চেনা মানুষ অচেনা(দ্বিতীয় অংশ)

চৈত্র মাসের দূপুর প্রায় ,চারপাশে খা খা রোদ আগুনের হলকা নিয়ে হানা দিচ্ছে সবখানে ।মাঠের দিকে তাকালে মনে হয় আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে ।কুকুর জিহ্বা বের করে হনহনিয়ে ছুটছে ডোবানালায় শরীরটা ভিজিয়ে নিয়ে ।শুকনো খালের কাদামাটিতে সেই সকাল থেকে তিনটি মহিষ গড়াগড়ি দিয়ে চলছে । অনতিদূরে দাঁড় কাকের কা কা কর্কস ডাক খূবই বিরক্ত লাগছিল বাচ্চুর ।অলসতাপূর্ণ শরীরটি আড়মোড়া ভেঙে লুঙ্গি ,গামছা আর লাক্স সাবান নিয়ে নদীর ঘাটে আসার পথে অকস্মাত্ মনির সাথে দেখা -সে ফিরছিল স্নান শেষে ।দুজনের মুচকি হাসি বিনিময় ,চোখাচোখি হতেই বাচ্চু ঈশারায় একটু দূরে পুরনো আমগাছের আড়ালে ডেকে নিলেন ।চারিদিকের তপ্ত বাতাসের ঝাপটা তাদের দুজনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে ।হৃদয়ে উভয়ের উষ্ণ প্রেমের শিহরণ ।আশংকা কেউ দেখে ফেললো কিনা -! দুজনের মনেই কৌতুহল কী হতে চলছে আজ হঠাত্ দুপুর বেলা ! তারা দুজনে এরকম কাছাকাছি বহুবার এসেছে কিন্তু আজ বাসন্তী দুপুরে নিরিবিলিতে অজানা অনেক কিছুই ভেতরে ভেতরে ঝংকৃত হচ্ছিল ।বাচ্চু ভাবছিল কিভাবে কথাটি বলে –অনেক ভেবে ভেবে অবশেষে মুখ থেকে একটি শব্দ অস্পষ্ট সুরে বাতাসে ভাসিয়ে দিল-ভালবাসি !
মনি শব্দটি লুফে নিল -আমিও !
উভয়ের ঘন নিশ্বাসের তপ্ত মাত্রা বেড়ে চলছিল ।পরিতৃপ্তির আবহ হৃদয়ের আকাশে ।সেই ছোটকাল হতে যৌবনে এসে আজই কেবল ভালবাসা শব্দটি সাহসের সাথে বিনিময় করতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছিল ।
হঠাত্ বন্ধু খলিল আর মিলনের ডাকে সম্বিত ফিরে এলো বাচ্চুর ।কোন বিলম্ব না করে আমগাছের আবডালে মনিকে রেখে বন্ধুদের সাথে নদীর ঘাটে রওয়ালা দিলেন ।(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *