সপ্ন

ইভা কেমন আছ?
ইভা পেছনে ঘাড় ঘোরায়।
সে তাকিয়ে ছিল বাহিরের
দিকে।
অনেক সুন্দর দৃশ্য। নদীতে জেলেরা
মাছ
ধরছে। জালে জীবন্ত
মাছগুলি লাফালাফি করে
বাঁচার শেষ
চেষ্টা করছে। অদূরে বিস্তীর্ন
ধান
ক্ষেত। কিছু গরু এসে ক্ষেতে অবৈধ
হামলা করছে। ধানক্ষেতের
মালিক
লাঠি নিয়ে গরু তাড়াচ্ছে।
সত্যি তাকিয়ে থাকার মত দৃশ্য। যে
কেউ
মুগ্ধ হয়ে দেখবে। ইভা প্রায়
আধাঘন্টা ধরে তাকিয়ে আছে
সেই
দিকে। লঞ্চও ধীর
গতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকার
দিকে।
সন্ধার পরই গতি বাড়াবে। এখন
গোধূলী বেলা। কিছুদিন হল
রনি বুঝতে পেরেছে গোধূলী
বেলা কী।
দিনের শেষে সূর্যের
সোনালী আলো পরছে নদীর
জলে।
মনে হচ্ছে নদীর জলে কিছু

ইভা কেমন আছ?
ইভা পেছনে ঘাড় ঘোরায়।
সে তাকিয়ে ছিল বাহিরের
দিকে।
অনেক সুন্দর দৃশ্য। নদীতে জেলেরা
মাছ
ধরছে। জালে জীবন্ত
মাছগুলি লাফালাফি করে
বাঁচার শেষ
চেষ্টা করছে। অদূরে বিস্তীর্ন
ধান
ক্ষেত। কিছু গরু এসে ক্ষেতে অবৈধ
হামলা করছে। ধানক্ষেতের
মালিক
লাঠি নিয়ে গরু তাড়াচ্ছে।
সত্যি তাকিয়ে থাকার মত দৃশ্য। যে
কেউ
মুগ্ধ হয়ে দেখবে। ইভা প্রায়
আধাঘন্টা ধরে তাকিয়ে আছে
সেই
দিকে। লঞ্চও ধীর
গতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকার
দিকে।
সন্ধার পরই গতি বাড়াবে। এখন
গোধূলী বেলা। কিছুদিন হল
রনি বুঝতে পেরেছে গোধূলী
বেলা কী।
দিনের শেষে সূর্যের
সোনালী আলো পরছে নদীর
জলে।
মনে হচ্ছে নদীর জলে কিছু
সোনা ছড়িয়ে আছে। এত সুন্দর
দৃশ্যের
দিকে গত আধাঘন্টার মধ্য
রনি তাকিয়েছে মাত্র তিনবার।
কারন
বাকি সময় সে ইভার দিকেই
তাকিয়ে ছিল। যখনই ইভার
সাথে চোখাচোখি হয় তখনই সে
নদীর
দিকে তাকায়। এ পর্যন্ত
চোখাচোখি হয়েছে তিনবার
তাই এই
দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছে
তিনবার।
রনি প্রথমে বুঝতে পারে না এটা
ইভা কিনা।
পরে ভাল করে লক্ষ
করে দেখে মেয়েটির নাকের
ডগায়
তিল আছে। তখনই
সে বুঝতে পারে এটা ইভা।
প্রথমে বুঝতে পারার কথাও না।
দীর্ঘ
প্রায় সাত বছর পর দেখা ইভার
সাথে।
সাত বছরে একটা মেয়ের অনেক
পরিবর্তন
হতে পারে। অনেকে শুধু
মেয়ে থাকে না, মা ও হয়ে যায়।
নাহ!
ইভাকে দেখে মনে হচ্ছে সে
এখনও শুধু
মেয়েই আছে। সেই ক্লাস
টেনে থাকতে রনি ইভাকে
দেখেছে।
পরে ইভা ইন্টারে ভর্তি হয় ঢাকা
কোন
এক নামি দামি কলেজে। রনি
ইভার এক
বছরের সিনিয়র, ক্লাসের দিক
দিয়ে।
রনি গ্রামেই ইন্টার শেষ করে।
এরপর
জাবিতে ভর্তি হয়। কিছুদিন
আগে সে সাগরের কাছ
থেকে জানতে পারে ইভা নাকি
ঢাবিতে পড়ে।
সাগর রনির বন্ধু। তাদের বাসা
ইভাদের
বাসার কাছাকাছি। গত সাাত
বছরে রনির সাথে ইভার
যোগাযোগ
হয়নি। হওয়ার কোন কারন নেই।
কারন
রনির কাজ ছিল শুধু ইভার ক্লাস
টাইম
জানা আর তার ফেরার পথে
গার্লস
স্কুলের রোডের
পাশে দাড়িয়ে তাকিয়ে
থাকা।
পুরো এক বছর সে এই মহান দায়িত্ব
অত্যন্ত
নিষ্ঠার সাথে পালন করেছে।
এরপর
ইভা ঢাকা চলে যায়। তখন এত
ভার্চুয়াল
জগৎও ছিল না যে যোগাযোগ
করতে পারবে। মোবাইল ছিল
গুটিকয়েক
লোকের হাতে। সুতরাং
যোগাযোগ
বন্ধ। রনির কেবিন নং ১৫ আর
ইভারটা মনে হয় ১২। কারন ইভা ১২
নং কেবিনের সামনেই বসেছে।
রনি ইতস্তত বোধ করে ইভার
সাথে কথা বলবে কিনা।
অবশেষে স্বাভাবিক
ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়েই প্রশ্নটি
করে।
অপরিচিত কোন লোক কোন
মেয়েকে নাম ধরে কেমন আছ
জিঙ্গেস
করলে রাগ করাটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু
ইভা রাগ করে না। সে বলে “আমি
ভাল
থাকলে আপনি কী করবেন আর ভাল
নাথাকলে কী করবেন”।
রনি বলে ‘তুমি ভাল থাকলে কী
করব
জানিনা তবে খারাপ থাকলে
খুশি হব’।
– কেন?
– কারন ভাল নাথাকলে আমি
তোমার
ভাল নাথাকার কারন খুজব।
– কারন খুজে কী করবেন?
– হয়ত তোমার মন খারাপ
থাকবে,আমি তোমার মন ভাল
করার
চেষ্টা করব।
– আচ্ছা ধরেন আমার মন খারাপ,এখন
মন
ভাল করার চেষ্টা করেন।
– তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে না
মন
খারাপ। সুতরাং চেষ্টা করা
যাবে না।
তবে তুমি চাইলে গান
শোনাতে পারি।
– আচ্ছা শোনান।
– না, থাক এখন না। রাতে
শোনাব,যখন
তারার আলোয় আলোকিত হবে
সমুদ্র।
-ঠিকআছে আপনার গান
শোনানো লাগবে না।আমি
কিন্তু
আপনাকে চিনিনা। আপনি আমার
নাম
জানেন কীভাবে?
রনির মনে হঠাৎ একটা পরিবর্তন
আসে।
সে সিদ্ধান্ত নেয় গত সাত
বছরে যে কথা বলতে পারেনি আজ
তা বলবে। কী করবে ইভা?
তাকে তো আর
নদীতে ফেলে দিবে না। আর ওর
কথা শুনে মনে হচ্ছে না খারাপ
কিছু
করবে।
রনি বলতে শুরু করে ”
ইভা তোমাকে আমি অনেক আগ
থেকে চিনি।
তুমি এইটে টেলেন্টপুলে বৃত্তি
পেয়েছ,এস
এস সিতে গোল্ডেন,ইন্টারে
রটা জানিনা এখন ঢাবিতে পড়ছ।
ইভা তোমাকে আমি যেদিন
থেকে চিনি সেদিন থেকেই
ভালবাসি,তুমিই আমার প্রথম
ভালবাসা।
রনি একনাগাড়ে কথাগুলো
বলে,মনে হয়
স্যারের কাছে মুখস্ত পড়া বলছে।
ইভা কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। এরপর
হেসে দেয় ,বলে ‘
আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি।
আপনি হচ্ছেন রোডের
পাশে দাড়িয়ে থাকা সেই
ছেলেটি যার চোখে চোখ
পরলে লজ্জায় দোকানের
পেছনে পালাত। রনি সদ্য
ধরা পরা চোরের মত মাথা নিচু
করে দাড়িয়ে থাকে। ইভা বলে,
আমি আপনার ভালবাসা গ্রহন
করলাম।
বলেই নিস্তব্ধ হাসি দেয়। রনি
মাথা উঁচু
করে ইভার দিকে তাকায়।
ইভা বলে ,’আসুন আমার রুমে।আপনার
ভালবাসা শুধু আমিই গ্রহন
করিনি,আরও
একজন করেছে’। ইভা তার স্বামীর
সাথে রনির পরিচয় করিয়ে দেয়।
তারপরও রনি সপ্ন দেখে,তারার
আলোয়
ইভাকে গান শোনানোর। সপ্ন
দেখা দোষের কিছু না কারন
ইভা তা বুঝতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *