মাঠে সক্রিয় আইএসআইঃ টার্গেট জামাত রক্ষা ও অখণ্ড পাকিস্থান পুনরুদ্ধার

শিরোনাম দেখে ভড়কে না গিয়ে পুরো লেখা শেষ করার অনুরোধ রইল। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের খেলায় মেতে উঠেছে পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। বিভিন্ন ক্ষেত্রের একাধিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। মূলত যুদ্ধাপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনাল শুরু হওয়ার পর থেকেই বেশী সক্রিয় পাকিস্থানি এই গোয়েন্দা সংস্থাটি। এর আগে ১/১১ এর পর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দুই পুত্র দেশের বাইরে অবস্থান করায় বাধ্য হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেত্রীর আইএসআই সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে লিঁয়াজো রক্ষা করছে জামাত। আইএসআই দুটি টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশে সক্রিয় আছে বলে সূত্রে জানা যায়। এক, জামাতের নেতাদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করা। এটা স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য। দুই, জামাতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে নিয়ে তাদের মূল লক্ষ্য ৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়ে অখণ্ড পাকিস্থান পুনরুদ্ধার করা। এটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।

বাংলাদেশে আইএসআই এর সাথে বিএনপির লিঁয়াজো হিসেবে কাজ করছে মূলত সাকা চৌধুরীর পরিবার, এবং জামাতের মীর কাশেম আলীর পরিবার। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেই রয়েছে দ্বন্দ। বিএনপির অধিকতর জামাত সংশ্লিষ্টতার কারনে বিএনপির মধ্যেই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে বলে তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে জামাত বিরোধী অংশ তেমন শক্তিশালী না হওয়ায় বিএনপি আরও বেশী জামাত ঘেঁষা হয়ে পড়ছে। এর সাথে রয়েছে বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা। মূলত তারেক জিয়ার লন্ডনে বসবাসসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছে আইএসআই। তবে আইএসআই সরাসরি এর সাথে না জড়িয়ে লন্ডন জামাতে ইসলামের মাধ্যমে অর্থসহ যাবতীয় সহযোগিতা করে থাকে। এক্ষেত্রে মীর কাশেম আলী মূল ভূমিকা রেখে এসেছে বলে জানা যায়।

বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই জামাত নেতাদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে কাজ করছে আইএসআই। কারন একবার এইসব মূল নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতের আবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর রাস্তা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আইএসআই হারাবে তাদের বাংলাদেশ সংযোগ। এর আগে মীর কাশেম আলীর আমেরিকান লবিস্ট নিয়োগে ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের যেই খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেই অর্থ মূলত আইএসআই সরবরাহ করেছে বলে জামাতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির স্কাইপে আলাপ ফাঁসের সাথে আইএসআই মূল ভূমিকায় ছিল। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া একটি চক্র আইএসআই এর হয়ে মূল কাজটি করে দেয়। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁস হলে দেশব্যাপী ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিতর্ক আরও উস্কে দেওয়া হবে বলে এই মুহুর্তে বিভিন্ন মহলের চাপে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ১৮ দলের ডাকা গত ৬০ ঘণ্টার হরতালের জন্য জামাতের মাধ্যমে আইএসআই বিনপিকে ২০০ কোটি টাকা সরবরাহ করে বলে ইতিমধ্যেই নিউজ ছাপা হয়েছে। এই টাকা মূলত বিএনপির প্রাক নির্বাচনি ব্যয়ভার বহনের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে বিনএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি নেত্রীর সিঙ্গাপুর সফরের সময়েই সরকারের মেয়াদ শেষে বিএনপির কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা হয় বিএনিপি-জামাত এবং আইএসআই এর মধ্যে। আইএসআই যে কোন মূল্যে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে তাদের লক্ষ্য পূরণে বিএনপিকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এই জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পেছনে ঢালছে আইএসআই। কখনও সরাসরি সাকা চৌধুরীর পরিবারের মাধ্যমে। কখনও জামাতের মাধ্যমে। বিএনপি নেত্রী মূলত তারেক জিয়া প্রশ্নে আইএসআই এর কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে জানা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই আইএসআই এর এই পরিকল্পনার অনেক কিছুই বিএনপি নেত্রীর অগোচরেই হয়ে থাকে।

জামাতের অস্তিত্ব এখন নির্ভর করছে বিএনপিএ ক্ষমতায় আসার উপরে। তাই আইএসআই মূলত বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরই জামাত নেতাদের মুক্তির ব্যাপারে বিএনপির উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে জানা যায়। বিএনপির তৃণমূল নের্তৃত্ব যখন লুটপাট, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির গতানুগতিক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, জামাত তখন প্রশাসন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের শক্তি বৃদ্ধির কাজ করে যাবে আগের টার্মের মতোই। এভাবে জামাত নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে এককভাবে বাংলাদেশে সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি জামাতের এই পরিকল্পনায় মূল বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে যেই প্রগতিশীল গোষ্ঠী, একাত্তরের বুদ্ধিজীবী নিধনের কায়দায় তাঁদের হত্যা আর গুম খুনের ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েই এগোচ্ছে জামাত। আর এভাবেই ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত তাদের শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিতে চায়। এটা তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। কারন জামাত খুব ভালো করেই জানে ঠিক এই মুহুর্তে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো অবস্থান তাদের নেই। তাই মূলত বিএনপির মূল নের্তৃত্বকে ধীরে ধীরে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে নিজেদের কনট্রোলে নেওয়ার মাস্টার পরিকল্পনা নিয়ে জামাত এগোচ্ছে। আর জামাতকে অর্থসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে আইএসআই। আইএসআই এর বর্তমান লক্ষ্য জামাত রক্ষা। আর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য জামাতের মাধ্যমে পাকিস্থানের অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার।

পরবর্তিতে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার উপর ২১শে আগস্টের চেয়েও বড় ধরনের হামলার নাশকতার পরিকল্পনা আইএসআই এর আছে, যেন এবার কোনভাবেই আওয়ামী লীগ নেত্রী জানে বেঁচে থাকতে না পারেন। কারন, জামাত এবং আইএসআই এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আইএসআই একটি বড় বাঁধা হিসেবে সবসময়ই বিবেচনা করে থাকে। মূলত পাকিস্থানের মতোই জঙ্গিবাদকে উস্কে দিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির মাধ্যমেই আইএসআই বাংলাদেশে তাদের লক্ষ্য পূরণের কর্মপন্থা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তাই নিঃসন্দেহে আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারনে চরম ভূমিকা রাখবে। আর তাই নির্বাচনের প্রশ্নে দুই প্রধান দলই তাদের দাবীর ক্ষেত্রে অনড় ভূমিকায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১১ thoughts on “মাঠে সক্রিয় আইএসআইঃ টার্গেট জামাত রক্ষা ও অখণ্ড পাকিস্থান পুনরুদ্ধার

  1. পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা
    পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও জামাতে ইসলামী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন খালেদা জিয়া। এ কারনেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ফোন করার পরও সংলাপে না বসে, হরতাল প্রত্যাহার না করে, খালেদা জিয়া দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চক্রান্ত করেছেন।

    অতীত ইতিহাস বলে, খালেদা জিয়া এর আগেও পাকিস্তানের আইএসআই এর কাছ থেকে নির্বাচনের জন্য টাকা নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে আইএসআই খালেদা জিয়াকে এই অর্থ দেয়। দুবাই থেকে প্রকাশিতখালিজ টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে গতশনিবার এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।


    এদিকে আনন্দবাজার জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেখানে কোন দল ক্ষমতায় আসবে, বাংলাদেশের মানুষই তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করবেন। কোনো বিশেষ দলের প্রতি নয়া দিল্লির পক্ষপাতের প্রশ্ন নেই। বিরোধী নেত্রী হিসেবে দিল্লি সফরে আসা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এবং তত্কালীন কেন্দ্রের শীর্ষ মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। শাসক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের তাতে গোঁসা হলেও দিল্লি আমল দেয়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, কিন্তু ভারতের উদ্বেগের কারণটা অন্য। বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের পাঠানো তথ্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফিরতে আইএসআই ও মৌলবাদী শক্তির সাহায্য নিচ্ছেন বিএনপি-র উদীয়মান নেতা তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অফিসারের কথায়, আগের বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ কার্যত মৌলবাদীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুধু বাংলাদেশের প্রশাসনকেই চ্যালেঞ্জ জানায়নি, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলেছিল। ভারত-বিরোধী নানা জঙ্গি গোষ্ঠীকেও বাংলাদেশের মাটিতে ঘাঁটি গাড়তে দিয়েছিল বিএনপি-জামাত সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই অফিসার বলেন, খালেদা জিয়া দিল্লিতে এসে অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন, ফের ক্ষমতায় এলে অতীতের সে-সব ভুল তার দল আর করবে না। কিন্তু তাদের অভিযোগ, তারেকের কার্যকলাপ মোটেই তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    তাই আতঙ্কে শুধু প্রধানমন্ত্রীর পরিবার নয় গোটা জাতি…
    জামাত-বিএনপি-হেফাজতিদের ঠেকান অথবা বাঙলার ইতিহাস পাল্টে দিতে দিন যেখানে বাঙলা-বাঙালী-বাঙালীত্ব হবে নির্বাসিত … এখনও সময় আছে!!

    মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই।
    আমার মাটি, আমার মা, পাকিস্তান হবে না।
    জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

    আর আপনাকে অফুরন্ত ধন্যবাদ বিষয়টি তুলে আনার জন্য… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:

  2. জামাত সবসময় আইএসআই এজেন্ট
    জামাত সবসময় আইএসআই এজেন্ট হয়েই কাজ করেছে। তারা সবসময় এদের প্রেসক্রিপশনে চলে। মাঠে তাদের প্রতিরোধের ধরণ, অনলাইন প্রপাগন্ডা, আইনি লড়ায় এদের বুদ্ধি ও রসদের মাধ্যমে। এই সুযোগ তারা হাত ছাড়া করতে চাইবে না। কারণ বিএনপি-জামাত পৃথিবীর একমাত্র বড় দল যারা পাকি স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। বর্তমানে যে ককটেল বা হাত বোমা ফুটছে এটা তো নমুনা মাত্র। বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসলে তার পূর্ণাঙ্গ রুপ দেখা যাবে। এদেশকে তারা আফগানিস্থানের চাইতেও খারাপ করবে।

    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনার জন্য। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. বিএনপি দলটির এখন স্বতন্ত্র
    বিএনপি দলটির এখন স্বতন্ত্র কোন দলীয় সত্ত্বা নাই। তারা জামায়াত কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। জামায়াতের রাজনৈতিক টার্গেট হচ্ছে ভেঙে যাওয়া দুই পাকিস্তানকে এক করা। এজন্য পাকিস্তানী সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা প্রচুর টাকা লগ্নি করছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। গনতন্ত্রের পথে খালেদার বিএনপি কখনোই যাবেনা। পাকিস্তানী প্রেসক্রাইব অনুযায়ী তারা অগনতান্ত্রিক পথে হেঁটে দেশকে অস্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাবে। খালেদার এখন একটাই টার্গেট, যে কোন কিছুর বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা। গনতান্ত্রিক চর্চায় তাদের রক্ষা করা কোনভাবেই সম্ভব না। বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যত এখন আমাদের মত আমজনতার হাতে। আমরা কেউ চাই না- আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন হোক। আমরা চাই গনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। সঠিক সময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়ে নির্বাচিত দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হোক।

    বাংলাদেশকে আমরা পাকিস্তানী অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে দেব না। যে কোন মুল্যেই আমাদের স্বাধীণতা আমরা রক্ষা করব।

    1. দুলাল ভাই, আতংকিত হওয়ার আরও
      দুলাল ভাই, আতংকিত হওয়ার আরও অনেক কারণ আছে, এদিকে এজন্য আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর দেশব্যাপী রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে দলটি।
      আমার খুব কাছের এক বন্ধুর আপন ছোট ভাই (যে কওমি মাদ্রাসায় পড়ে…) তাকে ঢাকা ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে বলেছে! সে বলছে যেদিন কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হবে ঐদিন থেকেই বিশেষ সুইসাইড স্কোয়াড বাস-ট্রেন-লঞ্চ সহ সকল গনপরিবহণকে আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তারা জনগণের রক্ত দিয়ে হলেও জনমনে আতংক সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

      একই রকম সঙ্গতিপূর্ণ তথ্য উঠে ‪আনন্দবাজার‬-খালিজ_টাইমস‬ সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। যেখানে আইএসআই , খালেদা পুত্র তারেক, ১৯৯১ নির্বাচনের মত করে বিএনপির যোগাযোগ এবং জামাতের নেতাদের মধ্যকার সম্পর্ককে দক্ষিণ-এশিয়ার জঙ্গি পরিস্থিতি নিরাপত্তার হুমকির অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

      দুয়ে দুয়ে চার মিলে যাচ্ছে!! লাশের মিছিল দেখবে বাঙলাদেশ। বিএনপি এখন ‘বাঙলা নয় পাকিস্তান’ নীতিতে রাজনীতি করছে। আমাদেরও জেগে উঠার সময় হয়েছে আর বসে থাকা যায় না… এই হানাদার-রাজাকারদের আর তার দোসরদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে..ঘরে বসে আন্দোলন করার দিন শেষ, সবাইকে প্রতিরোধ গড়তে একসাথে কাজ করতে হবে ৫-২১ ফেব্রুয়ারির মত করে…
      কোন অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই।
      আমার মাটি, আমার মা, পাকিস্তান হবে না।
      জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

      সত্যের জয় প্রত্যাসন্ন এবং অনিবার্য…

      1. একাত্তরের পরাজিত শক্তির সকল
        একাত্তরের পরাজিত শক্তির সকল অপতৎপরতা মোকাবেলায় পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে। এদের সকল অপতৎপরতার জবাব দেবে এইদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তি সম্মিলিতভাবে।

  4. বিএনপিকে অর্থ দেয়ার কথা
    বিএনপিকে অর্থ দেয়ার কথা স্বীকার করলেন আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান দুররানী। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে ৫০ মিলিয়ন রুপি দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সাবেক প্রধান আসাদ দুররানী। ১১ই মার্চ, ২০১২ তারিখে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে আয়োজিত এক শুনানিতে তিনি এ বিষয়টি স্বীকার করেন। ১৫ই মার্চ ২০১২ তে ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের অনলাইন ইন্ডিয়া সংস্করণ মেইল অনলাইন ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়, বিএনপিকে দেয়া আইএসআইয়ের ৫০ মিলিয়ন রুপির বিষয়টি আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান আসাদ দুররানী সুপ্রিম কোর্টে স্বীকার করেছেন। প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চে পাকিস্তানের প্রবীণ রাজনীতিক এয়ার মার্শাল আসগর খানের দায়ের করা একটি পিটিশন শুনানির সময় আইএসআইয়ের সাবেক এই প্রধান পাকিস্তানের ভেতরে ও বাইরে গোয়েন্দা সংস্থাটির তৎপরতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তার দেয়া তথ্যে উত্তরপূর্ব ভারতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপিকে আনতে আইএসআয়ের অর্থ বরাদ্দের কথা তিনি আদালতে স্বীকার করেন। মেইল অনলাইন ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে আইএসআই তখনই বাংলাদেশে তৎপর হয়। সংস্থাটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যে, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতের উত্তর- পূর্ব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ব্যাপক তৎপর থাকে আইএসআই। আর তা নির্বিঘ্নে করতেই
    তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপিকে দেখতে চায়। ভারতবিরোধী তাদের এই তৎপরতায় যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট বিএনপি শাসনামলেই আইএসআই পেয়ে থাকে এমনই অভিযোগ রয়েছে পাকিস্তানের এই গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের
    জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক
    সংগঠনগুলোকেও পৃষ্ঠপোষকতা করছে আইএসআই এমনও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানি ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের
    (আইসআই) সঙ্গে বিএনপির যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে তার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রথম প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় দুবাইভিত্তিক
    মধ্যপ্রাচ্যের ইংরেজি দৈনিক ‘খালিজ টাইমস’।
    কিছু দিন আগে খালিজ টাইমস অনলাইন
    সংস্করণে বলা হয়, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে আইএসআই বিএনপিকে ৫০ মিলিয়ন রুপি দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
    শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ
    ভারতপন্থি রাজনৈতিক দল, সুতরাং বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে এই দলটিকে দূরে রাখতে হবে, এমনই একটি পরিকল্পনা থেকে আইএসআই বিএনপিকে এ অর্থ দেয়, খালিজ টাইমসের ‘আজগর খানস পিটিশন ফাইন্যালি কামসআপ ফর হিয়ারিং’ শীর্ষক রিপোর্টে এমনই উল্লেখ করা হয়েছিল।

    পাকিস্তানের বর্ষিয়ান রাজনীতিক এয়ার
    মার্শাল আসগর খানের দায়ের করা একটি পিটিশন দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তানের সুপ্রিম
    কোর্টে শুনানির জন্য উঠলে পাকিস্তানের রাজনীতি কলুষিত করার আইএসআই তৎপরতা ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে পাকিস্তানি এই ইন্টেলিজেন্স বিভাগের যোগাযোগের তথ্যটি উঠে আসে। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে পরাজিত করতে ইসলামি জামহুরি ইতেহাদ-এর নেতৃত্বে অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনগুলোকে একত্রিত করতে আইএসআই ১৪০ মিলিয়ন রুপি বিলি করেছিল , এমনই একটি অভিযোগ এনেছিলেন বর্ষিয়ান পাকিস্তানি রাজনীতিক এয়ার মার্শাল আসগর খান। খালিজ টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়,
    অভিযোগ রয়েছে উপরোক্ত ১৪০ মিয়িলন রুপির বাইরে আরও ৫০ মিলিয়ন রুপি তখন আইএসআই বিএনপিকে দেয় বাংলাদেশের
    রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগকে দূরে রাখার লক্ষ্য সামনে রেখে। কিছু দিন আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে আসগর খানের এই অভিযোগটি শুনানির জন্যে উঠলেও মূল
    সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছিল। আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান জেনারেল আসাদ দুররানী ও পাকিস্তানের মেহরান ব্যাংক-এর সাবেক প্রধান ইউনুস হাবিবকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার নোটিস পাঠানো হলে দুররানী বুধবার আদালতে উপস্থিত হয়ে উপরোক্ত স্বীকারোক্তি দেন। আদালতের বাইরেও এর আগে আইএসআইয়ের তৎপরতা বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন জেনারেল দুররানী। তার স্বীকারোক্তি মতে বেনজির বিরোধী বিভিন্ন গ্রুপ ও রাজনীতিকদের কাছে আইএসআইয়ের পক্ষ থেকে তিনি নিজে এই অর্থ পৌঁছে দিয়েছিলেন। অর্থপ্রাপ্তদের মধ্যে নেওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগও রয়েছে। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশেই
    তিনি একাজ করেছেন, জেনারেল দুরবানী তার স্বীকারোক্তিতে এমনই বলেছেন বলে তথ্য দিয়েছিল খালিজ টাইমস। খালিজ টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়, আইএসআইয়ের তৎকালীন চিফ জেনারেল দুররানী তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সেনা প্রধান মির্জা আসলাম বেগকেই বোঝাতে চেয়েছেন।
    রিপোর্টে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খানের
    নির্দেশেই আইএসআইয়ের এই বেনজীর ভুট্টো বিরোধী তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে
    সাবেক সেনা প্রধান মির্জা আসলাম বেগ এমন ইঙ্গিত দিলেও এই গোপন তৎপরতা যে এথনিক্যাল ও লিগ্যাল ভায়োলেন্স, তা তারা কেউই চিন্তা করেননি। উল্লেখ্য, বর্ষিয়ান পাকিস্তানি রাজনীতিক এয়ার মার্শাল আসগর
    খান সম্প্রতি ইমরান খানের তেহরিক ই ইনসাফ পার্টিতে যোগদান করেছেন।

    আদর্শহীন বিএনপির জন্যে এটা নতুন কিছুই না।

    তারেক জিয়ার সহযোগী আইএসআইঃ বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভারত যথেস্ট উদ্বিগ্ন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। ১৯ অক্টোবর আনন্দবাজার পত্রিকা ‘খালেদা-পুত্রের সহযোগী আইএসআই, উদ্বিগ্ন দিল্লী ‘ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে সংঘাত। শুক্রবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জনসভা করে রোববার থেকে টানা তিন দিন হরতালের ডাক দিয়েছে বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া। দেশের বিভিন্ন
    শহরে সরকার ও বিরোধী দলের কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে সংঘর্ষ। এ দিনই মারা গিয়েছে কমপক্ষে সাত জন, আহত শতাধিক। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের
    গোয়েন্দাদের পাঠানো বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়ে দিল্লীর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের কার্যকলাপ। ঢাকার পাঠানো তথ্য অনুযায়ি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই পুরোদস্তুর সাহায্য- সহযোগিতা করে চলেছে লন্ডনের অ্যাডমন্টনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তারেক ও তার দলবলকে। একই সঙ্গে উপমহাদেশে সক্রিয় মৌলবাদী ও জঙ্গি নেতাদের সঙ্গেও নিবিড়
    যোগাযোগ রেখে চলেছেন বিএনপির এই নেতা। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গোয়েন্দা সমন্বয়ের মাধ্যমে দিল্লীর হাতে আসা এই সব তথ্যের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট তৈরি করে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে। লন্ডন থেকে ঢাকা, সিঙ্গাপুর- সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় করা তারেকের যাবতীয় ফোন কলের রেকর্ডও বাংলাদেশের গোয়েন্দারা দিল্লীকে দিয়েছেন। সেই ‘কল লিস্ট’ ও এখন খতিয়ে দেখছেন দিল্লীর কূটনৈতিক
    কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেখানে কোন দল ক্ষমতায় আসবে, বাংলাদেশের মানুষই তা গণতান্ত্রিক
    প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করবেন। কোনও বিশেষ দলের প্রতি নয়াদিল্লীর পক্ষপাতের প্রশ্ন নেই।
    বিরোধী নেত্রী হিসেবে দিল্লী সফরে আসা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শীর্ষ মন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। শাসক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তাতে নাখোশ হলেও দিল্লী তা আমল দেয়নি। কিন্তু ভারতের উদ্বেগের কারণটা অন্য। বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের পাঠানো তথ্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফিরতে আইএসআই ও মৌলবাদী শক্তির সাহায্য নিচ্ছেন বিএনপির উদীয়মান নেতা তারেক রহমান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগের বিএনপি-জামায়াত
    সরকারের আমলে আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ কার্যত মৌলবাদীদের
    ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুধু বাংলাদেশের প্রশাসনকেই চ্যালেঞ্জ জানায়নি, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলেছিল। ভারত- বিরোধী নানা জঙ্গি গোষ্ঠীকেও বাংলাদেশের মাটিতে ঘাঁটি গাড়তে দিয়েছিল বিএনপি- জামায়াত সরকার। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া দিল্লীতে এসে অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন, ফের ক্ষমতায় এলে অতীতের সেসব ভুল তার দল আর করবে না। কিন্তু তারেকের কার্যকলাপ মোটেই খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন,
    খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি বলেন, ‘তারেকের জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়েই এই সরকার তার বিরুদ্ধে কুৎসায় নেমেছে। তিনি মেরুদণ্ডের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন, পড়াশোনাও করছেন। আইএসআই বা জঙ্গি শক্তির সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ
    নেই।’ কিন্তু বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের
    থেকে তারেকের আইএসআইয়ের সঙ্গে সংস্রব ও মৌলবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর আশু ও দীর্ঘমেয়াদি দুধরনের বিপদই দেখছে দিল্লী। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বিএনপির সহযোগিতায় মৌলবাদীরা এই সুযোগে সক্রিয় হলে সেই অশান্তি যত বাড়বে, সংখ্যালঘুদের জীবন-জীবিকাও বিপন্ন হয়ে পড়বে। অশান্ত আবহাওয়ার সুযোগে ফের সেনা-অভ্যুত্থানের মতো অবাঞ্ছিত ঘটনার আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছে তারা। ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, কংগ্রেসের মতোই নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া চলছে বিএনপিতে। কংগ্রেসে যেমন সোনিয়া গান্ধীর পরের প্রজন্মের নেতা হিসেবে রাহুলকে তুলে আনা হচ্ছে, ৬৮ বছরের খালেদা জিয়াও তেমনই বিএনপির দায়িত্ব ধীরে ধীরে তুলে দিচ্ছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ৪৬ বছরের তারেকের হাতে। বস্তুত ২০০১ সাল থেকেই রাজনৈতিকভাবে অতিসক্রিয় তারেক রহমান। সেই সময়ে ঢাকায় খালেদার বাড়ি হাওয়া ভবনে বসে নির্বাচন পরিচালনায়
    বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তিনি ছিলেন ক্ষমতার দ্বিতীয় কেন্দ্র। পাঁচ বছর
    আগে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার ঠিক আগে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান তারেক। ম কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা মাঝেমধ্যেই লন্ডন গিয়ে তার নির্দেশ নিয়ে আসেন।

    ২০০৯ সালে বিএনপির ছাত্র সংগঠন
    জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাত দিন ধরে নানা অনুষ্ঠানে তারেকের জন্মদিন পালন করে। খালেদা জিয়া নিজেও সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের এমন এক ভাবী নেতার সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগাযোগ নিশ্চিত ভাবেই ভারতের পক্ষে সুসংবাদ নয়। কারণ ভবিষ্যতে বিএনপির নীতি-নির্ধারণেও এই পাক ও মৌলবাদী ঘেঁষা স্বর শোনা যেতে পারে। বাংলাদেশ ফের জঙ্গিদের ঘাঁটি হয়ে উঠুক এটা কখনোই দিল্লীর কাম্য নয় বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

  5. সবই দিবালোকের মতো পরিষ্কার।
    সবই দিবালোকের মতো পরিষ্কার। এরপরেও আমরা অনেকেই বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ভাব্লে কিছুই বলার নাই মুখে থুঃ দেওয়া ছাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *