মাধ্যমিক গণিত (শিক্ষা=মুখস্থ)

আমাদের দেশের গণিত শিক্ষার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে অন্যান্য দেশ অবাক হয়ে যাবে। এদেশের শতকরা ৯৯.৯৯% লোক গণিত প্ৰকৃতপক্ষে বুঝে না, এ কথা আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি।

আমাদের দেশের গণিত শিক্ষার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে অন্যান্য দেশ অবাক হয়ে যাবে। এদেশের শতকরা ৯৯.৯৯% লোক গণিত প্ৰকৃতপক্ষে বুঝে না, এ কথা আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি।
আমি যখন ষষ্ঠ শ্ৰেণীতে ছিলাম, তখন আমার ক্লাসের সকল ছাত্ৰ জ্যামিতি মুখস্ত করতো। অথচ আমার স্কুল ছিল উপজেলাতে সেরা। আমি গণিত একটু বুঝে পড়েছি ক্লাস সেভেনের পর থেকে। কিন্তু তা অতি নগণ্য। ক্লাস টেনে উঠার পর আমি সম্পূর্ণ গণিত বুঝে বুঝে পড়তে শুরু করেছি। ভালোভাবে বুঝে থিওরি পড়তাম, চিন্তা করতাম, নিজে নিজে অঙ্ক করতাম কিন্তু কখনো বেছে বেছে অঙ্ক করি নাই। একটা জ্যামিতি অনেকভাবে প্ৰমাণ করতে পারতাম, এজন্য স্যার রেগে গিয়ে কেটে দিতেন। আমি ছাড়া বাকি সবাই স্যারের করে দেয়া ইম্পর্টেন্ট অঙ্কগুলো শুধু প্ৰ্যাকটিস করতো। থিওরি জানতো না, হুবহু সাজেশনের বাইরে ম্যাথ আসলে সল্ভ করতে পারতো না। অথচ তারাও ম্যাথে আমার সমান বা বেশি মার্কস পেয়েছিল। কারণ বোর্ডে কেবল কয়েকটি অঙ্কই ঘুরে ফিরে আসে। সাজেশন মুখস্ত করলেও ফুল মার্কস। স্যারেরা নিজেরাই বিশুদ্ধ গণিত জানতেন না, একই অঙ্ক বার বার প্ৰ্যাকটিস করতেন মাত্ৰ। আমি অবাক হয়ে যাই তাঁদের দেখে। তাঁদের নিয়মে ছাত্ৰদের ক্ৰিয়েটিভিটি বলতে কিছুই থাকে না। ছাত্ৰরা চিন্তা করতে পারে না, গণিতের বেসিক পয়েন্ট না জানায় তারা গণিতের আসল রসটাও বুঝতে পারে না। অথচ অঙ্ক পারা আর বুঝা আলাদা জিনিস। সায়েন্সের বইগুলোর মাঝে কেবল এই গণিত বইয়ের বেশিরভাগ পাতা পড়া হয় না। শিক্ষক ছাত্ৰকে গণিত করা শিক্ষা দেন, কিন্তু গণিত পড়ান না। ছাত্ৰরা বুঝতেই পারে না কোথায় তার ভুল হয়েছে। সেট, ফাংশন না জেনেই এসবের অঙ্ক তারা মুখস্ত করে ফেলে।
দেশের নামিদামী স্কুলও এর ব্যতিক্ৰম নয়। নটর ডেমে ভর্তি হওয়ার পর ভালো ভালো স্কুলের ছেলেরা আমার বন্ধু হয়েছে। এখন আমি জানি, সবখানে একই অবস্থা। তাই জানি না, আমাদের দেশের ভবিষ্যত না জানি কত ভয়ংকর!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *