ব্লক ৭০ ভাগের কম হলে রিং বসাবেন না – হৃদরোগ ইনস্টিটিউট অধ্যাপক

হৃদরোগ নিয়ে আমাদের নানা ধরণের ভুল ধারণা আছে। এ সবই আবার শোনা কথা। ফলে রোগীর মনে থাকে ভীতি আর বিপদের আশঙ্কা। অথচ আমাদের উচিত এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। সে বিষয়ে সহযোগিতা করতে আজ একজন বিশিষ্ট ডাক্তারের এ সংক্রান্ত মতামত তুলে ধরব। ডা. মো. তৌফিকুর রহমান (ফারুক) বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক। সাপ্তাহিকে প্রকাশিত আরিফুর রহমানের নেয়া এই সাক্ষাৎকারটিতে হৃদরোগের এই স্বনামধন্য ডাক্তার এ রোগের আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রশ্ন : হৃদরোগে আজকাল অনেকেই মারা যাচ্ছে।

হৃদরোগ নিয়ে আমাদের নানা ধরণের ভুল ধারণা আছে। এ সবই আবার শোনা কথা। ফলে রোগীর মনে থাকে ভীতি আর বিপদের আশঙ্কা। অথচ আমাদের উচিত এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। সে বিষয়ে সহযোগিতা করতে আজ একজন বিশিষ্ট ডাক্তারের এ সংক্রান্ত মতামত তুলে ধরব। ডা. মো. তৌফিকুর রহমান (ফারুক) বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক। সাপ্তাহিকে প্রকাশিত আরিফুর রহমানের নেয়া এই সাক্ষাৎকারটিতে হৃদরোগের এই স্বনামধন্য ডাক্তার এ রোগের আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রশ্ন : হৃদরোগে আজকাল অনেকেই মারা যাচ্ছে।
তৌফিকুর রহমান : এটি ঠিক যে, অন্যান্য রোগে হঠাৎ মৃত্যুর আশঙ্কা কম। কিন্তু হৃদরোগে একজন অল্প বয়সী রোগী আক্রান্ত হলে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করতে পারেন।

প্রশ্ন : হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ হলে রক্তনালি সরু হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হার্টের মাসেল পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন ও খাবার পায় না। ব্যায়াম বা অধিক পরিশ্রমের সময় যখন অক্সিজেন ও খাবারের চাহিদা বেড়ে যায় তথাপি সরবরাহ না বাড়লে হার্টে এক ধরনের তীব্র Chest discomfort হয় যাকে Angina বলে। ফলে Chronic stable angina হতে পারে। এছাড়া রক্তনালির চর্বির স্তর ফেটে গিয়ে এর ওপর রক্তের দানা জমা হয়ে রক্তনালি আংশিক বা পুরো বন্ধ হয়ে Acute coronary syndrome হতে পারে।

প্রশ্ন : ইসিজির রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও কি হৃদরোগ থাকতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : হ্যাঁ, ইসিজির রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন প্রকার হৃদরোগ থাকতে পারে।

প্রশ্ন : নারীদের সাধারণত কোন ধরনের হৃদরোগ বেশি দেখা যায়? আবার নারীদের কী কী ধরনের হৃদরোগ হয়?
তৌফিকুর রহমান : নারীদের সাধারণত বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ যা হৃদযন্ত্রের ভাল্বকে নষ্ট করে, এমন হৃদরোগের আধিক্য দেখা যায়। এছাড়া নারীদের জন্মগত হৃদরোগ, বাতজ্বরজনিত ভাল্বের হৃদরোগ, রক্তনালিতে ব্লকজনিত হৃদরোগ, হৃৎপিণ্ডের চারপাশে পানি জমাজনিত হৃদরোগ, হৃৎপিণ্ডের ভিতরে ইনফেকশনজনিত হৃদরোগ, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে প্রদাহজনিত হৃদরোগ হয়ে থাকে।

প্রশ্ন : রক্তনালিতে ব্লকজনিত হৃদরোগে নারীদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কতখানি?
তৌফিকুর রহমান : নারীদেরও হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লকজনিত হৃদরোগ দেখা যায়। তবে মাসিক বন্ধ হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ ৫০ বছর বয়স হওয়ার পূর্বে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর অথবা ৫০ বছর বয়স হওয়ার পর ব্লকজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বাড়ে।

প্রশ্ন : মাসিক বন্ধ (Premenopausal) হওয়ার আগে কী কারণে সাধারণ নারীদের ব্লকজনিত হৃদরোগ হয়?
তৌফিকুর রহমান : কম বয়স্ক নারীদের যাদের নিয়মিত মাসিক হয়, তাদের সাধারণত ব্লকজনিত হৃদরোগ কম দেখা যায়। কিন্তু নারীরা দীর্ঘ সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে অথবা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভুগলে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, ধূমপান করলে, অল্প বয়স্ক নারীদেরও ব্লকজনিত হৃদরোগ হতে পারে।

প্রশ্ন : নারীদের বুকে ব্যথা হলে করণীয় কী?
তৌফিকুর রহমান : নারীদের বুকে ব্যথা হলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বুকের এক্স-রে, ইসিজি, ইটিটি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনে এন্ডোসকপি পরীক্ষা করা উচিত।

প্রশ্ন : কী কী কারণে নারীদের ব্লকজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে?
তৌফিকুর রহমান : জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বেশি সেবন করলে, ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রণে থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, বেশি দুশ্চিন্তা করলে, পরিবারের অন্য সদস্যদের হৃদরোগ থাকলে, অল্প বয়সে মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে (Early menopause) নারীদের ব্লকজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।


ডা. মো. তৌফিকুর রহমান (ফারুক)। সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

প্রশ্ন : এনজিওগ্রাম কী?
তৌফিকুর রহমান : এনজিওগ্রাম একটি হৃদরোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির (করোনারি) ভিতর কোনো ব্লক বা Stenosis থাকলে তা নির্ণয় করা যায়।

প্রশ্ন : এনজিওগ্রাম কাদের করা হয়?
তৌফিকুর রহমান : যে সমস্ত রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়, সে সমস্ত রোগীর রক্তনালির ব্লক দেখার জন্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করার জন্য এনজিওগ্রাম করা হয়। তাছাড়া যাদের ইটিটি পজিটিভ হয় অর্থাৎ করোনারি হার্ট ডিজিজ হবার সম্ভাবনা বেশি তাদেরও এনজিওগ্রাম করা হয়।

প্রশ্ন : এনজিওগ্রাম করার সময় কি কোনো সমস্যা হতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : হ্যাঁ, এনজিওগ্রাম করার সময় অল্প বা বেশি রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাছাড়া কুঁচকির জায়গায় রক্তজমাট বাঁধতে পারে, ব্যথা হতে পারে, Vaso vagal attack হতে পারে। করোনারি ডিসেকশন (Dissection) হতে পারে, পায়ের ধমনি (Peripheral artery)তে Dissection হতে পারে। রোগীর রক্তচাপ কমে যেতে পারে, V.T, V.F নামক (malignant arrhythmia) হতে পারে, এমনকি রোগী মারা পর্যন্ত যেতে পারে। তবে তা খুবই কম দেখা যায়।

প্রশ্ন : রক্তনালিতে ব্লক থাকলেই কি রিং বসানো বা Stenting এর প্রয়োজন?
তৌফিকুর রহমান : না, রক্তনালিতে যদি ৭০ ভাগের উপরে ব্লক না থাকে, তবে রিং বসানোর (Stenting) প্রয়োজন নেই। আবার যদি কোনো ব্লক Flow limiting না হয় অর্থাৎ রক্তপ্রবাহ তেমন বাধার সৃষ্টি না করে তবে রিং বসানোর প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন : রিং বসানো বা Stenting এর খরচ কেমন?
তৌফিকুর রহমান : রিং ভেদে এ খরচ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ হতে পারে।

প্রশ্ন : একজন হৃদরোগী কী কী উপসর্গ নিয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আসতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : একজন হৃদরোগী তার হৃদরোগের ধরন অনুসারে বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শের জন্য আসতে পারে। হৃদরোগীরা সাধারণত বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করা, হঠাৎ নীল হয়ে যাওয়া নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসে থাকে।

প্রশ্ন : একজন ব্যক্তি কী কী ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : একজন ব্যক্তি জন্মগত হৃদরোগ, রক্তনালিতে ব্লকজনিত হৃদরোগ, বাতব্যথাজনিত হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ, প্রদাহজনিত হৃদরোগ অথবা হৃৎপিণ্ডের চারপাশে পানি জমা হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে।

প্রশ্ন : ব্লকজনিত হৃদরোগে রোগীর বুকে ব্যথার ধরন কেমন হতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : ব্লকজনিত হৃদরোগে রোগীর বুকে ব্যথা বুকের মাঝখানে সাধারণত হয় এবং বুক ব্যথা পরিশ্রম করলে বা সিঁড়ি ভাঙলে বাড়ে অথবা বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে হাঁটলে বাড়ে এমনকি খাবার গ্রহণ করার পর হাঁটলে বাড়ে। ব্যথা বাড়লে রোগীর শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। বুকের এ ব্যথা হলে জিহ্বার নিচে নাইট্রেট ¯েপ্র করলে বা নাইট্রেট ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে রাখলে সঙ্গে সঙ্গে বুক ব্যথা কমে যায়। বুকের এ ব্যথা বাম হাত দিয়ে নামতে পারে।

প্রশ্ন : হার্ট ফেইলার হলে কী কী উপসর্গ দেখা যায়?
তৌফিকুর রহমান : হার্ট ফেইল হলে শুরুর দিকে অল্প পরিশ্রমে রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে বা দুর্বল লাগতে পারে এবং রাতে শোবার পর অধিক রাতে শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। হার্ট ফেইলার অতিরিক্ত হলে রোগীর বসা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এমনকি ফুসফুসে পানি জমা ছাড়াও দু’পায়ে পানি আসতে পারে।

প্রশ্ন : বাতজ্বর ও হৃদরোগের সম্পর্ক কী?
তৌফিকুর রহমান : বাতজ্বর হলে হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব, পর্দা ও মাংসপেশি আক্রান্ত হতে পারে, অথবা নাও হতে পারে। বাতজ্বরে হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব আক্রান্ত হয়ে ভাল্ব সরু হতে পারে, অথবা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভাল্বের লিক বা রিগারজিটেশন হতে পারে। আবার হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি প্রদাহ হয়ে মায়োকার্ডাইটিক হতে পারে, এতে মায়োকার্ডিয়াক বা হৃৎপিণ্ডের ফাংশান কমে গিয়ে হার্ট ফেইলার হতে পারে। আবার হৃৎপিণ্ডের চারপাশের পর্দা আক্রান্ত হয়ে পেরিকার্ডিয়াল ইফিউশন বা পানি জমতে পারে।

প্রশ্ন : বাতজ্বরে কী কী উপসর্গ দেখা যায়?
তৌফিকুর রহমান : বাতজ্বরে গলা ব্যথা হবার সঙ্গে সঙ্গে অথবা সপ্তাহখানেক পর পায়ের গিরা ফুলা, চামড়ায় দাগ হওয়া, চামড়ায় গোটা হওয়াসহ মানসিক সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্ন : উচ্চ রক্তচাপে হৃৎপিণ্ডের কী কী ধরনের হৃদরোগ হয়?
তৌফিকুর রহমান : উচ্চ রক্তচাপে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে চর্বির আস্তর পড়ে Ischemic heart disease ছাড়াও হৃৎপিণ্ডের দেয়াল মোটা হয়ে হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ, হার্ট ফেইলর হতে পারে।

প্রশ্ন : হৃদযন্ত্রের গতি শ্লথ হলে আপনাদের (ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের) ভূমিকা কি?
তৌফিকুর রহমান : হৃদযন্ত্রের গতি শ্লথ হলে শরীরের প্রয়োজনীয় Metabolic চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই হৃদযন্ত্রের শ্লথ গতির চিকিৎসার জন্য Pacemaker লাগানো হয়, যা একটি Artificial device, এর কাজ হলো হার্টের হৃদস্পন্দনের গতি বাড়িয়ে হার্টের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় ছন্দ ফিরিয়ে আনা। তাই আমরা হৃদযন্ত্রের গতি শ্লথ হলে টেম্পোরারি Pacemaker অথবা প্রয়োজনে স্থায়ী Pacemaker (পেসমেকার) লাগাই।

প্রশ্ন : পেসমেকার কত ধরনের রয়েছে। কী পদ্ধতিতে পেসমেকার শরীরে স্থাপন করা হয়?
তৌফিকুর রহমান : পেসমেকার সাধারণত দু’ধরনের। স্থায়ী পেসমেকার ও অস্থায়ী পেসমেকার। অস্থায়ী পেসমেকার সাধারণত অল্প দিনের জন্য স্থাপন করা হয় এবং প্রয়োজন হলে অস্থায়ী পেসমেকার খুলে স্থায়ী পেসমেকার লাগানো হয়। অস্থায়ী পেসমেকার সাধারণত পায়ের কুঁচকির কাছে Femoral Vein এর মাধ্যমে তার প্রবেশ করিয়ে হার্টের Right Ventricle এ Lead রাখা হয় এবং Generator বা Controlling Device শরীরের বাইরে রাখা হয়। স্থায়ী পেসমেকারের ক্ষেত্রে আংশিক অপারেশন করে বুকের ডান বা বাম পাশে চামড়ার নিচে পকেট করে Generator or Controlling Device টি রাখা হয় এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত তারটি Cephalic vein/subclavian vein দিয়ে হার্টের Right Ventricle চেম্বারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

প্রশ্ন : কখন অস্থায়ী পেসমেকার ও কখন স্থায়ী পেসমেকার শরীরে স্থাপন করা হয়?
তৌফিকুর রহমান : যেসব ক্ষেত্রে হঠাৎ হার্টের ইলেকট্রিক লাইনে ব্লক হয় যেমন- হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে Third degree heart block বা second degree heart block হলে হার্টের হৃদস্পন্দন শ্লথ হলে অস্থায়ী পেসমেকার লাগানো হয়। অপরদিকে, হার্টে দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে অথবা Degenerative কারণে Heart Block হলে স্থায়ী পেসমেকারের প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন : কোনো রোগীর হার্টের সমস্যা থাকলে ওষুধ সেবনে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
তৌফিকুর রহমান : কোনো বাতব্যথা রোগীর হার্টের সমস্যা থাকলে ব্যথার ওষুধ সেবনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন, কিটোপ্রোফেন জাতীয় এনএসএআইডি ওষুধ খেলে হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে অর্থাৎ হঠাৎ হার্ট ফেইলার হতে পারে। তাছাড়া এনএসএআইডি (নন স্টেয়ডাল এন্ট্রি ইনফ্লামেটরি ড্রাগস) জাতীয় ওষুধ শ্বাস দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে ইস্কোমিক হার্ট ডিজিজ অর্থাৎ রক্তনালিতে ব্লক হতে পারে।

প্রশ্ন : হৃদরোগের সমস্যা থাকলে কতদিন পর পর চিকিৎসককে দেখানো প্রয়োজন। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সুস্থ থাকার জন্য কী কী নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
তৌফিকুর রহমান : ৩ থেকে ৪ মাস পরপর চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলতে হবে। ধূমপান ছাড়–ন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন।

প্রশ্ন : ধূমপানের সঙ্গে হৃদরোগ সরাসরি জড়িত। তারপরও মানুষ ধূমপান কেন ছাড়তে পারে না?
তৌফিকুর রহমান : ধূমপান অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে। ধূমপান ত্যাগ করতে চাইলে নিজের ইচ্ছেশক্তি থাকতে হবে।

প্রশ্ন : ভায়াগ্রা জাতীয় ওষধ সেবন করার ফলে হৃদরোগের কী ঝুঁকি রয়েছে। আজকাল অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ভায়াগ্রা সেবন করছেন, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী হতে পারে?
তৌফিকুর রহমান : চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রা সেবন করলে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যারা নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শমতো ভায়াগ্রা সেবন করবেন।

১ thought on “ব্লক ৭০ ভাগের কম হলে রিং বসাবেন না – হৃদরোগ ইনস্টিটিউট অধ্যাপক

  1. চমৎকার, বেশ তথ্যসমৃদ্ধ একটা
    চমৎকার, বেশ তথ্যসমৃদ্ধ একটা লেখা। হার্ট সম্পর্কে জরুরী এই তথ্যগুলো সকলের জানা থাকা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *