শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসঃকিছু কথা ।।

দেখতে দেখতে আরেকটি
বছর চলে গেলো ।
আমাদের সবার বয়স
যেমন ১ বছর বেড়ে গেলো
তেমনি আমাদের প্রিয়
দেশটাও ৪৪ পেরিয়ে
৪৫ এর দিকে ধাবিত ।

আজ ১৪ ডিসেম্বর ।
বাঙ্গালী ইতিহাসের
কালো দিনগুলির একটি ।
১৯৭১ সালের আজকের
এই দিনে সর্বমোট ৩৬০
জন বুদ্ধিজীবীকে নৃশংসভাবে
হত্যা করা হয়েছিলো ।
এতোটা নৃশংসভাবে,এতো
মেধাবীকে হত্যা করার
নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে
দ্বিতীয়টি নেই ।

আর এই হত্যাকান্ডে
সাহায্য করেছিলো এদেশীয়
জারজ আল বদর,আল
শামস,রাজাকার,জামায়াত ।
কি নৃশংসতায় না-ই মারা
হয়েছিল জাতির শ্রেষ্ঠ
সন্তানদের ।
মেয়েদের নাক খুঁচিয়ে
উঠিয়ে ফেলা,
ঠোঁট টেনে ছিঁড়ে ঝুঁলিয়ে
দেওয়া,
স্তন কেঁটে ফেলা অর যোনীকে

দেখতে দেখতে আরেকটি
বছর চলে গেলো ।
আমাদের সবার বয়স
যেমন ১ বছর বেড়ে গেলো
তেমনি আমাদের প্রিয়
দেশটাও ৪৪ পেরিয়ে
৪৫ এর দিকে ধাবিত ।

আজ ১৪ ডিসেম্বর ।
বাঙ্গালী ইতিহাসের
কালো দিনগুলির একটি ।
১৯৭১ সালের আজকের
এই দিনে সর্বমোট ৩৬০
জন বুদ্ধিজীবীকে নৃশংসভাবে
হত্যা করা হয়েছিলো ।
এতোটা নৃশংসভাবে,এতো
মেধাবীকে হত্যা করার
নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে
দ্বিতীয়টি নেই ।

আর এই হত্যাকান্ডে
সাহায্য করেছিলো এদেশীয়
জারজ আল বদর,আল
শামস,রাজাকার,জামায়াত ।
কি নৃশংসতায় না-ই মারা
হয়েছিল জাতির শ্রেষ্ঠ
সন্তানদের ।
মেয়েদের নাক খুঁচিয়ে
উঠিয়ে ফেলা,
ঠোঁট টেনে ছিঁড়ে ঝুঁলিয়ে
দেওয়া,
স্তন কেঁটে ফেলা অর যোনীকে
বেয়োনোট দিয়ে খুঁচিয়ে
ছিঁন্নভিন্ন করে দেওয়া
অথবা পুরুষের গোপনাঙ্গে
ইলেক্ট্রিক শক,চোখ উঠিয়ে
ফেলা,হৃদপিন্ড বের করে
ফেলা,কলিজা ছিঁড়ে ফেলা
আর বেয়োনোটের খোঁচায়
চিড়ে ফেলা বুক-কতটা
নৃশংসতায় ওরা শহীদ
হয়েছে ভাবা যায় !
ওরা হয়তো মরার সময়
ভীতু ছিলনা,তাদের বুক
কাঁপেনি কিন্তু একটা আফসোস
রেখে ওদের নৃশংসভাবে
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে
হয়েছে-
একটা স্বাধীন দেশ,
রক্তিম লাল সূর্য আর
উড়তে থাকা লাল-সবুজ
পতাকা উড়া ওরা দেখে
যেতে পারেনি ।

কি বলবো লজ্জার কথা !
আজ সেই হত্যাকান্ডের
সাথে জড়িত অমানুষগুলিকে
বাঁচাতে রাজপথে মিছিল
হয়,রাষ্ট্রীয় সম্পদ
ভাংচুর হয়,প্রতিবাদ হয়,
তাদের পক্ষে আইনজীবী
পয়দা হয় আরো কত কি !
থু,ঘেন্নায় বমি আসে,
ওয়াক থু ।।

ধর্মের যাঁতাকলে পিষ্ঠ
বাঙ্গালী জনগন আজ
রাজাকারকে মাওলানা
বলে চিনেছে-
মাওলানা বিরাট পীর,
ভালা মানুষ,জান্নাতী
চেহারা,কুদরতে তদবীর,
কি মধুর কন্ঠ,সত্‍
রাজনীতিবিদ,
দুর্নীতি করেনা,আল্লাহর
দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত
আরো কত কি ।
আসলে প্রত্যেকটা এক
একটা রাজাকার,
এক একটা শুওরের বাচ্চা ।।

৩৬০ জন বুদ্ধিজীবী
এক দিনেই হত্যা করা
হয়েছিলো কিন্তু ১৯৭১
সালের ২৫ মার্চ থেকে
যে মেধা হত্যা প্রতিযোগীতা
শুরু হয়েছিলো তার
হিসাব হয়তো স্বয়ং
ঈশ্বরের কাছেও নেই ।

অসংখ্য মেধাবী শিক্ষক,
ছাত্র,ডাক্তার,কবি,
লেখক,চিন্তাবিদ,দেশপ্রেমিককে
সেদিন বাসা থেকে ধরে
নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো ।
কালো কাঁপড়ে তাদের
চোখ বাঁধা হয়েছিল
তারপর সারিবদ্ধ করে
তাদের হত্যা করা হয় ।
মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা
খুঁচিয়ে বুক ফুঁটো করে
রেখে গেছে ।
কতটা বর্বর,বদমায়েশ
হলে এই কাজ করা যায় !
আর আজ নতুন জারজ
প্রজন্মের উদ্ভব ঘটেছে ।
নব্য এসব কুকুরের
বাচ্চাদের মুখে শোনা যায়
পাকিস্তান সম্পর্কে মধুর
বাণী ।
এইসব নির্লজ্জ বেহায়া,
জারজ,শুওরের বাচ্চাদের
কয়েকটা প্রচলিত ডায়ালগ
নিম্নরূপঃ-
“৩০ লাখ শহীদ হয় নাই,
হইছে মাত্র ১ লাখ”,
“খেলার মধ্যে রাজনীতি
আনা ঠিক না,ক্রিকেটে
আমরা পাকিস্তান করি”,
“পাকিস্তান আমাদের ভাই
কারন মুসলমান মুসলমানের
ভাই” আরো কত শত কথা ।

নিঃসন্দেহে এইসব কুলাঙ্গারের
বাচ্চারাই নব্য রাজাকার,
১৯৭১ সালে এইধরনের
মানসিকতার মানুষগুলিই
রাজাকারে পরিণত হয়েছিলো ।
এরা জাতীর জন্য হুমকি,
রক্ত দিয়ে গড়া স্বাধীনতা
ও সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে
বড় শত্রু এরা ।।

বাঙ্গালী ইতিহাসের সবচেয়ে
বড় প্রতিভাবান কলমবাজ
হচ্ছে জহির রায়হান ।
এই মানুষটি তাঁর ভাই
শহীদুল্লাহ কায়সারকে
খুঁজতে বেরিয়ে আর ফিরে
আসেনি ।
কতটা নৃশংসতায় এই
প্রতিভা হত্যা করেছিলৈ ওরা !
বিবস্ত্র,নগ্ন,হাত-পা বেঁধে
গুলিতে ঝাঁঝরা করার আগে
কি ওরা একবারো ভাবেনি
ওরা কি হত্যা করতে যাচ্ছে !
ভাববে কেন,ওরা তো ওটাই
চেয়েছিল ।

পাকিস্তান আমাদের
জন্ম শত্রু ।
স্বাধীনতার ৪৪ বছর যাই
যাই করছে অথচ এখনো
ওরা আমাদের অভ্যন্তরীণ
ব্যাপারে নাক গলাতে আসে ।

আমি জানিনা,
শেখ হাসিনা ও তার
সরকার দেশের পাছায়
যতোই বাঁশ দিক অথবা
না দিক শুধুমাত্র রাজাকার
আর হত্যাকারীদের ফাঁসিতে
ঝুলানোর জন্য আমৃত্যু
শেখ হাসিনা ও আওমীলীগকে
স্যালুট দিয়ে যাবো ।
এবং অনুরোধ থাকবে-
দেশে যে ৫৫ হাজার
রাজাকার (এতোদিনে হয়তো
অনেক মরে গেছে তাই সংখ্যটা কমতে পারে,কেউ কেউ তো
মুক্তিযোদ্ধাতে ডাইভার্ট হয়েছে 😛 ) আছে তাদের
পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে
পর্যায়ক্রমিকভাবে ফাঁসিতে
ঝুলানো হোক ।
রাজাকার প্রত্যেকটা দলে
কমবেশী আছে ।
৫৫ হাজার রাজাকার
যাবে কৈ ?
রাজাকারের তালিকা চাই ।।

যা হোক,
আমি ঠিক জানিনা ৩৬০
জন বুদ্ধিজীবী বেঁচে থাকলে
৪৫ বছর পর বাংলাদেশ
আজ কোথায় দাঁড়াতো ।
তবে এ কথা সত্য
আমাদের যদি একটা
জহির রায়হান,মুনীর
চৌধুরী,শহীদুল্লাহ কায়সার,
জ্যোতীর্ময় গুহ ঠাকুর,শহীদ
সাবের,মোঃ ফজলে
রাব্বী (ইনি পেশায় একজন
মেধাবীডাক্তার ছিলেন তাই হয়তো তাঁর হৃদপিন্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল),আলতাফ মাহমুদ,
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত,দার্শনিক
ড.গোবিন্দ চন্দ্র আরো অসংখ্যজন মেধাবী মুখ-
তাহলে হয়তো আজ
বাংলাদেশ একটা
মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর অথবা
ইউরোপের কোনো দেশের
মতো হতো ।।

ছোট মুখে আর কি বলবো,
সত্যি কথা বলতে কি-
বুদ্ধিজীবীদের যা বলার
ছিল বাংলাদেশ আজ ঠিক
তার উল্টো ।
প্রকট দীনতা,নিরাপত্তাহীনতা,
অসহিষ্ণুতা,অসম্প্রীতি,
অনিশ্চিত এগুলো দেখলে
মনে হয় দেশটা আজো
১৯৭১ সালের ১৪
ডিসেম্বরেই পড়ে আছে !
মুক্তিযোদ্ধা হয় রিকশাচালক
আর রাজাকারের গাড়িতে
থাকে লাল-সবুজ পতাকা,
মুক্তিযোদ্ধা গলায় প্ল্যাকার্ড
ঝুলিয়ে ভিক্ষা করে আর
বিজয় দিবসে কনসার্ট
উপলক্ষে উড়ানো হয়
লাখ টাকা,
মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে অর্থের
অভাবে শশুরবাড়িতে
লাঞ্চিত হয় আর বড়লোকের
ছেলে-মেয়েরা
ক্লাব,পার্টি,পার্কে অর্থ ঢেলে
দেয় !
৩৬০ জন বুদ্ধিজীবী
থাকলে হয়তো ব্যাপারটা
এরকম হতো না ।
মেধা যে কি জিনিস তা
আমরা বুঝিনা,
আমরা মেধার মূল্যায়ণ
করিনা কারন আমরা
মেধাবীদের দেখতে পাইনি ।
স্বাধীন একটা দেশে
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য
তারা কিছুই রেখে যেতে
পারেনি শুধু একটা একটা
লাল-সবুজ পতাকা দিয়ে
গেছে .
কিন্তু পতাকাতে তো আর
পেট চলেনা তাই খিদের
জ্বালায় অস্থির শিশুটি
ডাস্টবিন হাঁতড়ায় আর
পতাকা পড়ে থাকে
রাজাকারের গাড়িতে !!

যা হোক,
আজকের এই দিনে এবং
পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং
গত ৪৫ বছর ধরে যতো
বুদ্ধিজীবী শহীদ হয়েছে
তাদের প্রত্যেকে প্রতি জানাই
বিনম্র শ্রদ্ধা ।
আসুন,
দিবসে দিবসে দেশপ্রেম
দেখানো ত্যাগ করে ৩৬৫
দিনই দেশের কথা ভাবি ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *