স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াস, স্বাধীন বাংলাদেশের আঁতুড়ঘর – পর্ব ০১

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কারও পক্ষেই এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যদিও অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন বঙ্গবন্ধু কখনই স্বাধীনতা চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ছয় দফার ভিত্তিতে পুর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন এবং পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। তাই তিনি শেষ সময় পর্যন্ত আলোচনার দরজা খোলা রেখেছিলেন। আমি মনে করি যারা এসব বলেন তাঁরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিদ্বেষ প্রসূত কারণেই এসব বলে থাকেন। যাই হোক তিনি স্বাধীনতা চেয়েছিলেন না পুর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব তা আমার আলোচনার বিষয় নয়। বরং আমি বলতে চাই স্বাধীনতার সংগ্রামে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী গোপন সংগঠন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াসের কথা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন এই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদই পরে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুজিব বাহিনী নাম ধারণ করে। পূর্ব বাংলার ছাত্রদের বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি প্রগতিশীল সংগঠনে রূপান্তর করে, তারই ছত্রছায়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্মী সৃষ্টি করে বাংলার ন্যায় সংগত দাবী দাওয়া ভিত্তিক আন্দোলনকে ধাপে ধাপে বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এই গোপন সংগঠনের পক্ষ থেকে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বের দশ বছরের রাজনৈতিক ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলে এটা পরিষ্কার হওয়া যাবে যে, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আঁতুড় ঘর হচ্ছে এই নিউক্লিয়াসই।

সময়টা মুক্তিযুদ্ধের নয় বছর আগে, ১৯৬২ সাল। দুই অংশের মধ্যে ১২ মাইলের দূরত্ব স্বত্বেও শুধু মাত্র ধর্মের ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পনেরো বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এদেশের মানুষ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেমেছিল স্বাধীনতা প্রাপ্তির বছর না পেরুতেই সব ধূলিসাৎ হয়ে যায়। যার সূচনা হয়েছিল ১৯৪৮ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে। একের পর এক চরম বৈষম্য মূলক আচরণ করে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী এ দেশের জনগণের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্বপাকিস্তানের জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বুঝতে পারে তাঁদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। ব্রিটিশ শাসকদের পরিবর্তে এখন পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী তাদের শোষণ করছে, বঞ্চিত করছে ন্যায্য অধিকার থেকে। এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।

দুর্দান্ত প্রতাপশালী শাসক স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মার্শাল ল বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের ছোট্ট একটা গ্রুপ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই তরুণদের একজন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম খান ঢাকা হলের মাঠে এক অলস বিকেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টি উত্থাপন করলে তাঁর সাথে একমত হন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতা কাজী আরেফ আহমেদ ও ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদ- এই তিন ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পক্ষের প্রথম গোপন সংগঠন যা ‘নিউক্লিয়াস’ নামে পরিচিত। আবার এই ‘নিউক্লিয়াস’ই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে অভিহিত। প্রকাশ্যে এই নিউক্লিয়াসের কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না ঠিকই; কিন্তু অত্যন্ত গোপনে তারা অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ শুরু করেন।


(ছবি-নিউক্লিয়াসের তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ ও আব্দুর রাজ্জাক)

১৯৬৪ সালের জুলাই মাসে তিন সদস্য বিশিষ্ট স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াসের হাইকমান্ড গঠন করা হয়। তিন সদস্য হচ্ছেন ০১) সিরাজুল আলম খান ০২) আব্দুর রাজ্জাক ও ০৩) কাজী আরেফ আহমেদ। তাঁরা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেন। সিরাজুল আলম খান ছিলেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ এর যাবতীয় কর্মকাণ্ডের প্রণেতা ও তত্ত্বাবধায়ক। তিনি নিঃসন্দেহে একজন সেরা সংগঠক। আব্দুর রাজ্জাকের ভূমিকা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের মতামত গড়ে তোলা। আব্দুর রাজ্জাক শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের কাজের অগ্রগতির কথা অবহিত করতেন। এবং কাজী আরেফ আহমেদ ছাত্র ফ্রন্টের দায়িত্ব নেন। অর্থাৎ ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গোপনে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করা। পরবর্তীকালে এই তিন নেতার বাইরে আরো দুজনকে ‘নিউক্লিয়াস’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের একজন হলেন ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ (১৯৬৩) ও অপরজন চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতা এম এ মান্নান (১৯৬৫)।

‘নিউক্লিয়াস’-এর সদস্য সংগ্রহ করা হতো মূলত ছাত্রলীগ থেকে। সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী সংগ্রহ করা হতো বাইরে থেকে। স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আদর্শবাদী কর্মী গড়ে তুলতে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াসে সৎ , চরিত্রবান, নিষ্কলুষ, নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সদস্য করা হত। মিথ্যা বলা, সংগঠনের গোপন কথা ফাঁস করা, নৈতিকতা বিরোধী কাজকরা, নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা ও বিশ্বাস ঘাতকতার শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। এই সংগঠনে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের দুই সন্ত্রাসবাদী সংগঠন অনুশীলন ও যুগান্তরের প্রভাব অনেক বেশী ছিল। ‘নিউক্লিয়াস’ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরে থেকে গাইডিং ফোর্স হিসেবে কাজ করতো এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা অবলম্বন করতো। প্রকাশ্যে এই সংগঠনটিকে বোঝা যেত না। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল, ক্রীড়া-খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর আড়ালে থেকে এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করতেন। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার প্রতিটি আন্দোলনে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই ছিল সংগঠনটির সার্বক্ষণিক কাজ। আর এই কারণেই পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে এই গোপন সংগঠনের কার্যক্রম বা অস্তিত্ব জানা সম্ভব হয়নি। ‘অনুশীলন’ সমিতির মতোই এ প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশে জেলা ও মহকুমা এবং কোন কোন থানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, শিল্পী-কবি-সাহিত্যিক প্রভৃতি ব্যক্তিগণ ‘নিউক্লিয়াসে’র সদস্য ছিলেন। দলগত ভাবে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ‘নিউক্লিয়াস’ সম্পর্কে জানত না। এর অনেক সদস্যরাও জানতে পারতো না যে তারা সেই গোপন সংগঠনের সদস্য, তারা শুধু এটুকু বুঝতে পারতেন যে নেতৃবৃন্দ তাঁদের প্রতি সহানুভূতি ও অন্যান্য কর্মীদের থেকে একটু বেশী পছন্দ করেন। শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করতেন এডভোকেট কমরুদ্দিন আহমেদ, ডক্টর আহমেদ শরীফ, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক ও প্রফেসর নূর মোহাম্মদ মিয়া। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মরহুম বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এই সংগঠনের অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ সকল বিষয়ে যার কাছ থেকে সব থেকে বেশী সহযোগিতা পেয়েছে তিনি হলেন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা । ‘৬৯ সালে জেল থেকে বেরিয়ে গোল টেবিল বৈঠকে প্যরোলে মুক্তির কঠিন সিদ্ধান্তটি শেখ ফজিলাতুন্নেসার দৃঢ়টার জন্যই ফলপ্রসূ হয়নি। এছাড়াও ‘৭১ সালে মুজিব-ভুট্টো, মুজিব-এহিয়ার আলোচনার সময় বেগম মুজিবের দৃঢ় ও আপোষহীন ভূমিকার কথা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

অপরদিকে ছাত্রলীগকে গতিশীল ও সুশৃঙ্খল সংগঠনরূপে গড়ে তুলতে ‘নিউক্লিয়াস’ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায় ১৯৬৪ সাল থেকে। এভাবেই ১৯৬৮ সাল নাগাদ গোটা বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াসের ৩০০ ইউনিট গঠন করা হয়। প্রতি ইউনিটে ৯ জন করে সদস্য ছিলেন। প্রতি মহকুমায় চার-পাঁচজন সদস্য থাকতেন। মহকুমার অধীনে বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচজন সদস্য নিয়ে গোপন কমিটি গঠিত হতো। ১৯৬৮-‘৭০ সালে ‘নিউক্লিয়াস’-এর সদস্য বৃদ্ধি পেয়ে সাত হাজারে দাঁড়ায়। ১১ দফা আন্দোলনকে বেগবান করে শেখ মুজিবের মুক্তি ও এক দফার অর্থাৎ স্বাধীনতার আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া হয় নিউক্লিয়াসের মাধ্যমেই। এক কথায় তখন ছাত্রলীগের উপরে পুরো কর্তৃত্ব ছিল নিউক্লিয়াসের। পরবর্তীতে শ্রমিক লীগ গঠিত হয় নিউক্লিয়াসের কর্ম পরিকল্পনা অনুসারে এবং বলাই বাহুল্য শ্রমিক লীগও পরিচালিত হতো বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াসের নেতৃবৃন্দের দ্বারা।

বিপ্লবী পরিষদের জেলা ফোরাম গঠন করা হয় একজন নেতার নেতৃতে । যেমন – চট্টগ্রাম ফোরামের নেতৃত্বে ছিলেন আবুল কালাম আজাদ (অ্যাডভোকেট), কুমিল্লায় হাবিবুল্লাহ চৌধুরী (অ্যাডভোকেট), সিলেট এ আক্তার আহমেদ(ক্যান্সার এ ‘৮৪ এ মারা যান), ফরিদপুরে মনোরঞ্জন, মাদারীপুরে আমির হোসেন (সাপ্তাহিক এই সময়ের সম্পাদক), বরিশালে জেড আই খান পান্না (অ্যাডভোকেট), খুলনায় মনোরঞ্জন দাস, যশোরে আলী হোসেন মনি, কুষ্টিয়ায় আব্দুল মোমিন, পাবনায় আহমেদ রফিক (৭০’র নির্বাচিত এমপি), বগুড়ায় মোস্তাফিজুর রহমান পটল (৭৩’র নির্বাচিত এমপি), দিনাজপুরে মাহতাব হোসেন, রংপুরে হারেশ সরকার (পরবর্তীতে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত এবং এমপি, প্রয়াত)। ০৪ থেকে ০৭ জন সদস্য নিয়ে এ সমস্ত জেলা ফোরাম গঠিত হয় ।

এর বাইরে ছাত্রলীগ পরিচালনার জন্য একটি ছায়া ফোরাম গঠন করা হয়। এই ছায়া ফোরামের দায়িত্ব ছিল কাজী আরেফ আহমেদের উপর। এই ছায়া ফোরামের সদস্য ছিলেন মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মণি), আসম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, স্বপন কুমার চৌধুরী। ১৯৬৯ সালে কারামুক্তির পরে ‘বঙ্গবন্ধুকে ‘নিউক্লিয়াস’ ও বিএলএফ-এর কর্মপদ্ধতি, সংগঠন ও কার্যাবলী সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি উজ্জীবিত হন এবং তখন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোষহীন হন। বঙ্গবন্ধু বিএলএফ-এর হাই কম্যান্ডে শেখ ফজলুল হক মণি ও তোফায়েল আহমদকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন। তিনি সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ ফজলুল হক মণি ও তোফায়েল আহমদ এই চার যুব নেতাকে স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রয়োজনে ভারতের সহযোগিতা নেয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এবং যে কোন পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য কোলকাতার ভবানী রোডের একটা ঠিকানা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এই ঠিকানাটা ছিল চিত্ত রঞ্জন সুতারের। এবং ২৫ মার্চের পরে এই চার যুব নেতা ওই ঠিকানাতেই মিলিত হন এবং গড়ে তুলেন মুজিব বাহিনী যার উপরে মুজিবনগর সরকারের কোন কর্তৃত্ব ছিল না। একই বছরে ফোরামে যুক্ত হন শরীফ নুরুল আম্বিয়া, হাসানুল হক ইনু, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মাসুদ আহমেদ রুমী (দৈনিক বাংলা), আফম মাহবুবুল হক।

ঢাকা শহরে আরও একটি ফোরাম কাজ করতো যার নেতৃত্বে ছিলেন মফিজুর রহমান খান(সাপ্তাহিক রুপম কাগজ এর প্রকাশক)। সদস্য ছিলেন মফিজুর রহমান, শহীদ নজরুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, মনিরুল হক, আজিজুল হক কাউসার। এর বাইরে সিরাজুল আলম খানের দায়িত্বে আমিনুল হক বাদশা, চিত্তরঞ্জন গুহ এবং বোরহান উদ্দিন পুনম বিপ্লবী পরিষদের অন্তর্ভুক্ত হন। আরও যারা বিপ্লবী পরিষদের সাথে জড়িত ছিলেন তাঁরা হচ্ছেন – কামরুল আলম খান খসরু (ওরা এগার জন সিনেমার নায়ক), চিশতী শাহ্‌ হেলালুর রহমান (শহীদ, প্রথম জয় বাংলা উচ্চারণকারী), আফতাব আহমেদ, রায়হান ফেরদৌস মধু, রেজাউল হক মোস্তাক, গোলাম ফারুক প্রমুখ।

১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সংগঠিত সবকটি আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এই গোপন সংগঠনটি। স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান কর্মকাণ্ডগুলো সংক্ষেপে নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের নাম্বার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের নাম ফলক ইংরেজির পরিবর্তে বাংলায় লেখার আন্দোলন সংঘটিত হয়। নিউক্লিয়াসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলায় লেখার এই মৌলিক কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করে ছাত্রলীগ।

২) একই সময়ে প্রথম দেয়াল লিখন (চিকা) ব্যবস্থা চালু হয় ‘নিউক্লিয়াস’-এর সিদ্ধান্তে। যা বাস্তবায়নের জন্য যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন।

৩) ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু লাহোরে ছয় দফা ঘোষণা করলে বাঙ্গালীর স্বাধিকার বিষয়টা সামনে চলে আসে এটাই ছিল স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রাথমিক ধাপ।বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা ঘোষণা করেন তখন তার পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক শুরু হয়। আর এই বিতর্ককে পাস কাটিয়ে সে সময়ের ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ সর্বপ্রথম বিবৃতি দিয়ে ছয়দফার প্রতি সমর্থন জানান এবং তার নেতৃতে ঢাকার রাজপথে মিছিল বের করেন। এরপর পরই ছয় দফার প্রতি সমর্থন জানানো শুরু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

৪) শেখ সাহেবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা তখনকার ছাত্রলীগের সভাপতি (তোফায়েল আহমদ) কর্তৃক ১৯৬৯ সালে পল্টন ময়দানে ঘোষণা করা হয়।

৫) বাঙ্গালীর জাতীয় রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের সমর্থন, যা ১৯৭০ সালে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু উত্থাপন করেন।

৬) স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে কবি গুরু রবীন্দ্র নাথা ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ নির্ধারণ করে নিউক্লিয়াস।

৭) স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তৈরী ও প্রদর্শন। ১৯৭০ সনের ৬ই জুন রাতে ইকবাল হলের ১১৬ নম্বর রুমে পতকা প্রস্তুত করা হয় যা পরের দিন পল্টনে বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেয়া হয়। এই পতাকাই ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাবি’র কলাভবনের পশ্চিম পাশের ছোট গাড়ি-বারান্দার ছাদের সভা মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আসম আব্দুর রব।

৮) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ‘স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ প্রস্তাব পাস করানো ছিল নিউক্লিয়াসের সিদ্ধান্ত। আর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯৭০ সনের ২১শে জুন বলাকা ভবনে ছাত্রলীগের সভায় নিউক্লিয়াসের সদস্য ও ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক স্বপন কুমার চৌধুরী এই প্রস্তাবক উত্থাপন করেন এবং ৩৬ : ৯ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।

৯) ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ।

১০) সম্ভাব্য মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে আতাউল গনি ওসমানীর নাম বঙ্গবন্ধুকে সুপারিশ করে নিউক্লিয়াস।

১১) ১৯৭০ সালে শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন ‘শ্রমিক লীগ’ গড়ে তোলা।

১২) মরহুম মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে ছাত্রীদের নিয়ে ‘প্রীতিলতা ছাত্রী জঙ্গিবাহিনী’ গড়ে তোলা হয়।

১৩) ‘বিপ্লবী বাংলা’ নামে গোপন ও ‘জয় বাংলা’ নামে প্রকাশ্য পত্রিকা এবং বুকলেট, লিফলেট ও পুস্তিকা প্রকাশ।

১৪) প্রবাসী সরকারের ‘জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন।

১৫) ১৯৭১ সালে তৎকালীন রেসকোর্স মাঠে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর মুখে উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ বাক্য সংযোজন করেন নিউক্লিয়াসের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে।

১৬) স্বাধীনতার যাবতীয় প্রচার কর্মকাণ্ড ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে’ পরিচালিত হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান।

১৭) ১১ দফা আন্দোলন পরিকল্পনা এবং এর সাংগঠনিক বিস্তারে ‘নিউক্লিয়াস’-এর নেতৃত্ব ও সংগঠকরা নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন এবং এ আন্দোলন পরিচালনার জন্য সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের রূপ প্রদানে ‘নিউক্লিয়াস’ নেতাদের ভূমিকাই প্রধান ছিল। ১১ দফায় স্বাক্ষরকারী ছাত্র সংগঠনসমূহ হলো ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (উভয় গ্রুপ), ছাত্র ফেডারেশন (দোলন গ্রুপ) ও ডাকসু। ১১ দফা আন্দোলন চলাকালে গণ-অভ্যুত্থান অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে পূর্ব পাকিস্তানে অবাঙালি অধ্যুষিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ‘নিউক্লিয়াস’ সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে বিকল্প সামাজিক শক্তি হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ব্রিগেড সারা দেশে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান, শহর-পাড়া-মহল্লাসহ প্রত্যেক অঞ্চলে এবং থানা পর্যায় পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি ছিল। নৈশ প্রহরী, ট্রাফিক ব্যবস্থা, মেইল ট্রেন চালু, লঞ্চ, স্টিমার, নৌবন্দর পরিচালনা, এমসিসি-পাকিস্তান ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করা, থানা পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, শিল্প কল-কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনায়ও ব্রিগেডগুলোর ভূমিকা ছিল প্রত্যক্ষ। ছাত্রনেতা আসাদ, কিশোর ছাত্র মতিউর পুলিশের গুলিতে নিহত হলে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কৌশল নির্ধারণ করে ‘নিউক্লিয়াস’ এবং তা কার্যকর করে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’। গণ-আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হতে থাকে এবং গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। ফলে আইয়ুব খান পদত্যাগ করে ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।

১৮) ৬ দফা, ১১ দফা এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলনকে এক দফায় রূপান্তর করে স্বাধীনতার বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা।

এছাড়াও ‘জয় বাংলা’, ‘তুমি কে আমি কে বাঙ্গালী বাঙ্গালী’, ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘পিণ্ডি না ঢাকা?ঢাকা ঢাকা’, ‘ছয় দফা না এক দফা! এক দফা এক দফা’, ‘বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো’! ‘স্বাধীন করো স্বাধীন করো বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ এই শ্লোগান গুলো নিউক্লিয়াস থেকেই সৃষ্টি যা জনপ্রিয় করা হয় ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগের মাধ্যমে।

উপরের আলোচনা থেকে খুব সহজেই এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াসই ধারাবাহিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে এসেছে। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লিখতে গেলে কোনভাবেই এই নিউক্লিয়াসের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অথচ, বর্তমান আওয়ামীলীগের অনেক নেতাই নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব স্বীকার করতে চান না। এমনকি নিজে বিএলএফ এর সদস্য হয়েও তোফায়েল আহমেদ অস্বীকার করেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের কথা। অথচ তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর চার শীর্ষ নেতার অন্যতম।

আসলে স্বাধীনতার পরে আওয়ামীলীগকে স্বাধীনতার একমাত্র দাবীদার হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টাই নিউক্লিয়াসকে আড়াল করার প্রধান কারণ। এছাড়াও এই নিউক্লিয়াস সদস্যদের একটা বড় অংশ স্বাধীনতার পরে একটা জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালে তা প্রত্যাখ্যাত হয় আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু কর্তৃক। মুজিব বাহিনী ও নিউক্লিয়াসের এই র‍্যাডিকাল অংশটাই পরবর্তীতে জাসদ গঠন করে ব্যাপক জন সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়। তাই নিউক্লিয়াসের ইতিহাস স্বীকার করলে স্বীকার করে নিতে হবে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নবগঠিত রাজনৈতিক দলের জাসদের নেতা কর্মীদের ভূমিকার কথা। এই সব কারণেই মূলত পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পারেনি এই গোপন সংগঠনের নাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যদি ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করতে হয় তাহলে এই সংগঠনের নাম আসবেই। যেমন ছাত্রলীগকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়, তেমনি ছাত্রলীগকে পরিচালনার জন্য নিউক্লিয়াসের নামও চলে আসবে, এটাকে অস্বীকার করে স্বাধীনতার ইতিহাস লিখতে গেলে সেটা হবে মিথ্যার বেসাতি সাজানোর মতোই। (চলবে, পরবর্তী পোস্টে সমাপ্ত)

কৃতজ্ঞতা : কাজী সালমা সুলতানা (কাজী আরেফ আহমেদের ডায়েরী থেকে তিনিই প্রথম ফেসবুক নোট লিখেন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ শিরোনামে।)

তথ্যসূত্র :
১) শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের অপ্রকাশিত ডায়েরী (প্রকাশিতব্য)
২) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও সমাজতন্ত্র : মনিরুল ইসলাম
৩) স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং ‘সিআইএ’ : মাসুদুল হক
৪) বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত আসম আব্দুর রব ও প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পরে স্কোয়াড্রন লিডার এবিএম আহসান উল্লাহ সাহেবের প্রবন্ধ।

২৭ thoughts on “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াস, স্বাধীন বাংলাদেশের আঁতুড়ঘর – পর্ব ০১

  1. শুক্রবারের খোরাক! দারুণ! এসব
    শুক্রবারের খোরাক! দারুণ! এসব তথ্য একেবারে মুখস্ত করে ফেলতে ইচ্ছা করে।
    প্রিয়তে!

  2. এক কথায় অসাধারণ পোস্ট।
    এক কথায় অসাধারণ পোস্ট। শুক্রবার দিনটাই শুরু হল দারুণ একটা পোস্ট দিয়ে। থ্যাংকু “বাংলা ভাই” দারুণ একটা তথ্যবহুল পোস্টের জন্য…

  3. আফসোসের ব্যাপার, এত স্ট্রং
    আফসোসের ব্যাপার, এত স্ট্রং ম্যানেজমেন্ট এবং বলিষ্ঠ কয়েকজন নেতার অংশগ্রহণ থাকার পরও স্বাধীন বাংলাদেশে এই দলের কোন প্রত্যক্ষ কর্মকান্ডের প্রভাব পড়ল না। এক জায়গায় শুনেছিলাম, এই “নিউক্লিয়াস” এর প্ল্যানিং এর ব্যাপ্তি নাকি ছিল ৩৫ বছর, অর্থাৎ তাঁদের কার্যক্রমের ফলাফল পাওয়া যেত ৩৫ বছর পর। জানি না, ঠিক কি না তথ্য। তবে গঠনতন্ত্র থেকেই বোঝা যায়, যে তাঁরা বেশ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন।
    অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আপনাকে তথ্যগুলো জানানোর জন্য। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

    1. ৩৫ বছরের পরিকল্পনার কথা জানা
      ৩৫ বছরের পরিকল্পনার কথা জানা নাই। তবে তাঁদের প্রতিটা কাজ যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফসল এটা বোঝা যায়। আরও গভীরে গেলে এটাকে অনেকে জাসদ সৃষ্টির রুট হিসেবেও ব্যাখ্যা করে থাকে, কেউ কেউ র এর এজেন্টও বলে। যদিও এখন পর্যন্ত এর কোনটাই যুক্তি সম্মতভাবে কেউ উপস্থাপন করতে পারেননি। দেখা গেছে যারাই এই আলোচনায় এসেছেন, দায়টা ভবিষ্যতের উপরেই চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকেও। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  4. উত্তর বাংলা ভাইকে ধন্যবাদ এই
    উত্তর বাংলা ভাইকে ধন্যবাদ এই টপিকটি সামনে নিয়ে আনার জন্যে। নিউক্লিয়াসকে নিয়ে আমার অনেক আগে থেকেই আগ্রহ ছিলো। এখানে আরো কিছু তথ্য যোগ করাদ প্রয়াস পেলাম।

    নিউক্লিয়াসের অবদানের কিছু অংশের ফ্লাশব্যাক: বাঙালির ‘জাতীয় রাষ্ট্র’ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ১৯৬২ সনে গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ গঠিত হয়। নিউক্লিয়াস ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নমেও পরিচিত। এই উদ্যোগে সিরাজুল আলম খানেফ প্রধান সহকর্মী ছিলেন আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।
    ১৯৬২-’৭১ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, ৬-দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন, ১১- দফা আন্দোলন পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়ন করে এই ‘নিউক্লিয়াস’। আন্দোলনের এক
    পর্যযে গড়ে তোলা হয় ‘নিউক্লিয়াসে’র রাজনৈতিক উইং বি.এল.এফ এবং সামরিক ‘জয় বাংলা বাহিনী’।
    স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে ‘জয় বাংলা’ সহ সকল স্লোগান নির্ধারণ এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে “…এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” বাক্যসমূহের সংযোজনের কৃতিত্ব ‘নিউক্লিয়াসে’র। এইসব সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিরাজুল আলম খানের ভুমিকা ছিল মুখ্য।
    ’৬৯-’৭০ সনে গন-আন্দোলনের চাপে ভেঙে পড়া পাকিস্তানী শাসনের সমান্তরালে ‘নিউক্লিয়াসে’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠন করা হয় ছাত্র-ব্রিগেড, যুব- ব্রিগেড, শ্রমিক-ব্রিগেড, নারী-ব্রিগেড, কৃষক-ব্রিগেড, সার্জেন্ট জহুর বাহিনী। এদের
    সদস্যরা ভেঙ্গে পডা পাকিস্তানী শাসনের পরিবর্তে যানবাহন চলাচল, ট্রেন-স্টীমার চালু রাখা, শিল্প-কারখানা উৎপাদন আব্যাহত রাখা এবং থানা পর্যায়ে আইন- শৃঙ্খ্লা রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করে। নিউক্লিয়াসের সদস্যদের দ্বারা এইসব দূরুহ কাজ সাম্পাদনের জন্য কৌশল ও পরিকল্পনাও ‘নিউক্লিয়াসে’র। ১৯৭০-’৭১ সন নাগাদ বি.এল.ইফ এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজারে। এদের প্রত্যেকেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উন্নত সামরিক ট্রেনিং প্রাপ্ত হন এবং ‘মুজিব বাহিনী’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্হ ১১টি সেক্টরের পাশাপাশি ৪টি সেক্টরের বিভক্ত করে বি.এল.এফ-এর সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনা ও কৌশল ছিল কেবল ভিন্ন ধরনের নয়, অনেক উন্নতমানের এবং বিজ্ঞানসম্মত। বি.এল.এফ-এর চার প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক, আব্দুর রাজ্জক এবং তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭১ সনের ১লা মার্চ ইয়াহিয়া খান আকস্মিকভাবে নির্বাচিত পাকিস্তান জাতীয় উদ্বোধনী সভা স্থগিত ঘোষণার পর পরই ২রা মার্চ বাংলাদেশর প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণসহ ৩রা মার্চ ‘স্বাধীন বাংলার ইশ্তেহার’ ঘোশণার পরিকল্পনাও ‘নিউক্লিয়াসে’র।. বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে এই দুটি কাজ ছিলো প্রথম দিকনির্দেশনা। আর এই দুই গুরুদায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে আ স ম আবদূর রব এবং সাজাহান সিরাজ। ১৯৭০ সনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নির্বাচিত করার দায়িত্ব পালন করে বি.এল.এফ। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণ- আন্দোলনে গড়ে ওঠা জনমতকে সাংবিধানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে গণরায়ে পরিণত করার এই কৌশলও নির্ধারণ করে বি.এল.এফ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সানন্দে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন। আন্দোলন, নির্বাচন, সমান্তরাল প্রশাসন এবং আসন্ন সশস্ত্র সংগ্রামকে হিসাবে নিয়ে বিভিন্ন বাহিনী গড়ে তোলার কৃতিত্ব সিরাজুল আলম খানের।

    ৭ই মার্চের পেছনে নিউক্লিয়াস ও ছাত্রলীগের অবদান:
    ৬ মার্চ লে. জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে অপসারণ করে লে. জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্বপাকিস্তানের গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। এই উত্তপ্ত সময়ে নৃশংস বলে কুখ্যাত টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণের উদ্দেশ্য যে মিলিটারির বুটের নিচে পূর্ব পাকিস্তানের গণ আন্দোলনকে দাবিয়ে দেয়াএটা উপলব্ধি করতে পেরে ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জনাব বি এ সিদ্দিকী টিক্কা খানের শপথনামা পরিচালনা করতে অস্বীকার করেন। এদিকে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বাধীন ‘নিউক্লিয়াস’ শেখ মুজিবের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যাতে তিনি ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৬ মার্চ
    স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার জন্য শেখ মুজিবের ওপর চাপ তুঙ্গে উঠে এবং সেদিনই তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার দীর্ঘ আলাপ হয়।
    ইয়াহিয়া তাকে অনুরোধ করে, যেন তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ না নেন যাতে আর প্রত্যাবর্তনের কোনো পথ না থাকে। একই দিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঘোষণা দেয় যে, আগামী ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে। কিন্তু ভাষণে প্রেসিডেন্ট যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়, তাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের রেডিক্যাল অংশ শেখ মুজিবের ওপর আরো চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার জন্য। পরদিন ৭ মার্চ জনসভাকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির বাড়িতে চলতে থাকে প্রস্তুতি। এদিকে পাকিস্তানে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যান্ড বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন এবং হুমকি দেন মার্কিন সরকার পাকিস্তান ভাঙ্গা সহ্য করবে না’। রাতে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক বসে এবং সিদ্ধান্ত ছাড়াই গভীর রাতে মূলতবী হয়ে যায়। এই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় ৭ মার্চ বেলা ২.৩০ মিনিটে রেসকোর্সের জনসমুদ্রের সামনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের অপশাসন ও নিষ্পেষণ থেকে বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র ঘোষণা দিতে দাঁড়ালেন। তারপর তো ইতিহাস! ৭ই মার্চের ৭, আর ১ টি তর্জনী, দুয়ে মিলে হয়ে গেল ৭১।

    বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধের প্রয়োজনীতা বোধ করে নিউক্লিয়াস। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দ্য গার্ডিয়ানে রচিত প্রবন্ধ হতে একটু চুম্বক অংশ দেখে নিন।

    The idea for the March 1971 hartal came from Serajul Alam
    Khan, the founder of ‘Swadhin Bangla Nucleus’ (1962) , a secret organisation which spearheaded the war of independence in 1971. Serajul, along with ASM Abdur Rab and Shahjahan Shiraj of Chhatra Sangram Parishad (Central Students Action Committee) at Dhaka University believed that the independence of Bangladesh could only be achieved through armed revolution.

    সোশ্যালিস্ট ম্যাগাজিনে জানুয়ারি ২০১১ সংখ্যায় নিউক্লিয়াসের অবদান নিয়ে লিখা হয়

    On 2 March 1971, a group of students, led by ASM Abdur Rob, vice-president of the Dhaka University Central Students Union and well-known left-wing leader, raised the new (proposed) flag of Bangladesh under the direction of the Swadhin Bangla Nucleus, an underground organisation in the leadership of the liberation struggle. The following day, student leader, Sahjahan Siraj, read the declaration of independence (sadhinotar ishtehar) at Paltan Maidan, at a public meeting, again organised by the Swadhin Bangla Nucleus.

    বাংলাদেশের জন্ম নিয়ে তথ্যবহুল এই লিখাটি পড়ে আসতে পারেন। http://www.socialismtoday.org/154/bangladesh.html

    আরো কয়েকটি ইতিহাস যা আমরা ভুলে গেছি:
    ♣১৯৬৪সালে আইয়ুব খানের সাবেক আইন মন্ত্রী জাস্টিস ইব্রাহিম কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে একটি গোপন ফোরাম। এর সাথে জড়িত হন সিরাজুল আলম খান , মাজহারুল হক, এহতেশাম হায়দার চৌধুরী ,কাজি আরেফ আহমেদ প্রমুখ। ক্ষুদ্রাকারে হলেও এই ফোরামই সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা -ভাবনা শুরু করে। আর সিরাজুল আলম খান (দাদা ভাই বা কাপালিক ) এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটা অংশ কাজ করতে থাকে “স্বাধিন বাংলা নিউক্লিয়াস” হিসেবে। অথচ নিয়তির কি নির্মম পরিহাস জাস্টিস ইব্রাহিম এর নাম আর কেউ উচ্চারন করে না , স্বাধিনতার ইতিহাস রচিয়তারাও লিখেন না তার নাম ।

    ♣মুক্তিযুদ্ধের একটি পরিচিত আলোকচিত্র হল ,রোকেয়া হলের ছাত্রীদের রাইফেল হাতে মিছিল। উল্লেখ্য, এটি ছিল জয়বাংলা বাহিনী’র মিছিল যার অধিনায়ক ছিলেন খসরু ও মমতাজ বেগম । মমতাজ বেগম এর নাম আর কেউ উচ্চারন করে না আর খসরু কে চিনি আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম চলচ্চিত্র “ওরা ১১ জন ” এর নায়ক হিসেবে কিন্তু চিনতে /জানতে চাইনা মুক্তিযুদ্ধের আগে ও মুক্তিযুদ্ধকালীন তার বিরোত্বপুর্ন ভুমিকার কথা ? ২৫ শে মার্চের অপারেশন সার্চ লাইটের অন্যতম টার্গেট ছিলেন এই খসরু । আমরা কয়জন জানি , পানির ট্যাঙ্কিতে সারাদিন লুকিয়ে থেকে তার আত্বরক্ষার কথা।

    ♣বাংলাদশের প্রথম পতাকার পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিস্টদের কথা কি আমাদের মনে আছে? এই পরিকল্পনার অন্যতম একজন ছাত্রলীগ এর বিপ্লবী গ্রুপ “স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস”র সদস্য চিশতি হেলালুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে ২৫ শে মার্চের পাক বাহিনীর “অপারেশন সার্চ লাইট” এর শিকার হয়ে শহীদ হন অথচ ঢাবি এর শহীদের তালিকায় তার নাম নেই!! আর পতাকা’র নকশা নিয়ে উত্তর বাংলা ভাই তো একটি পোস্টই দিয়ে দিলেন অথচ তাদের কথা নেই কোন সরকারি দলিলে বরং আছে কামরুল হাসানের নাম ।

    এইবার যথারীতি আমার কথা বলি: ইতিহাস রচনা করা উচিত নিরপেক্ষভাবে। কিন্তু আমাদের।অধিকাংশ ইতিহাস বিদ কিসের স্বার্থে ইতিহাসের গৌরবান্বিত অধ্যায় গুলোকে সযত্নে অবহেলা করে যান তা বুঝিনা। আমি আশা করবো কেউ একজন এগিয়ে আসবেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা মহাউপন্যাস রচনা করতে। সেটাই হিবে মুক্তিযুদ্ধের প্রামান্য দলিল। আমি নিজেও অনেক অবাক হয়েছি যখন আমি ক্লাশ টেন এর সামাজিক বিজ্ঞান বইতে কিছুই পড়িনি নিউক্লিয়াস নিয়ে! এমনকি অনেক মেধাবীরা শুধু মুখস্ত করেছে আর মুখস্ত করা বইয়ের লাইনগুলো বমি করে উদগিরন করেছে পরীক্ষার খাতায়। এতে ক্ষতিটা আমাদেরই হচ্ছে। আমাদের নেক্সট জেনারেশন ধীরে ধীরে হয়ে যাচ্ছে অন্ধ ও খোঁড়া একটি প্রজন্ম। এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। জানতে হবে, জানাতে হবে। ইফ উই আর অ্যাবল টু টিচ দ্য রিয়েল অ্যান্ড ডিটেইলস হিস্টোরি, দ্যান উই ক্যান অ্যাওয়েক ন্যাশনালিটি। আদারোয়াইজ, অল এটেম্পটস উইল নিপ ইন দ্য বাড অ্যান্ড আওয়ার হোপস উইল এন্ড ইন দ্য স্মোক।

    1. দারুন তথ্য দিয়েছেন ।পোস্টটা
      দারুন তথ্য দিয়েছেন ।পোস্টটা ১০০% ফুলফিল করেছে আপনার এই মন্তব্যের জন্য :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    2. আপনার কমেন্টগুলা থেকে অনেক
      আপনার কমেন্টগুলা থেকে অনেক কিছু জানতে পারছি দাদা। মূল পোষ্টের সাথে আপনার কমেন্ট যোগ হয়ে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে পোস্টটা। অনেক ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    3. প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের

      প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্হ ১১টি সেক্টরের পাশাপাশি ৪টি সেক্টরের বিভক্ত করে বি.এল.এফ-এর সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনা ও কৌশল ছিল কেবল ভিন্ন ধরনের নয়, অনেক উন্নতমানের এবং বিজ্ঞানসম্মত। বি.এল.এফ-এর চার প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক, আব্দুর রাজ্জক এবং তোফায়েল আহমেদ।

      এটাই মুজিব বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের বাইরে এই বাহিনী ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের থেকে কয়েকজনকে বানানো হয় ট্রেইনার। হাসানুল হক ইনু ছিলেন সেই ট্রেইনার গ্রুপের প্রধান। এটা নিয়ে পরে লিখবো হয়তো।

      মুক্তিযুদ্ধের একটি পরিচিত আলোকচিত্র হল ,রোকেয়া হলের ছাত্রীদের রাইফেল হাতে মিছিল। উল্লেখ্য, এটি ছিল জয়বাংলা বাহিনী’র মিছিল যার অধিনায়ক ছিলেন খসরু ও মমতাজ বেগম । মমতাজ বেগম এর নাম আর কেউ উচ্চারন করে না আর খসরু কে চিনি আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম চলচ্চিত্র “ওরা ১১ জন ” এর নায়ক হিসেবে কিন্তু চিনতে /জানতে চাইনা মুক্তিযুদ্ধের আগে ও মুক্তিযুদ্ধকালীন তার বিরোত্বপুর্ন ভুমিকার কথা ?

      এই জায়গাতে এসে আজকে একটু কনিফিউজড হইলাম পারভেজ আলম ভাইয়ের পোস্ট পড়ার পরে। একই ছবিকে উনি ছাত্রইউনিয়ন-ন্যাপ-সিপিবির ইউনিট হিসেবে বলেছেন এবং তারিখ বলেছেন ২০ মার্চ ১৯৭১, এটা একদমই নতুন তথ্য আমার কাছে। আরও খোঁজ নিতে হবে। তবে আপনি যে বাহিনীর কথা বলছেন সেটা ছিল “প্রীতিলতা স্কোয়াড”, যার নেতৃত্বে ছিলেন মমতাজ বেগম। এই স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন শেখ হাসিনা। এবং শেখ হাসিনাকে ওই স্কোয়াডে অন্তুভুক্ত করাও একটা পলিসি ছিল যে বঙ্গবন্ধু এই স্কোয়াড বা এদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞাত এটা প্রতিষ্ঠিত করা। এমন আরও কয়েকটি স্কোয়াড ছিল, বর্তমান জাবি ভিসি ডঃ আনোয়ার হোসেন তেমনি একটা স্কোয়াড যার নাম ছিল সূর্যসেন স্কোয়াড তাঁর দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন।

      জয় বাংলা বাহিনীর কম্যান্ডার ছিলেন আসম রব এবং কামরুল আলম খসরু ছিলেন সেকেন্ট ইন কম্যান্ড। এছাড়া কামরুল ইসলাম খসরু ১৯৭১ এর ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পালিত প্রতিরোধ দিবসে পল্টনে চার যুব নেতার উপস্থিতিতে গান ফায়ার করেন এবং পতাকা উত্তোলন করেন হাসানুল হক ইনু।


      (২৩ মার্চ একাত্তর)

      আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্য পোস্টকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে।

    4. স্পেশাল মন্তব্যকারী হিসেবে
      স্পেশাল মন্তব্যকারী হিসেবে ইলেকট্রন ভাইকে একটা বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি ইস্টিশন এবং কারিগর.কম কর্তৃপক্ষকে। :বুখেআয়বাবুল:

  5. অসাধারন লিখছেন ।:স্যালুট:
    অসাধারন লিখছেন ।:স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. এই ইতিহাস আজ ছাত্রলীগ এবং
    এই ইতিহাস আজ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগ অস্বীকার করে। এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তৈরী হয়েছিল বামদের সাংগঠনিক তৎপরতায়। সেই বামদেরকে আজ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসাবে দাঁড় করাচ্ছে আওয়ামী-ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসব ইতিহাস প্রজন্মের সামনে তুলে আনতে হবে। এদেশে ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র দাবীদার আওয়ামীলীগের হাত ধরে। যেই ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে উপযুক্তভাবে তৈরী করেছে বাম চিন্তার মানুষগুলো। অথচ এরাই আজ ছাত্রলীগ পান্ডাদের ভার্চুয়াল আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

    এই পোস্ট স্টিকি করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

    1. বর্তমানে অনলাইনে যারা গলাবাজি
      বর্তমানে অনলাইনে যারা গলাবাজি করতেছে এবং বামদের গালিগালাজ করছে এরা সাময়িক, আওয়ামীলীগের প্রকৃত ক্রাইসিসে কখনই এদের দেখা পাবেন না। তাই এরা খুব একটা সমস্যা না। মূল সমস্যা হচ্ছে আওয়ামীলীগেরই একটা গ্রুপ এটা স্বীকার করতে চান না। যেমন পোস্টে তোফায়েল আহমেদের কথা উল্লেখ করেছি। উনি মুজিব বাহিনীর চারজনের একজন হয়ে যদি নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন তাহলে ধরে নিতেই হয় এটা তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই করছে। ধন্যবাদ দুলাল ভাই। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  7. আপনার প্রতিটা পোস্ট থেকেই
    আপনার প্রতিটা পোস্ট থেকেই নতুন নতুন অনেক তথ্য জানতে পারছি। ধন্যবাদ উত্তরবাংলা ভাই। পাশাপাশি অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন এর কমেন্টগুলিও অনেক কিছু জানতে সাহায্য করছে। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আসলেই তাই। ইলেকট্রন ভাইয়ের
      আসলেই তাই। ইলেকট্রন ভাইয়ের কমেন্ট এই পোস্টেও যেমন তেমনি পারভেজ আলম ভাইয়ের পোস্টেও মূল পোস্টকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  8. সত্য স্বীকারে লজ্জা নেই। আমি
    সত্য স্বীকারে লজ্জা নেই। আমি নিউক্লিয়াসের নাম শুনেছি এই মাত্র বছর তিনেক আগে। বাংলাদেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপুর্ন অধ্যায় সম্পর্কে এদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই একেবারেই অন্ধকারে আছে। এযাবৎ নিউক্লিয়াস নিয়ে যতগুলো লেখা পড়েছি তার মধ্যে আপনার লেখাটা বেশ গোছান। ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ লেখাটা স্টিকি করায়। ইস্টিশনে একের পর এক অসাধারণ সব পোস্ট আসছে ইতিহাসের সঠিক পাঠ নিয়ে। দারুন লাগছে। এতদিনের ব্লগিং এর অভিজ্ঞতায় এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। আপনাদের সবাইকেই আন্তরিক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *