বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় আমাদের দেশীয় ফ্যাশন

স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে। আর বাংলার জন্ম হাজার বছরের আগে। তাই আমাদের ফ্যাশনে নিজস্ব ঐতিহ্য, শিল্পের নিপুণতাও অনেক প্রাচীন। ২৫০০ বছর পূর্বে ইন্দো-মাহেঞ্জদারো সভ্যতায় খাদির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পর্যটক আলেকজেন্ডার ভারত উপমহাদেশে হাতে বোনা কাপড়ের কথা উল্লেখ করেন। ঐ সময় সিন্ধু ও গাঙ্গোত্রীয় উৎপাদিত মিহি কাপড় পার্শ্ববর্তী বিদেশিরা লুট করে নিয়ে যেত। ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ দিকে চীনা পরিব্রাজক ইয়ং তাং বাংলার সূক্ষ্ম খাদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সে সময় মার্কো পোলো খাদির সূক্ষ্মতা মাকড়সার জালের সাথে তুলনা করেন। রোমানরাও বাংলার এই হাতে বোনা কাপড় ব্যাপক পরিমাণে আমদানি করে নিয়ে যেত। মোগল সময়ে খাদি, মসলিন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ভারতবর্ষে ঐ সময় কেলিকো নামে এক ধরনের কাপড় ছিল যা বিলেতে উচ্চবংশীয় পরিবারে ব্যবহূত হতো। যা কেলিকো ম্যাডাম নামে সবার কাছে পরিচিত ছিল। ১৮০০ সালের শেষের দিকে যখন স্পিনিং মিল আবিষ্কৃত হলো, তখন ব্রিটিশরা ক্যাম্পেইন শুরু করল যাতে ভারতবর্ষে কাপড় তৈরি না হয়। তাদের মিলে বানানো কাপড় আমাদের পরতে উদ্বুদ্ধ করল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে আজকের অবস্থান হিসাব করলে আমাদের ব্যবসার বিকাশ দ্রুত হচ্ছে বলা যায়। এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন—সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীনের ব্যবসায়িক বিকাশ অনেক তাড়াতাড়ি হয়েছে। সময়ের সাথে পৃথিবী যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশ একটি জনবহুল দেশ। স্বাধীনতার ৪৪ বছরে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি আমাদের দেশীয় ফ্যাশন অনেক এগিয়েছে। বলা যায়, যুগোপযুগী হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে রয়েছে এখন হাজারো ফ্যাশন হাউস। একটা সময় ছিল, যখন আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে পড়ার আগ্রহ ছিল না। সেখানে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ফ্যাশন ডিজাইন পড়ছে এবং বিশ্বের নামীদামি ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। ইন্টারনেটের এই যুগে আমরা ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠেছি। আমরা এখন বুঝি ফ্যাশনের বিশ্ব ভাবনা, চাহিদাসহ অনেক কিছুই। আমাদের দেশীয় ফ্যাশনকে আরও উন্নত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে ইনস্টিটিউশনাল ট্রেনিং। যাতে সবাই নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই, ডিজাইন সহজে হয় না, এটা চর্চার বিষয়। সর্বোপরি কাজকে নিছক কাজ হিসেবে দেখলে হবে না, কাজকে ভালোবাসতে হবে। সেইসাথে সবচেয়ে জরুরি হলো—ফ্যাশনে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *