অকৃতজ্ঞ বেঈঈমানের দল, আমারেও গুনিস কিন্তু

১/

সে এক বিরাট গল্প। সেদিন ঘরে ছেল না কেরোসিন তেল। বৌ গজগজ করতে করতে আইসা বললো, রাইতে কি জোনাকি পোকা আইসা ঘরে বাত্তি দিব? মন মেজাজ এমনিতেই খারাপ। ধুত্তেরি বইলা চইলা গেলাম জাকিরের চায়ের দোকানে। সেখানে গিয়াও দেখি শান্তি নাই। ব্যাপক রাজনীতির আলাপ চলতেছে। ছাগলা হানিফ্যা দেখি আড্ডার মধ্যমনি হয়া একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষ মরে নাই সেই বুঝ দিতাছে। চা’টা খায়া বাইর হয়া যামু এই সময়ে হানিফ্যা সেলামালকি দিয়া কইলো, আরে বড় ভাই, কিছুমিছু খাবান। আম্লিক ক্ষমতায় আছে। এখন না খাবাইলে কখন?

১/

সে এক বিরাট গল্প। সেদিন ঘরে ছেল না কেরোসিন তেল। বৌ গজগজ করতে করতে আইসা বললো, রাইতে কি জোনাকি পোকা আইসা ঘরে বাত্তি দিব? মন মেজাজ এমনিতেই খারাপ। ধুত্তেরি বইলা চইলা গেলাম জাকিরের চায়ের দোকানে। সেখানে গিয়াও দেখি শান্তি নাই। ব্যাপক রাজনীতির আলাপ চলতেছে। ছাগলা হানিফ্যা দেখি আড্ডার মধ্যমনি হয়া একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষ মরে নাই সেই বুঝ দিতাছে। চা’টা খায়া বাইর হয়া যামু এই সময়ে হানিফ্যা সেলামালকি দিয়া কইলো, আরে বড় ভাই, কিছুমিছু খাবান। আম্লিক ক্ষমতায় আছে। এখন না খাবাইলে কখন?
ওর মিচকা হাঁসি দেইখ্যা পিত্তিটা জ্বইলা কয়লা হয়া গেলো। কইলাম, তোর ভাবীরে আইজকা বাইত গিয়া বইলা রাখতাছি বাগান থিকা কয়ডা কাঁঠাল পাতা পাড়তে। গিয়া খায়া আইছ।

পোলাপানরে খ্যাঁক খ্যাঁক হাসার সুযোগ দিয়া দোকাণ থিকা বাইর হয়া যামু এই সময়ে পেছনে কে যেন জামাটা টাইনা ধরলো। ঘুইরা তাকাইতেই দেখি পাগলা সিদ্দিক্যা গলায় আবদার ফুটায়া কইলো, তুমি হানিফ্যারে খালি কাঠাল পাতা দিলেই হইবো না। ওর কথার জবাব দিতে হইবো।
ছাগলরে মানুষ কেমনে বুঝায় এই বুঝ তাগোরে আর দিতে পারলাম না বিধায় হানিফ্যার লগে তর্কে লিপ্ত হইলাম। কিন্তু তার এক দাবী একাত্তরে কয় লক্ষ লোক শহীদ হইছে তাগো নামধাম দিয়া প্রমান করো। যুদ্ধকালীন সময়ে কেউ কারো সাকিন, ঠিকুজি রাইখা মরে না, যারা মরে তারাও এসব রাখার দরকার মনে করে না। গণযুদ্ধে তো অসম্ভব। সংখ্যা নির্ধারন করা হইছে যুদ্ধ চলাকালীন এবং শেষ হবার পরপর নানা পত্রিকা, গবেষকদের গবেষনার মাধ্যমে। কিন্তু ছাগলার এক কথা, নামধাম তালিকা দেও।
আমি আর না পাইরা উপস্থিত সবাইরে উদ্দেশ্য কইরা কইলাম, নামধাম না রাইখা মরা যে এই দেশে একটা অপরাধ সেইটা আসলে যারা মারা গেছে তারা বুঝে নাই। কোনদিন যদি বিজ্ঞানীরা টাইম মেশিন আবিষ্কার করতারে তাইলে হয়তো একাত্তরে ফিরা গিয়া নামধাম নেওন পারা যাইতো। সেই পর্যন্ত “হানিফ্যা’রে ল্যাদাইতে দে” বইলা বাড়িত চইলা যাওনের ইচ্ছা প্রকাশ করলাম।

চাইলেই কি আর যাওন যায়? দিন রাইত “বৈজ্ঞানিক ধর্ম ইসলাম” প্রচারক কেরামত রে রে কইরা কইলো, যাওন যাইবো না। আপনের বৈজ্ঞানিক লাগবো। সেইটা আমি দিতাছি। কিন্তু এর ফয়সালা আজকাই কইরা লামু। কি কও, হানিফ ভাই বইলা সে লাফ দিয়া খাড়ায়া গেল। মেজাজ গেলো আরো খিচড়ায়া। তবু চোখ মুখ ঠাণ্ডা কইরা কইলাম, ফয়সালা ক্যামনে করবি?
কেরামত এক গাল হাইসা কইলো, বূঝছো না, এই যে এউরোপ-আম্রিকার ইহুদি- খেরেস্টান- নাসারারা বিজ্ঞান দিয়া কত্ত কিছু করে, বানায়, এইসব কিন্তু কোরান শরীফ গবেষনা কইরা। তিরিক্ষে মেজাজ নিয়েও না হাইসা পারলাম না।
খুব প্রসংশা ভরা গলায় কইলাম, আগে কইবি না তুই টাইম মেশিন আবিষ্কার কইরা লাইছোস?
কেরেমইত্যা মুখ থেইকা কথা টাইনা নিয়ে কইলো, আরে না না, আমি না। আমি তো মাত্র গবেষনা শুরু করছি। শুক্কুরে শুক্কুরে আষ্টদিন হয়।
তাইলে ক্যাডা?
কেরামত হাঁসি হাঁসি মুখ কইরা টানটান সিনা নিয়া জানাইলো বিজ্ঞানীর নাম জাকির নায়েক। তিনি অনেকদিন ধইরা কোরান গবেষনা কইরা মহাবিশ্বের সব জ্ঞান রপ্ত কইরা লাইছেন। এখন আমরার সবার তার কাছে যাইতে হইবো। তিনি ঐশী বিদ্যার জোরে শহীদের সংখ্যা বাইর কইরা দিতে পারবেন বইলা উপস্থিত জনতার একটা বড় অংশের মধ্যে আশাবাদ শুনা গেলো।

২।

দিনক্ষন মোতাবেক কেরামতের লগে আমি, হানিফ্যা আর পাগলা সিদ্দিক জাকির নায়েকের বাড়িত গেলাম। বাড়ির অন্দরে ঢুকবার অনুমতি শুধু কেরামত পাইলো। আমরা বৈঠকখানায় বসে আতরের গন্ধ উপভোগ করতে লাগলাম। বিরাট জার্নি কইরা আসছি। হাঁই তুলতে তুলতে হানিফ্যা’রে জিগাইলাম, কি’রে তোগো বিজ্ঞানী কি খালি আতরের গন্ধ খাওয়াইবো নাকি চা-বিস্কুট কিছু দিব? সিদ্দিক্যা মুখ পাতলা মানুষ। স্থান কাল পাত্র জ্ঞান নাই বইলাই তারে পাগলা ডাকে লোকে।
সেই সুনাম ধইরা রাইখা সে কইলো, কেরামইত্যার বাপ যে এত বড় পীর। দশ বিশ অঞ্চলের লোকের দাওয়াতে মিলাদে-ওয়াজে গিয়া খায়া খায়া পেটখান আসমানের সমান বানাইছে। তার বাড়িত গিয়া কোনদিন কিছু খাইতে পারছো? এক গেলাস পানি খাইতে চাইলেও বলে একশো ট্যাকা দে। পড়া পানি খা।

সিদ্দিক্যার ধারনা ভ্রান্ত প্রমানিত কইরা এক হাড়জিরজিরা লোক মাথায় টুপি, পরনে স্যুট-টাই লাগায়া আমাগোরে সেলামালকি দিল। কেরামইত্যা পাশ থিকা এই লোকই যে জ্ঞানের মহাসমুদ্রে আকণ্ঠ ডুইবা থাইকা জাকির নায়েক নামে পরিচিতি পাইছে তা বিরাট বর্ননা সহকারে জানায়ে দিল।
সিদ্দিক্যা একটু কাছে চাইপা আইসা গলার স্বর নামায়া আমারে কানে কানে জানাইলো, এই লোক আর আট দশটা নিজেরে কোরান গবেষক দাবি করা পাইজামা-পাঞ্জাবি পরা মোল্লাদের মত না। স্যুট-টাই পরে, এর উপরে চোখের চশমাডা দেখছেন কি ভারি। নিশ্চই অনেক বই পইড়া এমুন হইছে। জ্ঞানের জিল্লে ইলাহি টাইপের কিছু একটা হবে। চাপা গর্জন দিয়া সিদ্দিক্যারে চুপ করায়া জাকির নায়েকের দিকে তাকায়ে সৌজন্য বিনিময় করে কুশলাদি জিগাইলাম। তিনি আছি ভালো কিন্তু বইলা থাইমা গেলেন।

ব্যাক্তিগত কোণ বিষয় উনি বলতে গিয়াও বলতে চাইতেছেন না মনে কইরা ব্যাপারটা এড়ায়া গেলাম। এরমধ্যে হানিফ্যা আবার তার পায়ের উপরে কি মনে কইরা পইড়া গেল। সারমর্ম যা বুঝলাম গুরু আর শিষ্যের পরস্পরের কাছে নিজেদের পরিচিতি আর ভাব বিনিময় চলতাছে। কেরমইত্যারে কইলাম, যে কাজে আইছি সেইটা শুরু করো। টাইম শর্ট আছে।
জাকির নায়েক সাব জিগাইলেন, ভাইসাব আপনি কি করেন? আমারে আর কইতে দিল না কিছু হানিফ্যা। মুখের কথা কাইড়া নিয়ে এমনকি অন্য পরিচয় বাদ থাক নামধামও কিছু কইলো না। শুধু কইলো উনি একজন ব্লগার। জাকির নায়েব সাহেবের জ্ঞানের সাহায্য নিয়া একটা বিরাট বিতর্কের সমাধানের জন্য আসছি।

পরিচয় শুইনা জাকির নায়েক সাবের মুখ কেমন জানি থমথমে হয়া গেলো। কিন্তু বেশীক্ষনের জন্য না। নিজেরে সামলায়ে নিয়ে তিনি কইলেন, আচ্ছা, আপনারাই তাইলে সেই লোক। যারা ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালায়। সেদিন হাটহাজারির শফি সাব মুপাইলে কল দিছিলো। আপনেরা নাকি তাগোরে নিয়া ঠাট্রা মস্করা করেন। এইটা কিন্তু ঠিক না, ভাইসাব। উনারা ইসলামের রক্ষক। তাদের সমালোচনা করা আর ইসলামরে অপমান করা এক কথা।
মেজাজটা গেল বিলা হয়া, কইলাম বালের আলাপ চোদাইতেছেন ক্যান? ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালায় না, ইন্টারনেট দিয়া ব্লগ চালায়। হানিফ্যা আর কেরইমইত্যার দিকে ফির‍্যা ওগো’রে বাঞ্চুত গালি দিয়া যে কাজে আসছি তা বাদ দিয়া কেন এসব ফাও আলাপ হইতেছে তা জিগামু জিগামু করতাছি এরমধ্যে বিকট এক চিক্কুর সহকারে “মাগো বাবাগো গেলামরে গেলামরে” করতে করতে জাকির নায়েক অজ্ঞান হয়া গেলেন।

সিদ্দিক্যা পাগলা কিসিমের হইলেও তার জ্ঞান বুদ্ধি মাঝেমধ্যে দরকারি সময়ে খুলে। দৌড়ায়ে সে এক গেলাস পানি আইনা জাকির নায়েক সাহেবের চোখে মুখে ছিটা দিয়া জ্ঞান ফিরাইলো। নিজের হাতে ধইরা উনারে ফ্লোর থেইকা উঠায়ে দাঁড় করাইলাম। বসার জন্য চেয়ার দিলাম। কি আজব, বসতে গিয়াও উনি বসলেন না।
বইতেছেন না ক্যান জিগাইলে উনি চোখ মূখ নামায়ে কিছু একটা বলতে গিয়া “বসতে তো চাই কিন্তু” বইলা থাইমা গেলেন। মনে মনে প্রমাদ গুনলাম। এ কোন রোগরে, বাবা! কেমন আছেন জিগাইলে “কিন্তু” বইলা থাইমা যায় আবার অসুস্থ দেইখা বসতে দিলাম সেইখানেও “কিন্তু” বইলা থাইমা গেলো।

নিজে থেকে উনারে বললাম বলতে না চাইলে বলার দরকার নাই। খালি এইটা বলেন, অজ্ঞান ক্যান হইলেন? কোন কিন্তু মিন্তু চলবে না এইদফা। আবার যদি অজ্ঞান হয়ে জ্ঞান না ফিরে তাইলে যে মার্ডার কেস খামু সেই ডর তো আছেই।
অনেক জোরাজুরির পরে তিনি আস্তে কইরা বললেন, ভাই আপনে আমার ঐ ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালানোর কথাটা নিয়ে মুখ খোলার কারনে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম।
কেরমইত্যা, হানিফ্যা আর আমি এই কথা শুইনা নিজেগো চোয়াল ঝুলায়া ফালাইলাম। শুধু সিদ্দিক্যা পাগলা চোখ মূখ পাকায়া গর্জে উঠে জানতে চাইলো, ফাজিলের বাচ্চা, মজা লস আমাগো লোগে? ভাইয়ের মুখ দিয়া কি মিসাইল বাইর হইছে নাকি যে তোর পায়ুপথ দিয়া ঢুকছে আর তুই ব্যাথা পায়া অজ্ঞান হয়া গেছছ?

জাকির নায়েব সাব সিদ্দিক্যার অগ্নিরুপ দেইখা তাত্তারি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার প্রয়াসে ধাপাধাপ নিজের প্যান্টুল খুইলা ঘুরে দাঁড়াইলেন। সে কি এক এলাহি কান্ড। বিশাল এক ব্যান্ডেজ তার পশ্চাদ্দেশে, তার দিকে ইঙ্গিত কইরা কইলেন, ভাই, আপনেগো বাংলা ব্লগ যেদিন থেকে শুরু হইলো সেদিন থেকে এই ব্যান্ডেজ লাগায়া ঘুরতেছি। এরমধ্যে দেখি কেরমইত্যা আর হানিফ্যা দুইটা আমার দিকে আগুন নজর দিয়া তাকায়া আছে।
জিগাইলাম, কি’রে তোরা এমনে তাকায়া আছছ ক্যান? ওরা জানাইলো এতদিনে ওরা বুঝছে কি কারনে ওগো পশ্চাদ্দেশেও মাঝেমধ্যে কারনে অকারনে সময়ে অসময়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আগুন জ্বলে। নিজের দোষ মাইনা নিয়া কইলাম কিন্তু এর লগে ব্লগের, ব্লগারদের কি সম্পর্ক? ব্যাক্কল দুইটা কিছুই বলতে পারলো না। জাকির নায়েক সাহেবরে কইলাম, খুইল্যা কন দেখি ব্যাপারটা।
পুরা ঘর নিশ্চুপ। একেবারে পিনপতন নীরবতা। হুট কইরা হাউমাউ কইরা কাইন্দা দিয়া তিনি জানাইলেন, আপনেরা যখনই ব্লগে, ফেসবুকে যেখানেই আমারে নিয়া মুখ খুলেন তখনই আমার গোয়া ফাটে। আমার গোয়া ফাটলে আমার মুরীদদেরও ফাটে।

হাসুম না কান্দুম ঠিক বুইঝা উঠতে পারতেছিলাম না। গায়েবি কাজকারবারের সাথে আমি এর আগে কোনদিন পরিচিত হই নাই। নীরবতা ভাইঙ্গা সবাইরে উদ্দেশ্য কইরা কইলাম, এসব আলাপ বাদ। যে কামে আইছি সেইটা শেষ করে বিদায় নেই। এ সময়ে জাকির নায়েক সাহেব বাদ সাধলেন। জানায়ে দিলেন ফাটা গোয়ার যন্ত্রনা নিয়ে আজকে কোন কাজ হবে না। বিরক্ত হয়ে কইলাম, হানিফ্যা ব্লগার পরিচয় দেয়ার লগে লগে আমারে মুখ না খোলার কথা কইতেন। হুদাই আলগা পন্ডিতি চোদাইতে গিয়া গোয়াটা না ফাটাইলেও চলতো। গোঁ ধরলাম যে জিনিসের সমাধান জানতে আইছি সেইটা সিস্টেম কইরা দেন। সিদ্দিক্যা লগে লগে হুমকি দিয়া বইলো আজকা যদি কাজ না হয় তবে ওয় হানিফ্যা আর কেরমইত্যা দুইটার ফাটা গোয়াতে বোম্বাই মরিচ ডইলা দিব। জাকির নায়েক সাব যেহেতু তাদের গুরু তাই উনার জন্য নাগা মরিচ, বোম্বাই মরিচ দুইটাই।

হুমকির চোটে একটা আরেকটারে ধইরা কান্নাকাটি শুরু করলো। শেষমেষ আমি প্রস্তাব দিলাম সিদ্দিক্যা যাতে কাউরে কিছু না করে সেই দায়িত্ব আমার। শুধু তাই না আগামী এক মাসের লাইগা ব্লগে, ফেসবুকে কেউ যাতে জাকির সাহেবের কোণ বয়ানবাজি নিয়া কেউ মুখ না খুলে সেই ব্যাবস্থা করবো।

শুইনাই জাকির নায়েক সাহেব আমারে জড়ায়ে ধরে হু হু করে কানতে কানতে আবেগঘন গলায় বললেন, পারবে ভাই, তুমি পার্বে? কতদিন যে হোগাটা বিছানায় লাগায়া ঘুমাইতে পারি না ব্যাথায়। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো।
পাশ থিকা সিদ্দিক্যা বাতাসে শীষ কাইটা কইলো, বাংলা সিনেমা দেখতে দেখতে হালার মাথাডা গেছে…
কেরমইত্যা আর হানিফ্যা এই কথা শুইনা চোখ বড় বড় কইরা ফালায়া অনুযোগ করলো জাকির নায়েক সাবের লেকচার পিচ টিভিতে দেইখা তারা সিনেমা দেখা বন্ধ কইরা দিছে আর তিনি কিনা……

মান ইজ্জতের ফালুদা আজকে শিষ্যদের কাছেই হয়া যাইতে পারে বুইঝা জাকির নায়েক প্রতিবাদ কইরা বললেন, আসলে ব্যাপারটা যেমন শুনা যাইতেছে তেমন না। অঞ্জু ঘোষের পরে আর বাংলা সিনেমা দেখেন নাই। দ্বীনের কাজে নিজেরে নিয়োজিত করেছেন। পাশ থিকা সিদ্দিক্যা ফোঁড়ন কাইটা কইলো, অঞ্জু ঘোষ ফেইল আফনের কাছে।

সবাইরে ধমক দিয়া থামাইলাম। জাকির নায়েক সাহেব কথা দিলেন কুরান গবেষনা কইরা গুপ্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মাধ্যমে তিনি সিদ্দ্যক্যা আর হানিফ্যা’রে ১৯৭১ সালে ফেরত পাঠাইতে পারবেন। তারা দুইজনে মিল্যা ক্যামেরাতে কইরা যারা যারা যে যেমনে মারা গেছে সবার প্রমানাদি নিয়ে আসবে। কিন্তু ৩০ লক্ষের উপরে শহীদের প্রমানের প্রমানাদি ভিডিও কইরা আনাতো চাট্রিখানি কথা না। সেই মুস্কিল আহসানের ব্যাবস্থাও তিনি তার গুপ্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মাধ্যমে করলেন।
আমি খালি একবার জিগাইলাম, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আবার গুপ্ত হয় ক্যামনে? তিনি একগাল হাঁসি দিয়া কইলেন, দেখেন কুরান গবেষনা কইরা ইহুদি নাসারারা কত কত উন্নতি করছে, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করছে। এখন আমার কুরান গবেষনা করে পাওয়া গুপ্ত জ্ঞান যদি প্রকাশ হয় তাইলে তো তারা আরো আগায়া যাইবো। কথায় যুক্তি আছে। মাথা নাইড়া কইলাম, হ, খাইট্রা খাক।

সিদ্দিক্যা আর হানিফ্যারে উনার গুপ্তজ্ঞানের সাহায্যে যাবতীয় প্রযুক্তি দিয়া ওদের ১৯৭১ সালে পাঠায়ে দিয়ে আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম।

৩/

দীর্ঘ ৯ মাস পরে পাগলা সিদ্দিক্যা লাল টকটকে চোখ আর ছাগলা হানিফ্যা চোখে মুখে মহাবিশ্বের সমস্ত অন্ধকার নিয়া ফিরা আসলো। তাদের কারো মুখে কোন কথা নাই। আমি কইলাম, ভিডিও সব কই? আয় গুনাগুনতি করি। আর প্রত্যেকের খুনের আগে পরের সব আনছোস তো? ভিডিও করার সময়ে প্রত্যেকরে কইছিস তো সঠিক মৃতের সংখ্যা জানার স্বার্থে তোরা ভিডিও করছিস।
সিদ্দিক্যা কইলো, ভিডিও সব দেখার দরকার নাই। একটা দেখলেই হবে। খুন হবার আগে প্রত্যেক শহীদ একই কথা বলেছেন।

পাকিস্তানী সেনাক্যাম্পে আটক যুবক। হাত পা শক্ত করে রশি দিয়ে বাঁধা।
প্রতিটি ভিডিওতে সেইসব যুবকেরা প্রত্যেকে সূর্যসম উত্তাপ চোখে জড় করে বলছে, অকৃতজ্ঞ বেঈঈমানের দল, আমারেও গুনিস কিন্তু।

৬ thoughts on “অকৃতজ্ঞ বেঈঈমানের দল, আমারেও গুনিস কিন্তু

  1. লেখক জানেন কিনা জানি না।
    লেখক জানেন কিনা জানি না। আপনার লেখনি মানুষকে হাসাঁতে হাসাঁতে শেষ এক লাইনে কাঁদাতে পারে। খুব বেশী লেখকের এই গুন নেই। প্রচন্ড তিক্ত অনুভূতি নিয়ে মেনে নিচ্ছি আমরা একই সাথে অকৃতজ্ঞ এবং বেঈমান। ধন্যবাদ দিয়ে লেখক এবং লেখনিকে ছোট করলাম না। ভাল থাকুন আর লিখে যান।

  2. অসাধারণ ভাই। কেন যে আপনারা
    অসাধারণ ভাই। কেন যে আপনারা অনলাইনে নিয়মিত লিখেন না? এবার নিয়মিত হোন। নিয়মিত আপনাকে ব্লগে দেখতে চাই। ফেসবুক নয়, আপনাদের জায়গা ব্লগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *