পর্যায় সারণিতে যুক্ত হলো নতুন চারটি মৌলিক পদার্থ

বিজ্ঞানের সঙ্গে কোনোভাবে সাধারণ পরিচয় আছে, এমন যে কেউই পর্যায় সারণি সম্পর্কে জানেন। ইংরেজিতে একে ডাকা হয় periodic table নামে। এটা এমন এক লেখচিত্র, যাতে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আজ অবধি আবিষ্কৃত পদার্থের মৌলিক কণাগুলো তাদের বৈশিষ্ট্য, ধরণ অনুযায়ী সজ্জিত। এর মাধ্যমে তাবৎ পৃথিবীর সমস্ত জিনিসপত্রের উৎস যে মৌলিক কণাগুলো তাদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ সম্পর্কে সবাই সহজে জানতে পারেন।

বিজ্ঞানের ভাষায়, একই ধরনের ধর্মবিশিষ্ট মৌলসমূহকে একই শ্রেণীভুক্ত করে, আবিষ্কৃত সব মৌলকে স্থান দিয়ে মৌলসমূহের যে সারণী বর্তমানে প্রচলিত, তাকে মৌলের পর্যায় সারণী বলে। বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ’কে পর্যায় সারণীর জনক বলা হয়। এক টেবিলে দুনিয়ার সবকিছুকে আটকে ফেলার কীর্তিটা তারই। তবে মেন্ডেলিফ নিজে পুরো পর্যায় সারণি প্রস্তুত করে যেতে পারেননি। কারণ তার সময় অবধি বিজ্ঞানের যে সীমিত বিকাশ ঘটেছিল, তা অনেক পদার্থকে তখনো আবিষ্কারই করতে পারেনি। পরবর্তীতে যা কিনা পর্যায়ক্রমে আবিষ্কার হয়েছে এবং পর্যায় সারণিতে জায়গা পেয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগে পর্যায় সারণীতে যুক্ত হয়েছে আরও চারটি নতুন মৌল। বিশ্বে যতোগুলো মৌল আবিষ্কার হয়েছে তাদের ধর্ম ও সাদৃশ্যের ভিত্তিতে একই পর্যায়ভুক্ত করে তৈরি করা এই পর্যায় সারণী নতুন চার মৌলের অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে। তবে এ আবিষ্কার আমাদের কিছু কাজও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিজ্ঞানের অধিকাংশ শাখার অনেক পাঠ্যবইয়ের নতুন সংস্করণ প্রকাশের প্রয়োজন পড়বে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাসায়নিক নামকরণের পরিভাষা এবং পরিমাপ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি (আইইউপিএসি) গত ৩০ ডিসেম্বর এই নতুন চারটি মৌলকে স্বীকৃতি দিয়ে সারণীতে স্থান দেয়ার কথা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, যে পদার্থকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিভাজিত করলে ভিন্ন ধর্মের অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে বলা হয় মৌলিক পদার্থ।

পর্যায় সারণীর ১১৮টি ঘরের মধ্যে নতুন যোগ হওয়া চারটি মৌলের কথা জানা গিয়েছিল আগেই। তবে সেগুলোর মৌল ধর্ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই আইইউপিএসি সারা বিশ্বের সামনে পদার্থগুলোকে মৌলিকতার স্বীকৃতি দিল। পরীক্ষাগারে সৃষ্ট এই চার মৌলের অস্থায়ী নাম ইউনানট্রিয়াম (Uut, ১১৩); ইউনানপেন্টিয়াম (Uup, ১১৫); ইউনানসেপ্টিয়াম (Uus, ১১৭) এবং ইউনানঅক্টিয়াম (Uuo, ১১৮)।

আইইউপিএসি বলছে, রাশিয়া ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী পর্যায় সারণীর ১১৫, ১১৭ ও ১১৮ নম্বর মৌল আবিষ্কারের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছে। আর জাপানের রিকেন ইন্সটিটিউটের একদল বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছে ১১৩ নম্বর মৌল আবিষ্কারের বিষয়টি। এই স্বীকৃতির ফলে ‘পূর্ণতা’ পেয়েছে পর্যায় সারণীর সপ্তম পর্যায়, যাতে স্থান পাওয়া সবগুলো মৌলই তেজস্ক্রিয়।

নতুন মৌলের স্বীকৃতির খবর শুনে রিকেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রসায়নে নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী রিওজি নয়োরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিজ্ঞানীদের জন্য এটা এমন এক আবিষ্কার, যা অলিম্পিকে স্বর্ণপদক পাওয়ার চেয়েও বড়।’ স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের এখন পর্যায় সারণির পুরনো ছবিটাকে কিছুটা পালটে নিতে হবে। যাদের এই সারণির খুঁটিনাটি মুখস্ত, তাদের একটু নতুন করে জানতে হবে নয়া এই চার মৌল সম্পর্কে।

৩ thoughts on “পর্যায় সারণিতে যুক্ত হলো নতুন চারটি মৌলিক পদার্থ

  1. পর্যায় সারণী বিজ্ঞানের এক
    পর্যায় সারণী বিজ্ঞানের এক অসাধারণ আবিস্কার। এতে ভবিষ্যতে যে মৌলিক পদার্থগুলো আবিষ্কৃত হবে তার পারমানবিক সংখ্যা , ধর্ম সহ নানা বিষয়ে ভবিষ্যৎবাণী করা যায়। বিজ্ঞানের বইগুলোতে দ্রুত নুতুন মৌলিক পদার্থের বর্ণনা অন্তভুক্ত করা হোক।

Leave a Reply to সাম্যবাদী Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *