এবার মোদির টার্গেট কেজরিওয়াল!

রাজধানীর শীতের সকালে যেন তপ্ত লাভাস্রোত বইয়ে দিল দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে সিবিআই এর হানার খবর৷ মুখ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে তাঁর দপ্তরের পাশে প্রধান সচিবের দপ্তরে আচমকা সিবিআই অভিযানের নিন্দায় যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তির লড়াইয়ে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লীর সংসদ৷ এদিন সাতসকালে দিল্লি সরকারের সচিবালয়ে হানা দেয় সিবিআই৷ বেশ কিছু ফাইল দেখার পর সচিবালয়ের ৩ তলার কয়েকটি ঘর সিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে৷ তার কিছুক্ষণ পরেই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে়ন, ‘আমার দপ্তরে হানা দিয়েছে সিবিআই৷’ হতচকিত হয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহল, তামাম দিল্লি৷


রাজধানীর শীতের সকালে যেন তপ্ত লাভাস্রোত বইয়ে দিল দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে সিবিআই এর হানার খবর৷ মুখ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে তাঁর দপ্তরের পাশে প্রধান সচিবের দপ্তরে আচমকা সিবিআই অভিযানের নিন্দায় যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তির লড়াইয়ে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লীর সংসদ৷ এদিন সাতসকালে দিল্লি সরকারের সচিবালয়ে হানা দেয় সিবিআই৷ বেশ কিছু ফাইল দেখার পর সচিবালয়ের ৩ তলার কয়েকটি ঘর সিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে৷ তার কিছুক্ষণ পরেই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে়ন, ‘আমার দপ্তরে হানা দিয়েছে সিবিআই৷’ হতচকিত হয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহল, তামাম দিল্লি৷

সিবিআই জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর নয়, তল্লাশি চালানো হয়েছে প্রধান সচিব রাজেন্দ্র কুমারের দপ্তর ও তাঁর বাড়িতে৷ রাজেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে৷ সে–কারণেই এই হানা৷ সচিবালয়ের ৩ তলায় রাজেন্দ্রর ঘরটি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের ঠিক পাশেই৷ ওদিকে, কেজরিওয়াল আবার টুইট করে জানান, ‘তাঁর দপ্তরে হানা দিয়েছে সিবিআই৷ সিল করে দেওয়া হয়েছে দপ্তর৷ দপ্তরে ঢুকে ফাইলপত্র পড়েছেন সিবিআই অফিসারেরা’, কেজরিওয়াল আঙুল তোলেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে৷ বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমার মোকাবিলা করতে না পেরে এই পথ নিয়েছে বিজ পি৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি কাপুরুষ, মনোবিকারগ্রস্ত৷ প্রধানমন্ত্রী বলুন, কী ফাইল ওঁর দরকার? আমি দেখিয়ে দেব৷ কেজরিওয়ালের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি৷

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি ও কংগ্রেসের কমল নাথ–সহ জে ডি (ইউ), আরজেডি, এনসিপি নেতারা৷ বিজেপি–র পক্ষ থেকে একাধিক নেতা, মন্ত্রী কেজরিওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন৷ সিবিআই হানা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কেজরিওয়াল তোপ দাগতেই ঝাঁপিয়ে পড়েন সঞ্জয় সিং, আশুতোষ, কুমার বিশ্বাস-সহ প্রমুখ আম আদমি পার্টির নেতারা৷ তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে আজ একটি কালো দিন। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কোনও আমলার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেত৷ তা না করে গায়ের জোরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ঢোকা হয়েছে৷ তাঁর ফাইল দেখা হয়েছে৷ এমনকি দপ্তর সিল করে দেওয়া হয়েছে৷ এটি আসলে নির্বাচিত আপ-সরকারকে বরখাস্ত করার মোদি সরকারের প্রথম অভিসন্ধি৷ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনও সরকার যখন ক্ষমতায় রয়েছে তখন সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে নূ‍ন্যতম সম্মান দেখানো উচিত৷ তাছাড়া ব্যাপম কেলেঙ্কারিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের নাম জড়িয়েছে৷ ললিত মোদি মামলায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরারাজে সিন্ধিয়ার নাম জড়িয়েছে৷ তাঁদের দপ্তরেও কি একইভাবে হানা দেবে সি বি আই?

উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া বলেন, আমরা খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি মোদি সরকারের প্রতি। আমাদের কোনও বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা পরিষ্কার করে জানান। এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সংসদেও৷ তুলকালাম চলে দুই সভায়৷ বিরোধীদের তুমুল আক্রমণের মুখে পড়ে সরকার৷ রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির কোনও সদস্য নেই৷ কিন্তু, সম্প্রতি মমতা ব্যানার্জি ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠতা হয়েছে৷ রাজনৈতিক বন্ধুত্বের পরিচয় মিলেছে অনেক আগে থেকেই৷ এদিন সকালেই রাজ্যসভায় কেজরিওয়ালের দপ্তরে সিবিআই হানা দেওয়ার বিষয়ে স্থগিত প্রস্তাব এনেছিল তৃণমূল৷ সুযোগ পেয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন তৃণমূলের র়াজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন৷ তিনি বলেন, এই ঘটনা স্বাধীনতার পর নজিরবিহীন৷ দেশে কি জরুরি অবস্থা ফিরে এসেছে? ঘটনার নিন্দা করে মোদি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ায় সিপিএম, জেডি (ইউ), আরজেডি এবং কংগ্রেস৷ শোরগোলে সভার কাজ বন্ধ করে দিতে হয়৷ লোকসভায় বিষয়টি তোলেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়৷ দুই কক্ষেই অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জবাব দিয়েছেন৷ রাজ্যসভায় তিনি বলেন, ‘ডেরেক ও’ব্রায়েনের কাছে সঠিক তথ্য নেই৷ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অথবা তাঁর শাসনকালের কোনও বিষয়েই সিবিআইয়ের এই অভিযান নয়৷ তাঁর দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে৷ এবং তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগের একটি বিষয়ে এই অভিযান৷’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই আধিকারিক কেজরিওয়ালের দপ্তরে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ সেই মামলায় এদিন ১৪টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে সিবিআই৷’ এরপরেই ওয়েলে নেমে এসে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বাঁচাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী দলের সাংসদরা৷ হইহল্লায় সভার কাজ স্থগিত করতে হয়৷ এরপরেই একটি টুইটে কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, ‘সংসদে অর্থমন্ত্রী মিথ্যা বলছেন৷ সিবিআই–ও মিথ্যা বলছে। আমার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে আমার দপ্তরেও হানা দেওয়া হয়েছে৷ বহু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দেখা হয়েছে৷ রাজেন্দ্র কুমার অজুহাত মাত্র৷ যে বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সে–ব্যাপারের ফাইল তো দেখতে চায়নি সিবিআই। আর রাজেন্দ্রর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ওরা আমাকে জানাল না কেন? এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে আমার এক মন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান অফিসারকে বরখাস্ত করেছি। মোদিজিকে বলছি, এভাবে আপনি হয়ত অন্যদের ভয় দেখাতে পারেন, কিন্তু আমাকে কিছু করতে পারবেন না!’ কেন্দ্র এবং বিজেপি-র তরফে আগাগোড়া চেষ্টা চলছে সব অভিযোগ অস্বীকার করার৷ বিজেপি বলেছে, কোন আইনে বলা আছে তল্লাশি চালানোর আগে সিবিআই–কে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে?

দুর্নীতি–বিরোধী আন্দোলনের গর্ভ থেকে উঠে এসে আপ সরকার এখন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারের পাশে দাঁড়াচ্ছে! সংসদীয় দপ্তরের মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘সিবিআই স্বাধীন সংস্থা৷ কেন্দ্র সিবিআই–কে নিয়ন্ত্রণ করে না৷ গণতন্ত্রে সবাই সবার কাজ করছেন৷’ বিজেপি-র বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে নয়, হানা দেওয়া হয়েছে তাঁর বিতর্কিত প্রধান সচিব রাজেন্দ্র কুমারের ঘরেই৷ ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের ডিরেক্টর থাকাকালে নিকটজনের বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন, এইরকমই অভিযোগ৷ তাঁর বাড়ি থেকে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে আজ৷ মিলেছে নানা সম্পত্তির হদিশ৷ এদিন সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ দিল্লি সচিবালয়ের সাফাই কর্মীদের সিবিআই দলটি এসে বলে, কাজ করতে হবে না৷ আপনারা চলে যান৷ এরপরই ছড়িয়ে যায় সিবিআই হানার খবর৷

এই ইস্যুতে আবারও উত্তাল হবে সংসদ৷ অন্যদিকে, সিবিআই আধিকারিক দেবপ্রীত সিং জানিয়েছেন, প্রধান সচিব রাজেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে৷ ২০০৭ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সরকারি পদের অপব্যবহার করে তিনি একটি ব্যক্তিগত কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ৷

সূত্র: আজকাল

১ thought on “এবার মোদির টার্গেট কেজরিওয়াল!

  1. বাংলাদেশের শেখ হাসিনা এবং
    বাংলাদেশের শেখ হাসিনা এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদি মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। এরা দুইজনই হচ্ছেন একনায়তান্ত্রিক মনোভাবের। রাজনীতিতে ভিন্নমতের অবস্থান তারা সহ্য করতে পারেন না। ভবিষ্যতে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *