বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রকল্প- কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে যানবাহন চলবে

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা সংযোজিত হতে চলেছে।নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের অভিজ্ঞতা অনেক উন্নত দেশেরও নেই। চীন ইয়াং সিকিয়াং নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করে সাংহাই নগরীকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনে’ পরিণত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চাচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগরীও হবে ওয়ান সিটি টু টাউন। আর তাই যে দেশের এ কাজের অভিজ্ঞতা আছে, সেই চীনের এক কোম্পানিকেই কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছেন সরকার। এটি বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রকল্প। এর মাধ্যমে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে যানবাহন যাতায়াত করবে। কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে বর্তমানে চালু ২টি ব্রিজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের চাপ কমানো হবে টানেল নির্মাণের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে শুধু সেতু নয়, সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রাম শহরের যানজটে আটকা পড়তে হবে না। একইভাবে কক্সবাজার থেকে ঢাকা আসতে চট্টগ্রাম শহরের যানজট এড়িয়ে চলা যাবে।টানেলের মধ্য দিয়ে দুই পাড়ে সেতুবন্ধন রচিত হলে নদীর পূর্ব পাশে আনোয়ারা-পটিয়া থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ এলাকা উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় মিলিত হবে। শিল্পায়নের পাশাপাশি সেই অঞ্চলের লাখো মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে এমন প্রত্যাশা থেকেই কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই প্রকল্প যথাযথভাবে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হলে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন আসাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্প শেষ হলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থার দৃশ্যপটে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *