অভিজিৎ রায় প্রসঙ্গ এবং কিছু অপ্রিয় কথন

পুত্রের লাশ কাঁধে নেয়ার অনুভূতি কেমন, সেটা কাউকে বুঝিয়ে বলার কিছুই নাই। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য হয়তো ভিন্ন অর্থ বহন করে। রণক্ষেত্রে সহযোদ্ধার মৃত্যু এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আঙুলে ট্রিগার চেপে শত্রু খতম করতে পারেন যিনি, তিনি কি অত সহজে হার মানতে পারেন? ড. অজয় রায়, যাঁকে মুরতাদ ঘোষণা করে পোষ্টার ছাপানোর পরও মৌলবাদী-ধর্মান্ধ-জঙ্গী গোষ্ঠীর ভয়ে এই বয়সেও দমিয়ে রাখা যায়নি, শিক্ষকতার পাশাপাশি দূর্দান্ত গতিতে লিখে গেছেন অবিরত, পুত্রের মৃতদেহের ভারও তাকে ন্যুব্জ করতে পারেনি। অকপট বলে গেছেন তাঁর অনুভূতির কথা।


পুত্রের লাশ কাঁধে নেয়ার অনুভূতি কেমন, সেটা কাউকে বুঝিয়ে বলার কিছুই নাই। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য হয়তো ভিন্ন অর্থ বহন করে। রণক্ষেত্রে সহযোদ্ধার মৃত্যু এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আঙুলে ট্রিগার চেপে শত্রু খতম করতে পারেন যিনি, তিনি কি অত সহজে হার মানতে পারেন? ড. অজয় রায়, যাঁকে মুরতাদ ঘোষণা করে পোষ্টার ছাপানোর পরও মৌলবাদী-ধর্মান্ধ-জঙ্গী গোষ্ঠীর ভয়ে এই বয়সেও দমিয়ে রাখা যায়নি, শিক্ষকতার পাশাপাশি দূর্দান্ত গতিতে লিখে গেছেন অবিরত, পুত্রের মৃতদেহের ভারও তাকে ন্যুব্জ করতে পারেনি। অকপট বলে গেছেন তাঁর অনুভূতির কথা।

ধর্মান্ধদের সাথে প্রগতিশীলদের পার্থক্য হলো- ধর্মান্ধরা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ কাটে আল্লার নাম নিতে নিতে। মানুষ কাটা তাদের কাছে পূণ্যের কাজ, পূণ্য লাভের আশায়-অবারিত হুরপরীর সাথে রতিক্রিয়ার লোভে তারা বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর যুক্তিবাদী মানুষ যুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়ে অন্ধকার দূর করতে সচেষ্ট হন। একজন যুক্তিবাদী মানুষ কখনো কারো গলায় ছুরি চালায় না অলীক কিছু পাওয়ার লোভে। ছুরির প্রতিপক্ষ ছুরি হতে পারে, কিন্তু যুক্তির প্রতিপক্ষ হিসেবে ছুরি তখনই সরব হয়, যখন খন্ডন করার মতো কোন যুক্তি থাকে না।

অভিজিৎ রায় এর যতোগুলো বই বেরিয়েছে, কোন ধার্মিক ব্যক্তি অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে জানার জন্যও যদি এর দুই-একটা পড়েন, তবে তিনি অভিভূত হয়ে যাবেন সত্যিকার অর্থে। বইগুলো তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। জানার আগ্রহ তৈরী করে দেবে। বিজ্ঞানকে অতি-ধার্মিকরাই অছ্যুৎ একটা বিষয় হিসেবে কোরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর কোরান ও ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিজ্ঞান লেখক-যুক্তিবাদী মানুষদেরক বরাবরই অতি-ধার্মিকদের চক্ষুশূল হতে হয়েছে।

অতি-ধার্মিকদের দেশ ইরানে আলি দস্তি বহাল তবিয়তেই বেঁচে ছিলেন, খোমেনি সাম্রাজ্য তার মাথার দাম নির্ধারণ করেনি। মুহাম্মদকে নিয়ে গবেষণা করেছেন এই গবেষক। তার লেখা বইটি সেখানে নিষিদ্ধও হয়নি, কিন্তু আমাদের দেশের অতি ধার্মিকরা বইটি না পড়েই কাল্পনিক মাইক্রোস্কোপ দিয়ে নবি-বিদ্বেষ খুঁজে পেয়েছে, মৃত আলি দস্তির ফাঁসির দাবিও করেছে! যৌক্তিক কোন কারন দেখাতে না পেরে বইটি নিষিদ্ধের দাবিও করেছে। মাথামোটা বাংলা একাডেমি সেটাকে সমর্থনও জানিয়েছে। বাংলা একাডেমির বইমেলায় কত হাজার হাজার চটি-বই বিক্রয় হয়, সেটা যারা বইমেলায় যাওয়া আসা করেন, তারা জানেন।

অভিজিৎ রায় এর ক্ষেত্রে যা হয়েছে, তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলো একশ্রেণীর মানুষের চক্ষুশূল হয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। বিজ্ঞানকে যারা ধর্মব্যবসার প্রতিবন্ধকতা মনে করে, তারাই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। আমেরিকায় সুখে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও নিজের খেয়ে পরে বিজ্ঞানের কঠিনতম বিষয়গুলো সহজবোধ্য ভাষায় শুধুমাত্র বাঙালি পাঠকদের জন্য লিখে গেছেন এত ব্যস্ততার মাঝেও।

মাদ্রাসা লেভেলের বিজ্ঞান ও ইংরেজির দৌড় সম্পর্কে অনেকেই জানেন, নতুন করে বলার কিছুই নাই। মাদ্রাসা থেকে পাশ করা একটা ছেলের কাছে বিজ্ঞান তাই অছ্যুৎ ব্যাপার। তার ব্রেইন ওয়াশ করে সেখানে বিজ্ঞান সম্পর্কিত নেগেটিভ ধারণা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে বিজ্ঞান লেখকদেরকে নাস্তিক, এবং কতল করা ওয়াজিব- এর বীজ বপন করে দেয়া হলে, সে ব্যাটারীচালিত পুতুলের মতো হিতাহিত জ্ঞানের ব্যবহার না করেই ফর্মূলা অনুযায়ী কাজটি করে ফেলবে।

জঙ্গীবাদে মদদদাতারা এখন যে পলিসি নিয়েছে সেটা হলো কচি বয়স থেকেই লালন পালন করে ট্রেনিং দিতে থাকে টার্গেট করা ছেলে-মেয়েদেরকে। আগের মতো মাদ্রাসাভিত্তিক নয় শুধু, এখন ভালো ভালো স্কুল-কলেজ থেকেও রিক্রুট করে। তাদেরকে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয়। এদের মেধাকে জঙ্গীবাদী কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হয়। আমি দেখেছি ফার্মেসি, মেরিন সায়েন্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং…সহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়া অতি মেধাবীরাও সেই দলে আছে! অবাক হয়ে ভাবি, এটা কীভাবে সম্ভব! কিন্তু এটাই সম্ভব করেছে তারা। বিজ্ঞানকে তারা ব্যবহার করছে জঙ্গীবাদী কাজে।

দিনভর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার বদনাম করে তারা ঠিকই অস্ত্র কিনছে আমেরিকা থেকে। বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে অন্যকে পানিপড়া-তেলপড়া দিয়ে শফি নিজে ভর্তি হয় হাসপাতালে! পানিপড়া-তেলপড়া বেচে ধান্দা করা যায়, কিন্তু বিজ্ঞানকে অগ্রাহ্য করে বেঁচে থাকা অসম্ভব তাদের জন্য। এটা তারা বুঝলেও তাদের অনুসারীরা বুঝবে না, এর কারন ওই অন্ধত্ব। সত্য ও কল্পনার মাঝের ফারাক হলো- কল্পনা ক্ষণস্থায়ী, সত্য চিরস্থায়ী। বিজ্ঞান উন্নত হতেই থাকবে, আরো প্রসারিত হবে। কিন্তু কল্প-কাহিনী একদিন ভ্যানিশ হয়ে যাবে।

জীবিত অভিজিৎ রায় তাদের কাছে ছিলো মূর্তিমান আতঙ্ক, তাই তাঁকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মৃত অভিজিৎ রায়ের বক্তব্য প্রচার করে চলেছে তাঁর রেখে যাওয়া অমূল্য বইগুলো। চুপ করে থাকা আমাদের সুশীল সমাজকে কষিয়ে চড় মেরে যাচ্ছে প্রতি মুহুর্তে। এই বইগুলো কি থামাতে পেরেছে অভিজিৎকে? বরং আগের চেয়ে কয়েকগুণ মানুষ এখন তাঁকে চিনেছে, তাঁর বই কিনছে, পড়ছে, জানছে। হয়তো এদের মাঝেই রয়েছে হাজারো ভবিষ্যৎ অভিজিৎ। অন্ধত্ব নিপাত যাক, অভিজিৎরা জেগে উঠুক। মুক্তিচিন্তার জয় হোক।

বি.দ্র: অনেকেই অভিজিৎ রায় এর বইয়ের ডাউনলোড লিংক চেয়েছেন দেখি বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে। আমি অনুরোধ করবো, দয়া করে বইগুলো কিনে পড়ুন। লেখক-প্রকাশকদেরকে প্রমোট করুন। অভিজিৎ রায়ের বইগুলো বিভিন্ন প্রকাশনীর হওয়ায় অনেকের জন্যই ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করা কঠিন। যারা অনলাইনে কিনতে চান, তাঁরা কারিগর.কম এর সহযোগিতা নিতে পারেন। একমাত্র তাদের কাছেই দেখলাম সবচেয়ে ভালো সংগ্রহ আছে। এটাকে বিজ্ঞাপণ হিসেবে না দেখার অনুরোধ রইলো, এটা অভিজিৎ রায়’কে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার একটা সংকল্প।
কারিগর.কম এর লিংক-অভিজিৎ রায়

১৫ thoughts on “অভিজিৎ রায় প্রসঙ্গ এবং কিছু অপ্রিয় কথন

  1. অভিজিৎ রায় এই অল্প সময়ে যা
    অভিজিৎ রায় এই অল্প সময়ে যা রেখে গেছেন তা হজম করতে বাঙালির কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে এটা ঠিক, জীবিত অভিজিতের চেয়ে মৃত অভিজিৎ অনেক শক্তিশালী।

  2. পিডিএফ বই পড়ে সুখ পাই না।
    পিডিএফ বই পড়ে সুখ পাই না। অভিজিৎ রায়ের বই কয়েকটা পড়া আছে। বাকীগুলো সংগ্রহ করে পড়তে হবে।

    1. পিডিএফ বই যদি লেখক/প্রকাশকের
      পিডিএফ বই যদি লেখক/প্রকাশকের অনুমতিতে প্রকাশিত হয়, তবে সেটা সংগ্রহ করা যেতে পারে। যদি অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত হয়, তবে সেটা কপিরাইট লঙ্ঘন। আমাদের সবারই উচিত অভিজিৎ রায় এর বইগুলো পড়া। শেখার কোন বয়স নাই।

  3. যেভাবে অভিজিত্‍ হত্যার
    যেভাবে অভিজিত্‍ হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ,আপনি ইসলাম ,হুরপরী ,জান্নাত,আল্লাহু আকবার টেনে অবমাননা করলেন তাতে আপনার প্রশংসা না করে পারা যায়না !
    আপনি কি জানেন ব্লাশফেমির আইন সম্বন্ধে যে ইসলাম কে নিয়ে এরকম বকলেন?
    আপনি কি করে বুঝলেন যে অভিজিত্‍ হত্যা মুসলমান কর্তৃক হয়েছে ?
    আপনি কি দেখেছেন খুনি কে খুনি কি আল্লাহু আকবার কিংবা ভগবান হু আকবার বলে গলা মাথায় কোপ বসিয়েছিল?
    নাকি খুনি টুপি পাঞ্জাবী পরিহিত কেউ ছিল ?
    যদি খুনিকে না দেখে থাকেন তাহলে অভিজিত্‍ হত্যায় এভাবে ইসলামকে টেনা আনা আপনার অনুচিত্‍ আর দেখে থাকলে সমালোচনা করতে পারেন কারণ এখনো খুনি কে তা বের হয়নি ,আগে বের হোক তারপর না হয় সমালোচনা করা যাবে।

    1. অভিজিৎ রায়কে কি তার বউ
      অভিজিৎ রায়কে কি তার বউ গুন্ডাপান্ডা লাগিয়ে হত্যা করছে বলে মনে করেন? নাকি ধারণা করছেন তাকে হরেকৃষ্ণ পার্টি খুন করছে? তাকে যারা খুন করছে তারা কেন খুণ করছে সেটা খুনের পরেই টুইটারবার্তায় স্বীকার করেছে। তারা কোরানের নির্দেশ মেনে আল্লাহুআকবর বলেই খুন করে।

      1. ইকারাস আপনাকে বার বার আমি মনে
        ইকারাস আপনাকে বার বার আমি মনে করিয়ে চাই ,গুজরাটের ট্রেনে RSS আগুন দিয়ে মুসলমানদের ফাঁসিয়েছিল ।কথিত আনসারউল্লাহ্ টিমের যে অনলাইন ছাড়া বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই না আছে সে বিষয় কিন্তু খোলসা হচ্ছে।
        আসলে এই কথিত আনসারউল্লাহ্ কারা সে বিষয়ে অনেকে রিসার্চ ও করছে ,আপনাকে সে রিসার্চ দেখালে তো আবার বলবেন ,”শূয়রটাকে পাছায় লাথি মেরে বের করে দেয়া হোক”
        কাজেই প্রমাণিত হওয়ার আগে কোন সম্প্রদায়কে ,তাদের বিশ্বাস কে এভাবে আঘাত করা কি একদমই উচিত্‍ ?
        অভিজিত্‍ কে হত্যার আগে কারা তার সাথে আলাপ করেছিলেন ?
        তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছেনা কেন ?
        আর সত্যিই যদি আনসারউল্লাহ নামক এই সংগঠনটি করেই থাকে তবে তাদের দায় সমগ্র মুসলিম কেন নিবে ?
        আর কোরআনের নির্দেশ তাঁরা কি মেনেছে নাকি আন্দাজ?
        কোরআন পড়ে ভুল ব্যাখা তো আপনিও করেন দেখছি অকা ?

        1. সজল: মুসলমানদেরকে ফাঁসানোর
          সজল: মুসলমানদেরকে ফাঁসানোর কিছু নাই নতুন করে। তারা নিজেদের জালে নিজেরাই আটকায়। আনসারুল্লারা মুসলমান, তারা যখন হত্যা করে, তখন তাদেরকে সহি মুসলমান ক্যাটাগরী থেকে বাদ দেয়া হয়- তাই না? হত্যা করার পর এখন বলছেন এদের কর্মের দায়ভার মুসলমানরা কেন নেবে? তাহলে তাদের কর্মের দায়ভার কারা নেবে এটা বলেন? তারা ব্যক্তিগত রোষের কারনে কাউকে মারছে না, পুরো সম্প্রদায়ের দেখভালের ঠিকাদারী নিজেদের কাঁধে নিয়েই হত্যাযজ্ঞে নেমেছে। কই, তাদের উৎপত্তি থেকে এখন অব্দি বিশ্বের কোন মুসলমান সংগঠনকে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদে নামতে দেখলাম না! তারা যেহেতু সাধারণ মুসলিমদের নাম খারাপ করছে (আপনার বক্তব্যের সুরে), তাদেরকে প্রতিহত করা হচ্ছে না, তাদের মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়নি, মুরতাদ ঘোষণা করা হয়নি! উল্টো নীরব থেকে নৈতিক সমর্থন যুগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফাউল যুক্তি বাদ দিয়ে সভ্য মানুষের মতো কথা বলুন। আইএস-বোকোহারাম-তালেবান-আনসারুল্লা-হিজবুত-ব্রাদারহুড… ইত্যাদি বালছাল সংগঠনের ‘সু’কর্মের বৈধতা প্রসঙ্গে বিশ্বের মুসলিম সমাজ একেবারেই নিশ্চুপ।
          কোরানের ব্যাখ্যা আপনি খুব ভালোই জানেন মনে হচ্ছে! কোরানে অনেক জায়গাতেই আছে বিধর্মী থেকে চাঁদাবাজি(জিজিয়া কর)র মাধ্যমে তাদেরকে জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার বিধান, ইহুদি-নাসারাদেকে হত্যার বিধান, ইসলামের বিপক্ষে কেউ কিছু বললে তার কল্লা ফেলে দেয়ার বিধান। চাইলে রেফারেন্স দিতে পারি।

          1. আনসারুল্লারা মুসলমান, তারা

            আনসারুল্লারা মুসলমান, তারা যখন হত্যা করে, তখন তাদেরকে সহি মুসলমান ক্যাটাগরী থেকে বাদ দেয়া হয়- তাই না?

            হেহেহেহে আমি তো শ্যাষ এমুন ক্ষুরধার যুক্তির কাছে!এদেরকে সহীহ্ মুসলমান ক্যাটেগরী থেকে বাদ দেয়ার মুখ্য কারণ হল সূরা ইউনূসের ৩১ নং আয়াত এবং ব্লাশফেমির আইন ।

            হত্যা করার পর এখন বলছেন এদের কর্মের দায়ভার মুসলমানরা কেন নেবে? তাহলে তাদের কর্মের দায়ভার কারা নেবে এটা বলেন?

            আপনার যুক্তি বাইবেলের আইনকে হার মানায়,পুত্র অন্যায় করলে পিতাকে তার দায় ভার নিতে হবে এমন টাইপের যুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করা কতটা ছ্যাব্লামি আশা করি এ বিষয়ে আপনার ধারনা আছে ।খুন যাদের কর্তৃক হয়েছে একমাত্র দায়ভার তাদেরই ।যদি এ যুক্তিতে আপনার পেট না ভরে তাহলে আপনি কয়টা নাস্তিকের খুনের দায়ভার নিবেন?
            ৩০ কোটির কয়কোটি আপনি নিবেন ?
            (জোসেফ স্ট্যালিন৪২,৬৭২,০০০|মাও সে তুং৩৭,৮২৮,০০০|চিয়াংকি শেখ ১০,২১৪,০০০|ভ্লাদিমির লেনিন৪,০১৭,০০০|তোজো৩,৯৯০,০০০|পল পট২,৩৯৭,০০০
            -গবেষনা ,রুমেল।লেখক ,গবেষক ,যুক্তরাষ্ট্র)
            কত খুনের দায় নিতে আপনি প্রস্তুত আছেন আওয়াজ দেন ।
            প্রায় ১৭ কোটি পুরুষ, মহিলা এবং শিশুকে গুলি করে, পিটিয়ে, নির্যাতন করে, কুপিয়ে, পুড়িয়ে, অভুক্ত রেখে, বরফে জমিয়ে, পিষে বা জোর করে কাজ করিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। জীবন্ত পুঁতে, পানিতে ডুবিয়ে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে, বোমা মেরে, বা অন্য আরও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে সরকারগুলো নিরস্ত্র, অসহায় দেশবাসী এবং বিদেশীদের হত্যা করেছে। মোট মৃতের সংখ্যা ৩০ কোটিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
            বলি আপনি কয়কোটি নিজের মাথায় চাপিয়ে নিবেন কত কোটি কত কোটি?
            যদি একটা খুনের দায় ও না নিতে চান তাহলে মুসলমানদের বিপক্ষে পাল্টা যুক্তি দেখানোর অধিকার আপনার নেই ।

            তারা ব্যক্তিগত রোষের কারনে কাউকে মারছে না, পুরো সম্প্রদায়ের দেখভালের ঠিকাদারী নিজেদের কাঁধে নিয়েই হত্যাযজ্ঞে নেমেছে। কই, তাদের উৎপত্তি থেকে এখন অব্দি বিশ্বের কোন মুসলমান সংগঠনকে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদে নামতে দেখলাম না!তারা যেহেতু সাধারণ মুসলিমদের নাম খারাপ করছে (আপনার বক্তব্যের সুরে), তাদেরকে প্রতিহত করা হচ্ছে না, তাদের মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়নি, মুরতাদ ঘোষণা করা হয়নি! উল্টো নীরব থেকে নৈতিক সমর্থন যুগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

            হাঃ হাঃ হাঃ বলি জঙ্গীদের বিপক্ষে তাহলে কি নাস্তিকরা জিহাদ করতে নেমেছে ?
            যে মুসলিম রাষ্ট্রে এদের উত্‍পত্তি দেখা যায় সেই রাষ্ট্রের সেনাবাহীনি ,জনগণ,সরকার কিন্তু এদের বিপক্ষে জিহাদ করতে নামে বলি তারা কি খ্রীষ্টান কিংবা নাস্তিক?
            যারা অস্ত্র দিয়ে পারেনা তাঁরা অন্যভাবে ঐসকল সন্ত্রাসীর বিপক্ষে জিহাদ করে যেমন ,অনলাইন।আপনি অনলাইনে খোঁজ নিয়ে দেখুন মুসলমানরা এদের বিপক্ষে কতটা সোচ্চার।আচ্ছা বাংলাদেশের কথাই ধরি , যখন বাংলায় কোন জঙ্গী সংস্থা ধরা পরে তখন কি কোন মুসলমান রাস্তায় নেমে এদের মুক্তি চেয়ে রাস্তায় মিছিল করেছে কিংবা এদের পক্ষে কথা বলেছে ?

            আইএস-বোকোহারাম-তালেবান-আনসারুল্লা-হিজবুত-ব্রাদারহুড… ইত্যাদি বালছাল সংগঠনের ‘সু’কর্মের বৈধতা প্রসঙ্গে বিশ্বের মুসলিম সমাজ একেবারেই নিশ্চুপ।

            হাঃ হাঃ হাঃ ব্রাদার হুড ও জঙ্গী হয়ে গেল ?
            আমেরিকা যাকে জঙ্গী ট্যাগাইবে অনলাইন নাস্তিককূল তাঁদেরই জঙ্গী আখ্যা দিতে ব্যস্ত হয়ে পরে !এক সময় আমেরিকার কাছে বাঙ্গালীরাই জঙ্গী ছিল বটে আজ তাদের দেওয়া পদবীতে নাস্তিককূল ও দেখছি দিশেহারা!
            আচ্ছা এদের বিপক্ষে সোচ্চার হয়ে কি এদের কে রকেট হামলা করবে ?
            বলি সকল মুসলিম রাষ্ট্রের কি আমেরিকার মত এত অস্ত্রে সুসজ্জিত যে এদের বিপক্ষে অস্ত্র নিয়ে জিহাদ করবে ?
            আর এদের বিপক্ষে মুসলিম রাষ্ট্র যে এদের বিপক্ষে একেবারে নিশ্চুপ এ গবেষনা আপনি কোথায় বসে করলেন ?
            গাছ তলায় নাকি জবাব দেয়ার সময় কীবোর্ড চাপতে চাপতে?

            কোরানে অনেক জায়গাতেই আছে বিধর্মী থেকে চাঁদাবাজি(জিজিয়া কর)র মাধ্যমে তাদেরকে জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার বিধান, ইহুদি-নাসারাদেকে হত্যার বিধান, ইসলামের বিপক্ষে কেউ কিছু বললে তার কল্লা ফেলে দেয়ার বিধান।

            আপনি কি সূরা তওবা-র ২৯ নং আয়াতের উদ্বৃতি দিতে চান ?
            ইসলামিক রাষ্ট্রে অধিনস্ত জাতী ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিককে সাম্যের ভিক্তিতে রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদান করা এবং জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করা মুসলিম শাসকদের জন্য ফরজ কাজ যা আল্লাহ ও রসুল (স:) কর্তৃক আরোপিত আইন।আচ্ছা রাষ্ট্রীয় ‘কর’ কোন ধরনের চাঁদা?
            বলি ঐ কোরআনের আইনেই যে মুসলমানদের যাকাত দেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে ঐটা কোন ধরনের চাঁদা ?
            যেহেতু তাদের কাছ থেকে যাকাত নেয়া যায়না সেহেতু তাদের কাছ থেকে কর নেয়াই যায় ।মুসলিম রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোন ধর্মীয় যুদ্ধে অংশ নিতেও তাদের উপর চাপাচাপি করা যায় না আর কোন যুদ্ধে তারা অংশগ্রহণ করেছে এমন প্রমাণ ও পাওয়া যায়না। অথচ তারা রাষ্ট্রের সকল সেবা মূলক সুবিধা সমভাবে ভোগ করতো । এখন আমেরিকাতেও যে সমস্যাটি প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে। এমনি এক অবস্থায় আল্লাহ সোবহানা তা-লা সুরা তওবা’র ২৯ আয়াতে মুশরিকদের জন্য জিজিয়া কর ধার্য্য করার আদেশ দিলেন। এই আয়াতের ভিত্তিতে মোহাম্মদ (স:) সে সময় সদ্য স্বাধীন ইসলামিক টেরিটোরিতে মুশরিক (ইহুদী এবং খৃষ্টান) সাবালক পুরুষ নাগরিকদেরকে জিজিয়া প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এ জন্য মোহাম্মদ(স:) প্রতিটি শহরের মুসলিম শাসকদের এ ব্যাপারে মুশরিকদের সাথে এক ধরনের রাষ্ট্রীয় চুক্তি করারও নির্দেশ দিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, পবিত্র কোরআনে যে আয়াত এসেছে “জিজিয়া” সম্পর্কে তা কেবল মাত্র মুশরিকদের (ইহুদী এবং খৃষ্টান) ব্যাপারে বর্ণনা করেছে কোন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধে কিংবা নাস্তিকদের বিপক্ষে তো নয় কাজেই অভিজিত্‍ হত্যায় এ বিষয়টি টানা একরকমের পাগলা যুক্তি এক প্রকার ছ্যাব্লা যুক্তি।

    2. সজল: ইসলাম নিয়ে বকার কি আছে?
      সজল: ইসলাম নিয়ে বকার কি আছে? ইসলাম কি জিনিস, সেটা তো বিশ্ববাসী দেখছেই। নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নাই। সহী ইচলাম নহে বলে গলাবাজি করলেও দিনশেষে আল্লাহু আকবর বলে কর্ম সারে ছায়াতলের অনুসারীরা। আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন খুনি টুপি-পাঞ্জাবী পরা ছিলো না। আশে পাশে ছিলেন নাকি? আর খুনীরা লেবাস পরে না আসলেও এটা উন্মুক্ত সত্য, কোন ঘরানার বাইঞ্চুদরা এর সাথে জড়িত ছিলো। একজন অমুসলিম নিশ্চয়ই কোরানের আয়াত সুর করে পড়ে অভিজিৎ রায় এর পিতা ড. অজয় রায় স্যারকে ফোন করে শোনাননি! তারপর আয়াত শেষ করে ছেলের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে তারা।
      অভিজিৎ হত্যার পেছনে উদ্দেশ্য এবং মোটিভ দুইটাই বেশি ছায়াতলের অনুসারীদের। সেটা তাকে যারা হুমকি দিয়েছে, যারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অনুসরণ করেছে, তাদের পরিচয়েই বোঝা যায়। ঠাকুর ঘরে কলা খেতে হয় না, কলার খোসায় পিছলে কোমর ভাঙার আওয়াজেই বোঝা যায়। ঘটে গ্রে ম্যাটার থাকা প্রয়োজন শুধু।

      1. হাঃ হাঃ আমার যুক্তিতে আমাকে
        হাঃ হাঃ আমার যুক্তিতে আমাকে কুপোকাত !
        আচ্ছা রিপোর্ট বের হওয়ার আগে আপনি কি করে তাহলে নিশ্চিত হলেন যে খুন মুসলমান কর্তৃকই হয়েছে এবং অন্যরা একর্ম সাধন করতে পারেনা ?
        আল্লাহু আকবার বলে খুন করলেই যে সে মুসলিম হয়ে যাবে তা নয় ,এইতো ২০০৭সালে আফ্রিকায় ৬জন লোকের একটি দল ক্লাবে ঢুকে একজন স্পেনিশ সহ ৯ জনকে হত্যা করে আসার সময় আল্লাহু আকবার বলে বের হয়েছিল ,পরে তদন্ত করে জানা যায় এরা ছিল জেসুইট্সের অনুসারী।
        আচ্ছা এখন এক কোটি ডলারের প্রশ্ন করি ,অধ্যাপক স্যার ডাঃ অজয় রায় কে যখন হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছিল তিনি কি থানায় কোন নিরাপত্তা ডায়েরী করেছিলেন ?
        আর দ্বীতিয় প্রশ্ন ,একজন অধ্যাপকের ফোন নম্বর সাধারণত কোন মৌলবাদীদের কাছে থাকেনা পরিচিতরা ছাড়া,তো তাঁর ফোন নম্বর মৌলবাদীদের কাছে কে দিয়েছিল এ বিষয়ে কি তিনি কোন খোঁজ খবর নিয়েছেন?
        ৩য় প্রশ্ন হচ্ছে ,৪জন মন্ত্রী তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন এ খবর কোন মিডিয়ায় এলোনা কেন ?
        ঠাকুর ঘরে কেরে বলে তো চ্যাচান ,অভিজিত্‍ রায়ের সাথে নাকি কে কে(এখনো তাদের নাম জানানো হয়নি) হত্যার কিছু পূর্বে চা পান করেছিল তো এখনো তাদের জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি কেন ?
        এই গবেষনাটা কি পড়া হয়েছে ?এটা দেখুন আমিও পড়েছি
        এটা পড়ে এই ব্যাপারে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

  4. উফ! এতো বড় ভিজ্ঞানীটাকে কেনো
    উফ! এতো বড় ভিজ্ঞানীটাকে কেনো যে কেটে ফেললো? সে থাকলে ভিজ্ঞানের কতই না উফকার হতো।

    1. সুজন: বাচ্চাদেরকে বড়দের খাবার
      সুজন: বাচ্চাদেরকে বড়দের খাবার খাওয়ানো হয় না কেনো জানেন? হজম শক্তির দুর্বলতার কারনে ডায়াপার ফাইট্যা কাঁথা-বালিশও সয়লাব হয়ে যায় ছ্যারছ্যারানির চোটে। আপনার জন্য বোকচুদুল মমিন আর লইজ্জাতুন্নেসা সাজেষ্ট করলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *