ফিরে দেখা ২০১৫: বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান………………

দেখতে দেখতেই চলে গেল আরো একটি বছর। অনেক কিছুই হারিয়েছি, অনেক কিছুই পেয়েছি। সেসবের হিসেব নিকেষ করাটা বোধহয় বোকামি। প্রতি সেকেন্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনে রাখাও অসম্ভব। অনেক প্রিয় মুখের ঠাঁই হয়েছে ইতিহাসের পাতায়। হারানোর কষ্ট ভুলে উঠে দাড়িয়েছি। প্রতিবারই মনোবল আরো সুদৃঢ় করেছি। আমার মতো প্রতিটি মানুষই এরকম হাজারো ঘটনার স্বাক্ষী, এমনকি বাংলাদেশও। অনেক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক উত্থান পতনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। এমন ঘটনা আছে, যা সবাই চিরকাল মনে রাখতে চাইবে আবার এমনও ঘটনা আছে, যা শত চেষ্টাতেও ভোলা সম্ভব না। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চোখে লাগার মতো ঘটনা হলো- দেশে নতুন করে জঙ্গীবাদের উত্থান। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে, ২০১৫ সালেই সবচেয়ে বেশি জঙ্গী কর্মকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। উত্থান হয়েছে জেএমবির, সৃস্টি হয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টীমের মতো জঙ্গী সংগঠনের। শুরুটা হয়েছিল লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যার মধ্য দিয়ে। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসিতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যা।
এর ঠিক মাসখানেক পরে ৩০শে মার্চ ব্লগার ওয়াশিকুর বাবুকে তার বাসার কিছুদুরে একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ১২ই মে সিলেটে গনজাগরন মঞ্চকর্মী, মুক্তমনা লেখক ও যুক্তি পত্রিকার সম্পাদক অনন্ত বিজয় দাশকে এবং ৭ই আগষ্ট গনজাগরন মঞ্চকর্মী ও মুক্তমনা লেখক নীলয় নীলকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করে ইসলামের রক্ষকরা।
এবং তারা শুধুমাত্র ব্লগারদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হন নি, শুরু করেছে বিদেশি নাগরিক হত্যা। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর গুলশানের কূটনীতিক এলাকার রাস্তায় ইতালীয় নাগরিক সিজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গীরা। এরপর ৩ই অক্টোবর রংপুরে জাপানী নাগরিক কুনিয়ো হোশিকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এখানেও শেষ নয়। এরপর একে একে প্রকাশক, যাজক, মন্দির মসজিদে হামলা করা শুরু করে জঙ্গীরা। ৫ই অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীতে ফাদার লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে জঙ্গীরা। এবং ২৪ই অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে শিয়াদেল তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় একজন নিহত ও অনেকে আহত হন, যা ৪০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম।
এরপর ৩১শে অক্টোবর অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের প্রকাশক টুটুল ও তার সঙ্গে থাকা ব্লগার তারেক রহিম ও রনদীপম বসুকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এর কয়েক ঘন্টা পর শাহবাগের আজিজ মার্কেটে প্রকাশনা সংস্থা জাগৃতির মালিক ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে।
৮ই নভেম্বর রংপুরে বাহাই নেতাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা।
১৮ই নভেম্বর দিনাজপুরে ডাক্তার পিয়ারোকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা করে। ২৬শে নভেম্বর বগুড়ার শিবগন্জে শিয়া মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের উপড় এলোপাথাড়ি গুলিতে ইমাম নিহত হয়, আহত হয় আরো কয়েকজন।
৩০শে নভেম্বর দিনাজপুরের রানীর বন্দরে ইসকনের সহ সভাপতি বীরেন্দ্র নাথ রায়কে গুলি করে হত্যা চেষ্টা।
৪ই ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরে আয়োজিত মেলার যাত্রাপালায় বোমা বিস্ফোরনে কয়েকজন আহত হয়।
১০ই ডিসেম্বর গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গায় বাউল উৎসবের আয়োজক জাকারিয়াকে কুপিয়ে খুন করা হয়।
১০ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটায় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় একটি ইসকন মন্দিরে ধর্মসভা চলাকালিন সময়ে বোমা হামলা ও গুলিতে কয়েকজন আহত হয়।
১৮ই ডিসেম্বর শুক্রবার চট্রগ্রাম নৌঘাটির মসজিদে জুমার নামাজের সময় দুটি বোমা বিস্ফোরন হয় এবং হাসপাতাল এলাকায় আরো একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে ছয়জন আহত হয়।
এবং সর্বশেষ গত ২৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার রাজশাহীর বাগমারায় একটি আহমেদিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় হামলাকারী নিজেই নিহত হন এবং আহত হন আরো ১০ জন।
এছাড়াও ২২শে অক্টোবর ঢাকার গাবতলীতে এ এস আই ইব্রাহীম হত্যা, ৪ই নভেম্বর আশুলিয়ায় পুলিশ কন্সটেবল হত্যা, ১০ই নভেম্বর কচুক্ষেতে মিলিটারি পুলিশের উপড় হামলার সাথে জঙ্গীদের সম্পৃক্তার তথ্য পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *