বন্ধু হারানোর আর্তনাদ

#একটি_দুর্ঘটনা_সারা_জীবনের_কান্না

সাকিল দোকানের পাশেই বসে সিগারেট টানতেছে, দুপুরবেলা আশেপাশেও কেও নেই হঠাৎ রুদ্রোর আগমন।
রুদ্রোঃ কিরে আলগা এখানে বসে কি করছ, সিগারেট দে।
কিছুক্ষণ পর রিয়াদও আসলো।
রিয়াদঃ কিরে তোরা দুইজন এখানে কি করছ।
সাকিলঃ কিছুনা।
—(রুদ্রো প্রবাসী, কাতার থাকে, দুই বছর পর আসছে মাত্র ৫দিন হলো, তাও দুই মাসের ছুটিতে)-
রুদ্রোঃ চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি, আসছি পর্যন্ত কোথাও যাইনি।
আবিদের আগমনঃ কিরে তোরা কিসের আলাপ করছ।
রিয়াদঃ আরমান কাকার হুন্ডা কি বাড়ীতে আছে।
আবিদঃ হ্যা আছে।
রিয়াদঃ রুদ্রো তুই জহির ভাইয়ের হুন্ডা টা নেয়ার ব্যবস্থা কর।
রুদ্রোঃ ওকে আমি তাকে ফোন দিতেছি।

#একটি_দুর্ঘটনা_সারা_জীবনের_কান্না

সাকিল দোকানের পাশেই বসে সিগারেট টানতেছে, দুপুরবেলা আশেপাশেও কেও নেই হঠাৎ রুদ্রোর আগমন।
রুদ্রোঃ কিরে আলগা এখানে বসে কি করছ, সিগারেট দে।
কিছুক্ষণ পর রিয়াদও আসলো।
রিয়াদঃ কিরে তোরা দুইজন এখানে কি করছ।
সাকিলঃ কিছুনা।
—(রুদ্রো প্রবাসী, কাতার থাকে, দুই বছর পর আসছে মাত্র ৫দিন হলো, তাও দুই মাসের ছুটিতে)-
রুদ্রোঃ চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি, আসছি পর্যন্ত কোথাও যাইনি।
আবিদের আগমনঃ কিরে তোরা কিসের আলাপ করছ।
রিয়াদঃ আরমান কাকার হুন্ডা কি বাড়ীতে আছে।
আবিদঃ হ্যা আছে।
রিয়াদঃ রুদ্রো তুই জহির ভাইয়ের হুন্ডা টা নেয়ার ব্যবস্থা কর।
রুদ্রোঃ ওকে আমি তাকে ফোন দিতেছি।
—ফোন
রুদ্রোঃ জহির তোর হুন্ডা কোথায়।
জহিরঃ সাথেই আছে।
রুদ্রঃ কোথাও কি যাবি।
জহিরঃ না, কেন??
রুদ্রোঃ চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
জহিরঃ কোথায় যাবি আর কে কে যাবি।
রুদ্রোঃ জানিনা কোথায় যাই, আমি, রিয়াদ, সাকিল, আবিদ আর তুই।
জহিরঃ আচ্ছা তোরা এখন কোথায় আছস।
রুদ্রোঃ দোকানের সামনে আয়।

আরমান কাকার বাইক নিলো রিয়াদ।
তার বাইকে আবিদ, সাকিল, আর রিয়াদ।
আর জহিরের বাইকে রুদ্রো সহ তারা দুইজন, যেহেতু তারা দুইজনই সমান বয়সী।
অনেকটাই মজা মাস্তি করেই যাচ্ছি,
কোথায় যাবো সেটা জানিনা,
তবে দুই চোঁখ যেদিকে যায় সে দিকেই যাবো।
রুদ্রোর টাকায় সিগারেট নিলো।
বাজার পর্যন্ত গেলাম, নাস্তা করবো,
বিল দিবে রুদ্রো, বিদেশ থেকে আসছে পকেট এখন গরম।

রিয়াদঃ রাস্তায় যদি তেল শেষ হয়ে যায়।
সাকিলঃ রুদ্রো ১ লিটার তেল নিয়ে নে।
রুদ্রোঃ হু আমাকে টাকা কামড়াচ্ছে।
জহিরঃ আরে নিয়ে নে না, কই যাই কোনো ঠিক নেই, যদি কোথাও তেলের প্রোব্লেম হয়।
রুদ্রোঃ তোদের সাথে থাকলে আমি দুইদিনে ফকির হয়ে যাবো, আচ্ছা নিতেছি।

আবার সবাই গাড়িতে উঠলাম।
ঘুরতে ঘুরতে এক এক করে অনেক এলাকায় গেলাম, অনেক বন্ধু বান্ধব এর সাথেও দেখা হলো।
১৪গ্রাম বাজারে, কিছু বন্ধু আসলো তাদের সাথেও দেখা হলো।
সেখানে আবার নাস্তা করলাম।
সিগারেট শেষ আবারও সিগারেট নিলো রুদ্রো।

রিয়াদঃ কিরে রুদ্রো, আজতো আমরা ফাংকা তোর সাথে এসে, একটা টাকাও খরচ করতে হচ্ছেনা।
আবিদঃ বিদেশ থেকে আসছে বন্ধুবান্ধব এর জন্য এরকম খরচ করা লাগে।
জহিরঃ তারে আর ফাম মারিচ না, দে রুদ্রো সিগারেট দে।
রুদ্রোঃ চল বাড়ীতে চলে যাই অনেকতো ঘুরলাম,
সাকিলঃ এত তাড়াতাড়ি ঘুরার সখ মিটে গেলো।
রুদ্রোঃ চিওড়াতে গেলে আমি ড্রাইভ করবো কিন্তু।
জহিরঃ ওকে বাবা তুই করিছ, হাইওয়েতে আমি করি তুই এখনো পুরোপুরি কিলিয়ার না।

আবার উঠলো সবাই, চলছে এবার বাড়ীর উদ্দেশ্যে, সেই দুপুরবেলা বের হলো এখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।

রুদ্রোঃ কিরে চিওড়াতো চলে আসছে, ড্রাইভ করতে দিবিনা।
জহিরঃ নে ভাই নে, দেখিস আবার আমারে মারিস না।
রুদ্রোঃ তুই থাক এখানে, আমি সিঙ্গেল একটা টান দিয়ে আসি।
জহিরঃ মেইন রোডে যাবিনা কিন্তু।
রুদ্রোঃ আরে চিন্তা করিস না, যাবোনা।

রুদ্রো ড্রাইভ করতেছে সিঙ্গেলই।
বাইকে বসলেই উড়তে মন চায়, প্রথম টানেই ৪০উঠালো।

আবিদঃ আল্লাহ্‌ই জানে কোপালে কি আছে, তে তো মরবে, আমাদেরও ফাশাবে।
জহিরঃ রিয়াদ তার পিছনে যাতো, মেইন রোডে উঠে গেছে।
রিয়াদঃ আরে কিচ্ছু হবেনা, তে চালাক আছে।

বিশ মিনিট হয়ে গেলো কিন্তু রুদ্রো ফিরে আসতেছেনা।
সাকিলঃ কিরে এতক্ষণ কি করতেছে।
জহিরঃ রুদ্রোকে একটা ফোন দেতো।
আবিদঃ ভাই তার নাম্বার তো বন্ধ।
জহিরঃ কিছু হলে রিয়াদদা সব দোষ তোর, বলছিলাম তার পিছন পিছন যাওয়ার জন্য।
রিয়াদঃ হু সব দোষ শুধু আমার, তুই গেলি না কেন।
জহিরঃ দেখি চাবি দে।

জহির বাইকে করেই গেলো, আমরা হেঁটে হেঁটেই যাচ্ছি, একটু সামনেই মেইন রোড, রাস্তা জ্যাম হয়ে আছে।
আবিদঃ কিরে কি হয়েছে।
রিয়াদঃ জ্যামে আছে মনে হয়।
সাকিলঃ আমরা আসতে তো রাস্তা ফাঁকা ছিলো কিন্তু হঠাৎ জ্যাম হলো কেন।

জহিরের ফোন।
তাড়াতাড়ি সামনে আয় রুদ্রো এক্সিডেন্ট হয়েছে।
কিন্তু কিভাবে হলো, দৌড় দিয়ে সবাই গেলাম।
রুদ্রো অজ্ঞান, মাথা ফেটে গেছে, প্রচুর রক্ত বের হচ্ছে,
ডান হাতের অবস্থা একবারেই খারাপ।
দ্রুত করে ১৪গ্রাম ফ্রেন্ডস হাসপাতালে নিলাম ডাক্তার কিছু চিকিৎসা দিয়ে রক্ত বন্ধ করলো, বলছে কুমিল্লা টাওয়ানে নিয়ে যেতে।
রুদ্রোর ফ্যামিলিকেও জানানো হয়নি।
আমাদের কাছে এত বেশী টাকা নেই।
সবাই বিকাশ্ব নাম্বার থেকে টাকা তুললাম, জহিরের দুইজন বন্ধু আসলো তারা তিনজন মিলে রুদ্রোকে কুমিল্লা টাওয়ারে নিয়ে গেল।
আইসিইউতে ভর্তি করে তাকে।
তার চাচাতো ভাই নিজাম কে ফোন দিয়ে সব কিছু খুলে বলি রুদ্রো এক্সিডেন্ট।
কিছুক্ষণ পর তার ফ্যামিলি আসলো।
সবাই কান্নাকাটি করতেছে।

এক একটি দিন করে ১৫দিন চলে যায় প্রতিটিদিন জেনো বন্ধুহীন শুন্যতায় কেটেছে সবার।
কিন্তু ১৫দিনেও একটি বারের জন্যও তার হুষ ফেরেনি।
ডাক্তার শুধু বলছে সে সুস্থ হবে।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, উপরওয়ালার ইচ্ছায় তাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।
১৫দিন পর মা বাবা বন্ধু বান্ধব আত্বীয় স্বজন সবাইকে ছেরে চলে যায় না ফেরার দেশে।
কিন্তু কেন আমাদের সাথে এমন কেন হলো।
কি এমন ভুল করেছি, আমাদের সবাইকে ছেরে এইভাবে কেন চলে গেলো।
অনেক কষ্ট হচ্ছে, সবাই আছে কিন্তু সে নেই। না পারি নিজেকে বুঝাতে না পারি অন্যকে বুঝাতে। না পারি তার ফ্যামিলিকে।
হাজার হাজার সৃতিগুলোকে সজাগ রেখে,
আমাদের সবাইকে ছেড়ে আজ সে শুয়ে আছে একা একলা ঘরে।

আর কিছু লিখতে পারতেছিনা, খুবই কান্না পাচ্ছে তার জন্য।
বন্ধু হারানো যে কতটা কষ্টের যে হারিয়েছে সেইই জানে।

হৃদয়ের গহিনে, অন্তরের টানে, মনের ভিতরে, বুকের মাঝখান থেকে, আমাদের সকল আবেগ বিবেগ দিয়ে আল্লাহ্‌র কাছে আকুতি মিনুতি করতেছি যে আল্লাহ্‌ জেনো তাকে জান্নাত নসিব করেন আমিন আমিন আমিন।

বিদ্রঃ আমি প্রবাসী, আজ অনেকদিন বন্ধুটার সাথে দেখা হয়না, এবারতো আর কোনোদিন হবেনা।
লিখাটা আমিই সাজিয়েছি তবেঁ আমাদের বন্ধুত্বের বাধনগুলো সর্বদাই এরকমই হতো/ছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *