অভিমানী

অনেকক্ষণ সোফায় বসে থাকে কণা।
মানুষটা চলে গেলো! একবার ওকে ডাকলও না। নাকি ডেকেছিল? সে শুনতে পায়নি.. হয়তো।
তার ডাক কণা কি তখন শুনতে চেয়েছিল? তবে এখন কেন আক্ষেপ ‘ একবারও ডাকলও না’ বলে!
সোফা থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে সে ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকায়। খাবার গুলো অমনিই পড়ে আছে। না খেয়েই চলে গেলো মানুষটা!
দশ দিক থেকে আবেগ কণার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দখল নেয়।

দুই মেয়ে চুপচাপ বসে আছে। একটু দূরে। মা’ কে আড়চোখে লক্ষ্য করছে। নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ কণার অবদমিত কান্না হৃদয়ের গভীর থেকে বের হয়ে আসে। দু’ চোখ বেয়ে ঝরঝর দুই ধারায় অঝোরে নেমে যেতে থাকে। কতদূর যায়? কতটা ভেজায়? কতটুকু ধোয়?

অনেকক্ষণ সোফায় বসে থাকে কণা।
মানুষটা চলে গেলো! একবার ওকে ডাকলও না। নাকি ডেকেছিল? সে শুনতে পায়নি.. হয়তো।
তার ডাক কণা কি তখন শুনতে চেয়েছিল? তবে এখন কেন আক্ষেপ ‘ একবারও ডাকলও না’ বলে!
সোফা থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে সে ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকায়। খাবার গুলো অমনিই পড়ে আছে। না খেয়েই চলে গেলো মানুষটা!
দশ দিক থেকে আবেগ কণার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দখল নেয়।

দুই মেয়ে চুপচাপ বসে আছে। একটু দূরে। মা’ কে আড়চোখে লক্ষ্য করছে। নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ কণার অবদমিত কান্না হৃদয়ের গভীর থেকে বের হয়ে আসে। দু’ চোখ বেয়ে ঝরঝর দুই ধারায় অঝোরে নেমে যেতে থাকে। কতদূর যায়? কতটা ভেজায়? কতটুকু ধোয়?
কণার চেতনা জুড়ে শিহাব নামের প্রিয় মানুষটির কষ্ট। যে মানুষটা না খেয়ে চলে গেছে.. সে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না। আর যাবার বেলায় ওকে একবারও ডাকল না- প্রতিবারের মত।

রাস্তায় নেমে পিছু ফিরে ওকে কি দেখেছিলো আজ? … মোড় ঘুরে অদৃশ্য হবার সময়টিতে আরো একবার পিছু ফিরে দূর থেকে, কণার অবয়ব দেখবার চেষ্টা করেছিলো? খালি বারান্দাটা দেখে কি তার মন আরো খারাপ হয়ে গিয়েছিলো?
এটাই যদি শেষ দেখা হয়!
হঠাত কণার মনের ভিতর কোথাও একটা জায়গাকে প্রচন্ড একটা কষ্ট খামচে টেনে ধরে। কষ্টটা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার আগেই পায়ে পায়ে মেয়েরা মায়ের একেবারে কাছে চলে আসে। ঠিক ততোটাই দূরে চলে যায় শিহাব নামের প্রিয় মানুষটি। অদূরে পড়ে থাকা মোবাইল সেটটির দিকে একপলক তাকায় কণা। ঝাপসা লাগে সেটটিকে।
এই ঝাপসা যন্ত্রটি কি পারবে দূরে চলে যাওয়া কাউকে কাছে এনে দিতে? হৃদয়ের টানাপোড়েন মিটাতে এক মানবী শেষ পর্যন্ত যন্ত্রের দ্বারস্থ হবে?
ভাবতে থাকে কণা।
মেয়েদের উপস্থিতি ভুলে গিয়ে আনমনে সোফা থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে দাড়ায় কণা সেই চেনা পথে আজ সব অচেনা মানুষ! গ্রিলে কপাল ঠেকিয়ে ইস্পাতের শীতলতা অনুভব করে। তাতে হৃদয়ের উত্তপ্ততা একটুও কমে কি?

যে পথটি ধরে শিহাব চলে গেছে- সেই মোড় পর্যন্ত দৃষ্টিকে প্রসারিত করে আনমনা হয়ে পড়ে। বিষন্ন একজন অভিমানী! হৃদয়ে জ্বলন্ত ভালোবাসার ফল্গুধারা বয়ে নিয়ে চলা এক মায়াবি রমণী একটু শীতলতার প্রত্যাশায় পথপানে চেয়েই থাকে…

২ thoughts on “অভিমানী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *