ধূসর সময়

শীতটা কোনমতে টিকে গেলে বসন্তে আবার রক্তরাঙা পলাশ দেখতে পেতো প্রভাত রায়। হয়তো টিকে যাবে, কিন্তু টিকে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই তার।

শহরতলীর এই অংশটা বেশ জীর্ণ, ঠিক তার একা বাড়িটার মতো। পাশেই ইস্টিশন। যেখানে বনেদি ট্রেনগুলো থামেনা। শুধু দুটো মেইল ট্রেন এর প্লাটফর্মটা ছুঁয়ে যায়। ডাউন ট্রেনে করে এই শহরে প্রভাত রায় এসেছিলো কোন এক ঘোর বর্ষায়। তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো দিন।

আজকাল বেঁচে থাকার কোনো মানে খুঁজে পায়না সে। কোন পিছুটান নেই, সে টান অনেক আগেই চুকেবুকে গেছে। নতুন কিছু পাওয়ার নেই, বেঁচে থাকার এখন আর কোনো অর্থ হয়না। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে শহরটা ছোট, মৃত্যু এখানে সহজলভ্য নয়।

শীতটা কোনমতে টিকে গেলে বসন্তে আবার রক্তরাঙা পলাশ দেখতে পেতো প্রভাত রায়। হয়তো টিকে যাবে, কিন্তু টিকে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই তার।

শহরতলীর এই অংশটা বেশ জীর্ণ, ঠিক তার একা বাড়িটার মতো। পাশেই ইস্টিশন। যেখানে বনেদি ট্রেনগুলো থামেনা। শুধু দুটো মেইল ট্রেন এর প্লাটফর্মটা ছুঁয়ে যায়। ডাউন ট্রেনে করে এই শহরে প্রভাত রায় এসেছিলো কোন এক ঘোর বর্ষায়। তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো দিন।

আজকাল বেঁচে থাকার কোনো মানে খুঁজে পায়না সে। কোন পিছুটান নেই, সে টান অনেক আগেই চুকেবুকে গেছে। নতুন কিছু পাওয়ার নেই, বেঁচে থাকার এখন আর কোনো অর্থ হয়না। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে শহরটা ছোট, মৃত্যু এখানে সহজলভ্য নয়।

এবছর শীতটা বাড়াবাড়ি রকমের বেশি। পুরোনো লেপটায় বুড়ো হাঁড়ে ঠিক ওম ধরেনা। ট্রাঙ্ক থেকে আরো একটা লেপ বের করে। তারপর ঘুমের ঔষুধ খেয়ে শুয়ে পড়ে অনন্ত যাত্রার উদ্দেশ্যে।

যখন তার ঘুম ভাঙে তখন ভর সন্ধ্যা। মাঝখানে হয়তো কেটে গেছে আরো দুটো দিন।

একমগ কফি নিয়ে বারান্দায় এসে বসে। পাশের খালি চেয়ারটা এখনো তাকে কষ্ট দেয়। এতগুলো বছর পরও।

শুক্লপক্ষ বোধহয়। এই সন্ধ্যায়ও চাঁদনিতে কুয়াশা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। যৌবনে এরকমই একটা সন্ধ্যা সে দেখেছিলো লেকের পাশে পাহাড়টার উপর বেঞ্চিতে বসে। সঙ্গী ছিল প্রিয়তমার উষ্ণ চুম্বন।

ধোঁয়া উঠা গরম কফির মগে চুমুক দিলো প্রভাত রায়। রক্তরাঙা পলাশ দেখার জন্য কাটিয়ে দেয়া যায় আরো একটা বসন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *