মরেও তুমি অমর আজ, বিপ্লবী শাহজাহান সিরাজ

ইষ্টিশন ব্লগে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাস নিয়ে কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলাম। পোস্টগুলোতে সহ ব্লগারদের মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করছে স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে লিখতে। তাই আজকেও খুনী এরশাদের শাসনামলের আর এক শহীদ সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। আগের পোস্টে (“১৪ ফেব্রুয়ারী : ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক দিবস, ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’র ছ্যাবলামো নয়”) উল্লেখ করেছিলাম, এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে মূলত ‘৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারীর আন্দোলন থেকেই। বস্তুতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের পর মধ্য ফেব্রুয়ারির এই আন্দোলনই ছিল বাংলাদেশের প্রথম গণ আন্দোলন। এই সফল ছাত্র আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমজীবী-পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে হত্যা করে শহীদ সেলিম ও শহীদ দেলোয়ারকে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। দীর্ঘ সাড়ে আট বছরের এই আন্দোলন সংগ্রামে সরকারের পেটোয়া বাহিনীর নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হতে হয় অসংখ্য ছাত্র, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতা কর্মীদের। যাদের মধ্যে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর পেশাজীবী সংগঠন বিএমএ’র নেতা শহীদ ডাঃ মিলনের আত্মত্যাগ বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় এরশাদ সরকারের।

দীর্ঘ আট বছরের সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের এক অগ্নিঝরা দিন ১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর। সেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এরশাদের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বিডিআর (বিজিবি) বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (শিরীন আখতার-মুশতাক হোসেন) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা শহীদ শাহজাহান সিরাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেল ষ্টেশন এলাকার হকার আব্দুল আজিজ। আহত হন অনেকে। এর পর থেকে দিনটি “ছাত্র শ্রমিক সংহতি দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ডেট লাইন ২২ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ : সেদিন পেশাজীবী সংগঠন সমূহের মোর্চা “শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (SKOP-স্কপ)” এর আহবানে দেশব্যাপী পালিত হচ্ছিল সাধারণ ধর্মঘট। ধর্মঘটে সমর্থন জানায় ছাত্র সংগঠনগুলো। অপর দিকে যে কোন মূল্যে ধর্মঘট প্রতিরোধে নামে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ সরকারের পেটোয়া বাহিনী। ধর্মঘটের সমর্থনে সকাল থেকে রাবি ক্যাম্পাসের প্রতিটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছিল ছাত্ররা।

রাবি ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ অন্যদের নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন রাবি রেল ষ্টেশন এলাকায়। সেসময় হটাৎ করেই বিডিআর ভর্তি একটি ট্রেন ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশনে এসে থামে। ট্রেন থেকে নেমে পেটোয়া বিডিআর বাহিনী এবং নিমেষেই ধর্মঘটের সমর্থনে পিকেটিংরত ছাত্রদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। কোন সভ্য দেশে অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে ঢুকে এমন নজিরবিহীন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে কি না আমার জানা নাই। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের নৃশংস তাণ্ডব ও গুলি বর্ষণের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা শহীদ শাহজাহান সিরাজ।

সেদিন বিডিআর বাহিনী শুধু রেল ষ্টেশন এলাকাতেই নয়, আশে পাশের হলগুলো লক্ষ্য করেও গুলি বর্ষণ করে। রেল ষ্টেশন চত্বরের হকার আব্দুল আজিজ ঘটনার সময় জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ষ্টেশন সংলগ্ন শহীদ সোহরাওয়ার্দি হলে। কিন্তু সেখানে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। হলের তৃতীয় তলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

সামরিক সরকারের পেটোয়া বিডিআর বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও বেপরোয়া গুলি বর্ষণে সেদিন আহত হন অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী। পায়ে বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অন্যতম নেতা রিজভী আহমেদ*। অনেক সময় যে রিজভী আহমেদের সাথে একটা ছড়ি দেখা যায় তা এই বুলেটবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার কারণেই। পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেলেও এখনও সেদিনের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন এই বিএনপি নেতা।

১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর যেহেতু “শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (SKOP-স্কপ)” এর ডাকা সাধারণ ধর্মঘট সফল করতে গিয়ে শহীদ হন শাহজাহান সিরাজ ও হকার আব্দুল আজিজ, তাই তখন থেকেই এই দিনটি “ছাত্র শ্রমিক সংহতি দিবস” হিসাবে পালন করে আসছে বিভিন্ন ছাত্র, রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠন।

শহীদ শাহজাহানের ক্যাম্পাসে শাহ্‌জাহান সিরাজ হল চাই : শহীদ শাহজাহান সিরাজ ও আব্দুল আজিজ হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮৫ সালের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোন ছাত্র হল নির্মিত হলে তার নামকরণ করা হবে “শহীদ শাহজাহান সিরাজ হল”। ৯০’র পট পরিবর্তনের পর জামাতের সমর্থনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ১৯৯১ ইং সালে ছাত্রদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে মাদার বক্স হল এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের মাঝের ফাঁকা জায়গায় একটি ছাত্র হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু তখন ছয় বছর আগে সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাহজাহান সিরাজের নামে হলের নামকরণের বিরোধিতা করে ছাত্রদল। নতুন হলটির নামকরণ শহীদ জিয়াউর রহমান হল করার দাবী জানায় তারা। এমনকি দীর্ঘ দিনের আন্দোলন সংগ্রামের সহযোদ্ধা পাঁচ দলীয় জোটভুক্ত কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিরোধিতা করা হয়। ক্যাম্পাসের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্র মৈত্রী মওলানা ভাসানীর নামে হলের নামকরণের দাবী জানাতে থাকে। সীমিত শক্তির আওয়ামী ছাত্রলীগ দাবী তোলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে হলের নামকরণের জন্য। এক মাত্র জাসদ ছাত্রলীগ ছাড়া কোন সংগঠনের পক্ষ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক শহীদ শাহজাহান সিরাজের নামে নতুন হলের নামকরণের জন্য উচ্চবাচ্য করেনি। তবে ছাত্র ইউনিয়ন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হলের নামকরণের কথা বলে। এমনি পরিস্থিতিতে জামাত পন্থি নব্য জাতীয়তাবাদী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯১ সালে নতুন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী বদরুদ্দোজা চৌধুরী এসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নতুন ছাত্র হলের। ভিত্তি প্রস্তরে হলের নাম হিসেবে লেখা ছিল “ত্রুয়োদশতম হল”। পরবর্তীতে যা শহীদ জিয়াউর রহমান হল নাম ধারণ করে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাহজাহান সিরাজের নামে হল না হলেও তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্যাম্পাসের একটি সড়কের নামকরণ করা হয় “শহীদ শাহজাহান সিরাজ সড়ক”। বিশ্ববিদ্যালয় রেল ষ্টেশন থেকে দক্ষিণে সোহরাওয়ার্দি হল ও মাদার বক্স হলের মধ্য দিয়ে হেলথ কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে বিনোদপুর গেট পর্যন্ত যাওয়া সড়কটিই “শহীদ শাহজাহান সিরাজ সড়ক”। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর একটা কাজ করে শহীদ শাহজাহানের স্মৃতি রক্ষার্থে। বিশ্ববিদ্যালয় রেল ষ্টেশন সংলগ্ন স্থানে “শহীদ শাহজাহান সিরাজ স্মৃতি স্তম্ভ” নির্মাণ। এছাড়াও রাবি’র শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালাতে রয়েছে শহীদ শাহজাহানের ব্যবহার করা কলম, রক্ত মাখা শার্ট, প্যান্ট, জুতো, স্যান্ডেলসহ আরো কিছু জিনিস। যদিও এই সবই করা হয়েছে ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের পূর্বেই।

দক্ষ ও মেধাবী এক ছাত্রনেতা শহীদ শাহজাহান সিরাজ : ১৯৫৭ সালের ০৬ জুন দিনাজপুর সদর উপজেলার গোদাগাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন শাহজাহান সিরাজ। এইচএসসি পাশ করে রাবিতে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুকালীন সময়ে তিনি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তিনি সম্পৃক্ত হন জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে। মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় খুব কম সময়ের মধ্যেই ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন শহীদ শাহজাহান সিরাজ। তাঁর এবং সম সাময়িক কয়েকজন ছাত্রনেতার সংগঠনের প্রতি কমিটমেন্ট, একাগ্রতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় জাসদ ছাত্রলীগ সেই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন হিসেবে সাংগঠনিক ভিত্তি দৃঢ় করে। সেই ভিত্তির উপর দাড়িয়েই নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জাসদ ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে প্রধান ছাত্র সংগঠন রূপে আবির্ভূত হয়। আশির দশকেই দুইটি ছাত্র হল সম্পূর্ণভাবে জাসদ ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ছিল। পরপর দুইবার (১৯৮৯-৯০) রাকসুর জিএস নির্বাচিত হন রুহুল কুদ্দুস বাবু**। সিনেট সদস্য, হল সংসদেও জাসদ ছাত্রলীগের আসন সংখ্যা ছিল সম্মান জনক। এক কথায় ছাত্র মৈত্রী এবং জাসদ ছাত্রলীগ ছিল সেসময়ের ক্যাম্পাসের প্রধান ছাত্র সংগঠন। কিন্তু নব্বইয়ের পট পরিবর্তনের পরে জামাতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলে ক্যাম্পাসে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে ছাত্র শিবির এবং পেশী শক্তি ও অস্ত্রবাজীর মাধ্যমে দখল করে নেয় পুরো ক্যাম্পাস।


(ছবি-“শহীদ শাহজাহান সিরাজ স্মৃতি স্তম্ভ”, রাবি ক্যাম্পাস)

যে শাহজাহান সিরাজ একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, বর্তমানে দেশে কিছুটা গণতন্ত্র বিরাজ করলেও প্রতিবছর শাহজাহান সিরাজের মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ছাড়া আর কোন কর্মসূচী পালন করতে দেখা যায় না। এক সময় রাবির প্রায় সকল সংগঠন দিবসটি পালন করতো কিন্তু এখন তা শুধু জাসদ ছাত্রলীগকেই করতে দেখা যায়। যদিও তাদের সাংগঠনিক অবস্থান এখন খুব একটা ভালো নয়।

এই সরকারের আমলেই আদালত সপ্তম সংশোধনী বাতিল করেছে। তাই এখন জেনারেল এরশাদের মার্শাল ল চলাকালীন সংঘটিত শহীদ শাহজাহান সিরাজ ও শহীদ আব্দুল আজিজ হত্যাকাণ্ডসহ প্রতিটা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোন সমস্যা নেই। শহীদ শাহজাহানের সংগঠন এবং অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো কি দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে বুকের তাজা রক্তে মতিহারের সবুজ চত্ত্বর রঞ্জিত করা মৃত্যুঞ্জয়ী বীর শহীদ শাহজাহান সিরাজ ও শহীদ আব্দুল আজিজ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবী জানাতে পারে না? পারে না ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এই দুই শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারকে বাধ্য করতে? অবশ্যই পারে। এক্ষেত্রে চাই বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহমর্মিতা , পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব, আস্থা, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর এবং কার্যকর ঐক্য গড়ে তোলা। সেটা করতে না পারলে “মরেও তুমি অমর আজ, বিপ্লবী শাহজাহান সিরাজ”, “মতিহারের মহাপ্রাণ শাহজাহান শাহজাহান” বা “জ্বলছে শিখা লেলিহান শাহজাহান শাহজাহান” শ্লোগানগুলোর মতো শহীদ শাহজাহানই একদিন বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে।

টিকা :
*রুহুল কবির আহমেদ রিজভী, পরবর্তীতে রাকসুর ভিপি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বর্তমানে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব।
** এ্যাড রুহুল কুদ্দুস বাবু, পরবর্তীতে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি।

কৃতজ্ঞতা : তানিয়া মোরশেদ লোপা আপা, প্রাক্তন ছাত্রী রাবি এবং করিম সিকদার ভাই, প্রাক্তন ছাত্র ও জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

ফটো ক্রেডিট : আবু মনসুর ভাই ও আহসান।

১৫ thoughts on “মরেও তুমি অমর আজ, বিপ্লবী শাহজাহান সিরাজ

  1. এরশাদের বিচার করবে কে ?

    এরশাদের বিচার করবে কে ?
    ” ডোন্ট ডিস্টার্ব এরশাদ ” … আইউব খান সম্পর্কে মাওলানা ভাসানির উক্তি মনে পড়ে গেল – ” ডোন্ট ডিস্টার্ব আইউব ” । বিএনপি তো ঘোষণা দিয়েছে তাকে রাষ্ট্রপতি বানাবে । তো রাষ্ট্রপতির বিচার করবেন কোন আইনে ? এদিকে আওয়ামীলীগ কোন টোপ দেয় সেটা দেখার বিষয় ।
    নীতি – আদর্শহীন রাজনীতি দেশটাকে ক্রমশ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । এই ঘোর অমানিশার কালে আপনার এমন লেখনী কিছুটা হলেও আমাদের সুপ্ত চেতনায় নাড়া দিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস । ভালো থাকবেন ।

  2. ধন্যবাদ ভাই কষ্ট করে এই
    ধন্যবাদ ভাই কষ্ট করে এই পোস্টটা দেয়ার জন্য। গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য সবারই জানা থাকা উচিৎ।

  3. সশস্ত্র বাহিনীর হাতে অস্ত্র
    সশস্ত্র বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হয় মানুষের জীবন রক্ষা করতে, জীবন নিতে নয়। স্বৈরাচারী এরশাদের পতনে যাঁরা নিজেদের বুকের রক্ত দিয়ে গেছেন তাঁদের প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা রইলো।

    এরশাদের বিচার করা আসলেই সম্ভব কিনা জানিনা। তবে, এই মূহুর্তে এরশাদের সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলক কম। কিন্তু বিএনপি’র সহযোগিতা সে পাচ্ছে, এবং পাবে। দ্বৈতচরিত্রের এই ভণ্ডের মত এত বড় ভন্ড বাংলার মানুষ আজ পর্যন্ত দেখেনি। তাকে বাংলাদেশের ‘মিনি আইউব খান’ বলা যায়। এরশাদের বিচার চাই।

    আর, আরেকটি ‘উত্তরীয় পোস্ট’ এর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। :বুখেআয়বাবুল:

      1. দলগত ভাবে আওয়ামীলীগের সাথে
        দলগত ভাবে আওয়ামীলীগের সাথে ভন্ডবাবার আঁতাত থাকলেও ভন্ডামির সুযোগে সে বিএনপি’র কাছ থেকেই সুবিধা নিচ্ছে। উপরে রাহাত ভাইয়ের মন্তব্যটা পড়ে দেখুন।

        1. ওহ! ঘটনা কি সত্য নাকি?
          বিএনপি

          ওহ! ঘটনা কি সত্য নাকি?
          বিএনপি দলটারে নিয়া এমন হতাশ লাগে মাঝে মাঝে যে কি বলবো! :মাথাঠুকি:

  4. এরশাদ এমন এক সামরিক
    এরশাদ এমন এক সামরিক রাজনীতিবিদ যে, তাকে প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের নষ্ট রাজনীতির একরকম প্রতিষ্টাতাই বলা যায় ।

  5. এরশাদ এখন এই দেশের রাজনীতিতে
    এরশাদ এখন এই দেশের রাজনীতিতে জায়েজ হয়ে গেছে। ওর বিচার কে করবে? এখন তো তাঁকে নিয়েই টানা টানি শুরু হবে দুই বড় দলের। ইভেন হয়েই গেছে। যে কোন মূল্যে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে আজ সব কিছুই জায়েজ। কেউ আর পতিত নয়। ধন্যবাদ উত্তরবাংলা ভাই। এই দিবস সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না। তথ্যগুলো জানা হলো। আপনার প্রচেষ্টা সফল হোক। ভালো থাকবেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. ধন্যবাদ সবাইকে। কে করবে
    ধন্যবাদ সবাইকে। কে করবে এরশাদের বিচার? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

    জাতীয় পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা ফকির ইলিয়াস, এক সময়ে ছিলেন এরশাদের তথ্য উপদেষ্টা। তিনি ৩০ আগস্টের দৈনিক বাংলাদেশে প্রতিদিন পত্রিকার খোলা কলামে “এরশাদ সকালে বিকালে ভিন্ন কথা বলেন কেন?” শিরোনামে তাঁর লেখায় এটার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই ভাবে —

    শামীম নামের একটি ছেলে আছে আমার বাসায়। বয়স ১০ বছর। পাশের গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছি ওকে। ছেলেটি খুব বুদ্ধিমান, সৎ, বিশ্বস্ত এবং কর্মঠ; কিন্তু নিরক্ষর। ডিসকভারির পর্দায় চোখ পড়তেই দেখলাম, টিকটিকি জাতীয় একটি প্রাণীকে পেছন থেকে ধাওয়া করছে একটা সবুজ রংয়ের সাপ। ধারা ভাষ্যকার সাপটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন, দেখতে খুব চিকন হলেও দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। মাথা চওড়া। অনেকক্ষণ যাবৎ টিকটিকি জাতীয় প্রাণীটিকে ধরার চেষ্টা করছে সাপটি। হঠাৎ দেখলাম, টিকটিকি নেই, কোথাও যেন উধাও হয়ে গেছে প্রাণীটি। অনেকক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজি করল সাপটি। যে বৃক্ষের কাণ্ড বেয়ে উপরের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিল টিকটিকি জাতীয় প্রাণীটি সে বৃক্ষের কাণ্ডের ওপর থমকে অনেকক্ষণ বসে রইল সাপটি। এরপর বৃক্ষের ওপর নিচে কয়েকবার ওঠা-নামা করে টিকটিকির সন্ধান পেল না শিকারি ক্ষুধার্ত সাপ। নিরাশ হয়ে গাছ থেকে নিচে নেমে যখন অনেক দূর চলে গেল সাপটি, তখন বৃক্ষের কাণ্ডের ওপর স্বরূপে আত্দপ্রকাশ করল টিকটিকি। ধারাভাষ্যকার বললেন, গাছের ছালের অবিকল রূপ ধারণ করে কাণ্ডের গায়ে লেপটে শুয়ে ছিল টিকটিকি। ফলে শিকারকে খুঁজে পেল না শিকারি। গাছ থেকে যখন নিচে নেমে গেল টিকটিকি তখন তাকে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে পিছু ধাওয়া করছে অপর একটি সরীসৃপ জাতীয় হিংস্র প্রাণী। টিকটিকি অন্য একটি গাছের পাতার আড়ালে গিয়ে হয়ে গেল অদৃশ্য। অনেক খোঁজাখুঁজি করল হিংস্র প্রাণীটি। সেও নিরাশ হয়ে ফিরে গেল শেষ পর্যন্ত। পাতার আড়াল থেকে আপন রূপে বেরিয়ে এলো টিকটিকি। ধারাভাষ্যে বলা হলো, সবুজ রং ধারণ করে পাতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল টিকটিকি। ভাষ্যকার আরও বললেন, টিকটিকি জাতীয় প্রাণীটি বিপদে পড়লে আত্দরক্ষার জন্য সে রং বদলায়। ক্ষণে ক্ষণে রং বদল করা তার আত্দরক্ষার বড় কৌশল।

    আর কি বলার আছে? তবে আমার প্রশ্ন এরশাদের কিসের চাপ? কিসের ভয়ে তাঁকে আত্মরক্ষা করার জন্য ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলাতে হবে? জানি প্রশ্নটা কঠিন। লেখাটার লিংক – http://www.bd-pratidin.com/2013/08/30/13448

  7. এরশাদের পূর্ব অবস্থান আর
    এরশাদের পূর্ব অবস্থান আর বর্তমান অবস্থানের তুলনা করার জন্য এই দুইটা ছবির চাইতে ভালো কিছু আর হতে পারে না। একটা তো কামরুল হাসানের সেই কালজয়ী স্কেচ। অন্যটা যে কার আমি জানিনা।

    এরশাদের রাজনৈতিক অবস্থান আগে –

    এরশাদের অবস্থান বর্তমানে –

  8. বর্তমানে বি.এন.পি- আওয়ামীলীগ
    বর্তমানে বি.এন.পি- আওয়ামীলীগ যেভাবে দেশ উদ্ধারের কাজে নেমেছে, এরশাদ কাকুকে তো মনে হচ্ছে এই দুই খালাম্মার কাছে শিশু। পরের স্লটে আছে জয়-তারেক পরিষদ। এনাদের বিক্রমের কাছে এরশাদ তো ভেসেই যাবে মনে হচ্ছে।

    তথ্যবহুল পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *