প্রত্যাশিত পথে আমাদের রাজনীতি

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বহু দল থাকবে, বিরোধ থাকবে, ভিন্নমত থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে এবং এসব থাকাটাই স্বাভাবিক। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করতে হবে। বিরোধী দলও সরকারকে টেনে নামানোর জন্য জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে চলে যাবে না। এখানে কোনো পক্ষ গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে গেলে কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিলে তা জনগণের কাছেই তুলে ধরতে হবে এবং জনগণই চূড়ান্ত বিচারে তার ফয়সালা দেবে। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়। গত বছরও ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছিল প্রধান দুটি দল। সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় বিএনপি লাগাতার হরতাল-অবরোধের ডাক দেয়। তারপর দেশব্যাপী যে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা কারো অজানা নয়। পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। প্রচলিত রাজনীতির প্রতি জনগণের এমন আস্থাহীনতা ও বিচ্ছিন্নতা শুধু রাজনীতির জন্য নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। আমাদের রাজনীতিবিদদের সেই দিকটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। রাজনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ। গণতন্ত্রের মূলকথাও তা-ই। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, তাদের কল্যাণে কাজ করা এবং সব কাজে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। সেখানে একগুঁয়েমি, সংঘাত, সহিংসতার কোনো স্থান নেই। জনজীবন বিপন্ন বা বিপর্যস্ত হয় এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাই রাজনীতি প্রায়শ চূড়ান্ত ধরনের জনদুর্ভোগে পরিণত হয়। জনগণকে সমূহ বিপদের আশঙ্কায় থাকতে হয়। ৫ জানুয়ারি ঘিরে সৃষ্টি হওয়া তেমন আশঙ্কা থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়ায় দুই পক্ষকেই সাধুবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও দেশে জনগণকে জিম্মি করে কোনো রাজনীতি হবে না এবং রাজনীতির সব পক্ষ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধগুলো মেনে চলবে।

১ thought on “প্রত্যাশিত পথে আমাদের রাজনীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *