প্রীতিলতা

‘আচ্ছা আপনি বিয়ে করেছেন?’
‘না।’
‘কবে বিয়ে করবেন?’
‘আরো পরে।’
‘কেমন মেয়ে পছন্দ আপনার?’ মুখে হাসি দেখে নিজেই উত্তর দিল-সুন্দর মেয়ে তাই না?

উত্তরদাতা আমি। প্রশ্নকর্তা একটি অল্পবয়সী মেয়ে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতি বিকেলেই সুন্দর সুন্দর জামা পরে অফিস মাঠে নামে। কোনদিন সাইকেল চালায়, কোনদিন স্কেটার চালায় পা দিয়ে ঠেলে ঠেলে। কোনদিন দোলনায় বসে দোল দেয় আর দৃষ্টিটা জানালার ফাঁক গলিয়ে কম্পিউটারের ডেস্কের চেয়ারে ফেলে রাখে। সেই চেয়ারে আমি বসে থাকি। কম্পিউটারে কাজ করি। বেশ চঞ্চল বলে আমার এক সহকর্মী তার নাম দিয়েছে চঞ্চলা। এমনিতে ওর নাম স্যামন্তী। কিন্তু আমরা দুইজন ওকে চঞ্চলা বলে ডাকি।


‘আচ্ছা আপনি বিয়ে করেছেন?’
‘না।’
‘কবে বিয়ে করবেন?’
‘আরো পরে।’
‘কেমন মেয়ে পছন্দ আপনার?’ মুখে হাসি দেখে নিজেই উত্তর দিল-সুন্দর মেয়ে তাই না?

উত্তরদাতা আমি। প্রশ্নকর্তা একটি অল্পবয়সী মেয়ে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতি বিকেলেই সুন্দর সুন্দর জামা পরে অফিস মাঠে নামে। কোনদিন সাইকেল চালায়, কোনদিন স্কেটার চালায় পা দিয়ে ঠেলে ঠেলে। কোনদিন দোলনায় বসে দোল দেয় আর দৃষ্টিটা জানালার ফাঁক গলিয়ে কম্পিউটারের ডেস্কের চেয়ারে ফেলে রাখে। সেই চেয়ারে আমি বসে থাকি। কম্পিউটারে কাজ করি। বেশ চঞ্চল বলে আমার এক সহকর্মী তার নাম দিয়েছে চঞ্চলা। এমনিতে ওর নাম স্যামন্তী। কিন্তু আমরা দুইজন ওকে চঞ্চলা বলে ডাকি।

সমবয়সী ছেলেদের সাথে বিকেলে খেলাধুলা করে। হাঁটাহাঁটি করে। মাঠের কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে প্রথম প্রথম তার চপলতা দেখতাম। এক বিকেলে সে আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দেখতে থাকে। অমনি এক ম্যাডাম বসের কাছে নালিশ দিয়ে বসে। ব্যস সেদিন থেকে আমার কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ
। তারপর থেকে অফিসের বারান্দায় এসে দাঁড়াই প্রতি বিকেলে। তিনতলায় জানালা দিয়ে দেখে চঞ্চলা। যে রঙ্গের পোশাক পরি, সেও সে রঙ্গের জামা পরে বের হয়।
মাঝে মাঝেই ব্যাপক সাহস নিয়ে ছুটে আসে আমার কাছে, কিছু বলার জন্য। কিন্তু অফিসে অনেক কর্মী। কিছু বলা সম্ভব না।
তার স্কুলের নাম প্রীতলা। কিন্তু আমি সংক্ষেপে বলি প্রীতিলতা।

আজ প্রীতিলতা চলে যাচ্ছে নিজের বাড়িতে। তার বাবা লক্ষণ চন্দ্র সরকার, একাউন্টসের সহকারি সাধারণ ব্যবস্থাপক। এ বছরই প্রমোশন পেয়েছিল। প্রমোশন পেয়েই ধরাকে সরা জ্ঞান করা শুরু করেছে।
তার সাথে যুক্ত ছিল, জেনারেল ম্যানেজার রজতপাল ও রতন দাস। বিরাট অংকের টাকা মেরে খেয়েছে। অবশেষে কোম্পানির তদন্তে সব বেরিয়ে এসেছে। যতটাকা মেরে খেয়েছে সব টাকা ফেরত দিয়ে তারপর পিঠে দুর্নীতিবাজির সীল মেরে অফিস থেকে খ্যাদানো হয়েছে। সামান্য সুযোগ পেলে এরা যে কী কেতে পারে তার একটা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত রেখেছে এ লক্ষণ, রজত এবং রতন-তিন সংখ্যালঘু।
কিন্তু প্রীতিলতার জন্য খারাপ লাগছে। ওকে আর কোনদিন দেখতে পাবোনা যে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *