রাজিব হত্যার রায় আশা জাগালো, বাকীগুলো কবে?

ঘটনাবহুল বছর ২০১৫। প্রতিটি মূহুর্তই ছিল অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। এই সুসংবাদ পেয়েছিতো তাতে মেতে ওঠার আগেই আরেকটা দুঃসংবাদ এসে হাজির। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব প্রায় সবারই জানা। কথায় আছে শেষ ভালো তো সব ভালো। তাইতো বছরের শেষদিনটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন সবাই। বিশেষকরে মুক্তচিন্তার মানুষগুলো একটু বেশী উৎসাহ নিয়েই তাকিয়েছিলেন এই দিনটির দিকে। ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলার রায় প্রকাশের দিন ছিল এটি।


ঘটনাবহুল বছর ২০১৫। প্রতিটি মূহুর্তই ছিল অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। এই সুসংবাদ পেয়েছিতো তাতে মেতে ওঠার আগেই আরেকটা দুঃসংবাদ এসে হাজির। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব প্রায় সবারই জানা। কথায় আছে শেষ ভালো তো সব ভালো। তাইতো বছরের শেষদিনটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন সবাই। বিশেষকরে মুক্তচিন্তার মানুষগুলো একটু বেশী উৎসাহ নিয়েই তাকিয়েছিলেন এই দিনটির দিকে। ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলার রায় প্রকাশের দিন ছিল এটি।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগার ও লেখক-প্রকাশকসহ মুক্তমতের মানুষের ওপর হামলা-হত্যা মামলার প্রথম রায় এটি। আলোচিত এ হত্যামামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও অসোন্তস প্রকাশ করেছেন রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন। গণজাগরণ মঞ্চও এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ রায় প্রভাবিত। আমি প্রত্যাশা করেছিলাম সব আসামির ফাঁসি হবে। রায়ে সুবিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

আড়াই বছরের ব্যবধানে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ ব্লগার ও এক প্রকাশককে। হত্যার সময় এবং স্থান ভিন্ন ভিন্ন হলেও হামলার ধরণ ছিল একই। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হত্যা করা হয় ব্লগার রাজীব হায়দারকে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১৫ সালে হত্যা করা হয় আরও চারজন ব্লগার এবং সর্বশেষ এই বছরেরই ৩১ অক্টোবর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়।

হত্যার শিকার এই ছয়জনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রত্যেককেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘাড় ও মাথা লক্ষ্য করে পেছন দিকে কোপানো হয়েছে। চেষ্টা করেছে হাতের কবজি কেটে ফেলার। সবকটি হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে চাপাতি ।

এতেই শেষ নয়, এই ছয়জনকে হত্যা করার সময় কুপিয়ে জখম করা হয় আরো চারজনকে। তাদেরও হত্যার উদ্দেশ্যে একই কায়দায় হামলা করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ রায়ের সাথে তার স্ত্রী বন্যা এবং ৩১ অক্টোবর শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ, লেখক-ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রাজীব হায়দারের শরীরে ছয়টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘাড় ও মাথা লক্ষ্য করেই এই আঘাত করা হয়। পিঠেও আঘাত ছিল।

ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাড় এবং মাথায় যে আঘাত করা হয়েছে, এ ধরনের একটি আঘাতই মৃত্যু ঘটাতে পারে। ফয়সালের মতো রাজীবকেও উপুড় করে শুইয়ে তারপর আঘাত করা হয় বলে মনে করা হয়। নীলাদ্রিকেও একইভাবে কোপানো হয়। প্রতিটি আঘাত করা হয় শরীরের পেছনে।

সড়কের ওপর খুন হন ব্লগার অভিজিৎ, ওয়াশিকুর ও অনন্ত। এই তিনজনকে প্রকাশ্য সড়কের ওপর দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে খুন করে। দুর্বৃত্তরা লক্ষ্যের পেছন দিয়ে এসে ঘাড় ও মাথায় আঘাত করে। এই হামলায়ও চাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে। নিহতদের ঘাড় ও মাথার পেছনে গভীর ক্ষত হয়।

ব্লগার হত্যার বাইরেও আলোচিত সব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবছরই। ব্লগার, প্রকাশক, বিদেশী নাগরিক, পুলিশ হত্যাসহ ধর্মীয় ব্যাক্তিরাও ছিল জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রধান টার্গেট। নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সবার নজরে আসে বছরজুড়ে আলোচিত এসকল হত্যাকাণ্ডের পর।
হামলা ও হত্যার ধরণ এক হওয়াতে বুঝতে বাকি থাকে না হত্যাকারীরা এক এবং হত্যার উদ্দেশ্যও এক। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরেই আলোচনার মূল বিষয় ছিল এসব হত্যার বিচার আদৌ হবে কি না। হলেও তা কবে? অবশেষে রাজিব হত্যার বিচারে সকলের মনে ঘুর পাক খাচ্ছে, রাজিব হত্যার একটা শান্তনামূলক বিচার পেলেও বাকী মামলাগুলোর কি হবে? এগুলোর রায় হবে কবে? হত্যার ধরণ যেহেতু এক। সরকার আন্তরিক হলে বাকী হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার করতে তেমন সময় লাগবে না। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীকে, বছরের শেষ দিনে আমাদের হৃদয়ে আশার প্রদিপ জ্বালানোর জন্য।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও নিউজরুম এডিটর, ভোরের পাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *