কোরানের আল্লাহর ইতিহাস সম্পর্কে কোন জ্ঞান নাই

কোরান পড়লে মনে হয়, আল্লাহর ইতিহাস সম্পর্কে কোন জ্ঞান নাই। অথচ আল্লাহ নাকি সর্বজান্তা। তার এইসব ইতিহাসের জ্ঞান নখদর্পনে থাকার কথা। বিশেষ করে ফেরাউনের বর্ননা করতে গিয়ে আল্লাহ কোন কিছুই ঠিক মতো জেনে শুনে বলতে পারে নি কোরানে। কি তাজ্জব ঘটনা !


কোরান পড়লে মনে হয়, আল্লাহর ইতিহাস সম্পর্কে কোন জ্ঞান নাই। অথচ আল্লাহ নাকি সর্বজান্তা। তার এইসব ইতিহাসের জ্ঞান নখদর্পনে থাকার কথা। বিশেষ করে ফেরাউনের বর্ননা করতে গিয়ে আল্লাহ কোন কিছুই ঠিক মতো জেনে শুনে বলতে পারে নি কোরানে। কি তাজ্জব ঘটনা !

হাজার হাজার বছর আগে থেকেই গ্রীক , পারস্য, রোমান ইত্যাদি সভ্যতা মিশরের ফেরাউনদের ইতিহাস সম্পর্কে জানত। তা তারা নানা জায়গায় লিখেও রেখেছে। তারা জানত ফেরাউন হলো প্রাচীন মিশরের রাজার পদবি, কোন ব্যাক্তির নাম না। এ পর্যন্ত ১০০ এর বেশী লোকের নাম জানা গেছে যারা ফেরাউন পদে অধিষ্ঠিত ছিল। তাদের মধ্যে বিখ্যাত কিছু লোকের নাম : রামেসিস , ইমহোটেপ, তুতেনখামেন ইত্যাদি। এই একশত জনের নাম যারা ফেরাউন পদে অধিষ্ঠিত ছিল তাদের তালিকা পাওয়া যাবে এখানে : https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_pharaohs ।

কোরানে বলেছে ,

সুরা ইউনুস-১০: ৯০: আর বনী-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী-ইসরাঈলরা। বস্তুতঃ আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।
৯১: এখন একথা বলছ! অথচ তুমি ইতিপূর্বে না-ফরমানী করছিলে। এবং পথভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
৯২: অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।


এখানে বলেছে ফেরাউনের কথা। কিন্তু সেই ফেরাউনের নাম কি ? ফেরাউন পদে তো ছিল একশত জনেরও বেশী লোক। দেখা যাচ্ছে আল্লাহ সেই ফেরাউনের নাম জানে না। জানলে তো কোরানে তার নাম উল্লেখ করেই বলত।

আবার বলছে সেই ফেরাউনের লাশ নাকি সংরক্ষন করেছে আল্লাহ। কিন্তু কথা হলো, প্রাচীন মিশরের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের দেহকে মমি করা হতো। শুধু ফেরাউন পদে যারা থাকত তাদের দেহই মমি করা হতো না , তাদের ছাড়াও বহু গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের মৃতদেহকে মমি করে সংরক্ষন করে রাখা হতো। প্রাচীন কাল থেকেই গ্রীক , রোমান বা পারস্য সভ্যতার মানুষ তা জানত। আরবে মুহম্মদের কালে আরবের লোকরাও সেটা জানত। তবে তারা কোন মমি কোন ফেরাউনের সেটা জানত না। সেটা জানা গেছে এই সাম্প্রতিক কালে , প্রাচীন মিশরের চিত্রলিপির ভাষা হায়ারোগ্লিফিক এর অর্থ জানার পরেই। এভাবেই জানা গেছে একশত জনের বেশী ফেরাউনের নাম। কোরানের আয়াতে কথিত ফেরাউনের নাম নাই , তার অর্থ সেই ফেরাউন যাকে পানিতে ডুবে হত্যা করেছিল আল্লাহ , তার নাম আল্লাহ জানত না। সেই ফেরাউন কে ? তুতেনখামেন ? ইমহোটেপ ? নাকি রামেসিস ? অত্যন্ত দু:খের বিষয় কোরানের আল্লাহ এইসব ইতিহাস সম্পর্কে ছিল একান্তভাবেই অজ্ঞ। কোরানের আয়াত পড়লে মনে হয়, বাইবেলের তৌরাত কিতাবে বর্ণিত , মুসা নবীর ইহুদিদের মিশর থেকে নিয়ে আসার কাহিনীটা শুনে শুনে যা মনে পড়েছে সেটাই মুহাম্মদ বলে গেছে কোরানের নামে। তা না হলে , কোরানের বানী যদি সর্বজ্ঞানী আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার হতো , কোন ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা গেছে , সেটার নাম নিশ্চিতভাবেই কোরানে উল্লেখ থাকত। সর্বজ্ঞানী আল্লাহর তো এই ধরনের সাধারন ভুল করার কথা না।

৮ thoughts on “কোরানের আল্লাহর ইতিহাস সম্পর্কে কোন জ্ঞান নাই

  1. ৯২: অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে

    ৯২: অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।

    হ্যা এটাই হচ্ছে বাইবেল আর কোরানের মধ্যে পার্থক্য। বাইবেলেও ফেরাঊনের কথা উল্লেখ আছে, তবে তার লাশকে সংরক্ষণ করার কথা কেবল কোরানেই বলা হয়েছে। ধারনা করা হয় মুসা আঃ এর সময় ফেরাঊন বংশের রাজা নেমেসিস২ এর রাজত্ব ছিল। তাছাড়া পিরামিডের মধ্যে লুকানো ফেরাউন বংশের বিভিন্ন জনের লাশের সন্ধান কাররই জানা ছিল না। উনিশ শতকের প্রথম দিকে আর্কিওলজিস্টরা পিরামিড সহ অন্যান্য স্থান থেকে ফেরাউন রাজাদের লাশ উদ্ধার করেন। যেগুলো মিশরের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। যেগুলোর মধ্যে একটি মুসা আ এর সময়কার ফেরাউনের লাশ হবে। তাই

    অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে।

    — কোরানের এই কথাটি আবিশ্বাস্যভাবে সঠিক।

  2. পিরামিডের মধ্যে ফেরাউনদের লাশ
    পিরামিডের মধ্যে ফেরাউনদের লাশ ছিল সেটা সবাই সেই প্রাচীন কাল থেকেই মিশরিয়রা জানত , কিন্তু সেটা কোথায় সেটা জানত না। এ কথা আরবের সর্বত্র জানা ছিল। সেটাই মুহাম্মদ বলেছে তার কোরানে। এতে যারা আশ্চর্য হয় তারা মানসিকভাবে অসুস্থ।

  3. ভূগোল সম্পর্কেও জ্ঞান ছিল
    ভূগোল সম্পর্কেও জ্ঞান ছিল তথৈবচ। ভবিষ্যতে সেটাও চিচিংফাক করবেন কোন লেখাতে,এই প্রত্যাশা রাখলাম।

  4. মোহাম্মদ মহা গণ্ডগোল
    মোহাম্মদ মহা গণ্ডগোল লাগিয়েছেন করান রচনায়। কবিতার যুগ ছিল, লোকে যেসব পুরনো কাহিনী নিয়ে গান/কবিতা বানাত সেগুলো বুঝে-নাবুঝে কোরানে ঢুকিয়ে দিয়েছেন হজরত।

    একই অবস্থা বাইবেল নিয়ে। বাইবেল থেকে অজস্র আয়াত মেরে দিয়ে কোরানে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, সেগুলো ঐ সময়েই ইহুদি/খ্রিস্টান পণ্ডিতদের বিনোদন দিয়েছে। এটা নিয়ে কিছু মজার কাহিনী আছে, লেখব এক সময়।

  5. আপনার লেখা বেশ যৌক্তিক।
    আপনার লেখা বেশ যৌক্তিক। নবীজির ভাল ধারণা ছিল না ফেরাউনদের ইতিহাস সম্পর্কে। মিশরের সাথে আরবের সম্পর্কের কারণে সেখানকার অনেক লোকগাঁথা মক্কায় পৌছায়। মুহাম্মদও একবার মিশরে গিয়েছিলেন ধর্মপ্রচারের জন্য। কিন্তু ইতিহাস ঠিকমত জানা হয় নি তার। সুতরাং কোরান লেখতে গিয়ে আল্লার নামে যা-তা চালিয়ে দিয়েছেন।

    সবজান্তা মহান আল্লাপাক একটা কিছু বলবেন আর সেটা এমন অগোছালো হবে সেটা কিভাবে সম্ভব? ফেরাউন যে একের অধিক ছিল, বস্তুত অনেক গুলো ছিল সেটা আল্লা জানবেন না তা কিভাবে সম্ভব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *