উন্নয়নের সুবাতাস

প্রস্তাবিত রপ্তানি নীতিতে রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান, সহজ ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকে আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে দেশের রপ্তানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে ৬ হাজার কোটি ডলারে উত্তীর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ এর অনুমোদন দিয়েছে তারা। অতীতের ধারাবাহিকতায় গত দু’বছরেও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখেছে রেমিট্যান্স। এ সরকারের আমলেই প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধির প্রভাব ছিল অর্থনীতিতে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে দেশে এখন স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।প্রথম বছর শেষে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র থাকলেও পরবর্তীতে তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। গত দুই বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের চেয়ে গতিশীল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০১৫ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন (এক হাজার ৫৩১ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছরে এর পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে আড়াই শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গেল দুই বছরে সরকারের সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রিজার্ভের এ শক্তিশালী অবস্থা ২০১৫ সালের শুরু থেকেই দেখা গেছে। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভাল থাকায় ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হয়েছে। এতে আমদানিকারকরা সুবিধা পেয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সকল দিকেই এখন বাংলাদেশে উন্নয়নের সুবাতাস বইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *