বর্তমান ভালবাসাগুলো সবই কর্পোরেট!!!!

বর্তমান ভালবাসার প্রেক্ষাপটগুলো সত্যিই অবাক করার মত।যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনার বিএফ/জিএফ আছে কিনা থাকলে বলবে হ্যা আছে আর না থাকলে বলবে যে ছিল কিন্তু দুদিন আগেই ব্রেক’আপ হয়ে গেছে।ফেসবুক আইডিতে রিলেশনশিপ দেয়া থাকলে তা ডিলিট করে ফেলবে আবার দুদিন পর নতুন কারো সাথে রিলেশনশিপ স্টাটাস দিবে।ছেলেটা ভাববে মেয়েটা কিউট আছে তার অতীত দেখে আমার কি লাভ? তার অতীতে কে ছিল না ছিল সেটা যেনে আমার কি লাভ? ও কত্ত কিউট আমার সাথে প্রেম করলেই বা দোষ কোথায়? আর মেয়েরা ভাববে ছেলেটা হ্যান্ডসাম তার উপরে বাইক আছে তাও আবার পালসার।পকেটে দেখি মানিব্যাগও আছে।ছেলেটার কাছে গিয়ে পটকে ফেলবে এক নিমিষেই। কিছুদিন বাদে ছেলেটা যখন একটু ক্লোজ হয়ে আসবে তখন মানিব্যাগে দেখবে ক্রেডিট কার্ড।আহ…!! কত্ত শান্তি। ছেলের দেখি ক্রেডিট কার্ডও আছে।বাবা নিশ্চয় বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক।ব্যাস দুইদিন আগে কি ছিল তা নিয়ে ভেবে তাদের কোন কাজ নেই।দুদিন আগে কে ছিল তার জীবনে সেইটা ভেবেও কাজ নেই।শুধু একটা গেলে আরেকটা ভাল বিএফ পেলেই হলো।পকেটে টাকা, বসার জন্য বাই সাইকেল আর কি লাগে? আর ছেলেদের ক্ষেত্রে মেয়েটা বড্ড বোকা!! রেস্টুরেন্টে গেলে রেস্টুরেন্ট বিল মেয়েটাই পে করে দেয় ছেলেটাকে কষ্ট করে পকেটের টাকা বের করে খরচা করতে হয়না।মাঝে মাঝে দু-একবার শপিং-এ গেলে একটা শার্ট ও পেয়ে যায়।এভাবে রিলেশন চালালে মন্দ না একদম।ফোনে টাকা নাই তাই সে গার্লফ্রেন্ডকে কল দিতে পারেনা।গার্লফ্রেন্ড ইমোশনাল হয়ে ১০০ টাকা বা তার বেশি পাঠিয়ে দেয়।সেই টাকা দিয়ে অন্য মেয়ের সাথে ফোনালাপ করে।এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাকে বলে আরকি!!!
.
মেয়েরাও বা কম কিসে!!! দুইদিন পরপর শপিং মল করে করে ছেলেটার মাথা খারাপ করে দেয়।ছেলেটা না বড্ড বোকা।রিলেশন ভেঙে যাবে সেই ভয়ে বাবার থেকে টাকা নিয়ে তা খরচ করে জিএফের পিছনে।ভালোই তো।সাদাসিধে ছেলে হলে তো কথাই নাই।টিউশনির টাকা দিয়ে হলেও গার্লফ্রেন্ডের ইচ্ছা পুরন করে।মাঝে মাঝে কিনা শখের জিনিসগুলোও বিক্রি করতে হয়।আর যারা বড়লোক ঘরের তারা তো এমনি এমনিই টাকা পায় বাবার থেকে আর সেইটা মস্তি করেই উড়াই দেয়।লোকে কি শুধু শুধু বলে যে পর্যাপ্ত বয়স হয়ার আগে টাকা দিলে ছেলে-পুলে একদম নস্ট হয়ে যায়।সেই কথাটাই তো প্রমানিত এসব জায়গাতে।তাও আবার সবচাইতে বেশি গার্লফ্রেন্ডের জন্য।
.
আজকে যে জিএফ/বিএফ নিয়া ঘুরবে কাল আবার অন্য কাউকে নিয়ে ঘুরবে।তখন পাশের বন্ধুবান্ধবেরা জিজ্ঞেস করবে যে -“কিরে ওই ছেলেটার/মেয়েটার সাথে না তোর রিলেশন ছিল?”….. উনি আশ্চর্য হয়ে উত্তর দিবে..-“”কোন ছেলে!! ও ওইটা!! আরে ওইটা তো আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড ছিল””
.
কত্ত মজার এই জীবনটা তাইনা? চেহারা,টাকা-পয়সা,বাই সাইকেল,দামী গাড়ি,বাবার টাকা,আর সবচেয়ে বড় যেটা চালাকী এগুলো দিয়ে কত সহজেই প্রতিনিয়ত বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করা যায়।মন্দ না একদম।প্রতিদিনই নতুন কাউকে পাওয়া যায়।তাও আবার স্মার্ট চেহারা,ড্যাসিং লুক,বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে/মেয়ে সে!!! বাবার কাছে যা চায় তাই দিয়া দেয়।বাই-সাইকেলের তেল ফুরিয়ে গেলে বাবার কাছে চাইতেই বাবা এত টাকা দিয়ে দেয় যে তাতে একমাসের হাতখরচাও চলে যেতে পারে।
.
আপনি অনেক কালো দেখতে।আপনার কাছে কেউ আসবেনা।আপনার তেমন টাকা পয়সা নেই,ভাল জামা কাপড় পরতে পারেন বা,আপনার কাছে কেউ আসবেনা।আপনার বাবা দামী কোন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক না,আপনার কাছে এখানেও কেউ আসবে না।গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড নাহয় বাদই দিলাম বন্ধু হিসেবেও না।আরেকজনের চেহারাটা পুরাই সেই ধরনেরর,সবাই তার প্রতি আকর্ষিত হবে।উনার বাবার টাকা পয়সা আছে,নামী কোম্পানির মালিক।শহরে তার নাম অনেক।তার কাছেই সবাই যাবে।সে বাইকে চড়ে ঘুড়াঘুড়ি করে তার কাছেই সবাই যাবে।আপনার কালো চেহারার পিছনে সবচাইতে ভাল যে জিনিসটা অর্থাৎ মন সেটা কেউ দেখবে না।সবাই উপরের সবকিছু দেখেই প্রেমে পরে,উপরের সবকিছু দেখেই ভালবাসে।কালো চেহারার মানুষগুলো কাউকে ভালবাসতে পারেনা এই ভয়ে,ভালবাসলেও বলতে পারেনা ঠিক একই ভয়ে।সেটা হলো রিজেক্ট,ইগনোর।কেননা এগুলো সহ্য করা এত সহজ নয়।তারা কাউকে ভালবাসি কথাটা বলতে গেলে তাদের শুনতে হয়-“নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখছো?ছোটলোকের বাচ্চা!! আবার আসছে প্রেম করতে।আগে আমার টাইপের হয়ে দেখা তারপর আসিস প্রেম করতে”।এটা তো ছেলেদের বেলায়। আর মেয়েরা তো নিজ মুখে কখনো বলে না বললেও উত্তরটা ঠিক এভাবে পায়-“দেখো আমি অন্য কাউকে ভালবাসি।আমি তোমাকে ভালবাসতে পারবো না। সরি”।বলেই ভাব নিয়ে চলে যাবে হাঁটতে হাঁটতে!!! কিসের এত অহংকার তাদের যেখানে মৃত্যুর পর সবাইকেই মাটির নিচে যেতে হবে? একটা কথা বলি,বর্তমান ভালবাসাগুলো টেকসই না।চিপসের মত ক্রিসপি।চাপ দিলেই ভেঙে মুচরে যাবে। ভাল মনের ভাল দাম নেই,কিন্তু কালো মনের ভাল দাম ঠিকই আছে।

১ thought on “বর্তমান ভালবাসাগুলো সবই কর্পোরেট!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *