একটি সত্য কাহিনী

তিনমাস আগের কথা, আমি বনানীর রেললাইনের পাশে বসে আছি, হাতে সিগারেট।
বিকালবেলা প্রায় সাড়ে চারটা।
মাগরিবের আযান দিবে এমন সময় রেল লাইনের পাশ দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছে।
যাক ভাল কথা তাতে আমার কি আসে যায়।
পাঁচ মিনিট পর দেখলাম মেয়েটা রেললাইনের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আমিও কিছু দূর তাকে ফলো করলাম।
কিছুক্ষণ পর দেখি একটা ট্রেন আসতেছে।
কিন্তু মেয়েটি লাইনের নিছে নামছে না।
তা দেখে মনে একটা সন্দেহ হলো আমি যা ভাবছি তাইনা তো।
হ্যাঁ তাই’ই, মেয়েটা আত্নহত্যা করবে।
আমি দৌড় দিয়ে গিয়ে তাকে নিচে নামালাম । মেয়েটি আমাকে একটা ঝাড়ি দেয়, কেন বাঁচালেন আমাকে, আমি বাচঁতে চাইনা, এই, সেই, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

তিনমাস আগের কথা, আমি বনানীর রেললাইনের পাশে বসে আছি, হাতে সিগারেট।
বিকালবেলা প্রায় সাড়ে চারটা।
মাগরিবের আযান দিবে এমন সময় রেল লাইনের পাশ দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছে।
যাক ভাল কথা তাতে আমার কি আসে যায়।
পাঁচ মিনিট পর দেখলাম মেয়েটা রেললাইনের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আমিও কিছু দূর তাকে ফলো করলাম।
কিছুক্ষণ পর দেখি একটা ট্রেন আসতেছে।
কিন্তু মেয়েটি লাইনের নিছে নামছে না।
তা দেখে মনে একটা সন্দেহ হলো আমি যা ভাবছি তাইনা তো।
হ্যাঁ তাই’ই, মেয়েটা আত্নহত্যা করবে।
আমি দৌড় দিয়ে গিয়ে তাকে নিচে নামালাম । মেয়েটি আমাকে একটা ঝাড়ি দেয়, কেন বাঁচালেন আমাকে, আমি বাচঁতে চাইনা, এই, সেই, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
জিজ্ঞাস করলাম কেন আত্নহত্যা করতে চাও।
আমাকে অসভ্যের মত তার পেট দেখাচ্ছে।
প্রথমে বুঝতে পারিনি, সে প্রেগন্যান্ট।
আমার থেকে পাঁচ বছরের ছোট হবে।
ব্যাক্তিগত অনেক কিছুই শেয়ার হলো তার সাথে।
মেয়েটা একটা ছেলের সাথে রিলেশন ছিল,
এখন ছেলেটি তার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনা।
তাই এই চিন্তাধারা মাথায় এনেছে সে আর বাচঁবে না, মারা যাবে।
তার নাম রিতা।
আমার পাশের এলাকার কলেজেই পড়ে ১২ তে।
আমার পরিচয়ও দিলাম।
তার সাথে কথা বলে যা বুঝতে পারলাম, হয়তো একটু পর আবার আত্নহত্যা করতে যাবে।
তা ভেবে
-আমাকে বিয়ে করবে।
-পাগল নাকি।
-এখানে পাগলের কি আছে।
-আমি প্রেগন্যান্ট।
-তো কি হয়েছে, আমি তো তোমাকে বিয়ে করবো, তোমার চেহারা বা অন্য কিছুকে তো না।
-এই পেটের বাচ্চার কি হবে।
-হুম বুঝলাম, তবেঁ তোমার যা ইচ্ছা তাই হবে।
আমার কোনো মাথা ব্যথা বা কোনো সমস্যা নেই।
-(__________)
-তোমার নাম্বারটা দেয়া যাবে, প্লিজ না করবে না।
-হুম, নিন 0198921……..
.
কথা বলতে বলতে তাকে তার বাসার সামনে দিয়ে আসি।
তারপর থেকে আমাদের প্রতিদিন কথা হতো ফোন কিংবা ফেইসবুকে।
তার মা, বাবার সাথেও মাঝে মাঝে হতো।
তারা বলছে তাদের মেয়ের ইচ্ছেই সব।
বিয়ে ঠিক হলো কিন্তু বিয়ে হলো না ।
বিয়ের চার দিন আগেই সে পালিয়ে যায়।
.
অনেক দিন তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। আমি বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ায় চলে আসি।
কাল রাতে হঠাৎ তার ফেইসবুক আইডি থেকে নক আসে
.
-কেমন আছো।
-আমি ভাল থাকলে দুনিয়া ভাল থাকেনা।
-কেন।
-দুনিয়া ভাল থাকলে যে আমি ভাল থাকিনা।
-____কি করো।
-নেশা করি।
-এটা ভাল না।
-এই সিগারেট, মদ, গাঁজা, আমাকে কখনো ছেড়ে যায়নি।আর বাকি সবাই ছেড়ে চলে গেছে।
-আমি ভুল করেছি, আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না।
-তুমি তো ভুল করোনি, ভুল আমিই করেছি।
আচ্ছা তুমি কেমন আছো, তোমার হ্যাজব্যান্ড কেমন আছে।
-ভাল না, আর আমি তো এখন আব্বুর বাসায় চলে আসছি। তোমার নাম্বারে অনেক কল দিয়েছি কিন্তু তোমার নাম্বার বন্ধ, আম্মু বলছে তুমি নাকি ইন্ডিয়ায় চলে গেছো।
-স্বামীর বাড়ি থেকে কেন চলে আসছো। আর বেবি কেমন আছে, আমি সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ দেশে আসছি।
-বেবি তো নেই, আমি পালিয়ে গিয়েছিলাম ওই ছেলের সাথে যার জন্য আত্নহত্যা করতে ছেয়েছিলাম। সে আমাকে তালাক দিয়েছে আর আমার বেবি আভশন/নষ্ট করে ফেলছি।
-ভাল করেছো, তবেঁ অনেক কষ্ট পেলাম বেবির জন্য, ভাল থেকো বাই।
.
এখানেই শেষ অনেকদিন পর সামান্য কিছু কথা নিজের কাছেও অনেক খারাপ লাগছে, মুডটাই অফ।
কিছু কিছু মেয়ে আছে যেখানে একটু বেশি ভাল কিছু পাবে সেখানেই চলে যাবে।
পরে কি হবে আর আগে কি হয়ছে তা একটি বারও চিন্তা করবে না।
.
যে আমি তোমার জন্য এত কিছু করলাম, সে আমি তো তোমার কাছে কিছুই চাইনি।
তোমার কাছে একটু ভালবাসা চেয়েছিলাম তাও কি আমার অপরাধ ছিল।
আমি খারাপ হতে পারি কিন্তু এতটা খারাপ না।
তুমি তাকেই ভালবাস যে একবার কষ্ট পেয়েছে কারণ সে জানে কষ্টের যন্ত্রণা কেমন।
আমার জীবন টা এমনই, কষ্ট ভরা মদ, গাঁজা, আর সিগারেট আমার সব চেয়ে কাছের বন্ধু.
Facebook.com/Aarohi.Hasan.3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *