অভিশাপ

জুল্ফু মিয়ার মন ভালো নেই। আসলে ভালো নেই শরীর, তার দায় গিয়ে পড়েছে মনে। হপ্তা খানেক হল শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে তার।

গেল হপ্তায় সে তার প্রেমিকাকে ল্যাঙ মেরে শুইয়ে দিয়েছিল পাটক্ষেতে। শক্তিতে পেরে উঠতে না পারলেও জুল্ফুর বুকে দু’টি জব্বর কামড় বসাতে পেরেছিল প্রেমিকা। ত্রিশ বছরের ভরা যৌবনে অনেক বার ব্যর্থ হওয়ার পর, এইবার মনের খায়েস মেটাতে সক্ষম হয় জুল্ফু।

ওদিন ভুলিয়ে-ভালিয়ে সুস্থ প্রেমিকাটিকে পাটক্ষেতে এনে অসুস্থ অবস্থায় ফেরত দিয়ে এসেছিল জুল্ফু। প্রেমিকা বাড়ী ফিরেছিল ল্যংচাতে ল্যংচাতে। আর অভিশাপ দিয়েছিল জুল্ফুকে, ‘অঙ্গহানি হইবো তোর’।


জুল্ফু মিয়ার মন ভালো নেই। আসলে ভালো নেই শরীর, তার দায় গিয়ে পড়েছে মনে। হপ্তা খানেক হল শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে তার।

গেল হপ্তায় সে তার প্রেমিকাকে ল্যাঙ মেরে শুইয়ে দিয়েছিল পাটক্ষেতে। শক্তিতে পেরে উঠতে না পারলেও জুল্ফুর বুকে দু’টি জব্বর কামড় বসাতে পেরেছিল প্রেমিকা। ত্রিশ বছরের ভরা যৌবনে অনেক বার ব্যর্থ হওয়ার পর, এইবার মনের খায়েস মেটাতে সক্ষম হয় জুল্ফু।

ওদিন ভুলিয়ে-ভালিয়ে সুস্থ প্রেমিকাটিকে পাটক্ষেতে এনে অসুস্থ অবস্থায় ফেরত দিয়ে এসেছিল জুল্ফু। প্রেমিকা বাড়ী ফিরেছিল ল্যংচাতে ল্যংচাতে। আর অভিশাপ দিয়েছিল জুল্ফুকে, ‘অঙ্গহানি হইবো তোর’।

কিন্তু প্রেমিকার মুখের কথাটি অভিশাপ নাকি আশীর্বাদ তা বোঝা যাচ্ছিল না তখনও। কারণ ঘটনার দু’দিন না পেরুতেই জুল্ফুর বুকের দু’বিন্দুতে দরদ শুরু হয়েছে বেশ। তৃতীয়দিন থেকে সেই দু’বিন্দু মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। লোমশ বুকের কামুক কেশগুলো একে একে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে তাকে।

অবশেষে চতুর্থদিন দিবাগত রাতে ঘুমের ঘোরে জুল্ফুর সমতল বুক উত্তাল ক্রোধে মেয়েলি রূপ ধারণ করে।

ঘরের বাহির হওয়া বাধ সেধেছে জুল্ফুর শরীর। গ্রামের বয়ষ্ক কবিরাজকে খবর দেয়া হয়েছে। তিনি ব্যজার মুখে এসে জুল্ফুকে টিপে টুপে চলে গেছেন খুশী মনে। ওপাড়ার ভণ্ড হুজুরটি তাবিজ নিয়ে এসে দু’বুকে দু’টি বালার মত মালা পড়িয়ে গেছেন লাজুক হাতে।

শরীরবৃত্তীয় বৃদ্ধি ফাঁস হয়ে পড়ায় পঞ্চম দিনে এক সখী জোটে জুল্ফুর। সে হল তার মাতৃসম ভাবী। তিনি তার কাছে সবসময় মোড়া পেতে বসে থাকেন মন খারাপ করে। ভাবী গতরাতে লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে তাঁর পুরনো একটি বক্ষবন্ধনী এনে দিয়েছেন জুল্ফুকে। জুল্ফু ভাবীর দিকে আড় চোখের অঙ্গার হেনে উল্টো ফিরে চট জলদি তা পড়ে নিয়েছে। একটু ঢলঢলে হওয়ায় পেছন দিকে সেপটিপিন লাগিয়ে দিয়েছেন ভাবী।

ইদানীংকালের সময়গুলো জুল্ফুর শুয়ে-বসেই কেটে যায়। ভাবীর সামনে পারতপক্ষে দাঁড়ায় না সে। ভাবী নির্লজ্জের মত অনুসন্ধিৎসু চোখে শুধু জুল্ফুর লুঙ্গির দিকে তাকিয়ে থাকেন।

আজ বিকেল আর সন্ধ্যার মাঝামাঝি সময়টাতে চুলোর সামনে বসে বসে প্রেমিকার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের কথাই ভাবছিল জুল্ফু। বারবার মনে পড়ছিল প্রেমিকার সেই অভিশাপ বাণী। কিন্তু তার ‘অঙ্গহানি কোথায় হল! এতো ‘অঙ্গ-যোগ’।

বুকের ব্যাথা এই এক হপ্তায় পুরো সেড়ে গেছে। সেই ব্যাথাস্থল এখন দু’টি সুডৌল ভাপাপিঠার আকার নিয়ে কিসের আশায় যেন উন্মুখ হয়ে থাকে প্রায়।

এভাবে সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, বিকেল যায়, রাত আসে।

তেমনি এক রাতের কথা।
দুরুদুরু বুকে চোখের জলে বালিশ ভেজায় জুল্ফু মিয়া।
উঠে বসে।
ঘুম আসে না কিছুতেই।
হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে।
কান্নার দমকে কেঁপে কেঁপে ওঠে পিঠ।
প্রেমিকার অভিশাপ মনে পড়ে যায় তার।
ভবিষ্যৎ চিন্তায় অস্থির হয় জুল্ফু।
কারণ, আজ রাত দ্বি-প্রহর থেকেই ব্যথা শুরু হয়েছে লুঙ্গির ভিতর।

১৭ thoughts on “অভিশাপ

  1. বাস্তবেও এমন হলে ভালো হইত।
    😀 😀 😀 😀 😀
    বাস্তবেও এমন হলে ভালো হইত। আজকেই নিউজ দেখলাম ১১ বছরের শিশুকে ৫৫ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে নরপশুর দল।

  2. একটা মুভি দেখার অনূরোধ করবঃ
    :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি:
    একটা মুভি দেখার অনূরোধ করবঃ “The Secret in Their Eyes”…
    এইটা আমার দেখা সেরা শাস্তি ধর্ষকদের জন্যে…

    1. আমি একটা মুভির নাম দিতে পারি
      আমি একটা মুভির নাম দিতে পারি I Spit On Your Grave পার্ট ১ এবং ২ অসাধারণ ছবি দেখে নিয়েন পারলে আর হ্যাঁ লেখার ব্যাপারে বলার সাহস নেয় …… :salute:

  3. সামান্য দেরিতে ধন্যবাদ
    সামান্য দেরিতে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বলে দু:খিত। সকলকেই ধন্যবাদ। (কিছু প্রতিবন্ধকতার জন্য এক সাথে ধন্যবাদ জানালাম। আবারো দু:খিত।)

  4. ও মাই গড!!!
    এরকম অদ্ভুদ

    ও মাই গড!!!

    এরকম অদ্ভুদ থিংকিং মানুষের মাথায় আসে কিভাবে?

    অবশ্য মানুষের মাথায় আর কোত্থেকে এলো? এসেছে তো নাসির ভাইয়ের মাথায়…!
    উনি তো আবার সাহিত্যিক মানুষ।
    😛 😉

    (বিঃদ্রঃ সাহিত্যিকরা ঠিক মানুষ নয়, তারা তার চেয়ে বেশী কিছু… যারা দেয়ালের ওপাশটাও স্পষ্ট দেখতে পায়!)
    :ফুল:

        1. আপনার লেখাটা পড়েছি, ভাল
          আপনার লেখাটা পড়েছি, ভাল লেগেছে। ওখানে কেন যেন মন্তব্য করতে পারছি না ভাই, তাই এখানে জানালাম।

  5. ভাল লেগেছে। আসলে এরকম শাস্তি
    ভাল লেগেছে। আসলে এরকম শাস্তি বাস্তবে সম্ভব না হলেও যে শাস্তি সম্ভব সেটাই তো হয় না। এমন কি এদেশে সেঞ্চুরি করা মানিক ও সরকারের সহায়তায় পার পেয়ে যায়। খুনিকেও যথার্থ কারন ছারাই রাস্ট্রপতি ক্ষমা করে দেয়। আর আমরা জনগন নিজের দলের খুন ধর্ষন সবই বৈধতা দেই, অন্য দলের ভাল কিছুর মদ্ধেও খারাপ কিছুর গন্ধ পাই। চলুন, দল নয়, ভালকে সাপোর্ট করি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *