ও মাই গড!!

কত রঙের মানুষ দুনিয়ায়। কেউ ঈশ্বরের ভয়ে ভীত, কেউ আবার এই ভয়কে কাজে লাগিয়ে নিজের পকেট পূর্তিতে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ তো ঈশ্বর, উপাসনা সবকিছুকে ভুয়া বলে মূহুর্তের মধ্যে উড়িয়ে দিচ্ছে। এক দিকে রবি ঠাকুর বলছেন ” আনন্দলোকে, মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর……”. ঠিক অপর দিকে নিৎসে বলছেন “ঈশ্বর মারা গেছেন! ঈশ্বর মৃতই থাকবেন! আমরা ঈশ্বরকে খুন করেছি!” ঈশ্বরবাদ নিরীশ্বরবাদ সব বাদাবাদীর মধ্যে দিয়েই সমাজ চলছে, চলছে সমাজে নানা প্রকার বিভেদ, কলহ। কোনোদিন শান্তি আসেনি। হয়তো ভবিষ্যতে লেননের সাথে গলা মিলিয়ে এক সময় সবাই বলতে পারবো “Imagine all the people, living life in peace……..”
যাই হোক, কেউ কি কখনো ঈশ্বরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন হাইকোর্টে?? যেকোন ভাগ্যঘটিত দূর্ঘটনার জন্যে?? যেমন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আপনার জমি-জমা-বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেলো বা, কোনো প্রিয়জন ধুম করে মারা গেলো বা এমন কোনো দূর্ঘটনা ঘটলো যা জীবনে কল্পনাও করেননি ঘটবে। এসব ঘটনার দায়ভার কিন্তু কেউ নিতেই প্রস্তুত নয়। তাই যে ঘটিয়েছে তাকেই নিতে হবে। সে যদি ব্যস্ত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে। কিন্তু শাস্ত্রমতে তিনি তো সর্ববিরাজমান, রাস্তার উপর তো লিগ্যাল নোটিশ ফেললে চলবে না! তাইলে যাও তাঁর এজেন্টদের কাছে, মানে ধর্মশালায় যেখানে সবাই তাঁকে খুজতে যায়।
এমন ঘটনাই ঘটেছে ২০১২ সালের বলিউড মুভি “ওএমজিঃ ও মাই গড!!” এ। যেখানে একজন আটপৌরে নাস্তিক এন্টিক ব্যবসায়ী ভূমিকম্পে তার দোকান ধ্বসে যাওয়ায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর কাছ থেকে কোনো বেনিফিট পায় না ভূমিকম্প ঐশ্বরিক বা প্রাকৃতিক ঘটনা বলে। সরাসরি সে হাইকোর্টে যায় তাই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে মামলা করতে। কোনো উকিল তার মামলা নেয় না পাপ হওয়ার ভয়ে, অবশেষে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার এক পঙ্গু উকিল তার পক্ষে লিগ্যাল নোটিস টাইপ করে পাঠিয়ে দেন সব শীর্ষস্থানীয় ঈশ্বর এজেন্ট থুক্কু! ধর্মগুরুদের কাছে তারপর গোটা ভূভারতের ধর্মানুভূতি চ্রম রকমের আহত হয়। রাস্তার জটাধারী নাগা সাধু থেকে স্যুট পরা মন্ত্রী পর্যন্ত নেমে যায় নাস্তিক নিধনে। কাহিনীর আবর্তে মানুষের জাগরন ঘটে এবং আরো অনেক মানুষ অন্ধকার থেকে আলোয় আসে যারা ঐশ্বরিক ঘটনার শিকার। সবার মামলা ঈশ্বরের বিরূদ্ধে সে হোক আল্লাহ, হোক ভগবান, হোক গড, হোক জিহোভা…… সব ধর্মগুরুকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা মামলায় হেরে যায় এবং ঈশ্বরের তরফ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি রূপী ক্ষতিপূরণ দান করে। কিন্তু তারা তো মূলত ব্যবসায়ী! নাস্তিক মামলাকারী কাঞ্জীলালকে ঈশ্বরের অবতাররূপে তারা প্রতিষ্ঠিত করে, মন্দির করে, মূর্তি করে। মানুষ সঙ্গে সঙ্গে টাকা দেয়া শুরু করে, লুটিয়ে পড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের সহায়তায় কাঞ্জিলাল মানুষের ভুল ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়, যে সে সাধারন মানুষ, ঈশ্বর না।
মুভিটাতে আমাদের পুরো উপমহাদেশের মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে নাজুক দিকটা খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে, ধর্ম পালন করি বা না করি কেউ ধর্ম নিয়ে কিছু প্রশ্ন করলে বা ধর্মের বিরুদ্ধাচারন করলে আমরা মুহূর্তের মধ্যে ফুঁসে উঠতে পারি! কিন্তু তাতে কি ঈশ্বরের কিছু আসে যায়?? ঈশ্বর সর্বদা যুক্তির পক্ষে, যুক্তির অপর নাম আমার কাছে ঈশ্বর।
মুভিটিতে ধর্মব্যবসায়ী তথাকথিত ধর্মগুরুদের বেশ মোক্ষম উপায়ে বাম্বু প্রদান করা হয়েছে। মূল চরিত্রে পরেশ রাওয়ালের অভিনয়ের কোনো তুলনা হয় না। শ্রীকৃষ্ণ চরিত্রটা আমার দৃষ্টিতে বেশ উদ্ভট লাগলো। ইন্ডিয়ায় মুক্তি পাবার পর কম ঝামেলা পোহাতে হয় নি মুভিটার। হাইকোর্টে মুভিটা নিষিদ্ধের আপিল খারিজ হয়েছে। কলাকুশলীরা পর্যন্ত সরকারী নিরাপত্তা পেয়েছে জনতার হাত থেকে বাঁচার জন্য।

দেরি না করে দেখে ফেলুন সামাজিক অসঙ্গতি আর হাস্যরসপূর্ণ মুভি OMG : O My God!!!

৪ thoughts on “ও মাই গড!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *