ইমেজ উইথ নাইফ এন্ড লিলিওলজি

( ইমেজ কিংবা ছবি,আমরা অহরহ দেখি। আমাদের চলতি পথে ,বাসে, ট্রেনে,স্টেশনে,ঘরের কোণায়,ভাগাড়ে। কিন্তু কিছু ছবি আছে যেগুলো বিকাশের গল্প বলে অথবা ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমাদের মেরুদন্ড বরাবর । এই ছবিগুলা সেইরকম, অন্তত আমার কাছে সেটাই মনে হয়।
আমি তাই এই ছবিগুলা লিখেছি। স্মৃতি থেকে; বিভিন্ন সময়ের স্মৃতি থেকে। ছবিগুলা বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন জায়গার। ক্যামেরা না থাকায় ছবিগুলা ক্যাপচার হয়নি। তাতে কি! আপনারা কল্পনা করে দেখে নিন ছবিগুলা কেমন! দেখেন আমাদের পরিচিত জীবনের ভিড়ে মানুষের বিকাশ কিংবা মরে যাওয়ার ছবি।)


( ইমেজ কিংবা ছবি,আমরা অহরহ দেখি। আমাদের চলতি পথে ,বাসে, ট্রেনে,স্টেশনে,ঘরের কোণায়,ভাগাড়ে। কিন্তু কিছু ছবি আছে যেগুলো বিকাশের গল্প বলে অথবা ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমাদের মেরুদন্ড বরাবর । এই ছবিগুলা সেইরকম, অন্তত আমার কাছে সেটাই মনে হয়।
আমি তাই এই ছবিগুলা লিখেছি। স্মৃতি থেকে; বিভিন্ন সময়ের স্মৃতি থেকে। ছবিগুলা বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন জায়গার। ক্যামেরা না থাকায় ছবিগুলা ক্যাপচার হয়নি। তাতে কি! আপনারা কল্পনা করে দেখে নিন ছবিগুলা কেমন! দেখেন আমাদের পরিচিত জীবনের ভিড়ে মানুষের বিকাশ কিংবা মরে যাওয়ার ছবি।)

ক) ব্যাস্ত রাস্তায় হাত ধরাধরি করে হেঁটে যাচ্ছে তরুণ-তরুণী। গভীর আনন্দ নিয়ে তাদের গল্প আটকে আটকে থাকছে স্থানীয় দেয়ালে। পরিপূর্ণ হচ্ছে বাতাস। ( কল্যাণপুর, ঢাকা)
খ) একটা গাছের গুড়ির উপর বসে আছে একটা তরুণ। তার কোলের উপর বসে আছে একটা তরুণী, যেন সে পাঁচ বছরের শিশু। সমস্ত পৃথিবী ভুলে গিয়ে তরুণটা নিবিড় ভাবে আদর করছে তরুণীকে। ( বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঢাকা)
গ) ব্যাস্ত রাস্তায় তরুণ। দ্রুত পায়ে হাঁটছে। কখনো থেমে থেমে আকাশ দেখছে। কখনো মুগ্ধ হয়ে দেখছে সিনেমার পোস্টার। ( টেকনিকাল মোড়, ঢাকা)
ঘ) একজন তরুণীর তার বন্ধুর উপর প্রচন্ড অভিমান। অভিমানে তার চোখে পানি। সে চট করে চোখের পানি লুকাল। হয়তোবা বন্ধুকে সে কখনো দেখাতে চায়নি পবিত্র পানি। ( তালতলা সরকারী কলোনী, আগারগাঁও, ঢাকা)
ঙ) বইয়ের দোকান। বইয়ের সেলফের সামনে উঁচা টুল। টুলে বসে আছে তের বছরের অসম্ভব ফর্সা একটা ছেলে। চোখে গোল ফ্রেমের চশমা। সে মগ্ন হয়ে বইয়ের পাতা ওল্টায়। বাতাসে ওড়ে তার হালকা সোনালী চুল। ( রংপুর)
চ) প্রশস্ত সড়ক। সড়কের মাঝদিয়ে চলে গেছে দেবদারুর সারি আর কাঁটাতারে ঘেরা নিষিদ্ধ আইল্যান্ড। আইল্যান্ডের ভেতরে এক বুড়ী। ষাট বয়স বোধহয়।
আমি যখন তাকে দেখি, তখন সে ভাত রান্না করছিল। পাশেই তার ছোট্ট সংসার সজল চোখে দেখছিল ভাতের বলক।( সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০)
ছ) প্রচন্ড ভোর। ছোটখাট একজন মানুষ অন্ধকার চিরে হাঁটছে শিশির ভেজা রাস্তায়। তার গায়ে সাধারণ পাঞ্জাবী। তার মুখের দাড়ি ভিজে ভিজে যাচ্ছে পৌষের কুয়াশায়। সে যাচ্ছে স্থানীয় মসজিদে। তার গলায় জেগে ওঠা ফজরের আযান ভাঙিয়ে দেবে সমস্ত পাখির ঘুম। ( হরিণা, সিরাজগঞ্জ)
জ) শীতের রাত। ট্রাকের উপর জড়াজড়ি করে বসে আছে চারজন শ্রমিক। ট্রাক ছুটে চলছে অনন্য ঢাকায়। ( হাটিকুমরুল, সিরাজগঞ্জ)
ঝ) পানের দোকান। থুড়থুড়ে এক বুড়ো বসে বসে বিক্রী করে রাজশাহীর পান। মাঝে মাঝে চুকচুক করে সে চা খায়। চা খায় আর পরখ করে রাস্তার মানুষ। মিলিয়ে দেখে নিজের সাথে। ( বক্সনগর, মিরপুর, ঢাকা)
ঞ) ঈদের দিন। রাত সাড়ে এগারটা। বনানী ওভারব্রীজের পাশে ঘুম ঘুম বিল্ডিং। বিল্ডিংয়ের নিচে অনেকগুলো মানুষ। গালে রোজ, সস্তা মেকাপ। তাদের পণ্য ভেবে দামাদামি করছে নগরীর কামার্ত মানুষ। ( বনানী, ঢাকা)
ট) মিছিল চলছে। মিছিলের ঠিক মাঝে একজন তরুণ হাত উচিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। তার চোখে মুখে ক্রোধ, পরিণত ঘৃণা। ( গৌরাঙ্গ বাজার, কিশোরগঞ্জ)
ঠ) জোছনা রাত। বিলের পাশে খা খা নির্জনতায় দুই বন্ধু গল্প করছে। তাদের গল্পের চোটে চাঁদ নেমে এসেছে দ্যা সুইসাইড ট্রিতে। দুই বন্ধু অনেকদিন পরে পরস্পরকে আবিষ্কার করে তন্ময় হয়ে ভাবছে আত্মহত্যা করা সেইসব স্যাডিস্ট মানুষদের কথা, যারা মফঃস্বলি গন্ধ গায়ে মেখে এখনো ঘুড়ে বেড়ায় চিকলীর বিলে। ( চিকলীর বিল, রংপুর)
ড) চৌদ্দ বছরের এক কিশোর। সুইসাইড করতে গিয়ে আগুনের সাথে সন্ধি। অতঃপর বার্ন কেস। হাত আর বুকে চমৎকার ব্লিস্টার। গভীর মমতায় সেই ব্লিস্টারগুলো পাংচার করছে মেডিকেলে পড়া এক চমৎকার তরুণী। তাদের ঘিরে গোল হয়ে বসে আছে আর ছয়জন তরুণী। তাদের গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলছে। ( রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর)
ঢ) গভীর রাত। ঝি ঝি পোকা ডাকছে।সেই শব্দ ছাপিয়েও শোনা
যাচ্ছে একটা তরুণের বিড়বিড়। সে দাড়িয়ে আছে কবরস্থানের গেটে। গেটে তালা, তালার চোখে উপহাস। ( শেরপুর, বগুড়া)
ণ) দুইটা পাশাপাশি গাছ। ন্যাড়া গাছ। শুকনা ডালগুলা এমন ভাবে আকাশের দিকে যেন তারা দুই হাত তুলে প্রার্থনায় মত্ত- মোনাজাতের ভঙ্গি। গাছের নিচে আবর্জনার স্তূপ। স্তূপের ভেতর থেকে স্পষ্ট হচ্ছে একজন মানুষ। গায়ে নোংরা ওভারকোট জাতীয় কিছু, মুখভর্তি দাঁড়ি। আবর্জনার ভেতর তার হাত চলছে দ্রুত ও দ্রুত। তালে ও তালে। কিন্তু লোকটা কি খুঁজছে? গাছগুলো কেন মত্ত হয়ে আছে নিষ্প্রাণ প্রার্থনায়? ( ধামরাই, ঢাকা)
ত) হলুদ সরিষা ক্ষেত। পাশেই ইটের ভাটা। পুড়ে যাবার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছে সারি সারি আয়তাকার মাটি। সেসবের দেখভাল করছে কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই সরিষা ক্ষেতে কয়েকজন কৃষক। কৃষক ও শ্রমিকেরা পরস্পরে বিড়ি বদল করে খাচ্ছে যৌথ আইলে- ভরদুপুর বেলায়। তারপর ফিরে ফিরে আসছে যার যার মত হলুদ আর আগুনের ভেতর। ( গোয়ালবাড়ি, আশুলিয়া, ঢাকা)
থ) আকাশে আধখানা চাঁদ। হেলে হেলে পড়ছে গাছের কাঁধে। ছয়জন তরুণ সেই চাঁদ ছুঁতে চেয়ে শুয়ে আছে বিরান মাঠে। তাদের ভেতর নৈঃশব্দের উঠবস, চাঁদকে আরো নামিয়ে দিচ্ছে নিচে; এত নিচে যে কেউই ছুঁয়ে দিতে পারো চরকার সুতো। ( কলমা, সাভার, ঢাকা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *