অগ্রযাত্রার নব দিগন্ত!

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ আজ এক চরম বাস্তবতা, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে এ দেশের গণমানুষের চিন্তা-চেতনা, জীবন-জীবিকা। প্রযুক্তি নির্ভর জীবিকার্জনে একটি বিশাল সম্ভাবনাময় খাত আউটসোর্সিং, কিন্তু ইতোপূর্বে যথাসময়ে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গৃহিত হয়নি বিধায় দেশে এ খাতে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি হয়নি। এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরির দিক নির্দেশনা ও কার্যকর কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ০২ দিন ব্যাপী (৯ থেকে ১০ ডিসেম্বর ১৫) ‘বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সামিট ২০১৫’ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে, যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রযুক্তি ব্যবসা পরিচালনা, ব্যবসার উন্নয়ন ও বিনিয়োগের আদর্শ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ব-দরবারে পরিচিত করতে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন উপযোগী বিপিও খাতের সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের চিত্রও তুলে ধরা হবে। বিশ্বের প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিপিও বাজারের ৮০ বিলিয়নের বাজার ভারতের দখলে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানও বিপিওর একটা বড় বাজার দখল করে আছে। এই বাস্তবতায়, ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরার লক্ষ্যে দেশে ৫৫৪টি বিপিও সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশে প্রতি বছর আড়াই লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে, এদের মধ্য থেকে একটা বড় অংশকে বিপিও খাতের উপযোগী দক্ষ জনবলে পরিণত করতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও করছে সরকার। আশা করা যায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হবে অমিত সম্ভাবনাময় এই খাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *