ইয়াজিদি ধর্মগ্রন্থ- মিশেফা রেশ, ‘কালো গ্রন্থ’- ২য় পর্ব

[প্রথম পর্বের পর…]


[প্রথম পর্বের পর…]

তখন মহান ঈশ্বর বললেন- ‘হে ফেরেশতাগণ, আমি আদম এবং ইভকে সৃষ্টি করবো, এবং আদমের সত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করবো শাহিদ বিন জের কে এবং তার মাধ্যমে পৃথিবীতে শুরু হবে একটি আলাদা সমাজের, ওইটা আযাযেলের, ওইটাই মালিক তাউসের, যেটা ইয়াজিদিদের অংশ।’ তারপর তিনি সিরিয়াদেশ থেকে শেখ আদি বিন মুসাফিরকে পাঠালেন, এবং তিনি আসলেন এবং বাস করতে থাকলেন লালিশ পর্বতে। তখন ঈশ্বর নেমে আসলেন কালো পর্বতে। চিৎকার করতে থাকলেন, তিনি সৃষ্টি করেছেন ত্রিশ হাজার মালিক, এবং তাদের ভাগ করেছেন তিনটি ভাগে। তারা তাকে আরাধনা করেছে চল্লিশ হাজার বছর। যখন তিনি তাদের মালিক তাউসের কাছে পাঠিয়েছেন, তারা তার সাথে বেহেশতে আরোহন করেছে। এই সময় প্রভু নেমে আসলেন পবিত্র ভূমিতে, এবং জিব্রাএলকে নির্দেশ দিলেন, পৃথিবী সৃষ্টির চারটি উপাদানই তার কাছে নিয়ে আসতে; মাটি, বাতাস, আগুন এবং জল। তিনি সৃষ্টি করলেন এবং তার নিজস্ব সত্ত্বার শক্তি এর মধ্যে দিলেন এবং এটার নাম রাখলেন আদম।

তখন তিনি জিব্রাএলকে নির্দেশ দিলেন বেহেশতে আদমের সহচর হওয়ার জন্য, এবং তাকে বলতে বললেন যে- ‘সে সমস্ত গাছ থেকেই খেতে পারবে, পারবেনা কেবল গম।’ এখানে আদম একশত বছর ছিলো। অতঃপর মালিক তাউস ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘কিভাবে আদম বংশবৃদ্ধি করবে এবং তার উত্তরসূরী তৈরী করবে, যদি তাকে শষ্য খেতে নিষেধ করা হয়?’ ঈশ্বর জবাব দিলেন- ‘আমি এই সমস্ত বিষয় তোমার হাতে ছেড়ে দিয়েছি।’ অতঃপর মালিক তাউস আদমের নিকট গেলেন এবং বললেন- ‘তুমি কি শষ্য খেয়েছো?’ সে জবাব দিলো- ‘না। ঈশ্বর আমাকে নিষেধ করেছেন।’ মালিক তাউস জবাব দিলেন এবং বললেন- ‘শষ্য খাও এবং এর মধ্যেই তোমার সমস্ত মঙ্গল নিহিত।’ তখন আদম শষ্য ভক্ষণ করলো এবং সাথেসাথেই তার পেট স্ফীত হতে শুরু করলো। কিন্তু মালিক তাউস তাকে বাগানে ছেড়ে দিলেন এবং সঙ্গ পরিত্যাগ করে বেহেশতে উর্দ্ধোত্তিত হলেন। কিন্তু আদমের সমস্যা হচ্ছিলো। কারন তার পেট স্ফীত হচ্ছিলো, কিন্তু তার কোনো বহির্গমন ছিলো না। অতঃপর ঈশ্বর তার নিকট একটি পাখি পাঠালেন, যেনো সে তার মলদ্বারে ঠোকর দিয়ে একটি বহির্গমন পথ তৈরী করতে পারে, এবং আদম পরিত্রান পায়।

তারপর জিব্রাএল আদম থেকে একশত বছর দূরে থাকলেন। এবং আদম দুঃখিত হলো এবং কাঁদতে থাকলো। তখন ঈশ্বর জিব্রাএলকে নির্দেশ দিলেন, আদমের বাম কাঁধের নিচ থেকে ইভকে সৃষ্টি করতে। ইভ এবং সমস্ত প্রাণীদের সৃষ্টি করার পর এটা অতিক্রমের নিকটবর্তী হলো। আদম এবং ইভ এই প্রশ্নে পরস্পর ঝগড়া করতে থাকলো যে কার কাছ থেকে মানবজাতি সর্বপ্রথম বিকশিত হবে। প্রত্যেকেই আশা করতে থাকলো সেই মানবজাতির একমাত্র পূর্বসূরী হবে। যে ঘটনার পর্যবেক্ষণে তাদের এই ঝগড়ার সূত্রপাত সেটা হলো, প্রাণীদের মধ্যে পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়েই তাদের নিজস্ব প্রজাতির বংশবিস্তারের উপাদান। দীর্ঘ আলোচনার পর আদম এবং ইভ সম্মত হলো এই- প্রত্যেকে তাদের বীজ একটি পাত্রে রাখবে, এটি বন্ধ করবে, এবং নিজস্ব সীল দিয়ে আলাদা মোহর এটে দিবে। এবং নয় মাস অপেক্ষা করবে। অপেক্ষার কাল পূর্ণ হবার পর যখন তারা পাত্রগুলো খুললো, আদমের পাত্রে তারা দুইটি শিশু পেলো, পুরুষ এবং স্ত্রী। এরপর এই দুইজন থেকেই আমাদের অংশ, ইয়াজিদিরা অবতীর্ন হলো। ইভের পাত্রে তারা কিছুই পেলো না, কেবল দূর্গন্ধ ছড়ানো পঁচা কীট ছাড়া। এবং ঈশ্বর আদমের জন্য দুগ্ধবোঁটা তৈরী করে দিলেন যেনো সে তার পাত্রের শিশুদের বাহিরেই প্রতিপালন করতে পারে। এটাই হলো কারন, কেনো পুরুষ জাতির দুগ্ধবোঁটা আছে।

এরপর আদম ইভের কাছে গেলো এবং সে দুইটি সন্তান জন্ম দিলো, পুরুষ এবং স্ত্রী। এবং তাদের মধ্য থেকে ইহুদী, খ্রিস্টিয়ান, মুসলিম এবং অন্যান্য জাতি এবং অংশরা অবতীর্ন হলো। কিন্তু আমাদের প্রথম পিতারা হলেন- শেথ, নোয়াহ এবং এনোখ; যারা ন্যায়নিষ্ঠ পাপমুক্ত, যারা কেবলমাত্র আদম থেকে অবতীর্ন।

(চলবে)

১ thought on “ইয়াজিদি ধর্মগ্রন্থ- মিশেফা রেশ, ‘কালো গ্রন্থ’- ২য় পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *