বেকার সমস্যা দুরীকরণে পরিকল্পিত অর্থনীতি

বেকার সমস্যা দুরীকরণে সুফল মিলছে পরিকল্পিত অর্থনীতির। কৃষিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসছে দেশের শ্রমশক্তি। কৃষি নির্ভরতা থেকে শ্রমশক্তি দ্রুত স্থানান্তরিত হচ্ছে শিল্প খাতে। কৃষি খাতে অগ্রগতি হচ্ছে তবে যা হচ্ছে তা হলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে শিল্প খাত। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে বেকার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে। সেই সঙ্গে কমছে দিনমজুরের সংখ্যাও। বেকারের সংখ্যা না বাড়লেও শ্রমশক্তির বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমানে সাড়ে চার কোটি মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে অবস্থান করছে। এর অধিকাংশই নারী। কৃষি থেকে শ্রমশক্তি সরিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। দেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে অগ্রসরমান যা অতীতের যে কোন প্রবৃদ্ধি প্রবণতা থেকে অনেক বেশি গতিময় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি অতীতের সমস্ত অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিবছর দেশে ও বিদেশে মিলে গড়ে ২০ দশমিক ০১ লাখ নাগরিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে কর্মসংস্থান আরও বাড়বে। শুধু কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে শ্রমশক্তি বাড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তা নয় এর সঙ্গে সেবা খাতে যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে সে বিষয়ে কৌশল নেয়া হয়েছে। মানুষের আয় বাড়াতে এবং বাজারভিত্তিক মজুরি উন্নয়নে নানা কৌশল নেয়া হয়েছে। এর বাইরে বেসরকারী খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে, বাণিজ্য বড় হয়েছে এবং অর্থনীতির বহুমুখিতার কারণে বেকারের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে। এক দশক আগে অর্ধেকের বেশি মানুষ কৃষিভিত্তিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিল। এক্ষেত্রে অকৃষি খাত বিশেষ করে উৎপাদন, সেবা এবং ব্যবসাই ভরসা। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ মানুষ কৃষিবহির্ভূত খাতে নিয়োজিত। পরিকল্পিত অর্থনীতির কাছে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে। এতে দেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় হচ্ছে এবং এর সুফল দেশবাসী পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *