো বছর বয়সে । তবে আমার ক্ষেত্রে তো তার থেকে অনেক বেশিই মনে হচ্ছে আমার মানসিকতাকে । এখন ইচ্ছে করে না সময়গুলো নিছক ছেড়ে দিতে । অভিলাষ জাগে প্রতিটি সেকেন্ডের কাটাকেই কর্মময় ব্যস্ত রাখতে । কারন সেই বোধটা হৃদপিন্ডে গেঁথে গেছে বলে মনে হয় যে আমি সময়কে যদি নষ্ট করি সময়টাও আমাকে একদিন নষ্ট করবে আর এটা অপরিহার্য । আমার প্রানপ্রিয় শ্রদ্ধেয় এক স্যার সেদিন বলছিলেন “তুই অনেক ম্যাচিউরড হয়ে গেছিস, ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু হবি ”
কথাটা কতটুকু স্বার্থক সেটা সময়ই বলবে ।
তবে আমার অপেক্ষা সেই বড় কিছু কি সেটা দেখার । আসলেই কি আমি পেয়েছি মানসিক পূর্নতা নাকি এখনো আছে অবশিষ্ট কিছু ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *