অপদ্য বচন (১৭৬-১৯৫)

১৭৬.
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় পাওয়ায় দেশের নাম নিশ্চিতভাবেই বদলেছে, কিন্তু মান মনে হয় না খুব একটা পাল্টেছে। জয়ের ৪৪ বছর পরেও স্বাধীণতাটা অধরা। মন পাল্টাতে হবে, কেবল ভোল না।

১৭৭.
একদিন সবকিছু নষ্টদের হাতে তুলে দে’য়ার জন্যে, ৩০ লাখ মানুষের জীবন আর দু’ লাখ নারীর সম্ভ্রম হারিয়ে যুদ্ধ করার কোন মানে খুঁজে পাই না।

১৭৮.
প্রখ্যাত কবি, দার্শনিক সর্বোপরি আমীর-এ-সাহিত্য ‘আল মাহমুদ’, নি:সন্দেহে একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা। তিনি আজ থেকে প্রায় বছর তিরিশেক আগে ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁ চলে এরশাদের বাংলাদেশ-ও বাঁচবে’ এরকম একটা স্লোগান লেখে ৬৮ হাজার টাকা বিল করেছিলেন।


১৭৬.
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় পাওয়ায় দেশের নাম নিশ্চিতভাবেই বদলেছে, কিন্তু মান মনে হয় না খুব একটা পাল্টেছে। জয়ের ৪৪ বছর পরেও স্বাধীণতাটা অধরা। মন পাল্টাতে হবে, কেবল ভোল না।

১৭৭.
একদিন সবকিছু নষ্টদের হাতে তুলে দে’য়ার জন্যে, ৩০ লাখ মানুষের জীবন আর দু’ লাখ নারীর সম্ভ্রম হারিয়ে যুদ্ধ করার কোন মানে খুঁজে পাই না।

১৭৮.
প্রখ্যাত কবি, দার্শনিক সর্বোপরি আমীর-এ-সাহিত্য ‘আল মাহমুদ’, নি:সন্দেহে একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা। তিনি আজ থেকে প্রায় বছর তিরিশেক আগে ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁ চলে এরশাদের বাংলাদেশ-ও বাঁচবে’ এরকম একটা স্লোগান লেখে ৬৮ হাজার টাকা বিল করেছিলেন।

ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা ৮৪ হাজার প্লাস/মাইনাস। মানে প্রায় ওয়ান ফোর্থই মিস। আমি সব সময় ভাবতাম আল মাহমুদ কি বোকা! ৬৮ হাজারের জায়গায় ৮৪ হাজার লিখলেই তিনি পকেটে ১৬ হাজার টাকা বেশি ঢোকাতে পারতেন।

তবে, এখন বুঝি আমীর বোকা নন, সাক্ষাৎ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা। উনি তখনি বুঝেছিলেন যে, তাঁর ভাই-ব্রাদাররা একদিন দেশে এতোটা সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবে যে, দেশের ওয়ান ফোর্থ জনগন এমনিতেই নাই হয়ে যাবে। যারা সাম্প্রদায়িকতার সাথে এক হতে পারবে, একদিন তারাই শুধু টিকে থাকবে।

১৭৯.
Luck is a combination of probabilities.

১৮০.
বিপ্লব হচ্ছে এখনো জীবনের পোড় না খাওয়া মাত্র কৌশোর পেড়ুনোদের রিয়ালিটি শো’

১৮১.
কিছু মানুষ ফ্রান্সে বোমলা হামলার নিন্দাকারীদের নিন্দায় ফেঁটে পরছে। তাঁদের কাছে ফ্রান্স ইস্যুতে কথা বলার আগে ফিলিস্তিন বা সিরিয়া নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে, ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বললে হবে না। একই স্ট্যাটাসে প্যারিস-গাজা সবকিছুর জগা খিচুড়ি মেশাতে হবে।

আরো ভালো হয়, যদি পুরো ব্যাপারটি থেকে আইএস শব্দটা ‘অমিট’ করে ইউরোপ যোগ করা যায়। যেমন, ‘সিরিয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ নিরীহ মানুষ মরছে – মানবতার এ করুণ অবস্থায় ইউরোপ সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। তারা সাহায্য তো করছেই না, বরং সীমান্ত আঁটকে রাখছে। পাশ্চাত্যের এরকম অত্যাচারের ফলেই আসলে সমস্যা বাড়ছে। মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে’।

কারো জন্য সহমর্মীতা প্রকাশও আজকাল ‘ফরমেট’ বেঁধে করতে হয়। তুরষ্কের সৈকতে পাওয়া আয়লানের জন্য বাংলাদেশে কান্নার রোল ওঠে। আর বাংলাদেশে যখন সংখ্যা লঘুর ‘আনবর্ন চাইল্ড’কে পেটে লাথি মেরে খুন করা হয়, তখন সবাই গাজার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে।

১৮২.
লেখক-প্রকাশক-পুলিশ হত্যাকে যখন কেউ বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে; তখনি কেন জানি মনে হয়, ৭১ নিয়ে রেফারেন্স দিতে গেলে কিছু মানুষ এখনো স্বাধীণতা বা যুদ্ধের বছর বলে না। বলে, গণ্ডগোলের সময়।

১৮৩.
Sometimes I wonder, which one is worse – death or living in the constant fear of that?

১৮৪.
Out of box ideas (!) and the never satisfying urge of doing something ‘different’, often results in something really really stupid

১৮৫.
অর্ধ শতক বছর পরেও চে’র মৃত্যু আমাদের অপরাধী করে তোলে; অথচ গতকাল যে, অভিজিৎ-অনন্ত-নীলয়-দীপন মারা গেলো, তা আমাদের কাছে “দু’ পক্ষেরই দোষ আছে” গোত্রের হাইপোথিসিস বলে মনে হয়।

শালার ডাবল স্ট্যান্ডার্ড

১৮৬.
রাজনীতি শব্দটাই কেমন জানি ঘেন্নাকর। Politics এর বাংলা হওয়া উচিৎ ‘জননীতি’।

১৮৭.
পুলিশের ওপর হামলায় সুশীল ‘মডারেট’ জনগণের উদ্বেগ দেখে হাসি পায়। আরে ভাই, সিনেমার ক্রেডিট দেখে হল ছাড়তে চাইলে তো হবে না।

ব্লগার হত্যা ছিলো প্রিফেইস। এবার পুলিশ হত্যা, তারপর বিচারপতি, তারপর হয়তো শিক্ষক-ব্যাংকার! প্রায় সবই তো বাকি!

গল্প জমছে, চেয়ারে বসুন। আহাউহু করুন। আসলে সময়টাই খারাপ, দোষ সবারই বলে সিটি মারুন। তবে দুঃখের বিষয় কি এপিলগ পর্যন্ত যাওয়ার আগেই হয়তো আপনার ক্লাইম্যাক্স চলে আসবে। জানতেও পারবেন না, আপনার ছোট্ট মা’কে কয়ভাগে ভাগ করে প্রতিদিন গিলছে কোন মাঝ বয়েসী নট সো মডারেট পার্সন। জানতেও পারবেন না, আপনার ছোট্ট বাবার পায়ের নূপুরের শব্দটা কতটা আর্তনাদের!
ভাই, সিনেমার মাত্র শুরু হয়েছে। মজা লুটতে চেয়েছেন; এবার সবকিছু লুঠ হয়ে যাওয়াটা মাথা পেতে নিন।

১৮৮.
স্কুলে থাকতে একটা ভাবসম্প্রসারণ পড়ানো হতো – ‘স্বাধীণতা অর্জনের চাইতে স্বাধীণতা রক্ষা কঠিন’। কেনো পড়ানো হতো তা এখন বুঝতে পারছি।

১৮৯.
Tolerance is not always a good or even a wise option.

যে সহে, অনেক ক্ষেত্রেই সে শুধু আরো বেশি সমস্যার মুখোমুখি-ই না ধ্বংসও হয়ে যায়।

১৯০.
Helping with expectations are not helps, but trades.

১৯১.
ফেসবুক জমানায় বঙ্গদেশে মোট ৩ ধরণের বামপন্থী দেখা যায়।

ক. প্রতিক্রিয়াশীল বামপন্থী : রাজনীতিবীদদের কমন ডায়ালগ “For the Greater Good” এর সবচে’ বেশি ব্যাবহার করে এই গ্রুপ। এরা আমেরিকার বিরোধীতা করার জন্য ‘লাদেন’ বা আইসিসকে সাপোর্ট দিতে কার্পণ্য করে না। জামাতীদের টাকায় লাল হয়ে যাওয়া পকেট থেকে হাত বের করে এরা ভাতারদের লাল সালাম দেয়।

খ. বসের ডার্লিং বামপন্থী : এই প্রজাতির প্রাণীরা কর্পোরেট বা তাঁর সাবসিডিয়ারী চাকুরী করে এবং বাস থেকে রিকশা আর রিকশা থেকে গাড়ির দিকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাড়ায়। ফেন্সিতে কয়েক সিপ মারার পর এদের প্রিয় কাজ, নিজেদের প্রভু অর্থাৎ কর্পোরেট হাউজ নিয়ে খিস্তি করে নিরেট আনন্দ লাভ করা।

গ. Dude, Che is Cool গোত্রীয় বামপন্থী : That Guy with the hat on – Man, he is DOPE!

তবে এই সকল গ্রুপ একটি ব্যাপারে একমত – পৃথিবীর কোথাও কোন মানুষ বায়ু ত্যাগ করলেও, তার দায় আমেরিকার পুঁজিবাদী শক্তির।

১৯২.
একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চিপাচাপায় দেখতাম পোলাপাইন জুটিতে জুটিতে বসে প্রেমালাপ করে, আর পরশু গিয়ো দেখি এখনো তারা আগের মতোই জুটিতে জুটিতে বসে থাকে, কিন্তু কেউ কোন গল্প/আলাপ করে না; যে যার মতে পিছন ঘুরে সেলফি তোলে।

১৯৩.
কিছু কিছু মানুষকে দেখলে মনে হয়, তারা যে পরিমান energy অন্যকে অপদস্থ করতে খরচ করে, সেই পরিমান যদি নিজেদেরকে পদস্থ করার জন্য ব্যবহার করতো; তাহলে এতো দিনে নিশ্চিত বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফেটের কাছাকাছি পৌছে যেত।

১৯৪.
যেসব মানুষ ভদ্রতাকে ব্যাক্তিত্বহীণতা মনে করে, তাদের সাথে কেবল ব্যাক্তিত্বহীণরাই ভদ্র থাকতে পারে।

১৯৫.
৭১ যদি ৪৪ বছর পর আসতো, তাহলে সবাই হ্যাশট্যাগ মেরে আরামে ঘুম দিতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *