বাবার বাড়ি ফেরা

মেয়ে বাবার বন্ধু। বাস্তবে অন্যতম কাছের বন্ধু। অন্যতম কেন? বাবার জন্য মেয়ের মত কাছে আর কে আছে? তা সে চিন্তায় ই হোক কিংবা অনুভূতিতে অণুক্ষণ নি:শবাসে প্রশ্বাসে বিশ্বাসের ফল্গুধারার মত, বাবার জন্য ভালোবাসা সতত বহমান!
ভালোবাসা আদি ও অকৃত্তিম রুপে যেটুকুই বিদ্যমান, কিশোরির হৃদয়ে বাবা নামের মানুষটিকে ঘিরে যেভাবে সেগুলো ‘এক্সিকিউট’ হয়- হৃদয়গুলো যে ‘মাস্টার হৃদয়ের’ সাথে লিংকড, সেখানেও বুঝিবা ভালোবাসার আকাল পড়ে যায়!


মেয়ে বাবার বন্ধু। বাস্তবে অন্যতম কাছের বন্ধু। অন্যতম কেন? বাবার জন্য মেয়ের মত কাছে আর কে আছে? তা সে চিন্তায় ই হোক কিংবা অনুভূতিতে অণুক্ষণ নি:শবাসে প্রশ্বাসে বিশ্বাসের ফল্গুধারার মত, বাবার জন্য ভালোবাসা সতত বহমান!
ভালোবাসা আদি ও অকৃত্তিম রুপে যেটুকুই বিদ্যমান, কিশোরির হৃদয়ে বাবা নামের মানুষটিকে ঘিরে যেভাবে সেগুলো ‘এক্সিকিউট’ হয়- হৃদয়গুলো যে ‘মাস্টার হৃদয়ের’ সাথে লিংকড, সেখানেও বুঝিবা ভালোবাসার আকাল পড়ে যায়!

বাবার ফেসবুক ফ্রেন্ড হওয়াতে সে অতিপ্রিয় কাছে-দূরের ‘ এই আছে এই নাই’ অনুভূতিতে অণুক্ষণ ডুবে থাকা মানুষটির আরো অনেক কাছে চলে এসেছে। দুইজন ভিন্ন মানুষ ভালোবাসায় ভর করে চেতনায় ক্রমশ কাছে আসতে থাকে।

সবার মাঝে থেকেও বাবা বড্ড একলা। প্রিয় মানুষগুলো এত নি:সংগ কেন?
বাবার গতকালের স্ট্যাটাস মনে পড়ে মিথিলার। বাবা লিখেছেন,

” … Am just stuck at the middle of this long long life journey. Am confused and tired to carry on. I want to end this… I want to go back home… ”

বাবা বাড়ি ফিরতে চান।
জীবন এতোটাই দু:সহ যে এ জীবন বয়ে বেড়ানোর ইচ্ছেগুলোই মরে যাচ্ছে!
নিজের কিশোরি হৃদয়ে ঝড় তুলে ধেয়ে আসা বেদনাগুলো ও কি কিশোরি? কিন্তু আজ কেন এক পূর্ণ রমণী হৃদয়ে উদভুত জাতনার সবটুকু অনুভূতি নিজের বাবাকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তার সময় মিথিলা বড্ড তীব্র ভাবে উপলব্ধি করে।
ভালোবাসার মোড়কে বেদনারা যখন হৃদয়ে আঘাত হানে, হৃদয়গুলোরও কি বিস্তার ঘটে? তিনমাত্রা থেকে চতুর্থ মাত্রায় ঘটে উত্তোরণ?

অবচেতন মনে ওড়না না পরতে চাওয়া দুরন্ত মেয়েটি কখন যে রমনী হয়ে উঠল, সে নিজেও বুঝে কী?
দেয়ালে মার ছবি। স্মৃতিগুলোকে ধরে রাখার চেষ্টা। হৃদয়েও একই ছবি।
মা ছবি হয়ে যাবার পরেই তো বাবার ইচ্ছেঘুড়ির নাটাই নড়বড়ে হতে শুরু করল। ছোট্ট মিথিলা আর বাবা… বাবা আর মিথিলা …শেষে বাবা আর বাবা… জীবনযুদ্ধে একা একজন মানুষ। সাথীহারার বেদনায় ডানা ভাংগা অনুভূতি নিয়ে বছরের পর বছর অভিনয় করে চলেছেন… সব ঠিক আছে। মিথিলা ওর বুঝার মত অনুভবে বড় হতে থাকে। বাবা ঘানি টানেন, অভিনয় করেন সুখী তৃপ্ত মানুষের। এভাবে সব কিছু তো এতদিন ঠিকই ভালোভাবে চলে আসছিল । হঠাত ই বাবার ইচ্ছেগুলোর অপমৃত্যু হওয়া কেন শুরু হল?

জীবন বাবার ভিতরে বাইরের নাগরিক দায় শোধরাতেই সময়ের বুকে থাকা আনন্দঘন মুহুুর্তগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। ইচ্ছেগুলোর অপমৃত্যু আগেও যেমন হয়েছে, এখনো হওয়াতে কি আর হেরফের হবে?
বাবা এখন মানুষের ভিতরে অন্য একজন মানুষ।

এইমাত্র একজন মিথিলা বুঝতে পারে, ‘ বাবাকে আরো সময় দেয়া দরকার। ‘ … ‘ বাবাকে আরো কাছে পাওয়া প্রয়োজন … বাবার মিথিলাকে পাশে পাওয়ার দরকার’ … এভাবে বোধের আড়াল থেকে উকি দেয়া সহস্র সুর্যের প্রখরতায় এক দুর্বোধ্য ভাবের উন্মেষ ঘটে বালিকার মনে…মননে…মর্মে!

মেয়ের আকাশে বাবা একজন বর্ণহীন মানুষ। যার রংগুলো অপরকে রাংগাতেই নি:শেষ হয়েছে। একজন রংহীন মানুষ, আকাশের নীলে অন্য রং খুঁজে বেড়ানো বাবা কি এক ‘কালার ব্লাইন্ড?’

নিজের আকাশটিও মিথিলা বাবাকে ধার দিবে। দুটো আকাশের সবগুলো বেদনাই নিজের হৃদয়ে এক গোপন দুপুরের মত রেখে দেবে। বেদনারা চলে গেলেও কি আকাশ নীল?

মেয়ে বাবার স্ট্যাটাসে লাইক দেয়…অনুভূতি প্রকাশে অক্ষরে আংগুলের আলতো পরশে স্ক্রীণ কেঁপে উঠে! জীবন নদীর তটরেখা ধরে একজন হেটে চলা বাবা, যার আকাশের ইচ্ছেঘুড়িগুলোর সুতা অনেক আগেই কেটে গেছে-
‘ বাবা কি কম্পন অনুভব করেন? ‘
বাবা বাড়ি ফিরতে চান। মিথিলা বাবার স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে,

“… A person who falls and gets back up is much better than a person who never fell.”

একজন বাড়ি ফিরতে চাওয়া বাবাকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা জগতে তোলপাড় হতে থাকে এক: কিশোরী… নিজের হৃদয়ই যে বাবার
ফিরতে চাওয়া বাড়ি, কিশোরী একবারও ভাবে না।

১ thought on “বাবার বাড়ি ফেরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *