এই নারকীয় হত্যা বন্ধ হোক

মোঘল আমলে বাংলা সংঘাতপূর্ণ এলাকা বলে পরিচিতি ছিল। এদিকে আগা বাকের খানের হাত ধরে বিখ্যাত দক্ষিনা জনপদ আজ বরিশাল। কেউ রুপসী বাংলা বলে, কেউ বাংলার ভেনিস আবার অনেকে বাংলার শস্য ভাণ্ডার বলে ডেকে থাকে। যে যে নামেই ডাকুক না কেন এই নগরীতে কালে ভদ্রে অস্ত্রধারী বেপরোয়া মানব সন্তানের উত্থানও হয়েছে। বাতাসে কান পাতলে সেই ভয়ানক মানব শিশুদের কেচ্ছা কাহিনী শোনা যায়।


মোঘল আমলে বাংলা সংঘাতপূর্ণ এলাকা বলে পরিচিতি ছিল। এদিকে আগা বাকের খানের হাত ধরে বিখ্যাত দক্ষিনা জনপদ আজ বরিশাল। কেউ রুপসী বাংলা বলে, কেউ বাংলার ভেনিস আবার অনেকে বাংলার শস্য ভাণ্ডার বলে ডেকে থাকে। যে যে নামেই ডাকুক না কেন এই নগরীতে কালে ভদ্রে অস্ত্রধারী বেপরোয়া মানব সন্তানের উত্থানও হয়েছে। বাতাসে কান পাতলে সেই ভয়ানক মানব শিশুদের কেচ্ছা কাহিনী শোনা যায়।

এখনো যে নগরী খুব শান্ত ও পরিমার্জিত তেমন জোর দিয়ে বলা অসম্ভব। এখনো অনেক অপরাধি, ধর্ষক, গডফাতার, মাদক ব্যবসায়ী দাবড়ে বেড়ায় বরিশাল নগরী। সে সব নিয়ে মাঝে মধ্যে কয়েকটি মফস্বলে পত্রিকা কথা বললেও খুব কাজে আসে না। সংবাদ ভাষ্যগুলো পড়লে অবাক হতেই হয় যে সেখানে জোর দাবী জানানো হচ্ছে অপরাধীদের ধরছে না দায়িত্বরতরা। নগরীতে মানুষের হাতে মানুষ খুন হবার সংবাদ পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়। কিন্তু পশুতে কামড়িয়ে কয়টা মানুষ খুন করেছে সে দৃষ্টান্ত আছে কি না আমার জানা নাই। অমানবিক পদক্ষেপ দেখে অবাক হলাম যে সরকারী উদ্যোগে নিধন করা হচ্ছে উপকারী পশু।

বিলেতে বা পশ্চিমা কালচারে কুকুর হল উপকারী পশুদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে যে তার ব্যত্যয় তা কিন্তু নয়। সিটি করপোরেশনের যে দায়িত্ব নগরীর পঁচা-বাসী-আবর্জনা সরিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দেয়া তা কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কখনোই সঠিক ভাবে করে না। ভোগান্তিতে থাকে নগরবাসী। অথচ এই পথ-কুকুরগুলো সেই পঁচা-বাসী আর্বজনার কিয়দংশ খেয়ে নিজেরা জীবন ধারণ করে রোগ বহনকারী আর্বজনা শেষ করে।

এটা কি নগরবাসীর উপকার নয়? আবার এমনও দেখা যায়, কতক এলার্জি প্রবন ফটো সাংবাদিক মাঝে মাঝে কুকুরের ছবি তুলে পত্রিকায় ছেপে দাবী তোলেন নগরীতে ‘কুত্তার’ উৎপাত বেড়েছে। ব্যবস্থা নিচ্ছে না নগর পিতা। কুকুর মারা কাজ যদি নগর পিতাকে করতে হয় তাহলে নগরী সাজাবে কে? আমার মতে কুকুরগুলো নগরীর ফুল সরুপ। যে কাজ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা করে না সেই কাজ যদি কুকুরে করে সেটা তো ক্ষতির কিছু না। এদিকে পত্রিকায় কুকুরের ছবি পেলেই বিসিসি ঝাপিয়ে পরছেন কুকুর নিধনে। হয়তো এমন কিছু দেখব যে কুকুর মারা কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ‘অমুক মিয়া’।

এই নগরীতে মানুষ বা সেই সব ফটো সাংবাদিক যারা ‘কুত্তাকে’ বিপদ মনে করে তাদের যেমন থাকার অধিকার আছে তেমনি অবলা জীব কুকুরেরও থাকার অধিকার আছে বলে আমি মনে করি। অনেকেই দাবী করেন গভীর রাতে কুকুরের উৎপাত বাড়ে। সঙ্গত কথা। কারা উৎপাতের স্বিকার হয়? যারা গভীর রাতে চলাচল করে। নগরীর রাজ পথে গভীর রাতে প্রশাসন ছাড়া আর কারও থাকার কথা না। প্রশাসন কি কখনো দাবী করেছে কুকুরের উৎপাতে তাদের কাজে ব্যঘাত ঘটছে?

জানা মতে এমন অভিযোগ ওঠেনি। তাহলে যারা উৎপাত মনে করেন তারা ঐ গভীর রাতে নগরীর রাজপথে ঘুরে ঘুরে কি করেন? অপরাধীদের নিধনে যেখানে পুলিশ-প্রশাসন হিমশিম খায় সেখানে কিন্তু কুকুর মারা সিটি করপোরেশনের সহজ কর্মপরিকল্পনা। আর এতে খুশিও হন অনেকে। ঐ গভীর রাতে যাদের ‘চালান’ আসে তারা ছাড়া কুকুরকে কেউ বালাই মনে করবেন কিনা সন্দেহ হয়।

আমাদের চারদিকে এত যে মানবাধিকার রক্ষা করার শ্লোগান শুনি এই কুকুর রুপি জীব হত্যা করা কি মানবিকতা লঙ্ঘন নয়? প্রত্যেক ধর্মেইতো জীব হত্যায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাহলে এভাবে প্রকাশ্যে জীব হত্যা করা হচ্ছে কেন? এই অমানবিকতা বন্ধ করা উচিত। বরংছ সিফিলিস বা জলাতঙ্ক নিরোধে কুকুরকে প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা উচিত। কুকুর হত্যা কোন সমাধান নয়। প্রকাশ্যে রাজপথে এভাবে কুকুর নিধন করা যারা দেখছেন তাদের মনে ও মননে প্রভাব পরছে ‘খুন’ করা কোন ব্যপার না।

প্রবাদতো আছেই কচু কাটতে কাটতে জল্লাদ হয় মানুষ। তেমনি জীব হত্যা দেখতে দেখতে যে খুনির পরিমান বাড়বে না তার গ্যারান্টি কি? কুকুর নিধনের মত অমানবিক দৃশ্যের মাধ্যমে বস্তুত নগরীতে খুনি বা অপরাধীদের সাহস জুগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই সংস্কৃতি বন্ধ হোক। জীব-বাস্তুসংস্থানের ধারাবাহিকতায় সকল জীব বেঁচে থাকুক যে যার মত। আমাদেও মাঝে মানবিকতার উন্মেষ ঘটুক। পৃথিবী হোক সবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *