হঠাৎ দেখা

[ দাদুর সাথে নাতি নাতনিদের সম্পর্ক বড়ই মধুর। এই মধুর সম্পর্কের গূঢ় রহস্য লুকিয়ে থাকে ঠাট্টা মস্করাতে।
তাই দাদুর সাথে মাঝে মাঝে একটু আধটু মস্করা-টস্করা করলে তেমন দোষের কিছু হয় না।
তাহলে চলুন, মস্কারির ছলে দাদুর একটি ইস্টিকুলুকুলু কবিতা লম্বা দম নিয়ে পড়া শুরু করা যাক। ]

বাসের ভিতর হঠাৎ দেখা,
ভাবিনি সম্ভব হবে কোনোদিন।
আগে ওকে বারবার দেখেছি
সালোয়ার কামিজ পরা
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে টিয়া কালারের শাড়ি,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকন গৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, টিয়া রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চারদিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়

[ দাদুর সাথে নাতি নাতনিদের সম্পর্ক বড়ই মধুর। এই মধুর সম্পর্কের গূঢ় রহস্য লুকিয়ে থাকে ঠাট্টা মস্করাতে।
তাই দাদুর সাথে মাঝে মাঝে একটু আধটু মস্করা-টস্করা করলে তেমন দোষের কিছু হয় না।
তাহলে চলুন, মস্কারির ছলে দাদুর একটি ইস্টিকুলুকুলু কবিতা লম্বা দম নিয়ে পড়া শুরু করা যাক। ]

বাসের ভিতর হঠাৎ দেখা,
ভাবিনি সম্ভব হবে কোনোদিন।
আগে ওকে বারবার দেখেছি
সালোয়ার কামিজ পরা
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে টিয়া কালারের শাড়ি,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকন গৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, টিয়া রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চারদিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা;
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
হঠাৎ কান থেকে হেডফোন খুলে নিয়ে
আমাকে করলে নমস্কার।
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,
আলাপ করলেম শুরু —
কেমন আছ, কেমন চলছে সংসার
ইত্যাদি।
সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে
যেন কাছের দিনের ছোঁয়াচ পার হওয়া চাহনিতে।
দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো একটা জবাব,
কোনোটা বা দিলেই না।
বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায় —
কেন এসব কথা,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা।
ওর কোলে একটা ছোট্ট বাবু ছিল,
আমি ছিলেম অন্য সিটে।
এক সময়ে আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে।
মনে হল কম সাহস নয়;
বসলুম ওর পাশের সিটে।
গাড়ির ভিতরে হেল্পারের চেঁচামেচির আড়ালে
বললে মৃদুস্বরে,
“কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।
আমাকে নামতে হবে পরের স্টপেজেই;
হয়তো আবার হারিয়ে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই।
তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে,
শুনব তোমার মুখে।
সত্য করে বলবে তো?
আমি বললেম, “বলব ”।
বাইরের রঙচটা রোদের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
“আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি”।
একটুকু রইলেম চুপ করে;
তারপর বললেম,
“রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে”।
খটকা লাগল, কী জানি বানিয়ে বললেম না কি।
ও বললে, “থাক, এখন যাও ও দিকে”।
সে নেমে গেল পরের স্টপেজেই;
আমি চললেম বাস ভর্তি লোক সহ।

[ এই যা! ফোন নাম্বারটা নেয়া হল না! ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *