যুদ্ধ গেলো আসুন একটা গল্প পড়ি

***এক জাদুকরী ম্যাসেজ***

এমনিতেই শীতের রাত,ফ্যান বন্ধ
থাকে।ফিসফিস করে কথা বললেও
পাশের রুম থেকে শুনা যায়,ব্যস্ততার
কারনে দিনেও ৫-১০মিনিটের বেশি
কথা বলা যায় না তার উপর
“তাসনিমের” ফোন আজ টানা চারদিন
ধরে অফ!!! আকিব তাসনিমের কথামত
কবিতা শুনাইনি বলে এই শাস্তি।
,
শীতের দিনে চার-পাচ দিন গোসল না
দিলেও সমস্যা নেই কিন্তু প্রেমের
ঝড়ো বাতাস যখন কেবল বইতে শুরু
করেছে তখন কি প্রিয়জনের এই লম্বা
বিরতি মানা যায়?
মন করে তখন আকুপাকু, শুরু হয় অনুপস্থিতির
অনুভূতি তে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
তাই আকিব আর থাকতে না পেরে
তাসনিমের বাসার নাম্বারে একটা
দীর্ঘ ম্যাসেজ লিখেঃ
“আন্টি,তাসনিমের চেহারা কিন্তু

***এক জাদুকরী ম্যাসেজ***

এমনিতেই শীতের রাত,ফ্যান বন্ধ
থাকে।ফিসফিস করে কথা বললেও
পাশের রুম থেকে শুনা যায়,ব্যস্ততার
কারনে দিনেও ৫-১০মিনিটের বেশি
কথা বলা যায় না তার উপর
“তাসনিমের” ফোন আজ টানা চারদিন
ধরে অফ!!! আকিব তাসনিমের কথামত
কবিতা শুনাইনি বলে এই শাস্তি।
,
শীতের দিনে চার-পাচ দিন গোসল না
দিলেও সমস্যা নেই কিন্তু প্রেমের
ঝড়ো বাতাস যখন কেবল বইতে শুরু
করেছে তখন কি প্রিয়জনের এই লম্বা
বিরতি মানা যায়?
মন করে তখন আকুপাকু, শুরু হয় অনুপস্থিতির
অনুভূতি তে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
তাই আকিব আর থাকতে না পেরে
তাসনিমের বাসার নাম্বারে একটা
দীর্ঘ ম্যাসেজ লিখেঃ
“আন্টি,তাসনিমের চেহারা কিন্তু
দিনদিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে,ঠিকমত
কেয়ার নিবেন।একটু রান্নাবান্নাও
শিখাবেন।কিচ্ছু তো পারে না,বিয়ে
দিতে হবে তো!
আর কতকাল ঘরবন্দি করে
রাখবেন,মাঝেমাঝে বাইরে বের হতে
দিয়েন।”
সেন্ড করেই ভয়ংকর মজা নিয়ে হাসতে
থাকে আকিব পরিবর্তী ঘটনা গুলি কি
হতে পারে তা ভেবে।
,
ম্যাসেজ টা পেয়েই তাসনিমের
আন্টি বার দুয়েক পড়ে তাসনিম কে
দেখায়।নাম্বারটা দেখেই চিনতে
পেরে কম্পিত হাতে মোবাইল টা ধরে
ম্যাসেজটা পড়ে তাসনিমের হাসি
পেলেও আন্টির সামনে মুখটা চরম
ফ্যাকাশে করে রাখে।
আন্টি বলে,”এই রাজপুত্র টা কে যে
আমার ভাতিজির জন্যে এত চিন্তা
করে।”
দুইবার ঢোক গিলে তাসনিম আন্টির
আদালতে রাজপুত্রটাকে চিনে না
বলে জোড় দাবি করলেও মহামান্য
আদালত তাকে বেখেসুর খালাস না
দিয়ে জামিনে নজরদারী তে রাখার
তীব্র হুশিয়ারি দেয়!
,
বসে বসে আকিবের পাগলামির কথা
ভেবেই হাসছিলো তাসনিম।এমন সময় ওর
আন্টি শ্যাম্পু,সাবান,তোয়ালে নিয়ে
এসে তাসনিম কে বলে,”চল,আজ তোকে
গোসল করিয়ে দিবো।”
,
তাসনিমকে গত ৮ বছরে এমন কথা কেও
বলে নি।আজ হঠাৎ এই কথা শুনে ও হা
করে থাকে কতক্ষন। আন্টি বলে,”কি
হলো, চোখ মুখ এমন বড়বড় করে আছিস
কেন।ছেলেটা যেমনই হোক চোখ আছে
বলতে হবে।আসলেই তোর চেহারাটা
কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে।একটুও যত্ন নিস
না।সারাদিন টিভি আর গল্পের বই
নিয়ে পড়ে থাকিস।আয় আজ আমি
তোকে ঘষেমেজে গোসল করিয়ে
দেই।”
,
তাসনিম এমনি তেই অনেক
ফর্সা,দেখতেও বেশ।তবুও এরকম অদ্ভুত
কান্ডে আর আকিবের কথা যাতে
চাপা থাকে তার জন্যে তাসনিম ওর
আন্টির পিছে পিছে রোবটের মত
বাথরুমে ঢুকে।
,
দুপুরে খাওয়ার পর ফোনটা অন করেই
তাসনিম আকিব কে ফোন দেয়।দাঁত
কিড়মিড় করে করে বলে
__ওই,ওই শয়তানের বাপ,তুমি কি জীবনেও
সিরিয়াস হবা না?
এতদিন পর তাসনিমের ফোন পেয়েই
আকিব লাফ দিয়ে আয়নায় চেহারা টা
একটু দেখেই দারুন খুশিতে ফোনটা
ধরলেও কথাগুলি শুনে চুপসে যায়।
কাঁচুমাচু হয়ে বলে,
__ আমি শয়তানের বাপ হবো কেন।আমি
তো মধুর বাপ,তুমি মধুর মা!
__চুপ,একদম চুপ।তুমি আমার বাসার
নাম্বারে এরকম টেক্সট করার সাহস
পেলে কিভাবে?
__বা রে,শ্বশুরবাড়ি তে বউ এর খোজ
করবো নাতো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় খুজবো!
__কী বীর পুরুষ, শ্বশুরবাড়ি! তিনবছর ধরে
প্রেম করছো, এখনো তো আমার বাবার
সামনে এসে বলতে পারলা না,”আমি
আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।”
__ছিঃ কি লজ্জা।বিয়ের কথা বলবে
আমাদের বাবা মা,আমি বলতে যাবো
কেন…..শরম করে না বুঝি।
আমাদের কাজ প্রেম করা।
__তোমার প্রেমের খেতা পুড়ি।
কালকে তোমার বাবা মা কে সাথে
নিয়ে আমাদের বাসায় আসবা।তা না
হলে যে ছেলের সাথে আমার বিয়ের
কথা চলছে তাকেই কবুল বলবো!
রাখি……
__তাসনিম,তাসনিম…..করে চেঁচালেও
অন্যপ্রান্ত থেকে কোন উত্তর আসে না।
,
আকিব এখন কি করবে? বলবে তার বাবা
মায়ের কাছে তাসনিমের কথা?
নাকি আর কয়েকদিন অপেক্ষা করবে
তাসনিম কে বুঝিয়ে?
কিন্তু তাসনিম যে ধরনের মেয়ে
একবার যেটা মাথায় ঢুকে তা
ডালপালা ছড়িয়ে মুহূর্তে ফলবান বৃক্ষে
পরিণত হয় যা দূর করা সম্ভব না,তার উপর
যে ম্যাসেজটা সেন্ড করছে, ওরে
বাবা।
,
লজ্জা শরম ভেঙ্গে দুলাভাইকে ফোন
দিয়ে আকিব সব ঘটনা বলে।বাবা যেন
কাল তাসনিমদের বাসায় যায়।
অন্যদিকে,রাতে তাসনিমকে ওর আন্টি
কথিত রাজপুত্রের ম্যাসেজ অনুযায়ী
রান্না শিখাতে ব্যস্ত সময় পার করে।
কী এক জাদুকরী ম্যাসেজ তার চোখ
ধাঁধানো কারিশমা
দেখাচ্ছে,তাজ্জব ব্যাপার!
,
দুই পরিবারেরই পচ্ছন্দ হয় ছেলে-মেয়ে,
ফ্যামিলি সব।দিন তারিখ ঠিক করে
উঠে তারা।
,
আকিব বাসর ঘরে ঢুকে তাসনিমকে স্পর্শ
করতেই ছিটকে যায় ও।মুখ নিচু করে
তাসনিম দুষ্টুমি হাসি দিয়ে বলে
__আগে কবিতা শুনাও,পরে সব!
__আজকের রাতেও কবিতা।
__হ্যা,চার লাইন হলেও শুনাতে হবে।
__ঠিক আছে।
“বাসর শেষে থেকে যাবে অতৃপ্তির
খেদ
হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে হবে,শিহরন
বিনিময়,
ঠোটে ঠোটে লেখা হবে প্রাক
আদিমতার চিঠি
মধুর মা,রুমটা বানাও না এখন
অমাবস্যাতিথি!
__অনেক থ্যাংকু।
লাইট নিভানোর পর বিছানার
কিনারে গিয়ে কম্বল ভালো করে
মুড়ি দিয়ে তাসনিম আকিবকে বলে
__ এই শীতে আমাকে কোন ভাবেই
সকালে গোসল করতে বাধ্য করো না মধুর
বাপ…. প্লিজ।এখন ঘুমাও….গুড নাইট!
__________________________
হঠকারিতা করে কোন কিছু করার পর
যদি এমন মধুর ফলাফল পাওয়া যায়
খারাপ কি।কিন্তু অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই এরকম হঠকারিতা জীবনের
জন্যে বয়ে আনে চরম ভোগান্তি,যার
মূল্য সারা জীবন দিতে হয়।
,
www.facebook.com/venus.vasper

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *