বাংলাদেশি না বাঙ্গালী

প্রায়শই টেলিভিশনে দেখি দেশের স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবিরা বাঙ্গালীত্ব নিয়ে সাফাই গান। এঁরা যদিও বাংলাদেশের নাগরিক তবুও নিজেদের জাতীয়তা নিয়ে

প্রায়শই টেলিভিশনে দেখি দেশের স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবিরা বাঙ্গালীত্ব নিয়ে সাফাই গান। এঁরা যদিও বাংলাদেশের নাগরিক তবুও নিজেদের জাতীয়তা নিয়ে
তেমন কিছু বলেন না বরং বাঙ্গালিত্ব নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকেন। তাই নিজেই মাঝে মাঝে নিজেকে শুধাই-আচ্ছা, আমি বাংলাদেশি, নাকি বাঙ্গালী। প্রথম উত্তর হলো দুটোই; আমি বাংলাদেশি আবার বাঙ্গালীও। কিন্তু এই উত্তরে নিজের গৌরব, নিজের স্বকীয়তা খুঁজে পাইনা। আমাদের পশ্চিমে যারা আছে ওরাও তো বাঙ্গালী;ওরাও তো নিজেদের বাঙ্গালী বলে গর্বিত হয়। তাহলে? হ্যাঁ, আমিও বাঙ্গালী। তবে আমি আজ যতটা না বাঙ্গালী, তার চেয়ে অনেক বেশি বাংলাদেশি। আর এটাই আমার জাতীয়তা, স্বকীয়তা, গর্ব। কারণ এই জাতীয়তা এমনি এমনি পাইনি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি বাংলাদেশি শব্দটা। আমার লক্ষ লক্ষ ভাইবোনের জীবনের দামে কিনেছি এ জাতীয়তা। আর বাঙ্গালী শব্দটা ছেলের হাতের মোয়ার মত না চাইতেই পেয়ে গেছি। আমি বাঙ্গালী নাকি রেড ইন্ডিয়ান, নাকি নিগ্রো সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। আমি বাংলাদেশি এটাই বিবেচ্য বিষয়। পাসপোর্ট, জীবনবৃত্তান্তে আমরা জাতীয়তাই উল্লেখ করি।

তাছাড়া এই বাংলাদেশে কেবল বাঙ্গালিরা বসবাস করেনা। 1.10% হারে বিভিন্ন অবাঙ্গালিও বসবাস করে। তারাও এদেশের একই মর্যাদার নাগরিক। তাই কেবল বাঙ্গালিত্ব জাহির করতে গেলে অবাঙ্গালিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়। আমি হয়তো অত বড় বুদ্ধিজীবী নয় কিন্ত বাঙ্গালিত্ব জাহির করতে গিয়ে অন্য জনের নাগরিক মর্যাদাকে ছোট করার শিক্ষা অর্জন করিনি।
রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা ধীরে ধীরে মাথা উঁচু করছি। বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে এটা ঠিক তবে এমনও দেশ আছে যারা আমাদের পূর্বে স্বাধীনতা অর্জন করেও ধুঁকছে। সে তুলনায় ামরা এগিয়েছি অনেক। ছোট এই দেশের একজন নোবেলজয়ী পর্যন্ত আছে যিনি বিশুদ্ধ বাংলাদেশি।
অতএব যারা বাঙ্গালিত্বকে জাহির করতে গিয়ে নিজেদেরকে অন্যের আশ্রয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন হুদাহুদি তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক বাংলাদেশির কর্তব্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *