মাদ্রাসায় পড়ুয়া।

আমার ছোটবেলার একটা বিশাল সময় কেটেছে মাদ্রাসায়। আমার প্রথম বোর্ড সার্টিফিকেট ও পেয়েছিলাম মাদ্রাসা থেকে। এই কারনে মাদ্রাসাগুলোর নিয়ম কানুন কিংবা এর সাথে কোন সন্ত্রাসী ব্যাপার সেপার জড়িয়ে গেলে আমার খুব খারাপ লাগে। খারাপ লাগার জন্য বিশেষ কোন কারণ নেই, শুধু আমি এই জায়গা থেকে পড়ালেখা করেছি এই পিছু অনুভূতিটা আমাকে কষ্ট দেয়।

আমার ছোটবেলার একটা বিশাল সময় কেটেছে মাদ্রাসায়। আমার প্রথম বোর্ড সার্টিফিকেট ও পেয়েছিলাম মাদ্রাসা থেকে। এই কারনে মাদ্রাসাগুলোর নিয়ম কানুন কিংবা এর সাথে কোন সন্ত্রাসী ব্যাপার সেপার জড়িয়ে গেলে আমার খুব খারাপ লাগে। খারাপ লাগার জন্য বিশেষ কোন কারণ নেই, শুধু আমি এই জায়গা থেকে পড়ালেখা করেছি এই পিছু অনুভূতিটা আমাকে কষ্ট দেয়।
আমরা যখন মাদ্রাসায় পড়তাম তখন এখনকার মত এত এত সমস্যা এত এত নতুন নতুন শব্দভাণ্ডার (ধর্মান্ধ, মৌলবাদ, জঙ্গি) এতোটা প্রচলিত ছিলনা। ছাত্ররাজনীতি ও খুব একটা কেউ সাপোর্ট করত না। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে কিছু পোলাপাইন জড়িত ছিল তবে তারা পপুলার ছিল না। কিছু কিছু টিচার থাকত তাদেরকে রাতের আধারে সমর্থন করত।
এখন একটা বিষয় ক্লিয়ার হচ্ছে, মাদ্রাসায় রাজনীতি করা, পোলাপাইনরে উগ্র ধর্মীয় চিন্তাধারায় গড়ে তোলা, এমনকি তাদের সন্ত্রাসী/জঙ্গি বানান এবং এই মাদ্রাসাকে এখন একটি নেগেটিভ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে দায়ি সেইসব হুজর যারা জামাত শিবির এই প্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি করাইছে, এবং পুরদমে কাউমিয়ানরা (কাউমি)।
প্রায় প্রতিটা মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্রদের থাকার জন্য হোস্টেলের ব্যাবস্থা থাকত। হোস্টেলের বারান্দায় ঝুলে থাকা পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, গেঞ্জির ঘিঞ্জি অবস্থান দেখলে বুঝা যেত যতোটা আরামদায়ক পরিবেশে স্কুল কলেজের ছাত্ররা থাকে এরা ততটা থাকেনা। এখানকার বেশিরভাগ ছাত্ররাই থাকত হয়ত পরিবারের দুষ্ট ছেলে অথবা কেউ ধর্মীয়কারনে পরিবার থেকে মানত(অনেকের সন্তান না হলে মানত করে যদি একটা সন্তান হয় তাকে মাদ্রাসায় অথবা হাফিজিয়ায় পড়াবে) করা ছেলে।
মাদ্রাসায় পড়ালেখা মানে হচ্ছে একটা বিশেষ ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। ধর্মীয় শিক্ষার একটা আলাদা ছায়া থাকে। এই ছায়ার নিচে যারা বেড়ে উঠে তারা স্বাভাবিকভাবেই বিনয়ি এবং ভদ্র আচরন শিখে ফেলে। একারনে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেদের দেখবেন একটু বিনয়ি হয়। কঠিন ধর্মীয়ভাব নিয়ে এরা বড় হয়।
ছুটির পর স্কুল কলেজের ছেলেরা যেমন দোকান-পাটে গিয়ে আড্ডা দেয়, চা সিগারেট খায় যেসব অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলে এরা তার থেকে একদম অন্যরকম। আপনি যখন এদের কারো পাশ দিয়ে হেঁটে যাবেন দেখবেন এদের কেউ না কেউ আপনাকে সালাম দিবেই।
এত সহজ সরল ছেলেদের খুব সহজে পথ ভোলানো যায়। তাদের খুব সহজেই স্বর্গের লোভ দেখিয়ে ধর্মের অপব্যাবহার করা যায়। এই ছেলেদের এখন এই দেশের আশি শতাংশের উপর মানুষরা পছন্দ করেনা অথবা এদের সাথে মিশতে চায়না। কেন?
আমি অনেক মানুষকেই বলতে শুনেছি তারা মাদ্রাসার ছাত্র বলতেই বুঝে নিষিদ্ধ কোন জঙ্গি সংগঠনের ক্যাডার। মাদ্রাসা পড়ুয়া এই ছাত্রদেরকে আমাদের সমাজের অনেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে উঠে। মাথায় টুপি, ফিনফিনে দাড়ি নিয়ে ঘোরা মাদ্রাসাপড়ুয়া এই ছাত্রদের অনেকেই তিরষ্কার করে “হুজুর” ডাকেন। এই ডাকটা তাদের কাছে কেমন লাগে তা কয়জনই বা জানতে চায়। হুজুর ডাকটা ভালো কিন্তু যেভাবে ডাকে সেটা ভালো লাগেনা, আমাকে নাম ধরে ডাকলেই আমি খুশি হই। তাদের ও নিশ্চয় খুব সুন্দর কোন নাম আছে!!
এই সহজ সরল ছাত্ররা কখনও ক্যাডার কিংবা জঙ্গি হতে আসেনি। এদেরকে যারা এই পথে নিয়ে যাচ্ছে প্লিজ তাদের ধরুন। এরা কখনও ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা বুঝেনি, এরা কখনও কারো জন্মদিন বেশি এই প্রশ্ন করেনি, এরা কখনও রাজনীতিবিদের লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেনি, চালের দাম কেন বাড়ছে সেই কারণেও এরা আন্দলন করেনি। ভোটের সময় এরা কখনও অমুকদল তমুকদলের হয়ে মিছিল সমাবেশ করেনি। তবে এখন কারা তাদের জঙ্গি সন্ত্রাসী বানাচ্ছে।
ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানে নিয়োজিত শিক্ষকেরা যেন নিজেদের স্বার্থে এই আলাদা ভেবে থাকা ছাত্রদের রাজনীতি না শেখান আমি সেই অনুরোধ করছি। সাথে অনুরোধ করছি সমাজকে। মাদ্রাসার একটি ছাত্রকে তিরষ্কার করে- হুজুর ডাকার কোন মানে নেই। আর সব ছাত্রদের মত এদের ভেতরেও নক্ষত্র লুকিয়ে আছে, লুকিয়ে আছে সম্ভাবনা। আর সব ছাত্রদের মতই এদের আনন্দ আছে, আর সব ছাত্রদের মতই আনন্দে হেসে উঠে তারা।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *