সম্ভাবনায় আউটসোর্সিং

বাংলাদেশের আউটসোর্সিং বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেয়ার খাতটি অচিরেই তৈরি পোশাক খাতের মতো বড়সড় একটি শিল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে এটির টার্নওভার ছাড়িয়ে যাবে ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বছর সাতেক আগে বাংলাদেশে এই খাতটি আত্মপ্রকাশ করবার পর এখন পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার দাড়িয়েছে একশো মিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি যেটা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় নগণ্যই বলা চলে। আউটসোর্সিং নামের সেই পেশাটা বাংলাদেশে খুব পুরোনো কোনও ধারণাও ছিলনা। বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের তরুন তরুণীরা অনলাইন ব্যাবহার করে বিশ্বের নানা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতে শুরু করে আউটসোর্সিং নামের পেশাটার সাথে পরিচিত হয়ে অসমর্থিত এক হিসেবে এখন এমন কর্মজীবির সংখ্যা কমবেশি চার লাখে দাঁড়িয়েছে, তবে এদের অধিকাংশই খন্ডকালীন। বাংলাদেশের সস্তা শ্রম এবং প্রচুর সংখ্যক জনশক্তি, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ বিদেশী ভাষায় দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং ধীরগতির ইন্টারনেটসহ অবকাঠামোর অভাবই মূলত দায়ী। অগমেডিক্স নামে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ১৯৯০ সাল থেকে আমেরিকান চিকিৎসকদের নথি লিপিবদ্ধ করবার সেবা দিয়ে আসছিলো। এতদিন তারা মূলত ভারতের জনশক্তি ব্যবহার করে আসছিল। এখন তারা একাজে বাংলাদেশের জনশক্তিও ব্যাবহার করার পরিকল্পনা করছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশটির বিপিও খাতে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবার লক্ষ্য নির্ধারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *