বাংলাদেশের প্ৰাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা

বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্ৰাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এদেশের শিক্ষার হার বাড়ছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা কি এ জাতি পাচ্ছে?
এই পোস্টে আমি আমার চোখে দেখা বাংলাদেশের প্ৰাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমার অভিমত ব্যক্ত করছি।

বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্ৰাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এদেশের শিক্ষার হার বাড়ছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা কি এ জাতি পাচ্ছে?
এই পোস্টে আমি আমার চোখে দেখা বাংলাদেশের প্ৰাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমার অভিমত ব্যক্ত করছি।
একজন সার্টিফিকেটধারী লোককে সবার আগে প্ৰাইমারি লেভেল কমপ্লিট করতে হয়। এ হিসেবে যেকোন শিক্ষিত লোকের জীবনে প্ৰথম প্ৰাতিষ্ঠানিক শিক্ষক একজন প্ৰাইমারি স্কুল টিচার। সুতরাং প্ৰাইমারি শিক্ষকগণের হাতেই সর্বপ্ৰথম এদেশের ভবিষ্যতের কুঁড়ি ফোটে। অথচ এই শিক্ষকগণের অবস্থা কি? তাদের দিয়ে বিভিন্ন সরকারি জরিপ থেকে শুরু করে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিভিন্ন কাজ করানো হয়। সকাল নয়টা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত স্কুল করতে হয়। বেতন খুব বেশি নয়। ঠিকমতো ট্ৰেনিং দেয়া হচ্ছে না। এসবের বিরূপ প্ৰভাব গিয়ে পড়ছে স্টুডেন্টদের ওপর। ঠিকমতো শান্তিমতো ক্লাস নেন না তারা। কাজটাকে বোঝা মনে করেন। ঠিকমতো ট্ৰেনিং আর সুযোগসুবিধার অভাবে তাদের জ্ঞানও বেশিরভাগ ক্ষেত্ৰে প্ৰাইমারি স্টুডেন্টদের সমান হয়ে গেছে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে আপনি টানা দশ বছর শুধু প্ৰাইমারি লেভেল পড়ালে এবং চর্চার মধ্যে না থাকলে আপনি আপনার পূর্বের পড়াগুলো ভুলে যাবেন। তাছাড়া সারাদিন ক্লাস ও বাড়িতে এসে সংসার সামলালে নিজে নিজে পড়ার সময়ই পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে একটা ক্লাসে অনেকগুলো শিক্ষার্থীকে একসাথে পড়াতে হয়। বিদেশে এক ক্লাসে ২৫ জনের বেশি থাকে না এবং প্ৰাথমিক শিক্ষকদের বেতন সবচেয়ে বেশি। এভাবে এদেশের শিক্ষকদের পক্ষে আদর্শ পদ্ধতিতে পড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে প্ৰাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটাভিত্তিক ব্যবস্থায় অনেক অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পেয়ে জাতিটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ইদানিং পিএসসি এক্সামে প্ৰশ্ন ফাঁসের খবর শোনা গেছে। কোমলমতি যে শিশু এ বয়সেই প্ৰশ্ন ফাঁস শিখবে, তার ভবিষ্যতে কি প্ৰভাব পড়বে ভেবে দেখুন তো!
আবার এ দায় অভিভাবকদেরও। তার বার বার শুধু ভালো ফলাফল কামনা করেন, ভালো শিক্ষা নয়। একটা বাচ্চা শিশুকে চাপ দিয়ে পড়ানো উচিত না। অথচ এ নিয়ম প্ৰাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকমতো মানা হয় না। এমনকি নামকরা স্কুলগুলোতেও ঠিকমতো এ নিয়ম মানা হয় না। হেডমাস্টার ব্যস্ত থাকেন পাশের হার ও এ-প্লাস বাড়াতে। ফলে আসল শিক্ষা এ জাতি পাচ্ছে না। অঙ্কুরাবস্থাতেই ত্ৰুটি থেকে যাচ্ছে, আর আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে তা বয়ে বেড়াচ্ছি। সুতরাং, জাতির ভবিষ্যত ভেবে সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *