মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রঃ আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি


শিল্প সংস্কৃতির মাধ্যম সমুহের মধ্যে চলচ্চিত্রের রয়েছে আলাদা আবেদন।সেলুলয়েডের ফিতে প্রতিনিয়ত আমাদের যাপিত জীবনের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে যে প্রাঞ্জল ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে পারে অন্য কোন মাধ্যমে তা সম্ভবপর নয়।কেননা দর্শকসংখ্যাধিক্যের কারণে চলচ্চিত্র হয়ে উঠে মতবাদ প্রকাশের সর্বাধিক শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে সামান্য আলোচনার প্রচেষ্টা করছি সীমিত পরিসরে।


শিল্প সংস্কৃতির মাধ্যম সমুহের মধ্যে চলচ্চিত্রের রয়েছে আলাদা আবেদন।সেলুলয়েডের ফিতে প্রতিনিয়ত আমাদের যাপিত জীবনের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে যে প্রাঞ্জল ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে পারে অন্য কোন মাধ্যমে তা সম্ভবপর নয়।কেননা দর্শকসংখ্যাধিক্যের কারণে চলচ্চিত্র হয়ে উঠে মতবাদ প্রকাশের সর্বাধিক শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে সামান্য আলোচনার প্রচেষ্টা করছি সীমিত পরিসরে।
১৯৭১ সালে সংগঠিত হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।পাকিস্তানী শাসন শোষণের বেড়াজাল ছিন্ন করে মুক্তিপাগল বীর বাঙালী ছিনিয়ে আনে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে।অভ্যুদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।বাঙালী জাতির ইতিহাসের এই অসাধারণ অধ্যায় নিয়ে নির্মিত হয় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র।যেগুলোকে মোটের উপর মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র বলে পরিচয় দেয়া হয়।কালের বিচারে আমরা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করতে পারি।

১। স্বাধীনতা পুর্বকালীন চলচ্চিত্র
২।যুদ্ধকালীন চলচ্চিত্র
৩।স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন চলচ্চিত্র

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রসমূহের একটি তালিকা নিম্ন দেয়া হলোঃ

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রামাণ্যচিত্র/ চলচ্চিত্র সমূহঃ

> Stop Genocide (জহির রায়হান)
> Liberation Fighters (আলমগীর কবীর )
> A State You Born (জহির রায়হান)
> Innocent Millions (Babul Chowdhury)

বহিঃর্বিশ্বকে বাংলাদেশে যুদ্ধকালীন বর্বরতার খবর জানাতে উক্ত প্রামাণ্যচিত্রগুলো ছাড়াও আরো কিছু ডকুমেন্টারী বা প্রামাণ্যচিত্র তৈরী হয় তখনকার সময়ে বিভিন্ন বিদেশী বন্ধুদের দ্বারা। সেগুল হলোঃ

> Joy Bangladesh (I S Zohor,India)
> Joy Bangla (Uma Prashad Moitra,India)
> Nine Months to Freedom (Shukdeb,India)
>”দুর্বার গতি পদ্মা”(ঋত্বিক কুমার ঘটক,ভারত)
>”দুরন্ত পদ্মা”(দূর্গা প্রসাদ,ভারত)
> রিফিউজি ‘৭১ (বিনয় রায়, ভারত)
> Loot and last(H S Advani, India)
> The Country Made for Disaster (Robart Rozers,USA)
> Dateline Bangladesh(Brane Tag,UK)
> War Crime Files(Geeta Saygal & David Bargman)
> Major Khaled’s War (Tania Kaul)
> Joy Bangla (Nagisa Osimar,Japan)
> Rahman: The Father of Nation (Nagisa Osimar,Japan)
> Legacy of Blood (Nagisa Osimar,Japan)
> How it was One(BBC)
> The World in Action (Granada TV)
> The Concert for Bangladesh (USA)
> Genocide Factor (Media Entertainment)
> War Babies (Makumba International)

প্রবাসী বাংলাদেশীদের নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র সমুহঃ
> Tears of Fires (Sentu Ray,Bangladesh)
> “পলাশী থেকে বাংলাদেশ”(আব্দুল গাফফার চৌধুরী)

১৯৭০-এর দশকে নির্মিত চলচিত্র সমূহঃ
> জীবন থেকে নেওয়া (১৯৭০) — জহির রায়হান
> ওরা ১১ জন (১৯৭২) — চাষী নজরুল ইসলাম
> বাঘা বাঙ্গালী (১৯৭২) — আনন্দ
> জয় বাংলা (১৯৭২) — ফকরুল আলম
> অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) — সুভাষ দত্ত
> রক্তাক্ত বাঙালী (১৯৭২)- মমতাজ আলী
> ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩) — আলমগীর কবির
> আমার জন্মভূমি (১৯৭৩) — আলমগীর কুমকুম
> আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩) — খান আতাউর রহমান
> সংগ্রাম (১৯৭৪) — চাষী নজরুল ইসলাম
> আলোর মিছিল (১৯৭৪) — নারয়ণ ঘোষ মিতা
> বাংলার ২৪ বছর (১৯৭৪) — মোহাম্মদ আলী
> কার হাসি কে হাসে (১৯৭৪) — আনন্দ
> মেঘের অনেক রঙ (১৯৭৬) — হারুন-উর-রশিদ
১৯৮০-এর দশকে নির্মিত চলচ্চিত্র সমূহঃ
> বাঁধন হারা (১৯৮১) — এ. জে. মিন্টু
> কলমীলতা (১৯৮১) — শহীদুল হক খান
> চিৎকার (১৯৮১) — মতিন রহমান
> আগামী*(১৯৮৪)- মোরশেদুল ইসলাম
> হুলিয়া (১৯৮৫)- তানভীর মোকাম্মেল
> চাক্কি (১৯৮৫)- এনায়েত করিম বাবুল
> প্রত্যাবর্তন (১৯৮৬)- মোস্তফা কামাল
> সূচনা (১৯৮৮)- মোরশেদুল ইসলাম
> ছাড়পত্র (১৯৮৮)- জামিউল রহমান লেমন
> বখাটে (১৯৮৯)-হাবিবুল ইসলাম হাবিব
> দুরন্ত(১৯৮৯)- খান আখতার হোসেন
> পতাকা(১৯৮৯)-এনায়েত করিম বাবুল

১৯৯০-এর দশকে নির্মিত চলচ্চিত্র সমূহঃ
> একজন মুক্তিযোদ্ধা (১৯৯০)-দিলদার হোসেন
> কালোচিল’৭১(১৯৯০)-সাদুল্লা আল মাসুদ
> ধূসরযাত্রা (১৯৯২)-আবু সায়ীদ
> আমরা তোমাদের ভুলবোনা (১৯৯৩) — হারুন-উর-রশিদ
> একাত্তরের যীশু (১৯৯৩) — নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু
> আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) — হুমায়ুন আহমেদ
> সিপাহী (১৯৯৫)- কাজী হায়াৎ
> নদীর নাম মধুমতি (১৯৯৬) — তানভীর মোকাম্মেল
> হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড (১৯৯৭) — চাষী নজরুল ইসলাম
> এখনও অনেক রাত (১৯৯৭)- খান আতাউর রহমান
> গৌরব (১৯৯৮)- হারুনর রশীদ
> ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ (১৯৯৮)- বাদল রহমান
> ‘৭১ এর(১৯৯৮)- নাজির উদ্দীন রিজভী

২০০০-এর দশকে নির্মিত চলচ্চিত্র সমূহঃ
> শোভনের একাত্তর(২০০০)-দেবাশীস সরকার
> শরৎ’৭১(২০০০)- মোরশেদুল ইসলাম
> মুক্তিযুদ্ধ ও জীবন (২০০০)-ছটকু আহমদ
> ইতিহাসের কন্যা (২০০০)-শামীম আকতার
> একাত্তরের মিছিল (২০০১)- কবরী সরওয়ার
> একাত্তরের রং-পেন্সিল (২০০১)- মান্নান হীরা
> একজন মুক্তিযোদ্ধা (২০০১)-বি এম সালাউদ্দীন
> শিলালিপি (২০০২)-শামিম আকতার
> মাটির ময়না (২০০২) — তারেক মাসুদ
> হৃদয় গাঁথা* (২০০২)- রহমান মুস্তাফিজ
> জয়যাত্রা (২০০৪) — তৌকির আহমেদ
> শ্যামল ছায়া (২০০৪) — হুমায়ুন আহমেদ
> মেঘের পরে মেঘ (২০০৪)- চাষী নজরুল ইসলাম
> যন্ত্রণার জঠরে সূর্যদয়* (২০০৪)- সৈয়দ রেজাউর রহমান
> খেলাঘর (২০০৬) — মোরশেদুল ইসলাম
> ধ্রুবতারা (২০০৬)- চাষী নজরুল ইসলাম
> অস্তিত্বে আমার বাংলাদেশ (২০০৭)- খিজির হায়াত খান
> স্পার্টাকাস ‘৭১ (২০০৭)- মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী

২০১০-এর দশকে নির্মিত চলচ্চিত্র সমূহঃ
> নরসুন্দর* (২০১০)- তারেক মাসুদ
> গহীনে শব্দ (২০১০)- খালিদ মাহমুদ মিঠু
> নিঝুম অরণ্যে (২০১০)- মুশফিকুর রহমান গুলজার
> রাবেয়া (২০১০)- তানভীর মোকাম্মেল
> আমার বন্ধু রাশেদ(২০১১) – মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত
> গেরিলা (২০১১) – নাসিরুদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত
> পিতা(২০১২)-মাসুদ আখন্দ পরিচালিত
> আত্মদান (২০১২)-শাহজাহান চৌধুরী
> কারিগর (২০১২)-আনোয়ার শাহাদত
> খন্ডখন্ড একাত্তর(২০১২)- বদরুল আনাম সৌদ

একাত্তরের পরে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রঃ
> ডায়েরিজ অব বাংলাদেশ(১৯৭২)-আলমগীর কবীর
> দেশে আগমণ(১৯৭২)-চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর
> পোগ্রাম ইন বাংলাদেশ(১৯৭৩)-আলমগীর কবীর
> লংমার্চ টুওয়ার্ডস গোল্ডেন বাংলা(১৯৭৪)-আলমগীর কবীর
> মুক্তিযোদ্ধা(১৯৭৬)-চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর
> বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ(১৯৮৩)-সৈয়দ শামসুল হক
> বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর(১৯৮৩)-সৈয়দ শামসুল হক
> বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান(১৯৮৪)-সৈয়দ শামসুল হক
> জেনারেল এম এ জি ওসমানী(১৯৮৪)-চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর
> বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান(১৯৮৪)-সৈয়দ শামসুল হক
> বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন(১৯৮৪)-সৈয়দ শামসুল হক
> বীরশ্রেষ্ঠ মুনশী আবদুর রউফ(১৯৮৫)-সৈয়দ শামসুল হক
> বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল(১৯৮৫)-সৈয়দ শামসুল হক
> এক সাগর রক্তের বিনিময়ে(১৯৮৫)- আলমগীর কবির
> মুক্তির গান(১৯৯৫)-তারেক মাসুদ ও ক্যাথেরিন মাসুদ
> চারুকলায় মুক্তিযুদ্ধ(১৯৯৭)-মানজারে হাসীন
> মুক্তির কথা(১৯৯৮)-তারেক মাসুদ
> কামালপুরের যুদ্ধ(২০০১)-চাষী নজরুল ইসলাম
> দেশ জাতি জিয়াউর রহমান(২০০১)-চাষী নজরুল ইসলাম
> মৃত্যূঞ্জয়ী(২০০১)-সাজ্জাদ জহির
> প্রতিকূলের যাত্রী(২০০১)-কাওসার চৌধুরী
> সেই রাতের কথা বলতে এসেছি(২০০২)-কাওসার চৌধুরী
> স্বাধীনতা(২০০২)-ইয়াসমিন কবির
> ফিনিক্স(২০০৩)-নিশাত জাহান রানা
> প্রিয়ভাষিণী(২০০৩)-মাহবুব আলম
> মুক্তিযোদ্ধা আমরাও(২০০৩)-সৈয়দ তারেক
> তখন(২০০৪)-এনামুল করিম নির্ঝর
> তাজউদ্দীন: নিসঙ্গ সারথি(২০০৭)-তানভীর মোকাম্মেল
> আমি স্বাধীনতা এনেছি(২০০৭)-সাগর লোহানী
> অনেক কথার একটি কথা(২০০৭)-আনন্দ
> অন্য মুক্তিযোদ্ধা(২০০৭)-লুৎফুন্নাহার মৌসুমী
> কালরাত্রি (২০০৭)-অশোক কর্মকার ও মানজারে হাসীন
> ১৯৭১ (২০১১)-তানভীর মোকাম্মেল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো হলঃ
> জীবনঢুলী – তানভীর মোকাম্মেল
> সংগ্রাম- মনসুর আলী পরিচালিত
> ৭১এর গেরিলা-মিজানুর রহমান শামীম
> The Bustard Child (কলকাতা)
>মেঘমল্লার _অঞ্জন
>অনিল বাগচির একদিন- মোরশেদুল ইসলাম

এর মধ্যে কয়েকটি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়।


#গেরিলাঃ গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।[২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। চিত্রনাট্য করেছেন যৌথভাবে নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান। এই চলচ্চিত্রটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত। সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। ‘গেরিলা’ ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সহস্রাধিক শিল্পী। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, ফেরদৌস, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা, গাজী রাকায়েত প্রমুখ। ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবেও দারুণ সফল হয়েছে। মুক্তির ১০০ দিন পরেও ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স ও বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে প্রায় প্রতিটি প্রদর্শনীতেই দর্শক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। চলচ্চিত্রটি ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণ করে এবং ১৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব ২০১১-এ নেটপ্যাক পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখে। ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রের জন্য নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালক হিসেবে ও জয়া আহসানকে প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়। গেরিলা চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিক ভাবেও দারুন সফল হয়েছে।মুক্তির ১০০ দিন পরেও ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স ও বলাকা সিনেওয়ার্ল্ড-এ প্রায় প্রতিটি প্রদর্শনীতেই দর্শক উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।চলচ্চিত্রটি ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অংশগ্রহন করে এবং ১৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১১-এ নেটপ্যাক পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে ভূমিকা রাখে।

#ওরা ১১ জনঃ ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র । ১৯৭১ এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত, স্বাধীনতায়োত্তর প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ডাক দেন, এই ছবির গল্পে সেই ঐতিহাসিক ভাষনের কিছু অংশ দেখানো হয়েছে। ।বিজয়ীঃ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৭২)মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম এই চলচ্চিত্রটি। মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি পটভূমি ও অ্যাকশন নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাঙালির মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। এতে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১৯৭২ সালের ১৩ আগস্ট মুক্তি পায় ‘ওরা ১১ জন’। চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন চরিত্রে অভিনয় করেন ১১ মুক্তিযোদ্ধা। যারা পেশাদার শিল্পী ছিলেন না। এরা হলেন_ খসরু, মঞ্জু, হেলাল, ওলীন, আবু, আতা, নান্টু, বেবী, আলতাফ, মুরাদ ও ফিরোজ। ১১ দফার ছাত্র আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে মাথায় রেখে প্রতীকী অর্থে এ চলচ্চিত্রের নামকরণ করা হয় ‘ওরা ১১ জন’। চলচ্চিত্রের শুরুতে টাইটেলে ছয়টি কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়। নির্মাতার মতে, এ ছয়টি শব্দ হচ্ছে ছয়দফা দাবির প্রতীকী শব্দ। এই চলচ্চিত্রে যে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছিল সবই ছিল সত্যিকারের। ‘ওরা ১১ জন’ মস্কো, ইংল্যান্ড, জামশেদপুর, রাচী, কলকাতা ও বোম্বেতে প্রদর্শিত হয়েছিল। বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকাপুর চলচ্চিত্রটি দেখে এ চলচ্চিত্রের নির্মাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘হাউ- ইট পসিবল’, সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন জীবন্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ কীভাবে সম্ভব। তিনি বলেন, বলিউডে আমরা এ ধরনের বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সাহস পাইনি’। এ চলচ্চিত্রের প্রযোজক মাসুদ পারভেজ (অভিনেতা সোহেল রানা) বলেন, ‘এটি আসলে শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিলও বটে।

#অরূণোদয়ের অগ্নিসাক্ষীঃ এটি ১৯৭২-এর একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত। ছবিটির তিনটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, উজ্জল ও আনোয়ার হোসেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে বিষয়বস্তুগত দিক দিয়ে এ চলচ্চিত্রটিকে একেবারেই অন্যরকম বলে মন্তব্য করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা।১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি। তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে বিষয়বস্তুগত দিক দিয়ে এ চলচ্চিত্রটিকে একেবারেই অন্যরকম বলে মন্তব্য করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। এ চলচ্চিত্রের ঘটনা মূলত এক চিত্র অভিনেতার মুক্তিযুদ্ধকালের অভিজ্ঞতাকে ঘিরেই।যিনি যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেতে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যান এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিবেকের দংশনে দংশিত হতে থাকেন। এ চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের হাতে নারীর সম্ভ্রমহানির ঘটনাগুলো মর্মস্পর্শীভাবে উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে। সুভাষ দত্তের পাণ্ডুলিপি ও নিজের পরিচালনায় এ চলচ্চিত্রে ববিতা বীরাঙ্গনার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন।কুসুমপুর গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাকান্ড, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ এবং প্রতিবাদে বাঙালিদের মুক্তি সংগ্রামকে কেন্দ্র করে এই চলচ্চিত্র নির্মিত। যুদ্ধ শিশুর মত বিষয় বেশ গুরুত্বের সাথে ফুটে উঠেছে এই চলচ্চিত্রে ছবিটির শ্লোগান ছিল-‘লাঞ্চিত নারীত্বের মর্যাদা দাও, নিষ্পাপ সন্তানদের বরণ কর……’

#আগুনের পরশমণিঃ এটি ১৯৯৪-এর একটি বাংলাদেশী স্বাধীনতা যুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র। এটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, এটি তাঁর নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন এবং এটিই তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া অনুদানের ছবি ‘আগুনের পরশমণি’ আটটি শাখায় জিতে নেয় জাতীয় পুরস্কার।এতে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর ডলি জহুর সহ আরো অনেকে।১৯৯৪ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা গল্পে নির্মাণ করলেন ‘আগুনের পরশমণি’। যুদ্ধকালীন একটি পরিবারের দুঃখ, ভয় ও প্রাপ্তির স্বপ্নঘেরা গল্পে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল চলচ্চিত্রটি। ঢাকায় বসবাস করা নিতান্ত সাধারণ একটি পরিবার। পরিবারের কর্তা পাকবাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকলেও তার স্ত্রী ও কন্যা মুক্তিযোদ্ধা জেনেও এক যুবককে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। সহযোগিতা করে। এক সময় সেই যুবকের প্রতি কন্যাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু এবং স্বাধীনতার সূর্য উদয়ের মধ্য দিয়ে গল্পের সমাপ্তি ঘটে। এর প্রধান অভিনয়শিল্পীরা হলেন_ আবুল হায়াত, ডলি জহুর, বিপাশা হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। ‘আগুনের পরশমণি’ ১৯৯৪ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। বিপাশা হায়াতও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান। এ ছাড়া বিদেশেও চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়।

#আবার তোরা মানুষ হঃ ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র। ১৯৭১ এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।এই চলচ্চিত্রটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কিছুটা নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানোর কারণে অনেকের নিকট থেকেই সমালোচনার সম্মুক্ষিণ হয়।ছবিটি নির্মাণ করেন খান আতাউর রহমান।অভিনয়ে ছিলেন ফারুক ,রাইসুল ইসলাম আসাদ ,খান আতাউর রহমান,ববিতা প্রমুখ।

#আলোর মিছিলঃ এটি ১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশী মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা ছবিটি পরিচালনা করেছেন। ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়করেছেন ফারুক, ববিতা, রাজ্জাক, সুজাতা। অভিনেতা ফারুক এরএটি প্রথম ছবি। এবং এই ছবিতে অভিনয় করেই ববিতা জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেন।চমতকার নির্মাণশৈলীর কারণে ছবিটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।
#আমার বন্ধু রাশেদঃ ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত একই নামের শিশুতোষ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে মমন চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ে করেছেন চৌধুরী জাওয়াতা আফনান, অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইনামুল হক, হুমায়রা হিমু, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আরমান পারভেজ মুরাদ, এছাড়াও শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন রায়ান ইবতেশাম চৌধুরী, কাজী রায়হান রাব্বি, লিখন রাহি, ফাইয়াজ বিন জিয়া, রাফায়েত জিন্নাত কাওসার আবেদীন।]১৯৭১ সালে মফস্বল শহরের কয়েকজন কিশোর কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তারই কিছু চিত্র ফুঁটে উঠেছে গল্পে।একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো যখন ছোট ছোট ছেলেরা বুঝতে পারছে না, রাজনীতিসচেতন রাশেদ তখন ঠিক তার মতো করে সেটা সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছে। একসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দেশটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একদিন এই ছোট শহরেও তারা এসে হাজির হয়। ভয়ংকর এক ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়ে থাকে রাশেদ। স্বাধীনতাসংগ্রামের শুরুতে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে সে। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু। সম্মুখযুদ্ধে বন্দী হয়ে যায় তাদের পরিচিত একজন মুক্তিযোদ্ধা। একদিন রাশেদ ও তার বন্ধুরা তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে। কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে রাশেদ ও তার বন্ধুদের একসময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। রাশেদ আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সব বন্ধু যখন আবার একত্র হয় ছোট্ট শহরটিতে, তারা আবিষ্কার করে রাশেদ নামের বিচিত্র ছেলেটি আর নেই। কিন্তু রাশেদের স্মৃতি তার বন্ধুদের হূদয়ে বেঁচে থাকে চিরদিন।এটি মূলতঃ একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র।

#একাত্তরের যীশুঃ এটি১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র। লেখক শাহরিয়ার কবির-এর লেখা একাত্তরের যীশু (উপন্যাস) অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করেছেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ। ছবির প্রধান প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন ফরীদি, জহির উদ্দিন পিয়াল, আবুল খায়ের, আনওয়ার ফারুক, কামাল বায়েজীদ ও শহীদুজ্জামান সেলিম। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইব্রাহিম বিদ্যুৎ, শতদল বড়ুয়া বিলু, সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল, ফারুক আহমেদ, ইউসুফ খসরু, দেলোয়ার হোসেনসহ আরও এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের চিত্রের পাশাপাশি বাঙালি জাতির ওপর পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র মর্মস্পর্শী রূপে ফুটে উঠেছে। পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার পথ বেছে নেয়। তাই গল্পকার ক্রুশবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের যীশুর সঙ্গে তুলনা করে চলচ্চিত্রের নামকরণ করেছেন ‘৭১-এর যীশু’। এর মূল দুটি ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুমায়ুন ফরীদি। জাতীয় ও বাচসাসসহ দেশে-বিদেশে পুরস্কার এবং প্রশংসা অর্জন করে এ চলচ্চিত্রটি।
#খেলাঘর ঃএটি ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র। খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্রটি, এটি মূলত মাহমুদুল হকের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাহিনীর খেলাঘর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চিরন্তন প্রেমের এই ছবি। ছবিতে অভিনয় করেছেন রিয়াজ, সোহানা সাবা, আরমান পারভেজ মুরাদ, গাজী রাকায়েত, আবুল হায়াত।যুদ্ধ আর ভালবাসার চিরন্তন কাহিনী নিয়েই তাই রচিত হয় “খেলাঘর” ।বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচালক – মোরশেদুল ইসলাম (সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব -২০১২।
#জয়যাত্রাঃ ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।বাংলাদেশের বিখ্যাত সম্পাদক, কাহিনীকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন এর কাহিনী নিয়ে সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ। এটি তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ভিত্তিক এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিঃ। ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আজিজুল হাকিম, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত, চাঁদনী।ছবিটি পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ পরিচালক তৌকির আহমেদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক ২০০৪ পুরস্কার লাভ করেন। জয়যাত্রা – একদল মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মৃত্যু ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প।জয়যাত্রা ২০০৪ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ সর্বমোট সাতটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।(বিজরী শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রঃ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিঃ ২০০৪,বিজরী শ্রেষ্ঠ পরিচালকঃ তৌকির আহমেদ ২০০৪,বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকঃ সুজেয় শ্যাম ২০০৪,বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীঃ মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী ২০০৪,বিজয়ী শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারঃ আমজাদ হোসেন ২০০৪,বিজয়ী শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারঃ তৌকির আহমেদ ২০০৪,বিজয়ী শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহকঃ (রঙ্গিন), রফিকুল বারী চৌধুরী (মরণোত্তর) ২০০৪।{মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার}জয়যাত্রা ২০০৪ সালে একটি বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করে।বিজরী শ্রেষ্ঠ পরিচালকঃ তৌকির আহমেদ ২০০৪,বিজরী বিশেষ উল্লেখ্য পুরস্কারঃ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০০৪

# শ্যামোল ছায়া ঃনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন ‘শ্যামল ছায়া’। মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণীর আত্দত্যাগের ঘটনাসহ যুদ্ধকালীন নানাদিক উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রটি অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এর প্রধান অভিনয়শিল্পীরা হলেন_ হুমায়ুন ফরীদি, চ্যালেঞ্জার, রিয়াজ, শাওন, ডা. এজাজ প্রমুখ।যুদ্ধকালীন সময়ে জীবন বাচাতে মুক্তাঞ্চলের দিকে পলায়নপর এক ইঞ্জিন নৌকার যাত্রীদের যাথাপথের কাহিনী এই ছবির উপজীব্য বিষয়।এছাড়া হুমায়ুন আহমেদের স্বভাবসুলভ ব্যাপক হাস্যরস এই ছবিতেও ছিলো উপস্থিত।যা এর আগে কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি।ছবিটি আশানুরূপ গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

#মুক্তির গানঃমুক্তিযুদ্ধকালীন আমেরিকান সাংবাদিক লিয়ার লেভিন সেখানকার এক টেলিভিশন কোম্পানির জন্য মুক্তিযুদ্ধে শিল্পীরা কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এর ওপর ছবি তোলেন। স্বাধীনতার ২২ বছর পর সেই ছবি উদ্ধার এবং বাছাই করে তরুণ চলচ্চিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ একটি চমৎকার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রের শিরোনাম দেন ‘মুক্তির গান’। এটি ১৯৯৫ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।ছবিটি দেশে বিদেশে বোদ্ধা মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংশিত হয়।মুক্তিযুদ্ধের একটি প্রামাণ্য দলিল এটি।

#কলমীলতাঃ সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার শহীদুল হক খান সরকারি অনুদানে ১৯৮১ সালে নির্মাণ করেন ‘কলমিলতা’। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাকসেনার বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প উঠে এসেছে। বাচসাসসহ নানা সংগঠনের পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করে চলচ্চিত্রটি। এতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন সোহেল রানা ও সুচরিতা।তবে অতিরিক্ত সেনাসংশ্লিষ্টতার জন্য ছবিটি কিছুটা বিতর্কিত ও হয়।
#মেঘের অনেক রঙঃ ১৯৭৯ সালে হারুনুর রশীদ নির্মাণ করেন ‘মেঘের অনেক রং’। এ চলচ্চিত্রের পুরো কাহিনী উঠে এসেছে একটি শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে। সদ্যবোধসম্পন্ন যে ছেলেটি তার মাকে খুঁজে বেড়ায়। এরই ফাঁকে চলে আসে যুদ্ধের কথা। যুদ্ধে তার মা পাক বাহিনীর লাঞ্ছনার শিকার হয়ে আত্দহত্যার পথ বেছে নেয়। এতে অভিনয় করেন রওশন আরা, ওমর এলাহী মাথিন ও মাস্টার আদনান।শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে এটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। একই সঙ্গে বাচসাস ও আন্তর্জাতিক নানা স্বীকৃতিতে ভূষিত হয় এবং কাব্যিকধর্মী চলচ্চিত্র হিসেবে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
#হাঙর নদী গ্রেনেড ঃ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক স্নেহময়ী মা মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ষা করতে গিয়ে তার প্রতিবন্ধী পুত্রকে তুলে দেন পাক সেনাদের হাতে। তারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মা নিজের পুত্রের চেয়েও দেশকে বড় করে দেখেছিলেন। এমন মর্মস্পর্শী ত্যাগের গল্পের এই চলচ্চিত্রটি শুধু প্রশংসাই পায়নি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করে। এতে অভিনয় করেছেন সোহেল রানা, সুচরিতাসহ অনেকে।
#জীবন থেকে নেয়াঃঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান নির্মাণ করেন ‘জীবন থেকে নেয়া’। ১৯৭০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে সংসারের একগোছা চাবির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী স্বৈরচারী শাসন ক্ষমতা বোঝানো হয়। প্রতীকী হলেও এখানে যুক্ত হয়েছে প্রভাতফেরির বাস্তব দৃশ্য, ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলন। এ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয় ‘আমার সোনার বাংলা’ ও ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান দুটি। এই দুটি গানের একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, অন্যটি একুশের গান হিসেবে সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আগে স্বাধীনতার বানী নিয়ে নির্মিত হয়েছিল আরও একটি চলচ্চিত্র।সেন্সরবোর্ড আটকে দেয়ায় ছবিটি স্বাধীনতার পরে মুক্তি পায়।
#’হূদয়ে ৭১’ঃ একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘হূদয়ে ৭১’। রোকেয়া ইসলামের রচনা এবং মির্জা রাকিবের কাহিনীবিন্যাস ও সংলাপে এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সাদেক সিদ্দিকী। ঢাকার দোহার উপজেলার কার্তিকপুরে এবং উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে এই চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমন, রোমানা, আন্না, সাগর, সাইফ খান, রাখী, শহীদুল আলম সাচ্চু, হীরা, আশরাফ কবীর, আব্বাসউল্লাহ, মারুফ, আমীর, উদয় খান, নিশু রহমান আরও অনেকে। চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে পরিচালক সাদেক সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘এক নারী মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে এই চলচ্চিত্র। এখানে তার জীবনের নানা ঘটনা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

#জয় বাংলা ঃ৬ দফা আন্দোলনকে ভিত্তি করে ১৯৭০ সালে নির্মিত ফখরুল আলম পরিচালিত ‘জয়বাংলা’ চলচ্চিত্রটি পাকিস্তান সেন্সর বোর্ড আটকে রাখে। ১৯৭২ সালে এটি মুক্তি পায়। ‘জীবন থেকে নেয়া” ও “ জয় বাংলা”এ দুটো চলচ্চিত্রকে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রের ভিত্তি প্রস্তর বলা যায়।
#স্টপ জেনোসাইডঃ একাত্তরে, সশস্ত্র যুদ্ধ চলাকালে নির্বাসিত বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের গণহত্যা ও মানবতার লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার লক্ষ্যে কয়েকটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিল। এর মধ্যে জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইড বক্তব্যের ও উদ্দেশ্যের প্রয়োজন মিটিয়েও পেরেছিল গভীর শৈল্পিক আবেদন রাখতে। চলচ্চিত্রের যে স্বতন্ত্র এক শৈল্পিক ভাষা রয়েছে, ধ্বনি ও ইমেজের পরিবেশনার এক স্বতন্ত্র শৈল্পিক ক্ষমতা রয়েছে এর পরিচয় আমরা স্টপ জেনোসাইড চলচ্চিত্রে পাই। মোটকথা স্টপ জেনোসাইড-এ জহির রায়হানের শিল্পীসত্তা দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মীসত্তার সঙ্গে মিলেমিশে স্বতন্ত্র এক স্তরে উন্নীত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্মিত ছবিগুলোর মধ্যে শিল্পগত সাফল্যের দিক থেকে এই চলচ্চিত্রটিকে শীর্ষে স্থান দিলে সম্ভবত ভুল হবে না।

#মেহেরজান ঃ মেহেরজান চলচ্চিত্রের প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধকে প্রেক্ষাপট হিসাবে নেয়ার কথা বলা হলেও মূলতঃ যুদ্ধ ও ভালোবাসার গল্প হিসাবে উল্লেখ করাটাই প্রধান ছিলো। পরিচালক এবং এর প্রযোজক অধিকর্তারাও এই ছবিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে কোথাও উল্লেখ করে নি। তবে পুরো সিনেমার গল্পই আবর্তিত হয় একটি পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনায়। ছবির মূল ক্রাইসিস সমূহেও মুক্তিযুদ্ধ কালের আবহ সর্ম্পূণ রূপে বিদ্যমান। এর সাথে নারীবাদি শিক্ষায় শিক্ষিত পরিচালকের নিজস্ব কিছু তত্ত্বীয় অবস্থানের প্রয়োগও ঘটেছে এই সিনেমায়।ছবিটি মুক্তির পরপরই সারা দেশে প্রতিবাদ আর সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।কারণ ছবিটিতে ধর্ষক ,খুনী এক পাক সৈন্যের সাথে বাঙালী তরুণীর প্রেমের উপখ্যান দেখানো হয়,যা সহজে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।ব্যাপক সমালোচনার মুখে মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই ছবিটির শো বন্ধ হয়ে যায়।এদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে এই ছবিটিই সর্বাধিক বিতর্কিত ছবি।
#অনিল বাগচীর একদিনঃ নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলামের পরিচালনায় নির্মিত ‘অনিল বাগচির একদিন’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।জনপ্রিয় হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর এই প্রথম তার উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হলো। এ সিনেমায় গতানুগতিক মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বাহিরে গিয়ে মানবতাবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে তুলে ধরা হয়েছে।মূলত ১৯৭১ সালে মাঝামাঝিতে অবরুদ্ধ ঢাকায় থাকা এক হিন্দু যুবকরে বাড়ি ফেরার পথের নানা কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে ছবির কাহিনী।এ পর্যন্ত নির্মিত ছবির মধ্যে এটিই সর্বশেষ।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রঃ মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর আবদুল জব্বার খানকে পরিচালক করে একটি চলচ্চিত্র বিভাগ খোলা হলেও মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত চলচ্চিত্র নির্মানের প্রথম সিরিয়াস প্রচেষ্টা হয় বেসরকারী উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ লিবারেশ কাউন্সিল অব দি ইনটেলিজেনশিয়া’ এবং ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কলাকুশলী সহায়ক সমিতি’র যৌথ উদ্যোগ ও আর্থিক সহায়তায়। নভেম্বর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চারটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়। এগুলো হল – জহির রায়হান পরিচালিত ‘স্টপ জেনোসাইড’ ও ‘এ স্টেইট ইজ বর্ণ’, আলমগীর কবির পরিচালিত ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ এবং বাবুল চৌধুরীর পরিচালনায় ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে চলচ্চিত্র বলতে প্রামাণ্যচিত্র ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকেই বোঝানো হত। স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মান শুরু হয় আশির দশকে। বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট ও আর্কাইভ (বর্তমানে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ) এর ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সের তরুণ ছাত্র মোরশেদুল ইসলাম প্রথম শর্টফিল্ম বা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তার এই ২৫ মিনিট স্থায়িত্বের চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও বটে। সেন্সরবোর্ডের নানা বাধা পেরিয়ে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে এবং ১৯৮৫ সালে নয়াদিল্লী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায় ১৯৮৫ সালে।পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের বিশাল বাজেট ও কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি মোরশেদুল ইসলামের মত আরও কিছু তরুণ ১৬মিমি ক্যামেরা ও ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে নেমে পড়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পাওয়া যায় এ সকল তরুণের কাছ থেকে। তানভীর মোকাম্মেল, এনায়েত করিম বাবুল, মোস্তফা কামাল, আবু সায়ীদ এদের কয়েকজন। কোন এক অজানা কারণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অল্প কিছু নামই ঘুরে ফিরে আসে।মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রগুলোর চারটি নির্মান হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে নির্মিত হয় বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে আলমগীর কবির ‘ডায়েরিজ অব বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর তৈরি করে ‘দেশে আগমন’। আলমগীর কবির ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে আরও দুটি ডকিউমেন্টারি নির্মাণ করেন। সৈয়দ শামসুল হকের পরিচালনায় সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ-র নামে একটি করে তথ্যচিত্র তৈরি হয় ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে। ১৯৯৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ধারার প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ নির্মান করেন তারেক মাসুদ ও ক্যাথেরিন মাসুদ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী শিল্পীরা বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও রণাঙ্গনে গান গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার যে বিশাল ভূমিকা পালন করেছিলেন তা উঠে এসেছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। আবার এই ‘মুক্তির গান’সহ গণহত্যার ফুটেজ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে প্রদর্শন করে। তারেক ও ক্যাথেরিন মাসুদ দর্শকদের বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা ইত্যাদি নিয়ে নির্মান করেন ‘মুক্তির কথা’। এছাড়া মানজারে হাসীনের ‘চারুকলায় মুক্তিযুদ্ধ’, কাওসার চৌধুরীর ‘সেই রাতের কথা বলতে এসেছি’, তানভীর মোকাম্মেলের ‘তাজউদ্দীন: নিসঙ্গ সারথি’ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্যচিত্র।

বিদেশীদের নির্মাণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধঃ
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় বহু বিদেশী সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেরিয়েছেন ক্যামেরা নিয়ে। সেইসব দুর্লভ ফুটেজের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে ডকিউমেন্টারি বা প্রামাণ্যচিত্র। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রে। এর মাঝে ভারতের আই.এস.জহর পরিচালিত ‘জয় বাংলাদেশ’, উমা প্রাসাদ মৈত্রের ‘জয়বাংলা’, শুকদেবের ‘নাইন মান্হস টু ফ্রিডম’, ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘দুর্বার গতি পদ্মা’, দূর্গা প্রসাদের ‘দুরন্ত পদ্মা’, বিনয় রায়ের ‘রিফিউজি ‘৭১’, এইচএস আদভানী ও অন্যান্যদের ‘লুট অ্যান্ড লাস্ট’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট রজার্সের ‘দি কান্ট্রি মেড ফর ডিজাস্টার’, যুক্তরাজ্যের ব্রেন টাগের ‘ডেটলাইন বাংলাদেশ’, গীতা সায়গল ও ডেভিড বার্গম্যান এর ‘ওয়ারক্রাইম ফাইলস’, তানিয়া কাউলের ‘মেজর খালেদ’স ওয়ার’, জাপানের নাগিসা ওসিমার ‘জয়বাংলা’ ও ‘রহমান: দি ফাদার অব নেশন’, ‘লিগেসি অব ব্লাড’, বিবিসি’র ‘হাউ দি ইস্ট ওয়াজ ওয়ান’, গ্রানাডা টিভির ‘দি ওয়ার্ল্ড ইন অ্যাকশন’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত ‘দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’, মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্টের ‘জেনোসাইড ফ্যাক্টর’, ম্যাকুম্বা ইন্টারন্যাশনালের ‘ওয়ার বেবিজ’, বাংলাদেশের সেন্টু রায় কর্তৃক বিদেশে নির্মিত ‘টিয়ারস অব ফায়ার’, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।

পরিশেষে এটাই বলি দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকা স্বত্বেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিসংখ্যানকে হতাশাব্যঞ্জক বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে বলে মনে হয়না।কেননা এখানে কাজ করার আরো বহু স্কোপ রয়ে গেছে।আর এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে তরুণ নির্মাতাদেরকেই।আর প্রয়োজন সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা।আর তাহলেই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সার্থক চলচ্চিত্রের সংখ্যা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলেই আমার স্থির বিশ্বাস।

তথ্যসুত্রঃ
**বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও রূপালী আখ্যান (বই)
** মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের চলচ্চিত্র (বই)
কৃতজ্ঞতা : Ornob Sayed, মুভি অ্যান্ড সিরিজ অ্যাাডিক্টেড গ্রুপ

Posted by মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র on Monday, May 4, 2015

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0:%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0

মুক্তিযুদ্ধের দশ চলচ্চিত্র . . . .


http://archive.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDNfMjFfMTNfNF80NF8xXzI3NjYx
http://bangla.thereport24.com/article/75419/index.html
http://www.unmochon.net/node/372

http://wwwa.natunbarta.com/arts/2012/12/16/3271/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87+%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0
http://www.sahos24.com/2015/01/29/21765/print

২ thoughts on “মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রঃ আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

  1. চমৎকার একটি পোস্ট। এই ধরনের
    চমৎকার একটি পোস্ট। এই ধরনের তথ্যগুলো অনলাইনে থাকা উচিত। সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। আগামী প্রজন্মের কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *