চেতনাবোধ অর্থাৎ একটি শক্তিশালী সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন

বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য কতগুলো অর্থনৈতিক টার্গেট ঘোষণা করা হয়েছে। তা হলো আমরা ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হবো। ধনী দেশ হওয়ার হিসাব মূলত বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু আয়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। আমাদের মাথাপিছু আয় যদি চার হাজার বা সাড়ে চার হাজার ডলারে উন্নীত হয়, তাহলে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকবো না, অর্থাৎ উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হবো। মানবিক উন্নয়নের সামাজিক সূচক আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিল। সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, ধর্মীয় হানাহানি এবং বিভেদ থাকবে না। পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, ইরাকসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিয়া এবং সুন্নিদের মধ্যে হানাহানি, সহিংসতা আছে। বাংলাদেশে সুন্নিদের সংখ্যা বেশি এবং শিয়াদের সংখ্যা কম। তারপরও কখনো শিয়া-সুন্নিদের মধ্যে হানাহানি দেখা যায়নি। এদেশে তাজিয়া মিছিল এবং শিয়া মসজিদে বোমা নিক্ষেপ এবং গুলি করে মুয়াজ্জিনকে হত্যা করা অতি সাম্প্রদায়িক বিষয়। অর্থাত্ একদিকে আমরা ডলারের হিসাবে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হলাম, অন্যদিকে ধর্মীয় মৌলবাদী চিন্তা-চেতনা সম্প্রসারিত হলো-তাহলে আমাদের অবস্থাও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার মতোই হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে দূরে সরে গিয়ে অসহিষ্ণু জাতিতে পরিণত হয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হলে আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না। এজন্য আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মানব সম্পদের ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন করতে হবে। মানুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে এমনভাবে শিক্ষিত করে তুলতে হবে যাতে তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। এমনটিই হলো প্রকৃত মানবসম্পদ উন্নয়ন। আর এজন্য সরকার একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখন শুধু আমাদের উচিৎ হবে সরকারের উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি সকলে মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। তাহলেই আমরা শিগ্রই একটি উন্নত জাতিতে পরিনত হতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *