বাঙালী জাতির বড় প্রাপ্তি

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় আর্থ-সামাজিক অনেক বিবেচনাতেই এগিয়ে আছে আমাদের বাংলাদেশ। স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের প্রথম স্বপ্ন, পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মালিক হওয়া, তা সার্থক হয়েছে। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে মুক্তিযুদ্ধের বড় প্রাপ্তি কী? তাহলে বলবো ‘আমরা পাকিস্তান নামক একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের অংশ নই’- এটিই বড় পাওয়া। পাকিস্তানের অর্ধেক অংশ এখন তালেবানদের দখলে। কেবল তাই নয়, আমেরিকানদের অন্যতম ঘাঁটি পাকিস্তান, সেখানে আকাশ থেকে অনবরত বোমা ও ড্রোন হামলা হচ্ছে এবং জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। এসব দিক থেকে পরিত্রাণ পাওয়া তথা পাকিস্তান নামক দুষ্ট-ভ্রান্ত রাষ্ট্রের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া- এটিই স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপরও বলা হয়, যে সকল ক্ষেত্রে আমাদের আরো উন্নতি করা এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল-আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। কিন্তু এর পিছনেও কারণ রয়েছে। ১৯৭১ সালে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। যে চেতনাগুলো ’৭২-এর সংবিধানের স্তম্ভ হিসেবে সন্নিবেশিত। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের যাত্রার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *